Advertisement

Thursday, April 12, 2018

গ্রহ-নক্ষত্রদের ক্ষেত্রে ঘূর্ণন আছে দুই রকম। একটি হলো নিজের অক্ষের সাপেক্ষে। এর কেতাবি নাম আবর্তন (rotation)। যেমন পৃথিবীর নিজ অক্ষের সাপেক্ষে একবার ঘূর্ণনে এক দিন হয়। পৃথিবীর ক্ষেত্রে এই ঘূর্ণনকে তাই আহ্নিক গতিও (Diurnal motion) বলে। আর অন্য কোনো কিছুকে কেন্দ্র করে যে ঘূর্ণন তার নাম প্রদক্ষিণ (revolution)। যেমন পৃথিবী সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘুরছে। এক বার ঘুরে এলে হয় এক দিন।

আরও পড়ুন
☛ আবর্তন ও প্রদক্ষিণের পার্থক্য

আমরা এর আগে বলেছিলাম, সূর্য আমাদের মিল্কিওয়ে বা আকাশগঙ্গা ছায়াপথের কেন্দ্রের চারপাশে ঘুরছে। বেগ ঘণ্টায় ৮ লক্ষ কিলোমিটার বা ৫ লক্ষ মাইল। এত বড় বেগেও পুরো ছায়াপথকে ঘুরে আসতে সূর্যের সময় লাগে প্রায় ২৫ কোটি বছর।

আরও পড়ুন
☛ মিল্কিওয়েকে ঘিরে সূর্যের গতি

তাহলে বোঝা গেল, সূর্য প্রদক্ষিণ করছে। তাহলে আবর্তনও কি করছে? আসলে বলতে গেলে সব মহাজাগতিক বস্তুই আবর্তিত হচ্ছে। তবে সূর্যের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা একটু গোলমেলে। কেন? পৃথিবীর কথা একটু চিন্তা করুন। প্রায় ২৪ ঘণ্টায় পুরো পৃথিবী ১ বার নিজ অক্ষেরে চারপাশে ঘুরে আসে। চাই সেটা মেরু অঞ্চল হোক বা বা উত্তর ও দক্ষিণ দুই মেরুর মাঝামাঝিতে থাকা বিষুব অঞ্চলই হোক। সবখানেই ২৪ ঘণ্টায় হয় একটি ঘুর্ণন। একটি বল হাতে নিয়েও যদি একবার ঘুরিয়ে নেন, এর যে কোনো জায়গাই পূর্ণ একটি ঘূর্ণন সম্পন্ন করবে একই সাথে।

সমস্যা হলো সূর্য পৃথিবী বা বলের মতো কঠিন পদার্থ নয়। গঠিত উত্তপ্ত আয়নিত গ্যাসীয় প্লাজমা পদার্থ দিয়ে। ফলে বিষুব অঞ্চলে একটি পূর্ণ আবর্তন হয় ২৪.৪৭ দিনে। কিন্তু বিষুব অঞ্চল থেকে মেরু অঞ্চলের দিকে যেতে থাকলে এই বেগ কমে আসে। মেরু এলাকায় সময় লাগে ৩৮ দিন। সব মিলিয়ে গড় আবর্তন সময় ২৭ দিন।

সৌরজগতের বৃহস্পতি ও শনি গ্রহও অনেকটা সূর্যের মতো। এরা হলো গ্যাস দানব। ফলে এদের ঘূর্ণনেও দেখা যায় সূর্যের মতো একই রকম বিভিন্নতা।

বিভিন্ন অঞ্চলে সূর্যের আবর্তন বেগ 

আরও পড়ুনঃ
☛ বৃহস্পতি কেন নক্ষত্র নয়? 

এই ঘূর্ণের খবর আমরা কীভাবে জানলাম? উত্তর হলো সৌরদাগ (sun spot)। দেখা গেছে, সূর্যের বিশেষ বিশেষ দাগগুলো উল্লেখিত সময় পর একই অবস্থানে ফিরে আসে। ঘূর্ণন নিয়ে আরেকটি মজার ঘটনাও আছে। পৃষ্ঠের ওপরে যেমন ঘূর্ণনের বিভেদ আছে, তেমনি ঘূর্ণনের বিভেদ আছে সূর্যের ভেতরের অঞ্চলেও।

সূর্যের পৃষ্ঠের ঠিক ভেতরের এলাকা, কোর বা কেন্দ্রমণ্ডল ও বিকিরণ অঞ্চল একত্রে একটি কঠিন বস্তুর মতো ঘোরে। অন্য দিকে বাইরের স্তর, পরিচলন অঞ্চল ও আলোকমণ্ডল (photosphere) ঘোরে আবার ভিন্ন বেগে।
সূর্যের বিভিন্ন অঞ্চল।
বড় করে দেখতে এখানে ক্লিক করুন। 
সূত্রঃ
২। উইকিপিডিয়া 
Category: articles

Saturday, December 31, 2016

লিখেছেনঃ বাংলাদেশ সায়েন্স ক্লাব 

এতদিন যা জেনেছেন মাথা থেকে এক্ষুণি ঝেড়ে ফেলুন। বৃহস্পতি গ্রহ যেই বিন্দুকে কেন্দ্র করে ঘুরছে সেটা মহাকাশের একটা শুন্যস্থান! শুনে হয়ত অবিশ্বাসে চোখ কপালে ওঠে গেছে। তবে এটাই সত্য।
NASA থেকে পাওয়া সাম্প্রতিক তথ্য এটাই বলছে ।


আমি আজ এর বিস্তারিত আলোচনা করব।

শুরুতেই আমাদের যেটা জেনে নিতে হবে সেটা হচ্ছে  বেরিকেন্দ্র (The barycenter)।
বলবিদ্যায় " Two body problem " এ আমরা এই Barycenter এর ধারণা পেয়ে থাকি। বলবিদ্যা বলছে,
যখন দুইটা বস্তু একে অপরকে কেন্দ্র করে ঘুরতে চায় বা ঘুরে থাকে, তখন কম ভরের বস্তুটি বেশি ভরের বস্তুর চারপাশে ঘুরে না বরং দুটি বস্তুই একটা নির্দিষ্ট বিন্দুকে কেন্দ্র করে ঘুরে। 

যে বস্তুর ভর তুলনামূলক ভাবে বেশি হবে, বেরিকেন্দ্র ঠিক তার কেন্দ্রের কাছাকাছি অবস্থান করবে।
একটু পরিষ্কার করে বললে, পৃথিবীর চারপাশে চাঁদ ঘুরছে, তার মানে এই নয় যে চাঁদ পৃথিবীর কেন্দ্র বিন্দুকে কেন্দ্র করে ঘুরছে। বরং চাঁদ এবং পৃথিবী উভয়েই একটা নির্দিষ্ট বিন্দুকে কেন্দ্র করে ঘুরছে। চাঁদের ভর যদি পৃথিবীর তুলনায় অত্যন্ত নগন্য বা নেগলিজিবল হতো তাহলে এই বেরিসেন্টার এর অবস্থান হতো পৃথিবীর কেন্দ্রে বা কেন্দ্রের খুব কাছাকাছি ।

কিন্তু চাঁদ খানিকটা ভারি হবার দরুন এই বেরিকেন্দ্র পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে খানিকটা উপরে ( কেন্দ্র থেকে ৪৬৭১ কিমি উপরে ) । তবুও পৃথিবীর ব্যাসার্ধ যেহেতু ৬৩৭৮ কিমি, সেহেতু এই বেরিকেন্দ্র পৃথিবীর ভেতরেই অবস্থান করছে। আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ কথা হচ্ছে, এই বেরিসেন্টারকে কেন্দ্রকরে পৃথিবীও তার নিজের কক্ষ পথে ঘুরছে ।

এবার ভেবে দেখুন...
যদি চাঁদের ভর দ্বিগুণ হতো তাহলে এই বেরিসেন্টার পৃথিবীর বুকে অবস্থান করতো ?
মোটেও না !

তখন এই বেরিসেন্টার থাকতো পৃথিবীর বাইরে খোলা আকাশের কোনো একটা স্থানে।
ঠিক অনুরূপ ঘটনাই ঘটছে সূর্য এবং বৃহস্পতির ক্ষেত্রে।

এদের বেরিসেন্টার এর অবস্থান সূর্যের পরিধির বাইরে খোলা আকাশের কোনো একটা বিন্দুতে !

বৃহস্পতি ও সূর্য

এটা আমাদের সৌরজগতের গ্রহগুলির মাঝে ব্যতিক্রম এক ঘটনা। অন্যান্য গ্রহদের জন্য আলাদা আলাদা বেরিসেন্টার গুলির অবস্থান সূর্য্যের কেন্দ্রের খানিকটা কাছাকাছি থাকলেও গ্রহরাজা বৃহস্পতির বেলায় সেটা খাটে না, অর্থাৎ এই বেরিকেন্দ্র অনেক দূরে চলে যায় এমনকি সূর্য্যের পরিধিরও বাইরে মহাশুন্যের কোনো একটা স্থানে গিয়ে অবস্থান করে।

তাই এখন থেকে মনে রাখতে হবে বৃহস্পতি গ্রহটি সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘুরছে না, বরং একটা খোলা বা শুন্য স্থানকে কেন্দ্র করে ঘুরছে মহাকাশে!
ব্যপারটা সত্যিই বড় অবাক করার মতোন।

আরও পড়ুনঃ
বৃহস্পতি কী দিয়ে তৈরি 
এক নজরে বৃহস্পতি 
দেখা হইল চক্ষু মেলিয়া 

লেখাটি বাংলাদেশ সায়েন্স ক্লাব এর ফেসবুক পেইজে প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল। অনুমতি নিয়ে এখানে পুনঃপ্রকাশিত হল। 

সূত্রঃ
১। বিজনেস ইনসাইডার
Category: articles

Wednesday, December 28, 2016

আমরা পৃথিবীতে বসে সূর্যের যে আলো ও উত্তাপ পাই, তা সূর্যের কেন্দ্রে পরিচালিত ফিউশন বিক্রিয়ার ফলাফল। চলুন, জেনে নেওয়া যাক, কীভাবে ঘটে এই নিউক্লিয়ার বিক্রিয়া।

সূর্য প্রচন্ড গরম। সত্যি অনেক অনেক গরম। এর কেন্দ্রের তাপমাত্রা দেড় কোটি ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে। পৃষ্ঠের তাপমাত্রা সে তুলনায় কম। ৫৫০৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সূর্যের কোরের গভীর অভ্যন্তরে ফিউশন প্রক্রিয়ার ফলশ্রুতিতেই এই প্রচণ্ড তাপ ও আলো উৎপন্ন হয়। সূর্যের কোর এর কেন্দ্র থেকে ২০-২৫ শতাংশ অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত। কোরের ভেতরের চাপ পৃথিবী পৃষ্টের চাপের প্রায় ১০ লক্ষ গুণেরও বেশি। অন্য দিকে তাপমাত্রা প্রায় দেড় কোটি কেলভিনের ওপরে। এরকম একটি পরিবেশেই ফিউশন বিক্রিয়াটি ঘটে।

আরো পড়ুনঃ
সূর্যের তাপমাত্রা কত?

এখানে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৬০ কোটি টন হাইড্রোজেন রূপান্তরিত হয়ে হিলিয়ামে পরিণত হচ্ছে। সেই সাথে তৈরী হচ্ছে বিপুল পরিমাণ তাপ ও শক্তি। সূর্যের ফিউশন বিক্রিয়া প্রোটন-প্রোটন (P-P) চেইন নামে পরিচিত। এই বিক্রিয়া প্রোটনের ($H^+$) মাধ্যেমে শুরু হয় এবং পর্যায়ক্রমিক বিক্রিয়ার মাধ্যেমে হিলিয়ামে পরিণত হয়।

ফিউশন বিক্রিয়ার পর্যায় তিনটি ::১. দুই জোড়া প্রোটন একীভূত হয়ে একজোড়া ডিউটেরন তৈরী করে।
২. প্রত্যেক ডিউটেরন অপর একটি প্রোটনের সাথে একীভূত হয়ে হিলিয়াম-৩ তৈরী করে।
৩. দুটি হিলিয়াম-৩ এর নিউক্লিয়াস একত্রিত হয়ে অস্থায়ী মৌল বেরিলিয়াম-৬ তৈরী করে, যা পরবর্তিতে ভেঙে গিয়ে দুটি প্রোটন ও একটি হিলিয়াম-৪ তৈরী করে।
৪. এই বিক্রিয়ায় একই সাথে দুটি নিউট্রিনো, দুটি পজিট্রন এবং গামা রশ্মি নির্গত হয়।

সূর্যের কেন্দ্রে ফিউশন প্রক্রিয়া 
উপরিউক্ত প্রক্রিয়ার মাধ্যেমে ফিউশন বিক্রিয়ায় প্রচুর তাপ ও আলোর প্রবাহ উৎপন্ন হয়।

আরও পড়ুনঃ
ল্যাপটপ চলে সূর্যের আলোয়!

সূত্রঃ
Category: articles

Sunday, June 19, 2016

জ্বলন্ত গ্যাসের বিশাল এক অগ্নিগোলক আমাদের সূর্য। এর আলো এবং তাপ পেয়েই পৃথিবী হয়েছে সবুজ শ্যামল। তবে সূর্যের তাপমাত্রা নির্দিষ্ট নয়। এর কোর, মানে কেন্দ্রভাগে তীব্র মহাকর্ষের কারণে অত্যাধিক চাপ ও তাপমাত্রা তৈরি হয়। এই তাপমাত্রা হয় ১৫ মিলিয়ন বা দেড় কোটি ডিগ্রি সেলসিয়াস (২৭ মিলিয়ন ফারেনহাইট) পর্যন্ত।
২০০৭ সালে মহাকাশযান হিনোদে এই ছবি তোলে

কেন্দ্রে নিউক্লকিয়ার ফিউসান বিক্রিয়ার মাধ্যমে প্রচুর শক্তি (তাপ, আলো ইত্যাদি) উৎপন্ন হয়। এই শক্তি ছড়িয়ে পড়ে আরও বাইরের দিকে, পৃষ্ঠে এবং বায়ুমণ্ডলে। শুরুতে শক্তি পৌঁছে বিকিরণ অঞ্চলে (radiative zone)। এখানে এই শক্তি সর্বোচ্চ ১০ লাখ বছর পর্যন্ত এদিক- ওদিক ছোটাছুটি করে। এর পর এটি চলে আসে পরিচলন অঞ্চলে (convective zone)। এখানে তাপমাত্রা ২০ লাখ ডিগ্রি সেলসিয়াসের (৩৫ লাখ ফারেনহাইট) নিচে নেমে আসে। এখানে তৈরি হয় উত্তপ্ত আয়নিত গ্যাসের (প্লাজমা) বড়ো বড়ো বুদ্বুদ। এরা এখান থেকে পরবর্তী স্তর ফোটোস্ফিয়ার বা আলোকমণ্ডলের দিকে উঠতে থাকে।
আরো দেখুনঃ
☛  এক নজরে সূর্য

আলোকমণ্ডলের তাপমাত্রা ৫৫০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা দশ হাজার ফারেনহাইট। সূর্যের এখানকার
বিকিরণই আলো হিসেবে ধরা পড়ে। এই আলোকমণ্ডলে অবস্থিত সৌর দাগ বা সৌরকলঙ্ক (sunspot) আশেপাশের দাগের চেয়ে কম উত্তপ্ত এবং কালো। বড়ো দাগগুলোর কেন্দ্রে তাপমাত্রা চার হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নামতে পারে।
বায়ুমণ্ডলে পরের স্তরটি হল বর্ণমণ্ডল বা ক্রোমোস্ফিয়ার (Chromosphere)। এর তাপমাত্রা আলোকমণ্ডলের চেয়ে কম। মাত্র ৪৩২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। উজ্জ্বল আলোকমণ্ডলের তীব্রতার কারণে এই স্তরের আলো দৃশ্যমান হয় না। কিন্তু চন্দ্রগ্রহণের সময় আলোকমণ্ডল চাঁদের পেছনে ঢাকা পড়লে একে বলয়ের মতো দেখা যায়।
তাপমাত্রা হঠাৎ করে আবার বেড়ে যায় এর করোনা বা বহিস্থ বায়ুমণ্ডলে। এই অঞ্চলের অপর নাম কিরীট বা ছটামণ্ডল। এটা শুধু সূর্যগ্রহণের সময়ই দেখা যায়। এই সময় এর প্লাজমা মুকুটের বিন্দুর মতো বাইরের দিকে ছড়িয়ে পড়ে। এর তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ২০ লাখ ডিগ্রি পর্যন্ত হতে পারে।
সূর্য সৌরজগতের সবচেয়ে বড়ো ও বেশি ভরের বস্তু। এর দূরত্ব পৃথিবী থেকে গড়ে প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার বা নয় কোটি ৩০ লক্ষ মাইল। এখান থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে ৮ মিনিট ১৯ বা ২০ সেকেন্ড সময় লাগে। এটাকেও দূরত্বের একটি একক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। অর্থ্যাৎ, সূর্য পৃথিবী থেকে প্রায় ৮ আলোকমিনিট দূরে অবস্থিত।
আরও পড়ুনঃ
পৃথিবী থেকে সূর্যের দূরত্ব কত?
আলোকবর্ষ কাকে বলে?
জ্যোতির্বিদ্যায় দূরত্বের এককেরা

সূত্রঃ
১। http://solarscience.msfc.nasa.gov/corona.shtml
২। http://www.space.com/17137-how-hot-is-the-sun.html
Category: articles

Friday, February 19, 2016

১৯ ফেব্রুয়ারি, ১৪৭৩। আজকের এই তারিখটি হচ্ছে নিকোলাস কোপার্নিকাসের জন্মদিন। তিনি একইসাথে গণিতজ্ঞ হলেও নজর কেড়েছেন কসমোলজিতে বিশেষ অবদান রেখে।
এমন এক সময়ে তাঁর জন্ম যখন মানুষ ভাবত মহাবিশ্বের কেন্দ্রে পৃথিবীর অবস্থান। সূর্যসহ অন্যান্য গ্রহ এবং নক্ষত্ররা ঘুরছে এর চারদিকে।
পৃথিবী-কেন্দ্রিক মহাবিশ্বের চিত্র

এই মহা ভুল ধারণা দূর করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করল তাঁর বই De revolutionibus orbium coelestium (On the Revolutions of the Celestial Spheres) বা খ-গোলকের ঘূর্ণন যাতে প্রস্তাবনা আসল সৌরকেন্দ্রিক মহাবিশ্বের। ১৫৪৩ সালে  প্রকাশিত বইখানা আধুনিক জ্যোতির্বিদ্যার অন্যতম ভিত্তি।
কয়েক বছর আগে Copernicus’ birthday লিখে গুগলে সার্চ দিলে সৌরকেন্দ্রিক মহাবিশ্বের একটি ডুডল দেখা যেত। ছুটির দিন বা কারো জন্ম দিন ইত্যাদি নানা ক্ষেত্রে গুগল ডুডল বানিয়ে থাকে।
নিকোলাস কোপার্নিকাস

তবে সৌরকেন্দ্রিক মডেল প্রথম প্রস্তাবক অবস্য কোপার্নিকাস নন। গ্রিক দার্শনিকদের অনেকেই ভাবতেন এই রকম চিন্তা। ইসলামিক জ্যোতির্বিদ্যার অগ্রগতির সাথে সাথেও ধীরে ধীরে পৃথিবীর বেগ নিয়ে ধারণার বিকাশ ঘটে এবং পৃথিবীকে মহাবিশ্বের কেন্দ্র থেকে সরানো হয়। তবে গ্রিকদের ক্ষেত্রে অন্য অনেক কিছুর মতই বাগড়া দিয়ে বসেছিলেন এরিস্টটল। তিনি বললেন, ৫৫টি এককেন্দ্রিক এবং স্বচ্ছ গোলক নিয়ে আকাশ গঠিত যেখানে আকাশের বস্তুদের বসিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং ঐ গোলকের কেন্দ্রে আছে পৃথিবী। পৃথিবী এতে স্থির এবং আবদ্ধ। পৃথিবীকে এই বন্দী দশা থেকে মুক্ত করলেন কোপার্নিকাস।
এখন আমরা জানি সূর্যও কিন্তু মহাবিশ্বের কেন্দ্র নয়। তাহলে কে আছে কেন্দ্রে? নিশ্চয়ই প্রশ্ন জাগছে। পড়ুনঃ মহাবিশ্বের কেন্দ্র কোথায়?
সূত্রঃ
[১] Earth Sky
[২] উইকিপিডিয়াঃ জিওসেন্ট্রিক মডেল
Category: articles
সর্বশেষ লিপ ইয়ার বা অধিবর্ষ (Leap year) ছিল ২০১২ সাল। পরেরটা? হ্যাঁ, এ বছরই- মানে ২০১৬! সূর্যের চারদিকে পৃথিবীর ঘূর্ণনের সত্যিকার সময়ের সাথে আমাদের ক্যালেন্ডারের হিসাবের মিল বজায় রাখার জন্যেই লিপ ইয়ারের আবির্ভাব। কিন্তু লিপ ইয়ারের সময় ফেব্রুয়ারি মাসকে এক দিন বাড়িয়ে ২৯ দি বানানো হয় কেন?

পৃথিবী সূর্যের চারদিকে একবার ঘুরে আসাকে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুসারে এক বছর ধরা হয়। এই হিসাবে আমরা ৩৬৫ দিনকে এক বছর ধরি। কিন্তু সত্যিকার অর্থে পৃথিবী সূর্যকে ঘুরে আসতে সময় নেয় প্রায় ৩৬৫.২৫ দিন। এই বাড়তি .২৫ দিন চার বছরে ৪×.২৫ = ১ দিন হয়ে দাঁড়ায়। তাই চার বছর পরপর বছর হয় এক দিন লম্বা- ৩৬৫ দিন। এ কারণেই সম্ভবত একে লিপ ইয়ার বা লাফ দেওয়া বর্ষ বলা হয়। বাংলা পরিভাষা অধিবর্ষ কথাটার অর্থও কাছাকাছি- অর্থ্যাৎ যে বছরে বাড়তি কিছু আছে।
পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘুরে আসতে ৩৬৫ দিনের চেয়ে বেশি সময় নেয় 

বছর গড়াবার সাথে সাথে যদি লিপ ইয়ারের এই সংশোধনী করা না হত তাহলে পঞ্জিকার বছর সৌর বছর থেকে দূরে সরতে থাকত। এক সময় তা হয়ে যেত খুব বেশি। চার বছরে পার্থক্য হত ১ দিন। ১০০ বছরে পার্থক্য হত ২৫ দিন। বোঝাই যাচ্ছে, বছর আরো বেশি হয়ে গেলে পার্থক্য ভয়াবহ রূপ লাভ করত। এক সময় দেখা যাবে উত্তর গোলার্ধের শীতকাল শুরু হচ্ছে জুন মাসে !
বর্তমান গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার হচ্ছে জুলিয়ান ক্যালেন্ডারের উন্নত রূপ। সর্বপ্রথম ৪৬ খৃস্টপূর্ব সালে জুলিয়ান ক্যালেন্ডারে অধি দিন (Leap day) যুক্ত করা হয়। আলেকজান্দ্রিয়ান জ্যোতির্বিদ সসিজেনেসের পরামর্শে জুলিয়াস সিজার কাজটি করেন। ১৫৮২ সালে পোপ গ্রেগোরি জুলিয়ান ক্যালেন্ডারের উন্নতি সাধন করেন। সহায়তা করেন জার্মান গণিতবিদ ও জ্যোতির্বিদ ক্রিস্টোফার ক্ল্যাভিয়াস।
জার্মান গণিতবিদ ও জ্যোতির্বিদ ক্রিস্টোফার ক্ল্যাভিয়াস

গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারে আরো নিয়ম করা হয়, যেসব বছরের শেষে '০০'থাকবে তাতে বাড়তি দিন যুক্ত করা হবে না। তবে '০০' যুক্ত বছরটি যদি ৪০০ দিয়ে বিভাজ্য হয় তাহলে কিন্তু সেটি আবার লিপ ইয়ার হবে। কিন্তু এই নিয়ম আবার কেন দরকার হল?
একটু খেয়াল করলে দেখবেন, উপরে আমরা বলেছি পৃথিবী সূর্যকে ঘুরে আসতে প্রায় ৩৬৫.২৫ দিন লাগে। এটাও প্রকৃত মান নয়। প্রকৃত মান হচ্ছে ৩৬৫.২৪২২ দিন বা বা ৩৬৫ দিন ৫ ঘন্টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড। ফলে হাজার বছরের ব্যাবধানে সেটাও উল্লেখযোগ্য হয়ে দাঁড়ায়। যে বছরগুলোতে লিপ ইয়ার হয়েছে বা হবে তারা হচ্ছে-
1600 1604 1608 1612 1616 1620 1624 1628 1632 1636 1640 1644 1648 1652 1656 1660 1664 1668 1672 1676 1680 1684 1688 1692 1696 1704 1708 1712 1716 1720 1724 1728 1732 1736 1740 1744 1748 1752 1756 1760 1764 1768 1772 1776 1780 1784 1788 1792 1796 1804 1808 1812 1816 1820 1824 1828 1832 1836 1840 1844 1848 1852 1856 1860 1864 1868 1872 1876 1880 1884 1888 1892 1896 1904 1908 1912 1916 1920 1924 1928 1932 1936 1940 1944 1948 1952 1956 1960 1964 1968 1972 1976 1980 1984 1988 1992 1996 2000 2004 2008 2012 2016 2020 2024 2028 2032 2036 2040 2044 2048 2052 2056 2060 2064 2068 2072 2076 2080 2084 2088 2092 2096 2104 2108 2112 2116 2120 2124 2128 2132 2136 2140 2144 2148 2152।
খেয়াল করলে দেখা যাবে ২০০০ সাল অধিবর্ষ ছিল কারণ এটি ৪০০ দিয়ে বিভাজ্য। কিন্তু এই শর্ত পূরণে অক্ষম ১৯০০ সাল অধিবর্ষ হতে পারেনি।
১৫৮২ সাল থেকে গ্রেগোরিয়ান ক্যালেন্ডার ব্যবহৃত হচ্ছে বিশ্বজুড়ে।
২০১৬ সালের লিপ ইয়ার আরেক দিক থেকে একটু বিশেষত্বের অধিকারী। এটি শুরু হয়েছে শুক্রবারে। এমনটি কিন্তু খুব বেশি ঘটে না কিন্তু। এর আগে এ রকম বছরগুলো ছিল ১৯৩২, ১৯৬০ এবং ১৯৮৮। আগামীতে এ রকম মজার অধিবর্ষ আবার পাওয়া যাবে ২০৪৪ ও ২০৭২ সালে। তার মানে ২৮ বছর পরপর এমন হয়।
বাংলায়ও কিন্তু অধিবর্ষ আছে। প্রতি চার বছর পরপর বাংলা ফাল্গুন মাসে এক দিন বেশি হয়ে ৩১ দিন হয়।

সূত্রঃ
[১] উইকিপিডিয়াঃ জুলিয়ান ও গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার
[২] Earth Sky
[৩] শুক্রবারে শুরু হওয়া লিপ ইয়ার

Category: articles

Thursday, January 28, 2016

সৌরজগতের গ্রহরা সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘুরে। পৃথিবী নামক আমাদের গ্রহটি একবার সূর্যকে ঘুরে আসতে যে সময় নেয়, তাকে আমরা এক বছর বলি। সূর্যও কিন্তু নির্দিষ্ট কোন জায়গায় বসে নেই। সৌরজগতের সবকিছুকে সাথে নিয়ে আমাদের নিজস্ব গ্যালাক্সি বা ছায়াপথ মিল্কিওয়েকে প্রদক্ষিণ করে চলছে। প্রদক্ষিণের এই বেগ ঘণ্টায় ৮ লক্ষ কিলোমিটার! মাইলের হিসাবে এটি দাঁড়ায় ৫ লক্ষে। তাহলে বলা চলে, মাত্র ৯০ সেকেন্ডে আমরা ২০ হাজার কিলোমিটার (বা সাড়ে ১২ হাজার মাইল) পথ অতিক্রম করছি!
নিশ্চয়ই মনে হচ্ছে, বেগটি অনেক বিশাল। তা ঠিক। কিন্তু অতিক্রম করার জন্যে যদি সামনে অনেক বিশাল পথ পড়ে থাকে তখন কিন্তু বেগটাকে আর লক্ষ্যণীয় মনে হয় না। যেমন, আমাদের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির ব্যাসই হচ্ছে ১ লাখ আলোকবর্ষ। মিল্কিওয়ে ছায়াপথের কেন্দ্র থেকে পরিধির দিকে দুই-তৃতীয়াংশ দূরত্বে তথা ২৫ হাজার আলোকবর্ষ দূরে সূর্যের অবস্থান। ফলে, মিল্কিওয়েকে একবার ঘুরে আসতে সূর্যের ২২.৫ থেকে ২৫ কোটি বছর সময় লেগে যায়। এই সময়কে বলা হয় কসমিক ইয়ার বা মহাজাগতিক বর্ষ (Cosmic year)।
মিল্কিওয়ে ছায়াপথে সূর্যের অবস্থান 
আমরা জানলাম, সূর্য এক জায়গায় বসে নেই। আমাদের পৃথিবীর মতই প্রদক্ষিণের পাশাপাশি সূর্যও কিন্তু আবার নিজের অক্ষের সাপেক্ষেও ঘোরে। একে আমরা বলি আবর্তন। তবে, পৃথিবীর মত এর সর্বত্র আবর্তন বেগ সমান নয়। সৌরদাগ (Sunspot) দেখে বোঝা যায় সূর্যের বিষুব অঞ্চল প্রতি ২৭ দিনে এক বার আবর্তন করে। মেরু অঞ্চলের ক্ষেত্রে এই সময়ের মান ৩১ দিন। তাছাড়াও প্লাজমা পদার্থে গঠিত সূর্যের কেন্দ্র থেকে বিভিন্ন দূরত্বে আবর্তন বেগের মান আলাদা।
শিল্পীর তুলিতে সৌরজগতের ছবি
কিন্তু মিল্কিওয়ের কী খবর? ছায়াপথটিকি স্থির বসে আছে? প্রথমত এর রয়েছে আবর্তন গতি। সূর্যের মতই কেন্দ্র থেকে বিভিন্ন দূরত্বে এর বেগ ভিন্ন ভিন্ন। আমাদের সূর্যের দূরত্বে এটি ২০ কোটি বছরে এক বার আবর্তন করে। ছায়াপথটিকে প্রদক্ষিণ করতে সূর্যের প্রয়োজনীয় সময় থেকে এই হিসাব বের করা হয়েছে।
কিন্তু গ্যালাক্সিরাকি অন্য কাউকে কেন্দ্র করে ঘোরে? কখনো এরা একে অপরকে প্রদক্ষিন করে। অনেক সময় আবার দল বা গুচ্ছবদ্ধ গ্যালাক্সিরা এদের সার্বিক ভরকেন্দ্রকে প্রদক্ষিণ করে। আমাদের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি লোকাল গ্রুপের অন্যান্য গ্যালাক্সিদের সাথে সম্পৃক্ত। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ছোট ও বড় ম্যাজেলানিক ক্লাউড, অ্যান্ড্রোমিডা গ্যালাক্সি, ট্রায়াঙ্গুলাম গ্যালাক্সি (Triangulum)। এদের সমন্বিত কার্যক্রমে ঠিক সূর্যের মত কোন কক্ষপথ তৈরি করতে পারেনি। এটা আসলে অনেকটা জোড়াতারা বা বহুতারাজগতে যেমন দুই বা অনেকগুলো তারা সবার সার্বিক ভরকেন্দ্রকে প্রদক্ষিণ করে ঠিক সে রকম আচরণ করে। অবশ্য আরো ৪ বিলিয়ন বছর পরে মিল্কিওয়ে এবং অ্যান্ড্রোমিডা গ্যালাকটিক সংঘর্ষে লিপ হবে।
সূত্রঃ
১। Earth Sky
২। Harvard University
৩। কর্নেল ইউনিভার্সিটি

Category: articles

Friday, January 1, 2016

২০১৬ সালের ২ জানুয়ারি। এই তারিখে সূর্যের নিকটতম স্থানে পৃথিবীর অবস্থান। এটা অবশ্য আন্তর্জাতিক সময়ের হিসাবে। গ্রিনিচ মান সময় অনুযায়ী ঘটনাটি ঘটবে ঐ দিনের রাত ১০টা ৪৯ মিনিটে যা আমাদের বাংলাদেশ সময় অনুসারে ৩ তারিখ ভোর ৪ টা।
সূর্যের চারদিকে পৃথিবীর কক্ষপথ উপবৃত্তাকার হওয়ায় কিছু সময় আমরা সূর্যের খুবই কাছে থাকি, আবার অন্য সময় থাকি দূরে। উপরোক্ত তারিখে সূর্যের সাপেক্ষে পৃথিবীর অবস্থানকে অনুসূর (Perihelion) বলা হয়। প্রত্যেকে বছরই জানুয়ারি মাসে পৃথিবী সূর্যের সবচেয়ে কাছে থাকে। অন্য দিকে, জুলাই মাসে অবস্থান হয় সবচেয়ে দূরে। এই অবস্থানটিকে বলা হয় অপসূর (Aphelion)।

জুলাই ও জানুয়ারি মাসে সূর্য থেকে পৃথিবীর দূরত্বের পার্থক্য হয় ৫০ লক্ষ কিলোমিটার। তবু, এই দূরত্ব খুব বেশি নয়। কারণ, এই দূরত্বটুকুও পৃথিবী ঋতু পরিবর্তনের হাতিয়ার নয়। এ কারণেই, জানুয়ারি মাসে আমরা সূর্যের সবচেয়ে কাছে থাকি, তবু এ সময় উত্তর গোলার্ধে শীতকাল থাকে। অন্য দিকে জুলাই মাসে সূর্য দূরে সত্ত্বেও থাকে গরম। আসলে শীত বা গরমের নিয়ামক সূর্য-পৃথিবীর দূরত্ব নয়, বরং পৃথিবীর কক্ষীয় নতি। আমরা জানি পৃথিবী এর আবর্তন অক্ষের সাথে ২৩.৫ ডিগ্রি হেলে আছে। এ জন্যেই উত্তর গোলার্ধে যখন শীত, দক্ষিণ গোলার্ধে তখন গরম। সূর্যের অবস্থানের জন্যে যদি শীত বা গরম হত, তবে একই সাথে পুরো পৃথিবীতে শীত বা গরম অনুভূত হত।
এ বছরের জানুয়ারির ২ তারিখে সূর্য পৃথিবী থেকে ১৪৭, ১০০, ১৭৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। অন্য দিকে অপসূর অবস্থানে এই দূরত্ব দাঁড়াবে ১৫২, ১০৩, ৭৭৬ কিলোমিটার। আমরা সাধারণত বলি, সূর্য পৃথিবী থেকে ১৫ কোটি কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। সেটা আসলে এই দুই মানের গড় দূরত্ব।


সূত্রঃ
১। আর্থ স্কাই
২। অ্যাস্ট্রোফিক্সেল
Category: articles

Tuesday, December 8, 2015

সূর্য পৃথিবীর নকটতম নক্ষত্র। পৃথিবী থেকে এর গড় দূরত্ব প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার বা ৯ কোটি ৩০ লক্ষ মাইল। এই দূরত্বকে বলা হয় অ্যাস্ট্রোনোমিক্যাল একক যা সৌরজগতের অন্যান্য বস্তুর দূরত্বের একক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সূর্যের প্রধান উপাদান আয়নিত গ্যাস। এর মধ্যে তিন চতুর্থাংশ হাইড্রোজেন। বাকি অংশে প্রধানত হিলিয়াম ছাড়াও সামান্য পরিমাণ ভারী মৌল যেমন অক্সিজেন, কার্বন, নিয়ন এবং আয়রন রয়েছে।
সূর্যঃ সৌরজগতের ৯৯ ভাগের উপরে ভর যার দখলে 

এই সূর্যের মাধ্যমেই পৃথিবীতে প্রাণের উদ্ভব ও বিকাশকে সম্ভব হয়েছে। সূর্যের কারণেই পৃথিবীতে ঋতু, আবহাওয়া, জলবায়ু এবং সামুদ্রিক স্রোতের পরিবর্তন ঘটে।  নিউক্লিও বিক্রিয়ার মাধ্যমে হাইড্রোজেন ক্রমাগত হিলিয়ামে পরিণত হয়ে সূর্যে আলো ও তাপ আকারে শক্তি উৎপন্ন করে।
প্রায় ১০ লাখ পৃথিবীকে সূর্যের মধ্যে বসিয়ে দেওয়া যাবে। অন্য দিকে ব্যাস বরাবর বসালে জায়গা হবে ১০৯টি পৃথিবীর। সৌরজগতের ৯৯.৮৬ ভাগ ভর সূর্য একাই ধারণ করে। সূর্যের মধ্যে ছয়টি অঞ্চল আছে- কেন্দ্রীয় অন্তর্বস্তু, বিকিরণ অঞ্চল, পরিচলন অঞ্চল, দৃশ্যমান পৃষ্ঠ বা ফটোস্ফিয়ার, ক্রোমোস্ফিয়ার এবং সর্ববহিস্থ স্তর করোনা (মুকুট)। পৃথিবীর মত সূর্যে কোন কঠিন পৃষ্ঠ নেই, নক্ষত্রদের কারোই থাকে না।
কেন্দ্রে এর তাপমাত্রা দেড় কোটি ডিগ্রি সেলসিয়াস। কেন্দ্রে উৎপন্ন শক্তিই সূর্যের চালিকাশক্তি যা থেকে সূর্য পৃথিবীতেও তাপ ও আলো বিতরণ করে। পরিচলন অঞ্চলে তাপমাত্রা নেমে যায় ২০ লাখ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।
সূর্যের পৃষ্ঠ তথা ফটোস্ফিয়ারের পুরুত্ব ৫০০ কিলোমিটার (৩০০ মাইল)। এখান থেকেই সৌর বিকিরণ মুক্ত হয়ে বাইরে বেরিয়ে পড়ে এবং ৮ মিনিট পর চলে আসে পৃথিবীতে। এই অঞ্চলের তাপমাত্রা সাড়ে পাঁচ হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর বাইরের  অনুজ্জ্বল করোনা চোখে পড়ে শুধু পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের সময়, যখন চাঁদের আড়ালে ফটোস্ফিয়ার ঢাকা পড়ে যায়। ফটোস্ফিয়ারের পরে তাপমাত্রা আবার বেড়ে গিয়ে ২০ লাখ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছায়। এর সঠিক ও পূর্ণাংগ কারণ এখনও অজানা।

প্রায় সাড়ে ৪ শো কোটি বছর আগে সূর্যের জন্ম। বেঁচে থাকবে আরো প্রায় সমপরিমাণ সময়। কেন্দ্রে হাইড্রোজেন ফিউশান বন্ধ হলে আরো বেশ কিছু পরিবর্তনের পরে এটি লোহিত দানবে (Red Giant) পরিণত হবে। তখন এর ব্যাসার্ধ বেড়ে গিয়ে শুক্র গ্রহ পর্যন্ত পৌঁছবে, এবং সম্ভবত পৃথিবীকেও স্পর্শ করবে।
নোট-১ঃ প্রকৃত গড় দূরত্ব ১৪.৯৬ কোটি কিলোমিটার বা ৯.২৯৬ কোটি মাইল।

সূর্য সম্পর্কিত সকল নিবন্ধ পাবেন এখানে। অন্যান্য সকল পরিভাষার তালিকা এখানে

সূত্রঃ
১। নাসাঃ সৌরজগৎ
২। উইকিপিডিয়াঃ সূর্য 
Category: articles

Tuesday, December 1, 2015

৩০ নভেম্বর, ২০১৫! প্রচলিত রাশিচক্রের কফিনে আরেকটি পেরেক ঠুকে দিয়ে সূর্য প্রবেশ করল রাশিচক্রের ত্রয়োদশ সদস্য সর্পধারী নামক তারামণ্ডলীতে। দিনের বেলায় যদি তারা দেখা যেত, তবে আপনি এই তারিখে দেখতেন যে সূর্য বৃশ্চিক ও সর্পধারীর সীমানায় বসে আলো ছিটাচ্ছে। প্রায় প্রতি বছর এই তারিখে সূর্য বৃশ্চিক থেকে সর্পধারীতে পাড়ি জমায়। প্রচলিত রাশিচক্রে উল্লেখ না থাকলেও, এটিও রাশিচক্রেরই একটি তারামণ্ডলী। ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত সূর্য সর্পধারীর সীমানার ভেতরে অবস্থান করবে। 

১৯৩০ সালে আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান সমিতির আঁকা খ-মানচিত্র অনুযায়ী এই সময়টিতে সূর্যের অবস্থান এই তারামণ্ডলীর সীমানায় পড়েছে। 
Category: articles

Monday, November 30, 2015

সূর্যের চারদিকে পৃথিবীর প্রদক্ষিণের কারণে বছরের বিভিন্ন সময়ে সূর্য আকাশের ভিন্ন ভিন্ন অবস্থানে তথা তারামণ্ডলীতে থাকে। সূর্যের অবস্থানের এই নির্দিষ্ট তারামণ্ডলীগুলোকে রাশিচক্র বলে। এখানে আমরা দেখবো কোন সময়গুলোতে সূর্য কোন তারামণ্ডলীতে অবস্থান করে। এই তারিখগুলো প্রচলিত রাশিচক্র থেকে ভিন্ন, কারণ প্রচলিত রাশিফলের ভিত্তি যে রাশিচক্র সেটা এমনিতেই অবাস্তব হবার পাশপাশি বর্তমানে সেটার তারিখের সাথে সূর্যের সঠিক অবস্থানেরও মিল নেই। 
আরো পড়ুনঃ রাশিচক্রের পরিচয়
এখানে আমরা ২০১৫ সালের ভিত্তিতে অবস্থান দেখছি। 
১৮ ডিসেম্বর, ২০১৪ঃ ধনুমণ্ডলীতে সূর্যের প্রবেশ
২০ জানুয়ারি, ২০১৫ঃ মকরমণ্ডলীতে সূর্যের প্রবেশ
১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ঃ কুম্ভমণ্ডলীতে সূর্যের প্রবেশ
১২ মার্চ, ২০১৫ঃ মীনমণ্ডলীতে সূর্যের প্রবেশ
১৯ এপ্রিল, ২০১৫ঃ মেষমণ্ডলীতে সূর্যের প্রবেশ
১৪ মে, ২০১৫ঃ বৃষমণ্ডলীতে সূর্যের প্রবেশ
২২ জুন, ২০১৫ঃ মিথুনমণ্ডলীতে সূর্যের প্রবেশ
২১ জুলাই, ২০১৫ঃ কর্কটমণ্ডলীতে সূর্যের প্রবেশ
১১ আগস্ট, ২০১৫ঃ সিংহমণ্ডলীতে সূর্যের প্রবেশ
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৫ঃ কন্যামণ্ডলীতে সূর্যের প্রবেশ
৩১ অক্টোবর, ২০১৫ঃ তুলামণ্ডলীতে সূর্যের প্রবেশ
২৩ নভেম্বর, ২০১৫ঃ বৃশ্চিকমণ্ডলীতে সূর্যের প্রবেশ
৩০ নভেম্বর, ২০১৫ঃ সর্পধারীমণ্ডলীতে সূর্যের প্রবেশ
১৮ ডিসেম্বর, ২০১৫ঃ ধনুমণ্ডলীতে সূর্যের প্রবেশ

সূত্রঃ
২। উইকিপিডিয়াঃ জোডিয়াক
Category: articles

Thursday, October 1, 2015

[এই নিবন্ধের লেখক তাসনীমুল হাসান]
দিক নির্ণয়ের এই কৌশলটি আমার মতে সবচেয়ে সহজ। কারণ, বাস্তবে করতে গিয়ে কোন ঝামেলা ছাড়াই সুফল পেয়েছি।
প্রয়োজনীয় পরিবেশঃ উন্মুক্ত সূর্যালোক
প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিঃ
১। একটি খুঁটি, লাঠি বা ছড়ি (১ ফুট লম্বা হলেই যথেষ্ট)
২। (আবশ্যিক নয়) ৩-৪টি ছোট ছড়ির টুকরো (৬ ইঞ্চি উচ্চতার)

কার্যপ্রণালীঃ
১। একটি মসৃণ  ও সমতল স্থানে যান। ঐ স্থানে সূর্যের আলোর উপস্থিতি থাকতে হবে। এমন জায়গা বাছাই করতে হবে যেন অন্তত ২০-৩০ মিনিটের মধ্যে জায়গাটি ছায়ার দখলে না যায়
২। ভূমির সাথে খাড়াভাবে বড় খুঁটিখানা পুতে দিন।
৩। খুঁটির ছায়ার একেবারে প্রান্তে একটি দাগ দিয়ে রাখুন। অথবা, ছোট একখানা খুঁটি বসিয়ে দিন।
৪। ৫-১০ মিনিট অপেক্ষা করুন। দেখবেন, ছায়ার প্রান্তভাগ আগের জায়গা থেকে সরে গেছে।
৫। ৩ ও ৪ নং ধাপ অন্তত ৩-৪ বার করুন।

৬। এবারে খেয়াল করুন, সবগুলো খুঁটি বা দাগ একটি সরল রেখা তৈরি করেছে। এই রেখাটিই পূর্ব-পশ্চিম দিক নির্দেশ করছে। তাহলে, পশ্চিম দিক হচ্ছে যেদিকে প্রথম দাগ বা ছোট খুঁটিটি ছিল। আর, যেদিকে শেষ খুটি বসিয়েছেন সেদিকেই পূর্ব দিক।
এবার যদি আপনি পূর্ব দিকে মুখ কর দাঁড়ান, তার অর্থ হবে আপনার বাঁয়ে উত্তর দিক এবং ডানে দক্ষিণ।
এর আগে আমরা দেখেছিলাম, কিভাবে ধ্রুবতারা (North Star বা Polaris) দিয়ে উত্তর বের করা যায়। তবে, ঐ কৌশল কাজ করবে মেঘমুক্ত রাতের আকাশে। আর এখনকার কৌশল কাজ করবে দিনে। তাহলে রাত দিন ২৪ ঘণ্টাই আমরা খুব সহজেই দিক নির্ণয় করতে পারবো। শর্ত একটিই, মেঘমুক্ত আকাশ।
এটা কিভাবে কাজ করে?
আমরা জানি পৃথিবী পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে নিজ অক্ষের উপর আবর্তিত হচ্ছে। এ কারণেই সূর্যকে পূর্ব থেকে পশ্চিমে যাচ্ছে বলে মনে হয়। এই জন্যে সূর্য যতই পশ্চিম দিকে যেতে থাকে তার ছায়া ততোই পূর্ব দিকে সরতে থাকে। এখানে এ তথ্যটিই কাজ এলাগানো হচ্ছে। অবশ্য আমরা জানি, সূর্য সব সময় ঠিক পূর্ব দিক থেকে উদিত হয় না বা ঠিক পশ্চিম দিকে অস্তও যায় না। বছরজুড়ে নিরক্ষরেখা থেকে দক্ষিণে বা উত্তরে সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয়ের ঘটনা ঘটে।
 তবুও এ কৌশল কাজ করে, কারণ সূর্যের গতিপথ যেদিকেই থাকুক, ছায়া পূর্ব-পশ্চিম বরাবরই থাকে। 
Category: articles

Saturday, June 20, 2015

পৃথিবী থেকে সূর্যের গড় দূরত্ব ১৫ কোটি কিলোমিটার। তবে এই দূরত্ব সব সময় একই থাকে না। থাকত যদি পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘুরতে বৃত্তাকার পথে। কিন্তু সব গ্রহই সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে উপবৃত্তাকার পথে। কেপলারের গ্রহের প্রথম সূত্র অনুসারে।



সূর্যের চারদিকে পৃথিবীর কক্ষপথের সবচেয়ে কাছের অবস্থানকে বলে অনুসূর। আর সবচেয়ে দূরের অবস্থানের নাম অপসূর। পৃথিবী সূর্যের সবচেয়ে কাছে থাকে জানুয়ারি মাসে। আর সবচেয়ে দূরে থাকে জুলাই মাসে। মজার ব্যাপার হলো, আমরা অনেকেই মনে করি, শীত কালে সূর্য পৃথিবীর সবচেয়ে কাছে থাকে। অথচ জানুয়ারির তীব্র শীতের সময়ই কিন্তু আমরা সূর্যের সবচেয়ে কাছে থাকি। এই ধারণা ভুল হওয়ার আরও সহজ প্রমাণ হলো, ঐ জানুয়ারি মাসেই কিন্তু দক্ষিণ গোলার্ধে থাকে তীব্র গরম। আসল কথা হলো শীত বা গরম পৃথিবী-সূর্যের দূরত্বের কারণে হয় না। হয় পৃথিবীর কক্ষ তল হেলে থাকার কারণে।

আরও পড়ুন
☛ অনুসূর বনাম অপসূর

অনুসূর অবস্থানে পৃথিবী সূর্য থেকে ১৪.৭ কোটি কিলোমিটার দূরে থাকে। আর জুলাই মাসে অপসূর অবস্থানে এলে এই দূরত্ব বেড়ে হয় ১৫.২ কোটি কিলোমিটার।

পৃথিবী থেকে সূর্যের দূরত্ব 

জ্যোতির্বিদ্যায় পৃথিবী থেকে সূর্যের দূরত্ব খুব বেশি গুরুত্ব বহন করে। সৌরজগতের বিভিন্ন গ্রহ উপগ্রহের দূরত্বের হিসাব করতে কাজে লাগে এ দূরত্বটি। এই দূরত্বের গড়কে বলা হয়
এক অ্যাস্ট্রোনমিকেল ইউনিট (এইউ) । মহাজাগতিক বস্তুর দূরত্বের পরিমাপে আলোকবর্ষের মতো এই এককটিও খুব গুরুত্বপূর্ণ। অনেক ক্ষেত্রেই দূরত্ব বলা ও বোঝা দুই ক্ষেত্রেই এইউ একক্টি সুবিধাজনক।

আরও পড়ুন
☛ জ্যোতির্বিদ্যায় দূরত্বের এককেরা

প্লুটো আমাদের থেকে ৫৮৭ কোটি কিলোমিটার দূরে আছে। এটাকে এভাবে বললে আরও সহজ হয়: ৩৯ এইউ। একইভাবে সূর্য থেকে বৃহস্পতি গ্রহের দূরত্ব হয় ৫ দশমিক ২। নেপচুনের দূরত্ব প্রায় ৩০ এইউ। ধূমকেতুর উৎসস্থল বলে অনুমিত সৌরজগতের একেবারে প্রান্তের দিকে অবস্থিত উর্ট মেঘের দূরত্ব সূর্য থেকে ১ লক্ষ এইউ।

অন্য দিকে, সৌরজগতের সবচেয়ে কাছের নক্ষত্র প্রক্সিমা সেন্টৌরির (Proxima centauri) দূরত্ব পৃথিবী থেকে প্রায় আড়াই লাখ এইউ। কিন্তু এই দূরত্বটি এতই বেশি যে একে আলোকবর্ষ এককে মাপাই বেশি সুবিধাজনক। সেই হিসেবে এর দূরত্ব ৪ দশমিক ২ আলোকবর্ষ।

কে মেপেছেন এই দূরত্ব?
খৃষ্টের জন্মের ২৫০ বছর আগেই অ্যারিসটারকাস দূরত্বটি মাপেন। সাম্প্রতিক সময় ১৬৫৩ সালে ক্রিষ্টিয়ান হাইগেনও মাপেন এই দূরত্ব। ১৬৭২ সালে আবার মাপেন গিওভানি ক্যাসিনি। তার পদ্ধতি ছিল লম্বন পদ্ধতি।

সূত্র
১। ইউনিভার্স টুডে: হাউ ফার ইজ আর্থ ফ্রম দ্য সান
২। উইকিপিডিয়া: পেরিহেলিয়ন ও অ্যাপহেলিয়ন
Category: articles