Advertisement

শনিবার, ২০ জুন, ২০১৫

পৃথিবী থেকে সূর্যের গড় দূরত্ব ১৫ কোটি কিলোমিটার। তবে এই দূরত্ব সব সময় একই থাকে না। থাকত যদি পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘুরতে বৃত্তাকার পথে। কিন্তু সব গ্রহই সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে উপবৃত্তাকার পথে। কেপলারের গ্রহের প্রথম সূত্র অনুসারে।



সূর্যের চারদিকে পৃথিবীর কক্ষপথের সবচেয়ে কাছের অবস্থানকে বলে অনুসূর। আর সবচেয়ে দূরের অবস্থানের নাম অপসূর। পৃথিবী সূর্যের সবচেয়ে কাছে থাকে জানুয়ারি মাসে। আর সবচেয়ে দূরে থাকে জুলাই মাসে। মজার ব্যাপার হলো, আমরা অনেকেই মনে করি, শীত কালে সূর্য পৃথিবীর সবচেয়ে কাছে থাকে। অথচ জানুয়ারির তীব্র শীতের সময়ই কিন্তু আমরা সূর্যের সবচেয়ে কাছে থাকি। এই ধারণা ভুল হওয়ার আরও সহজ প্রমাণ হলো, ঐ জানুয়ারি মাসেই কিন্তু দক্ষিণ গোলার্ধে থাকে তীব্র গরম। আসল কথা হলো শীত বা গরম পৃথিবী-সূর্যের দূরত্বের কারণে হয় না। হয় পৃথিবীর কক্ষ তল হেলে থাকার কারণে।

আরও পড়ুন
☛ অনুসূর বনাম অপসূর

অনুসূর অবস্থানে পৃথিবী সূর্য থেকে ১৪.৭ কোটি কিলোমিটার দূরে থাকে। আর জুলাই মাসে অপসূর অবস্থানে এলে এই দূরত্ব বেড়ে হয় ১৫.২ কোটি কিলোমিটার।

পৃথিবী থেকে সূর্যের দূরত্ব 

জ্যোতির্বিদ্যায় পৃথিবী থেকে সূর্যের দূরত্ব খুব বেশি গুরুত্ব বহন করে। সৌরজগতের বিভিন্ন গ্রহ উপগ্রহের দূরত্বের হিসাব করতে কাজে লাগে এ দূরত্বটি। এই দূরত্বের গড়কে বলা হয়
এক অ্যাস্ট্রোনমিকেল ইউনিট (এইউ) । মহাজাগতিক বস্তুর দূরত্বের পরিমাপে আলোকবর্ষের মতো এই এককটিও খুব গুরুত্বপূর্ণ। অনেক ক্ষেত্রেই দূরত্ব বলা ও বোঝা দুই ক্ষেত্রেই এইউ একক্টি সুবিধাজনক।

আরও পড়ুন
☛ জ্যোতির্বিদ্যায় দূরত্বের এককেরা

প্লুটো আমাদের থেকে ৫৮৭ কোটি কিলোমিটার দূরে আছে। এটাকে এভাবে বললে আরও সহজ হয়: ৩৯ এইউ। একইভাবে সূর্য থেকে বৃহস্পতি গ্রহের দূরত্ব হয় ৫ দশমিক ২। নেপচুনের দূরত্ব প্রায় ৩০ এইউ। ধূমকেতুর উৎসস্থল বলে অনুমিত সৌরজগতের একেবারে প্রান্তের দিকে অবস্থিত উর্ট মেঘের দূরত্ব সূর্য থেকে ১ লক্ষ এইউ।

অন্য দিকে, সৌরজগতের সবচেয়ে কাছের নক্ষত্র প্রক্সিমা সেন্টৌরির (Proxima centauri) দূরত্ব পৃথিবী থেকে প্রায় আড়াই লাখ এইউ। কিন্তু এই দূরত্বটি এতই বেশি যে একে আলোকবর্ষ এককে মাপাই বেশি সুবিধাজনক। সেই হিসেবে এর দূরত্ব ৪ দশমিক ২ আলোকবর্ষ।

কে মেপেছেন এই দূরত্ব?
খৃষ্টের জন্মের ২৫০ বছর আগেই অ্যারিসটারকাস দূরত্বটি মাপেন। সাম্প্রতিক সময় ১৬৫৩ সালে ক্রিষ্টিয়ান হাইগেনও মাপেন এই দূরত্ব। ১৬৭২ সালে আবার মাপেন গিওভানি ক্যাসিনি। তার পদ্ধতি ছিল লম্বন পদ্ধতি।

সূত্র
১। ইউনিভার্স টুডে: হাউ ফার ইজ আর্থ ফ্রম দ্য সান
২। উইকিপিডিয়া: পেরিহেলিয়ন ও অ্যাপহেলিয়ন
Category: articles

মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০১৫

 রাতের আকাশে যখন পৃথিবী থেকে দেখতে চাঁদের পুরোটাকে আলোকিত মনে হয় তাকেই আমরা বলি পূর্ণিমা, পূর্ণ চন্দ্র বা ফুল মুন (full moon)। কিন্তু কিভাবে ঘটে পূর্ণিমা?

পৃথিবীর আবর্তনের জন্যে চন্দ্র, সূর্য ও রাতের নক্ষত্রদের পূর্ব থেকে পশ্চিমে যেতে দেখা যায়। চাঁদের ক্ষেত্রে আরেকটি ব্যাপার হচ্ছে এটি আবার পৃথিবীকে কেন্দ্র করেও ঘুরছে। ফলে অন্য গ্রহ নক্ষত্রদের চেয়ে প্রতি দিনের রাতের এর অবস্থান পরিবর্তন হয় তুলনামূলক অনেক বেশি। 
পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করতে করতে একটা সময় চন্দ্র, পৃথিবী ও সূর্যের সাথে একই রেখায় আসে। আর এই কল্পিত রেখার মাঝখানে যখন পৃথিবী থাকে, তখনই পশ্চিম দিক থেকে আসা সূর্যের আলো সোজাভাবে পূর্ব দিকে থাকা চাঁদের উপর গিয়ে পড়ে। ফলে, পৃথিবী থেকে দেখতে চাঁদের পুরোভাগ আলোকিত হয়ে থালার মতো দেখা যায়।
এ সময় চাঁদ দিগন্তের খানিকটা মাত্র উপরে থাকে। সূর্য যখন দিগন্ত থেকে আরো বেশি নিচে নেমে যায়, তখন পূর্ব দিকে চাঁদও দিগন্তের আরো  উপরে উঠে আসে। এভাবে সারা রাত চলে ভোরের যখন সূর্যোদয় ঘটে চাঁদ তখন পশ্চিম দিগন্ত দিয়ে অস্ত যায়।

সহজ ভাষায় এটাই হলো পূর্ণিমা হবার কারণ। কিন্তু প্রশ্ন করা যায়, সূর্যগ্রহণ বা চন্দ্রগ্রহণের সময়ওতো চাঁদ, পৃথিবী ও সূর্য একই রেখায় থাকে। তাহলে প্রতিটা পূর্ণিমাতেই কেন চন্দ্রগ্রহণ হয় না?
এটা ঠিক যে, চন্দ্রগ্রহণ একমাত্র পূর্ণিমার সময়েই ঘটতে পারে। আবার সূর্যগ্রহণও হতে পারে যখন এই তিন বস্তু একই রেখায় থাকে। তখন অবশ্য তিনজনের মধ্যে মাঝখানে থাকতে হবে চাঁদকে।

প্রতি  পূর্ণিমাতেই চন্দ্রগ্রহণ না হবার কারণ হচ্ছে, পৃথিবী থেকে দেখতে দিগন্তের উপরে-নিচে হিসেব করলে আমরা চাঁদ ও সূর্যকে পৃথিবীর সাথে একই রেখায় দেখবো। কিন্তু চাঁদ ঐ সময়টিতে তথা পূর্ণিমার সময় একটু উত্তরে বা দক্ষিণে থাকতে পারে। এটাই ঘটে অধিকাংশ সময়।
কিন্তু যখনই উত্তর-দক্ষিণে না থেকে বরাবরে অবস্থান করে তখনই পূর্ণিমা পরিণত হয় চন্দ্রগ্রহণে।

অনেক সময় একই মাসে দুটি পূর্ণিমা ঘটে যেতে পারে। বিস্তারিত জানতে দেখুন এই পোস্ট।
Category: articles

বুধবার, ৩ জুন, ২০১৫

উল্লেখ্য, সৌরজগতের আটটি গ্রহের মাত্র ৫ টি খালি চোখেই ভালো দেখা যায়। বাকি ২টি দেখা যায় না। আরেকটি? আরে, আরেকটিতো পৃথিবীই। এর মধ্যে শুক্র, বৃহস্পতি ও শনিকে বেশ সহজেই দেখা যায়।
আচ্ছা, একে একেই দেখি।
শুক্রঃ শুক্রকে প্রতি সন্ধ্যায়ই চোখে পড়ে পশ্চিমাকাশে। তবে বছরের এ সময় সন্ধ্যার পর প্রায় ৩ ঘণ্টা পর্যন্ত দিগন্তের উপরে থাকে। সূর্য ও চন্দ্রের পরেই কিন্তু আকাশের সবচেয়ে উজ্জ্বল বস্তু শুক্র। এটা অবশ্য বলা হচ্ছে পৃথিবীর দৃষ্টিভঙ্গি থেকে। প্রকৃত উজ্জ্বলতা অবশ্যই ভিন্ন।
জুনের ৬ তারিখে এই গ্রহের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটবে। ঐ দিন পশ্চিমাকাশে পৃথিবী, শুক্র ও সূর্যের অন্তর্গত কোণ তথা দ্রাঘণ  (elongation) হবে সর্বোচ্চ। পুরো জুন জুড়েই সন্ধ্যার পরে সন্ধ্যাতারাটি লাইটহাউসের মতো সূর্যের আলো প্রতিফলন করতে থাকবে। জুনের ১৮ ও ১৯ তারিখের আগে ও পরে কয়েকদিন রমজানের নতুন চাঁদকে দেখা যাবে শুক্র গ্রহের আশেপাশেই।

বৃহস্পতিঃ
সন্ধ্যার পর ৩ ঘণ্টা পর্যন্ত রাতের আকাশের উজ্জ্বলতায় শুক্রের একক রাজত্বের পতনের পর উত্তরাধিকার লাভ করবে বৃহস্পতি। গ্রহরাজ এতখানিই উজ্জ্বল যে একে ভুলক্রমে শুক্র ছাড়া অন্য কিছু মনে করে ফেলার কোন কারণই নেই।
বছরের শুরুতে বৃহস্পতি আকাশে শুক্রের বিপরীত প্রান্তে থাকলেও জুনে এসে এটি সন্ধ্যার পরে অবস্থান করে শুক্রের মতোই পশ্চিমাকাশে, শুক্রের একটু উপরে।
মজার ব্যাপার হচ্ছে, জুনের শেষ দিক থেকে শুরু করে ২০১৬ সালের ২৭ আগস্ট পর্যন্ত এই দুই উজ্জ্বল গ্রহ থাকবে নিকটতম দূরত্বে।
পৃথিবীর আকাশে বৃহস্পতির উজ্জ্বলতা যে কোনো নক্ষত্রের চেয়েও বেশি। তবে রাতের আকাশের উজ্জ্বলতার রাজত্বের সময়কাল কমে গেছে গ্রহটির। কিছু দিন আগে রাতের অনেকাংশ ধরে সূর্যালোক প্রতিফলিত করলেও এই মাসের শুরুর দিকে এটি দিগন্তের উপরে থাকবে শুক্র ডুবে যাবার পর ১ থেকে ২ ঘণ্টা। জুনের শেষ দিকে দুই গ্রহ এতই কাছাকাছি থাকবে যে অস্ত যাবে প্রায় একই সময়ে।
মধ্যে-উত্তর গোলার্ধে মাসের প্রথম দিকে গ্রহটি আকাশে থাকবে সাড়ে ৩ ঘণ্টা আর মাসের শেষের দিকে থাকবে আড়াই ঘণ্টা।
খালি চোখে বৃহস্পতির কোন উপগ্রহ চোখে পড়বে না। তবে দুরবিনের সহায়তায় চারটি উপগ্রহ- আয়ো, ইউরোপা, গ্যানিমিড ও ক্যালিস্টোকে চোখে পড়বে। এই চারটি গ্রহকে আবিষ্কারের বদৌলতে বিজ্ঞানী গ্যালিলিওর নাম অনুসারে গ্যালিলিয়ান উপগ্রহ বলা হয়।
জুনের বিশ তারিখে চাঁদ বৃহস্পতিকে অতিক্রম করে আরো পূবে চলে আসবে। পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহটি ঠিক তার পরদিনই পেরিয়ে আসবে সিংহরাশির (Leo Constellation) উজ্জ্বলতম নক্ষত্র রেগুলাসকে।
শনিঃ
রাত নামার পরই সোনালী গ্রহ শনির রাজত্ব শুরু হবে পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব আকাশে। থাকে প্রায় ভোর পর্যন্ত। সারা রাত পশ্চিমে ঘোড়া দৌড়িয়ে ভোরের দিকে হাজির হয় দক্ষিণ-পশ্চিম আকাশে। জুনের ১ ও ২ তারিখে গ্রহটি পূর্ণ চাঁদ ও জ্যেষ্ঠা (Antares) তারকার খুবই কাছাকাছি ছিল।
শনির কোন উপগ্রহই বাইনুকুলার দিয়েও চোখে পড়ে না, প্রয়োজন হবে ছোট্ট একখান টেলিস্কোপের। কারণ! শনিতো বৃহস্পতির চেয়ে দূরে থাকে।

মঙ্গলঃ
অনেক দিন ধরেই মঙ্গল গ্রহটি নিজেকে গোধূলির আলোয় লুকিয়ে রাখছে। ফলে, প্রতি মাসে দুই এক দিন ছাড়া একে দেখা সম্ভব ছিল না। জুনের ১৪ তারিখে এটি হাজির হবে ভোরের আকাশে। এ মাসেও লাল গ্রহটি দৃষ্টির আড়ালে থেকে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
বুধঃ
সূর্যের সবচেয়ে নিকটতম গ্রহটি উত্তর-গোলার্ধ থেকে ভালো চোখে পড়বে না। তবে, দক্ষিণ গোলার্ধের লোকেরা জুনের ১০ তারিখের দিকে একে ভোরের আকাশে দেখবেন। মধ্য-উত্তর গোলার্ধ থেকে গ্রহটিকে জুনের ২২ বা ২৩ তারিখে দেখা যাবে। যাদের বাইনোকুলার আছে, পূবাকশে একটু উঁকিঝুঁকি মেরে দেখতে পারেন।
জুলাইর ২৩ তারিখ নাগাদ বুধ ভোরের আকাশেই থাকবে। এর পরে এটি হাজির হবে সন্ধ্যার আকাশে।

উল্লেখ্য, রাতের আকাশে যাই দেখি তাদেরকেই আমরা 'তারা' বললেও এই পাঁচখান কিন্তু গ্রহ। এদের নিজস্ব আলো নেই। এরা চাঁদের মতোই সূর্যের আলোকেই আমাদের দিকে ফিরিয়ে দেয়।
 সূত্রঃ
১। earthsky
Category: articles

জ্যোতির্বিজ্ঞান পরিভাষা: জেনে নিন কোন শব্দের কী মানে

এখানে সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যাসহ জ্যোতির্বিদ্যায় প্রয়োজনীয় পরিভাষাগুলোর তালিকা দেওয়া হলো। সাজানো হয়েছে অক্ষরের ক্রমানুসারে। এই তালিকা নিয়মিত আপডেট...