Advertisement

বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০১৪

সূর্য হল আমাদের সৌরজগতের শক্তি সরবরাহ কেন্দ্র। জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষায় এটি হল একটি সাধারণ নক্ষত্র। কিন্তু সাধারণ এই নক্ষত্রই প্রতি সেকেন্ডে উৎপন্ন করে বিপুল পরিমাণ শক্তি, প্রধানত আলো ও তাপ বিকিরণের মাধ্যমে।  প্রতি সেকেন্ডে সূর্যে উৎপন্ন শক্তির পরিমাণ হল 5 x 1023  অশ্বশক্তির সমপরিমাণ। ধারণা পেতে চান এই পরিমাণ শক্তি কতটা বেশি? মনে করুন, পৃথিবী থেকে সূর্য  অবধি একটা বরফের সেতু নির্মাণ করা হল, যা ১ মাইল পুরু ও দুই মাইল চওড়া। এই সেটুটাকে এক সেকেন্ডে উড়িয়ে দিতে সমান পরিমাণ শক্তি লাগবে!
চলুন, জেনেই নিই সূর্যের বয়স কত।

সূর্যের বয়স জানার সরাসরি কোন উপায় নেই। পৃথিবীতে প্রাপ্ত সবচেয়ে প্রাচীন প্রস্তরখণ্ড ও উল্কাপিণ্ডের বয়স হচ্ছে ৪৬০ কোটি বছর। যদি ধরে নেওয়া হয়, পুরো সৌরজগত একই সাথে সৃষ্টি হয়েছিল, তবে সূর্যের বয়সও হয় এটাই। অবশ্য, এই অনুমান ভুল হবার সম্ভাবনা তেমন একটা নেই। অর্থ্যাৎ সূর্যের বয়স প্রায় ৫ বিলিয়ন বা ৫০০ কোটি বছর।
সবচেয়ে প্রাচীন পাথরের তেজস্ক্রিয় ভাঙ্গন সূত্র কাজে লাগিয়ে এর বয়স বের করা হয়।
সূত্রঃ
নাসা হেলিওস
Category: articles

বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০১৪

পৃথিবীর বাইরে প্রাণ তথা এলিয়েনের প্রসঙ্গ আসলেই ঘুরে ফিরে আসে মঙ্গল গ্রহের কথা। এর আগেও বহুবার খবরের শিরোনাম হয়েছে এই লাল গ্রহটি। এবার এতে পাওয়া গেল মিথেন গ্যাস। তাতে কী? প্রাণের অস্তিত্ত্বের সাথে তো সম্পর্ক পানির। মিথেনের তাতে কাজ কি? হ্যাঁ, সম্পর্ক আছে। আর সেজন্যই তো আবারো শিরোনাম হল পৃথিবীর ২য় নিকটতম প্রতিবেশী।
নাসার মঙ্গল যান কিওরিওসিটি রোভার

এবার নাসার মহাকাশযান কিউরিওসিটি রোভার মঙ্গলে মিথেন গ্যাসের উপস্থিতি শনাক্ত করতে পেরেছে। এ থেকে ধারণা করা যায় বর্তমানে বা অন্তত অতীতে হলেও মঙ্গলে প্রাণ ছিল। গ্রহটিতে মিথেনের উপস্থিতি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ একটি তথ্য। কারণ, পৃথিবীর মিথেনের ৯৫ শতাংশই আসে অণুজীবদের থেকে। এ থেকেই গবেষকরা আশা করছেন, মঙ্গলে প্রাণ থাকতেও পারে।
গবেষণায় নেতৃত্ব দেওয়া নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবের গবেষক ড. ক্রিস ওয়েবস্টার বলেন, "হিসেবে দেখা যাচ্ছে, মঙ্গলের বায়ুমণ্ডলে প্রায় ৫ হাজার টন মিথেন আছে। একে যদি আপনি পৃথিবীর সাথে তুলনা করেন, তবে পৃথিবীতে আছে ৫০ কোটি টন। পৃথিবীতে এই গ্যাসের ঘনত্ব হচ্ছে ১৮০০ পিপিবিভি (Parts per billion by volume) যেখানে মঙ্গলে ০.৭ পিপিবিভি।"  
কিউরিওসিটির দল গ্রহটিতে মিথেনের উৎসের সন্ধান না পেলেও মনে করা হচ্ছে ভূগর্ভস্থ স্টোরই এর উৎসস্থল। এই গ্যাসের উৎস কোন জীব নাকি নিছকই ভৌগলিক ব্যাপার তা জানতে সহায়তা করতে পারে গ্যসে উপস্থিত কার্বনের আইসোটোপের প্রকৃতি। পৃথিবীতে ১২ ভরের কার্বন (C-12) জীবনের ক্ষেত্রে কার্বন-১৩ এর চেয়ে বেশি সহায়ক।
C-13 এর তুলনায় C-12 এর অধিক উপস্থিতির প্রমাণ পেয়েই বিজ্ঞানীরা পৃথিবীতে প্রাণের বিকাশ অন্তত ৪ বিলিয়ন বছর আগেও ছিল বলে অনুমান করছেন। তবে, মঙ্গলের ক্ষেত্রে এই ব্যাপারটি ভালো মত পরীক্ষা করবার যথেষ্ট গ্যাস নেই বলেই আপাতত সমস্যা।
এখানে উল্লেখ্য, মিথেন হল একটি জৈব (Organic) যৌগ। আর জৈব যৌগের প্রধান উপাদান হল কার্বন।
নাসার পাঠানো কিউরিওসিটি যানটি ২০১২ সালের আগস্টে মঙ্গলে অবতরণ করে এর এর বায়ু ও উপাদান নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে। 
সূত্রঃ
বিবিসি নিউজ, উইকিপিডিয়া
Category: articles

বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৪

যাঁকে আধুনিক কসমোলজির জনক বলে প্রায়শই অভিহিত করা হয়, সেই বিজ্ঞানী এডুইন হাবল এমন বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার করেছিলেন যা মহাবিশ্ব সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের ধ্যানধারণা আমূল পাল্টে দেয়।
বিজ্ঞানী এডুইন হাবল
জন্ম ১৮৮৯ সালে। পেশাগত জীবন শুরু আইনজীবী হিসেবে। কিন্তু যার মন পড়ে রয়েছে মহাকাশের দূর সীমানায়, তার কি আর আইনের ধারায় মন বসে?  কয়েক বছর পরেই নিলেন জ্যোতির্বিদ্যায় ডক্টরেট । গ্র্যাজুয়েশনের পরপরই ক্যালিফোর্নিয়ার মাউন্ট উইলসন মানমন্দিরে (Observatory) কাজ করার দাওয়াত পেলেন। কিন্তু তিনি আবার ১ম বিশ্বযুদ্ধের সৈনিকও যে! তাই কাজে যোগ দিতে কিছু দিন দেরি হয়ে গেল। তবে, ফিরে এসেই লেগে গেলেন। এখানেই তিনি বিশ্বের বৃহত্তম দুটি আকাশবীক্ষণ যন্ত্র (Telescope) নিয়ে কাজ করার সুযোগ পেলেন। এগুলো হল যথাক্রমে ৬০ ও ১০০ ইঞ্চির হুকার টেলিস্কোপ।

সৈনিক জীবন বুঝি বড্ড ভালো লেগেছিল!  ২য় বিশ্বযুদ্ধের দামামা শুরু হয়ে গেলে ১৯৪২ সালে আবারো মানমন্দির ছেড়ে গেলেন।  পেলেন বীরত্বের প্রতিকও।

মিল্কিওয়ের বাইরে উঁকিঃ
১৯২০ এর দশকেও আকাশে ছড়ানো ছিটানো ছোপ ছোপ আলোকে মনে করা হত নীহারিকা (Nebula)। মনে করা হত এগুলোর অবস্থানও মিল্কিওয়েতেই। আলাদা আলাদা করে NGC 6822, M33 ও এনড্রোমিডা গ্যালাক্সির ছবি নিরীক্ষা করার সময় হাবল এগুলোর প্রতিটির ভেতরে একটি সেফেইড ভেরিয়েবল নামক স্পন্দনশীল (Pulsating) নক্ষত্র (Star) দেখতে পেলেন। হাবল সাহেব হিসেব কষে বের করলেন নক্ষত্রগুলো কত দূরত্বে আছে। এতে করে বের হল নীহারিকাদের  দূরত্বও। দেখা গেল, মিল্কিওয়ে থেকে তাদের দূরত্ব অনেক বেশি দূরে।

মহাকাশবিদরাও বুঝলেন, এই নীহারিকাগুলোও আসলে মিল্কিওয়ের মতই ছায়াপথ (Galaxy)। প্রতিটি ছায়াপথে আছে বিলিয়ন বিলিয়ন তারকা। আগে যেখানে মিল্কিওয়েকেই 'মহাবিশ্বের সব' মনে করা হত, সেখানে এবার মহাকাশবিজ্ঞানীদের চোখ আরো অনেক দূর প্রসারিত হয়ে গেল। 
প্রায় একই সময়ে হাবল গ্যলাক্সিদের শ্রেণিবিভক্ত করার একটি স্টান্ডার্ড উপায়ও বার করলেন। তিনিই প্রথম পরিষ্কার করে গ্যালাক্সিগুলোকে ৪টি শ্রেণিতে ফেললেন। এগুলো হল, ডিম্বাকৃতির (Elliptical), প্যাঁচানো তথা সর্পিলাকার (Spiral) , Barred Spiral ও অনিয়াতাকার (Irregular) গ্যালাক্সি। হাবল শুরুতে ধারণা করেছিলেন সর্পিল গ্যালাক্সিরা  ডিম্বাকৃতিরগুলো থেকে বিকশিত হয়। এখন অবশ্য বিজ্ঞানীরা জানেন সব গ্যলাক্সিদের আকৃতিই এদের জীবনের শুরুতেই নির্ধারিত হয়।

সম্প্রসারণশীল মহাবিশ্বঃ
গ্যালাক্সিদের নিয়ে কাজ করতে গিয়ে হাবল দেখলেন, ওগুলো স্থির হয়ে বসে নেই। উপরন্তু এরা প্রায় সবাই পৃথিবী থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। অবশ্য এন্ড্রোমিডা গ্যালাক্সি মিল্কিওয়ের সাথে পারস্পরিক মহাকর্ষীয় টানে কাছে আসছে এবং আরো ৫০০ কোটি বছর পরে একে অপরের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হবে।

ফলে জানা গেল, মহাবিশ্ব সম্প্রসারিত হচ্ছে। যে প্রক্রিয়ায় মহাবিশ্বের সম্প্রসারণের হার বের করা হয় তাকে বলে হাবলের নীতি (Huble's Law)। অবশ্য জর্জ লেমিটরও এর আগে ১৯২৭ সালে এই নীতি প্রস্তাব করেছিলেন। হিসেব করে পাওয়া গেল, মহাবিশ্ব একটি নির্দিষ্ট হারে প্রসারিত হচ্ছে। বিজ্ঞানীর সম্মানে এই হারটিকে বলা হয় হাবল ধ্রুবক (Huble Constant)।

হাবলের এক দশক আগে বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইনও সাধারণ আপেক্ষিকতার নীতির মাধ্যমে সম্প্রসারণশীল মহাবিশ্বের ধারণা দিয়েছিলেন। কিন্তু ঐ সময়ে তার কোন প্রমাণ না পাওয়া যাওয়াতে তিনি সেই প্রস্তাবের সমীকরণগুলো প্রত্যাহার করেন। কিন্তু হাবল সেই ধারণা প্রমাণিত করবার পরে আইনস্টাইন মাউন্ট উইলসনে গিয়ে বলেন, ঐ সমীকরণগুলো প্রত্যাহার ছিল তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল

অন্যান্য অবদানঃ
উপরোক্ত বিষয়গুলো ছাড়াও জ্যোতির্বিদ্যার জগতেই হাবলের রয়েছে আরো অবদান। পেয়েছেন অসংখ্যা পুরস্কার। কিন্তু মহাবিশ্বের পরিচয় উন্মোচিত করার পরেও তিনি নোবেল পুরস্কার পাননি। তাঁর জীবদ্দশায় নোবেল প্রাইজের জন্য  মহাকাশবিদ্যাকে পদার্থবিদ্যার একটি ফিল্ড মনে করা হত। তিনি আজীবন চেষ্টা করে গেছেন যাতে এই ধারণা চেঞ্জ হয়ে জ্যোতির্বিদরাও নোবেলের সুযোগ পান। সুযোগটি তৈরি হল ১৯৫৩ সালে। কিন্তু একই বছর মারা গেলেন তিনিও । যেহেতু নোবেলের ক্ষেত্রে মরণোত্তর (Posthumous) পুরস্কার প্রদানের ব্যবস্থা নেই, তাই নোবেলের তালিকায় হাবল আর স্থান পেলেন না।

১৯৫৩ সালে, ৬৩ বছর  বয়সে মারা যান মহাবিশ্বের নব দিগন্ত উন্মোচনকারী এই জ্যোতির্বিদ। মৃত্যুর আগে তিনি পালোমার পর্বতে ২০০ ইঞ্চির হ্যালি টেলিস্কোপের নির্মাণ দেখে গিয়েছিলেনীর১৯৭৬ সালে রুশ BTA-6 টেলিস্কোপ তৈরি আগ পর্যন্ত এটিই ছিল বৃহত্তম টেলিস্কোপ।

হাবলের জন্মের ১০১ বছর পর ১৯০০ সালে নাসা পৃথিবীর কক্ষপথে হাবল স্পেইস টেলিস্কোপ বসাল। এই আকাশবীক্ষণ যন্ত্র মহাবিশ্বের হাজার হাজার ছবি পৃথিবীতে পাঠিয়েছে। পৃথিবীর নিখুঁত বয়স নির্ণয়, গ্যালাক্সিদের ক্রমবিকাশ ও মহাবিশ্বকে প্রসারণের জন্য দায়ী ডার্ক এনার্জির আবিষ্কারের ক্ষেত্র প্রভূত  অবদান রয়েছে এই টেলিস্কোপ্টির।

সূত্রঃ
১. স্পেইস ডট কম
২. উইকিপিডিয়াঃ Edwin Hubble

Category: articles

বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৪

মহাকাশে ১৫০০ দিনের মত ঘোরাঘুরি করে ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির আকাশযান প্ল্যাঙ্কের পাঠানো ছায়াপথের আলোর গতিপথের চিত্র থেকে আমাদের সৌরজগতের আবাস মিল্কিওয়ে ছায়াপথের চৌম্বক ছবি বানানো হয়েছে।  সংস্থাটির দাবী, মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির চৌম্বক ক্ষেত্র প্রদর্শনের ক্ষেত্রে এই ছবিগুলোই অগ্রগামী। বিগ ব্যাঙ তথা মহাবিশ্বের জন্মের পর একে দেখতে ঠিক কেমন লেগেছিল - তা এই নকশা থেকে জানা যেতেও পারে।
প্ল্যাঙ্ক মহাকাশযানের পাঠানো আলোর সমাবর্তন (Polarisation) তথ্য ব্যবহার করে নির্মাণ করা হয়েছে চিত্রগুলো। আলোকরশ্মি তার গতিপথে কী কী প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়েছিল, সমাবর্তন থেকে তার অনেকগুলো তথ্য পাওয়া যায়।
সমাবর্তনের পরিমাণ থেকে মহাকাশবিদরা আঁচ করতে পারেন, চুম্বকত্বসহ কোন ভৌত কারণে সমাবর্তন ঘটেছে।
প্ল্যাঙ্ক মহাকাশযানটিকে ১৪ মে, ২০০৯ সালে প্রেরণ করা হয়। উদ্দেশ্য ছিল বিগ ব্যাঙ পরবর্তী কসমিক মাইক্রোওয়েভ ব্যাকগ্রাউন্ড (CMB) নিয়ে তথ্য আহরণ করা।
সূত্রঃ
ডেইলিমেইল
Category: articles

শনিবার, ৮ নভেম্বর, ২০১৪

কেন্দ্রস্থলে সূর্য, অন্যান্য গ্রহ, কিছু বামন গ্রহ, ধূমকেতু ইত্যাদি নিয়ে আমাদের সৌর পরিবারের বাস মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিতে ।। মহাবিশ্বে গ্যলাক্সি বা ছায়াপথের সংখ্যা বহু। এর সঠিক সংখ্যা আমরা জানি না। কারণ, সেই চাহিদা মেটাবার মত  আমাদের এখনও নির্ভরযোগ্য কোন যন্ত্র (টেলিস্কোপ) নেই। তবে, অনুমিত ধারণা মতে এ সংখ্যা ১০০ বিলিয়ন থেকে ২০০ বিলিয়নের মধ্যে । সেই হিসেবে, আমাদের মিল্কিওয়ের রয়েছে অনেক অনেক প্রতিবেশি।
কিন্তু মিল্কিওয়ের সবচেয়ে নিকটবর্তী গ্যালাক্সি কোনটি?
সবচেয়ে নিকটবর্তী গ্যালাক্সি

অনেকেই উত্তরে বলবেন, অ্যান্ড্রোমিডা গ্যালাক্সি অথবা, ম্যাজেলানিক ক্লাউড (Magellanic Clouds)। কিন্তু, সত্যি কথা হল, মিল্কিওয়ের নিকটতম গ্যালাকটিক প্রতিবেশির বাস মিল্কিওয়ের ভেতরেই!
চমকে যাবেন না প্লিজ, ব্যাখ্যা করছি।
ক্যানিস ম্যাজর বামন (Canis Major Dwarf) গ্যলাক্সির দূরত্ব মিল্কিওয়ের কেন্দ্র থেকে ৪২ হাজার আলোকবর্ষ। অন্য দিকে, আমাদের থেকে, মানে সৌর পরিবার থেকে এর অবস্থান আরো কাছে, মাত্র ২৫ হাজার আলোকবর্ষ। ফলে ব্যাপারটা হয়ে দাঁড়িয়েছে দারুণ! এই গ্যালাক্সিটি আমাদের মিল্কিওয়ের চেয়েও কাছের। কারণ, আমাদের থেকে মিল্কিওয়ের কেন্দ্রের দূরত্ব ৩০ হাজার আলোকবর্ষ।
ক্যানিস ম্যাজর বামন গ্যলাক্সির আবিষ্কার ২০০৩ সালে। মহাকাশবিদরা একে পেয়েছেন অবলোহিত (Infrared) ছবি বিশ্লেষণ করে। অবলোহিত ছবির কারিশমা হল, এটা গ্যাস ও ধূলিকণা ভেদ করে পর্যবেক্ষকের চোখে এসে ধরা দেয়।
ক্যানিস ম্যাজর বামন গ্যালাক্সিতে অনেকগুলো এম-শ্রেণীর বামন তারকার বাস। তারকাগুলো শীতল, লোহিত। এরা অবলোহিত বর্ণালীতে উজ্জ্বল হয়ে ধরা দিয়ে অবলোহিত চিত্র তৈরি করে।
মিল্কিওয়ের আজকের এই বপু হয়েছে এই ক্যানিস ম্যাজরের কিয়দাংশ ভক্ষণ করে। মিল্কিওয়ে এখনও তাকে গ্রাস করে চলেছে। বামন ক্যানিস ম্যাজরের অনেকগুলো তারকা ইতোমধ্যেই মিল্কিওয়ের অংশ হয়ে গেছে। এর ফলে হয়েছে কি, মিল্কিওয়ের নিকটতম তারকার অবস্থান হয়েছে এর অভ্যন্তরেই!
বামন ক্যানিস ম্যাজরের আকার অতটা বড় নয়। এর তারকার সংখ্যা মাত্র ১ বিলিয়নের কাছকাছি। অন্য দিকে আমাদের মিল্কিওয়েতে তারকার সংখ্যা ২০০ থেকে ৪০০ বিলিয়ন।
নিকটতম গ্যালাক্সি হবার রেকর্ডটি আগে ছিল বামন স্যাগিটেরিয়াস নামক ডিম্বাকৃতির (Elliptical) গ্যালাক্সিটির। এটি আবিষ্কৃত হয়েছিল ১৯৯৪ সালে। এর দূরত্ব ছিল ৭৫ হাজার আলোকবর্ষ
সাধারণভাবে প্রচলিত যে,  অ্যান্ড্রোমিডা গ্যালাক্সি মিল্কিওয়ের নিকটতম। আসলে এটা হচ্ছে সর্পিল (Spiral) গ্যালাক্সিদের মধ্যে নিকটতম। এটা অবশ্য মিল্কিওয়ের সাথে মহাকর্ষীয় বন্ধনে আবদ্ধ। কিন্তু দূরত্বের দিক দিয়ে আমাদের গ্যলাক্সি থেকে এর অবস্থান ২০ নম্বরে। পৃথিবী থেকে অ্যান্ড্রোমিডা গ্যালাক্সির দূরত্ব ২৫ লাখ আলোকবর্ষ
লার্জ ও স্মল ম্যাজেলানিক ক্লাউড (Large and Small Magellanic Clouds) এর দূরত্ব আমাদের থেকে যথাক্রমে ১ লক্ষ আশি হাজার ও দুই লক্ষ দশ হাজার আলোকবর্ষ। মনে করা হয়,  এরা মিল্কিওয়েকে প্রদক্ষিণ করছে, তবে তা নাও হতে পারে।
এই সবগুলো গ্যালাক্সিই লোকাল গ্রুপ নামক ত্রিশের অধিক গ্যলাক্সিদলের সদস্য। এদের বিস্তৃতি মিল্কিওয়ে থেকে ৪০ লাখ আলোকবর্ষ পর্যন্ত।
সূত্রঃ
১. উইকিপিডিয়াঃ নিকটতম গ্যালাক্সিদের তালিকা
২. ইউনিভার্স টুডে
৩. স্পেইস ডট কম
Category: articles

মঙ্গলবার, ৪ নভেম্বর, ২০১৪

এই ঘটনার সাথে আমরা কম বেশি সবাই পরিচিত যে আমরা চলন্ত কোন বস্তুর উপর বসে থাকলে সেটা যদি কোন দিকে মোড় নেয়, আমরা তার উলটো দিকে পড়ে যেতে থাকি, যদি না জিনিসটাকে শক্ত করে ধরে রাখি। কখনও বাসের ছাদে বসেছেন? বসলে টের পেতেন। বাস যখন কোন দিকে মোড় নেয়, আপনাকে শক্ত করে বাসকে ধরে রাখতে হবে, নইলে উলটো দিকে পড়ে আপনার যাত্রা সাঙ্গ হবে। [আমি একবার চড়েছিলাম, কেমন লাগে বোঝার জন্য প্লাস গাড়ি না পেয়ে]
নিচের অ্যানিমেশনে পৃথিবীর আবর্তন দেখুনঃ
পৃথিবী প্রতিনিয়ত পশ্চিম থেকে ঘুরছে। এ জন্যেই ক্রমান্বয়ে রাত- দিন হচ্ছে
আমরা জানি, পশ্চিম থেকে পূবে পৃথিবীর আবর্তন বেগ ঘণ্টায় ১৬৭০ কি.মি (বিষুব অঞ্চলে)।  ঢাকায় এই বেগ ঘণ্টায় ১৫২৯ কি.মি। যাই হোক, এই বিপুল বেগের কারণে আমরা ধরাপৃষ্ঠ থেকে ছিটকে পড়ে যাবার কথা। পৃথিবী আমাদেরকে ফেলে দিয়ে সূর্যকে চক্কর দেবার জন্য প্রতি ঘণ্টায় ১ লাখ আট হাজার কি.মি বেগে ছুটে চলে যেত। এই বেগটা হল সূর্যের চারদিকে পৃথিবীর প্রদক্ষিণ বেগ।
কিন্তু, পৃথিবী খুব ভাল! আমাদেরকে ফেলে চলে যায় না। কিন্তু কেন?
কোন বস্তু কোন ঘুর্ণায়মান বস্তুর উপর টিকে থাকবে, নাকি পড়ে যাবে তা নির্ধারণ করে দুটি বিপরীতধর্মী বলের যুদ্ধ। এরা হল বস্তুটির অভিকর্ষ ও কেন্দ্রবিমুখী বল। অনেকে হয়ত মনে করে থাকতে পারেন বলদ্বয় হবে আসলে যথাক্রমে কেন্দ্রমুখী (Centripetal) বল (Force) ও কেন্দ্রবিমুখী বল (Centrifugal Force)। এই বলদ্বয় কিন্তু আসলে একে অপরের সমান ও বিপরীতমুখী, নিউটনের ৩য় সূত্রানুসারে। আর, আমাদের আলোচ্য বলের (Force) যুদ্ধ হবে কিন্তু বড় বস্তুর ক্ষেত্রে যার মহাকর্ষ উল্লেখযোগ্য যেমন, গ্রহ, উপগ্রহ, নক্ষত্র ইত্যাদি।
এখন তাহলে দেখা যাক পৃথিবীতে কোন বলের আধিপত্য কেমন?
পৃথিবীপৃষ্ঠে অবস্থিত কোন বস্তুকে পৃথিবী F বা W = mg বলে টানে। এখানে F হল আকর্ষণ বল, W হল এই আকর্ষণ তথা অভিকর্ষজনিত বল, টান বা ওজন। m বস্তুর ভর, g হল অভিকর্ষজ ত্বরণ , যার কারণে প্রতি সেকেন্ডে যে বেগ বৃদ্ধি পায়। g এর মান হল প্রতি বর্গ সেকেন্ডে মোটামুটি ৯.৮ মিটার।
যাই হোক, এই সূত্র আপাতত আমাদের খুব বেশি দরকার নেই। আমাদের এতটুকু জানলেই চলবে যে পৃথিবীর অভিকর্ষজ ত্বরণ (g) প্রতি বর্গ সেকেন্ডে মোটামুটি ৯.৮ মিটার। ।
এখন, আমাদের জানা দরকার আবর্তনের জন্য আমাদের বেগ কী পরিমান হ্রাস পায়।
আমরা জানি,  ঘূর্ণায়মান বা আবর্তনশীল কোন বস্তুর ত্বরণ (Acceleration) বের করার  সূত্র হল,
ঘূর্ণনশীল বস্তুর ত্বরণ বের করার সূত্র

পৃথিবীর ঘূর্ণন বা আবর্তন বেগ হল,  v =  ৪৬৪ মি/সেকেন্ড, ব্যাসার্ধ,  r = ৬৩৭১ কিমি.
বা ৬, ৩৭১, ০০০ মিটার।
হিসেব করে পাই, ত্বরণ a = প্রায় ০.০৩৮৮ মিটার (প্রতি বর্গ সেকেন্ডে)।
অর্থ্যাৎ পৃথিবীর আবর্তনের কারণে আমরা প্রতি বর্গ সেকেন্ডে মাত্র ০.০৩৩৮ মিটার হারে পড়ে যেতে থাকি, যেখানে অভিকর্ষ আমাদেরকে তার প্রায় ২৯০ গুণ ত্বরণে (৯.৮১ মিটার/বর্গ সেকেন্ড) টেনে ধরে রাখে।
তাহলে কিভাবে আমরা কোন দিকে পড়ে যাব?
অর্থ্যাৎ পৃথিবীর ঘূর্ণনের কারণে আমরা যে বলে পড়ে যাবার উপক্রম হই, তার চেয়ে অনেক বেশি বলে পৃথিবী আমাদেরকে টেনে ধরে রাখে। এ জন্যেই আমরা পড়ে যাই না।
উপরন্তু, উপরের এই হিসাব শুধু বিষুব অঞ্চলের জন্য। আমাদের বাংলাদেশে কেন্দ্রবিমুখী বলের প্রভাব হবে আরও কম। এটি নির্ভর করবে কোনো অঞ্চল বিষুব রেখা থেকে কত দূরে আছে তার উপর। আবর্তন বেগ জেনে নিয়ে আপনিও বের করতে পারেন কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের জন্যে এই প্রভাব কতটুকু। 
Category: articles
এক কথায় বললে বলতে হয়, পৃথিবীর আবর্তন বেগ ঘণ্টায় ১৬৭০ কিলোমিটার বা সেকেন্ডে প্রায় ৪৬৪ মিটার। তবে এই মান সব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। বিস্তারিত জেনে নিই, চলুন।
পৃথিবী পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে নিজ অক্ষের সাপেক্ষে ঘুরছে
পৃথিবী প্রতিনিয়ত পশ্চিম থেকে পূবে আবর্তন করে চলছে। এই আবর্তনের কারণেই ক্রমান্বয়ে রাত দিন হয়, সুর্যোদয় ও সূর্যাস্ত ঘটে। পশ্চিম থেকে পূবে এই আবর্তনের জন্যেই উত্তর ও দক্ষিণ প্রান্তে দুটি মেরুর উদ্ভব ঘটেছে।
আরও পড়ুনঃ  পৃথিবীর উত্তর ও দক্ষিণে মেরু থাকলেও পূবে পশ্চিমে মেরু নেই কেন

পৃথিবীর আবর্তন বেগ কিন্তু সর্বত্র সমান নয়। বিষুব অঞ্চল তথা দুই মেরুর ঠিক মাঝখানে এই বেগ সর্বোচ্চ। অন্য দিকে,  বিষুব অঞ্চল থেকে মেরুর দিকে নিকটবর্তী হতে থাকলে বেগ কমতে থাকে। ঠিক মেরুবিন্দুতে বেগ শুন্য। এটা বোঝার জন্যে উপর্যুক্ত লিঙ্কে একটি উদাহরণ দিয়েছিলাম। এখন ভিন্ন একটি দিচ্ছি।
মনে করুন, আপনি একটি সুতার প্রান্তবিন্দুতে একটি বল বেঁধে সুতাসহ বলটিকে চারপাশে ঘোরাচ্ছেন। তাহলে দেখবেন, সুতার একেবারে প্রান্তবিন্দুতে বেগ সর্বোচ্চ। সুতার কোন বিন্দু আপনার হাতের যত নিকটে হবে তত বেগ হবে কম। ঐ ঘূর্ণন পথের কেন্দ্রবিন্দুতে বেগ হবে জিরো। কারণ সেটি ঘুরছেই না।
কল্পনায় পৃথিবীকে একবার পশ্চিম থেকে পূবে চক্কর দেওয়ান। অথবা একটি টেনিস বল বা কমলা হাতে নিয়ে একইভাবে ঘোরান। দেখবেন প্রান্তবিন্দুর দিকে ক্রমান্বয়ে বেগ কম এবং একেবারে মেরুতে জিরো।
অবশ্য, এখানে আমরা রৈখিক বেগের কথা বলেছি। ঘূর্ণায়মান বস্তুর জন্যে আরেকটি বেগ হল কৌণিক বেগ। সেটি কিন্তু প্রতিটি বিন্দুতে একই হবে। কারণ, প্রতিটি বিন্দুই সমান সময়ে সমান পথ তথা ৩৬০ ডিগ্রি অতিক্রম করবে।

এখন, আসুন নিজেরাই বের করে ফেলি পৃথিবীর আবর্তন বেগ কত।
আমরা জানি সমবেগের জন্য সূত্র হল S = vt।
এখানে, S = অতিক্রান্ত দূরত্ব,
           v= বেগ এবং
           t= সময়
তাহলে পাই, বেগের সূত্র হবে,
বেগ বের করতে হলে আমাদের অতিক্রান্ত দূরত্ব (S) ও এই দূরত্ব পাড়ি দিতে অতিবাহিত সময় (t) জানতে হবে।
আমরা জানি, পৃথিবী প্রায় ২৪ ঘন্টায় একবার আবর্তন সম্পন্ন করে। আর বিষুব রেখা বরাবর এর পরিধি হল ৪০, ০৭৫ কিমি.। এই পথই আমরা (আসলে আমরা না, যারা বিষুব অঞ্চলে বাস করে) পৃথিবীর বুকে বসে পাড়ি দেই ২৪ ঘণ্টায়।
তাহলে, বিষুব অঞ্চলে আবর্তন বেগ = (৪০০৭৫ ÷২৪) কিমি./ঘণ্টা। 
অর্থ্যাৎ ঘন্টায় প্রায় ১৬৭০ কি.মি। মাইলের হিসাবে এই বেগ হল ঘণ্টায় ১০৭০। এসআই এককে হিসেব করলে হবে সেকেন্ডে প্রায় ৪৬৪ মিটার। 

এই বেগ কিন্তু বিষুব অঞ্চলের জন্য প্রযোজ্য। বিষুব অঞ্চল থেকে মেরু অঞ্চলের দিকে যেতে থাকলে পৃথিবীর আবর্তন অক্ষের দূরত্ব কাছে চলে আসবে। ফলে, ঐ বিন্দুর সাপেক্ষে পরিধি তথা ২৪ ঘণ্টায় অতিক্রান্ত পথ আরো কম হবে। [উপরের চিত্রটি দেখুন]
বিষুব অঞ্চল ছাড়া অন্য অঞ্চলে বেগ বের করার জন্য আমাদেরকে মূল বেগের সাথে ঐ স্থানের অক্ষাংশের cos এর মান গুণ করতে হবে। 
তাহলে, ৪৫ ডিগ্রি অক্ষাংশে পৃথিবীর আবর্তন বেগ হবে 
v = 1670 × cos 45 km/h 
= 1670 × 0.707 
= 1180 km/h। 
অর্থ্যাৎ ঘণ্টায় ১১৮০ কিলোমিটার বা সেকেন্ডে প্রায় ৩২৮ মিটার। 

আমাদের ঢাকায় পৃথিবীর আবর্তব বেগ কত হবে?
ঢাকার অক্ষাংশ হল 23.7 ডিগ্রি উত্তর। 
তাহলে, বেগ, v = 1670 ×  (cos 23.7) = 1529 km/h  
অর্থ্যাৎ, ঘণ্টায় ১৫২৯ কিমি. বা প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৪২৪ মিটার। 
এত বিশাল বেগে ঘুরছি আমরা! তাহলে পৃথিবী থেকে পড়ে যাচ্ছি না কেন
জানতে হলে এই নিবন্ধটি পড়ুন। 

সূত্রঃ
১. উইকিপিডিয়াঃ Earth
২. নাসা

Category: articles

শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর, ২০১৪

মহাবিশ্বের বয়স কত- এই প্রশ্নটি অবশ্যই কৌতূহলোদ্দীপক। আসলে মহাবিশ্বের বয়স গণনা শুরু হয়েছে বিগ ব্যাঙের পর থেকে- যখন সময় গণনা শুরু। তার আগে সময়েরই অস্তিত্ব ছিল না, অন্তত আমাদের কাছে পরিমাপ করার কোন হাতিয়ার নেই।
মহাবিশ্বের বয়সের নকশা
মহাবিশ্বের বয়সের ব্যাপারে সবচেয়ে সুসঙ্গত তথ্য হচ্ছে ১৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন বছর বা প্রায় ১৪ বিলিয়ন তথা ১৪০০ কোটি বছর। তো কিভাবে মাপা হল মহাবিশ্বের বয়স? এর উপায় আছে দুটি। দুটোরই কৃতিত্ব হাবলের।
প্রথম উপায় হচ্ছে ছায়াপথসমূহের (Galaxy) বেগ ও দূরত্ব পরিমাপের মাধ্যমে। যেহেতু ছায়াপাথসমূহ একে অপর থেকে দূরে সরে যাচ্ছে (কিঞ্চিৎ ব্যতিক্রম ছাড়া), তাহলে আমরা বলতেই পারি, অতীতের কোন এক সময় এরা সবাই যুক্ত ছিল।
বর্তমানে গ্যালাক্সিদের বেগ, পারস্পরিক দূরত্ব ও এর সাথে মহাবিশ্বের সম্প্রসারণের হার কাজে লাগিয়ে আমরা বের করতে পারি, এই অবস্থানে আসতে তাদের কত সময় লেগেছে। আর এই সময়টাই তো মহাবিশ্বের বয়স! আর এভাবে উত্তরটা পাওয়া গেছে প্রায় ১৪ বিলিয়ন বছর।
মহাবিশ্বের বয়স বের করার আরেকটি উপায় হল, সবচেয়ে প্রাচীন নক্ষত্রপুঞ্জগুলোর (star clusters) বয়স বের করা। কারণ, মহাবিশ্ব এতে অবস্থিত কোন জ্যোতিষ্কের চেয়ে কম বয়সী হতে পারে না। পারে কি?
আমাদের ছায়াপথ মিল্কিওয়েকে প্রদক্ষিণরত বটিকাকার (Globular) নক্ষত্রপুঞ্জগুলো এখন পর্যন্ত আমাদের খুঁজে পাওয়া প্রাচীনতম বস্তু। এসব নক্ষত্রপুঞ্জে অবস্থিত তারকাগুলোর (Star) ব্যাপক বিশ্লেষণে তাদের বয়স পাওয়া গেছে প্রায়  ১৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন বছর।
এই দুই মেথডের মিল আমাদেরকে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী  করেছে যে আমরা তাহলে মনে হয় মহাবিশ্বের সঠিক বয়স জেনে ফেলেছি!

সূত্রঃ
১. হাবল সাইট
২. স্পেইস ডট কম
Category: articles

বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১৪

আমাদের সৌরজগতের আকার নিয়ে দেওয়া পোস্টে বলেছিলাম  সৌরজগতের সর্বশেষ চৌহদ্দি প্রায় ২ আলোকবর্ষ পর্যন্ত বিস্তৃত। এত বিস্তৃত আয়তন কিন্তু সমগ্র মহাবিশ্বের (Universe) সামান্যই অংশ।
বিশাল মহাবিশ্ব

এখন, মহাবিশ্বের আকার সম্পর্কে অপ্রিয় সত্য কথা হল, আমরা এর সঠিক আকার বা সাইজ জানি না। এটা অসীমও হতে পারে। সমগ্র মহাবিশ্বের ক্ষুদ্র একটি অংশই শুধু আমরা দেখতে পাই।
তবে, আমরা জানি মহাবিশ্বের বয়স ১৪ বিলিয়ন  (বা ১৪০০ কোটি) বছর। তাহলে, মহাবিশ্বের ভেতর দিয়ে আলো মাত্র ১৪ বিলিয়ন বছর চলাচলের সুযোগ পেয়েছে। অতএব, আমরা পৃথিবীতে বসে এখন পর্যন্ত মহাবিশ্বের  সর্বোচ্চ যে দূরত্ব পর্যন্ত  দেখতে পাই তা হল ১৪ বিলিয়ন আলোকবর্ষ। এটা হচ্ছে দৃশ্যমান মহাবিশ্বের সীমানা, সমগ্র মহাবিশ্বের নয়।

খোলা সাগরের একটি জাহাজের মত পৃথিবীর জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা তাঁদের টেলিস্কোপকে যে কোন দিকে ঘুরিয়ে ১৪ বিলিয়ন বছর আগের অবস্থা দেখে নিতে পারেন। তাহলে, ১৪ বিলিয়ন আলোকবর্ষের ব্যাসার্ধবিশিষ্ট একটি দৃশ্যমান গোলকের ঠিক মাঝখানে পৃথিবী। সাবধান! এখান থেকে ধারণা করা যাবে না যে পৃথিবী মহাবিশ্বের কেন্দ্র। মূলত মহাবিশ্বের কেন্দ্রই নেই (কেন?)
খোলা সমদ্রের জাহাজের মতই আমরা বলতে পারি না, মহাবিশ্বের কোথায় আমরা আছি। আমরা উপকূল দেখি না বলেই যেমনি বলা যাবে না যে আমরাই সমুদ্রের কেন্দ্রে আছি, তেমনি মহাবিশ্বের প্রান্ত সীমা দেখি না বলেই দাবী করতে পারি না, আমরাই মহাবিশ্বের কেন্দ্রে আছি।
এ থেকে দেখা যাচ্ছে, দৃশ্যমান মহাবিশ্ব যে গোলক তৈরি করে, তার ব্যাস ২৮ বিলিয়ন আলোকবর্ষ। আসলে এই দৃশ্যমান গোলকের আকারও আরও বেশি। কারণ, ১৪ বিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরের বিগ ব্যাঙ সময়ের কোন কণাকে দেখার পরও তো মহাবিশ্ব সম্প্রসারিত হতে থেকেছে। ফলে, সেই কণা এখন ৪৬ বিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে। ফলে, দৃশ্যমান মহাবিশ্বের ব্যাস দাঁড়াচ্ছে ৯২ বিলিয়ন আলোকবর্ষ

সূত্রঃ
১. হাবলসাইট
২. স্পেইস ডট কম
Category: articles
কিছুটা ভিন্নমত থাকলেও হ্যালির ধূমকেতুকেই (comet) সবচেয়ে বিখ্যাত ধূমকেতু মনে করা হয়। ৭৫ বছর পর পর এটি পৃথিবীর খুবই কাছে চলে আসে। সর্বশেষ ১৯৮৬ সালে এটি পৃথিবী ঘুরে গেছে। আবার পৃথিবীর আকাশে আসবে ২০৬১ সালে। অর্থ্যাৎ, এটি একটি পর্যাবৃত্ত (Periodic) ধূমকেতু, যা নির্দিষ্ট সময় পর পর ফিরে আসে।

হ্যালির ধূমকেতু 
ইংরেজ জ্যোতির্বিদ এডমান্ড হ্যালির (Edmond Halley) নামানুসারে ধূমকেতুটির এমন নামকরণ। তিনি ১৫৩১, ১৬০৭ ও ১৬৮১ সালে  পৃথিবীর নিকট এলাকায় বিভিন্ন ধূমকেতু আসার প্রতিবেদন পরীক্ষা-নিরিক্ষা করেন।  এরপর ১৭০৫ সালে তিনি সিদ্ধান্ত টানেন যে ঐ তিন ধূমকেতু আসলে একই ধূমকেতু। তিনি বলে যান যে ১৭৫৮ সালে একে আবার দেখা যাবে। তাঁর ধারণা সঠিক প্রমাণ করে ধূমকেতুটি আবারও পৃথিবীর আকাশে হাজিরা দেয়। কিন্তু তত দিনে তিনি পরপারে পাড়ি দিয়েছেন। তাঁর আয়ুষ্কাল ছিল ১৬৫৬-১৭৪২ সাল পর্যন্ত। কিন্তু নিজ চোখে দেখে না গেলেও তাঁর অনুমান সত্য হওয়ায় বস্তুটার নাম দেওয়া হয়ে গেল তাঁর নামে। 

এটাই একমাত্র ধূমকেতু, যার ফিরে আসার ব্যাপারে পূর্বাভাস হয়েছিল।  এর পর্যাবৃত্ত (Preiodic) প্রত্যাবর্তন থেকে জানা গেল এটি সূর্যকে প্রদক্ষিণও করছে। আরও জানা গেল সৌর পরিবারে বেশ কিছু ধূমকেতুও আছে।

সর্বশেষ দর্শনঃ

মহাকাশ বিজ্ঞানের অগ্রগতির যুগে প্রথম বস্তুটাকে দেখা যায় ১৯৮৬ সালে- মানে শেষবার। কয়েকটি মহাকাশযান এর কাছাকাছি গিয়ে নমুনা সংগ্রহের চেষ্টা চালায়। পৃথিবীকে অতিক্রম করে যাবার সময় উচ্চ-ক্ষমতা সম্পন্ন টেলিস্কোপ দ্বারা একে পর্যবেক্ষণ করা যায়।

ইতিহাসে হ্যালির ধূমকেতুঃ
ইউরোপিয়ান স্পেইস এজেন্সির (ESA) মতে সর্বপ্রথম একে দেখা যায় খৃষ্টপূর্ব ২৩৯ সালে।  চীনের মহাকাশ গবেষকরা একে নথিভুক্ত করে। পরে এটি যথাক্রমে ১৬৪ ও ৮৭ খৃষ্টপূর্ব অব্দে আবার ফিরে আসে। ঐ সময় ব্যাবিলনীয়রা এর নথি রাখে।

হ্যালির ধুমকেতুর কক্ষপথ
উইলিয়াম দি কনকারার ১০৬৬ সালে ইংল্যান্ড আক্রমণ করার ঠিক কিছুক্ষণ আগে একে আবার দেখা যায়। এটাই এর সবচেয়ে বিখ্যাত হাজিরা। বলা হয়ে থাকে, উইলিয়াম মনে করেছিলেন ধূমকেতুটি তার বিজয়বার্তা নিয়ে এসেছে। আগে মনে করা হত ধূমকেতুটি কোনো সু বা দুঃসংবাদ নিয়ে এলো বুঝি! কিন্তু এখন আর কেউ তা মনে করে না।

এডমান্ড হ্যালি ধূমকেতুটিকে চিহ্নিত করার ১০৫ বছর আগে শেক্সপিয়ার তাঁর জুলিয়াস সিজার নাটকে লেখেন,
ভিক্ষুকদের মৃত্যুতে ধূমকেতু আসে না, আকাশ ঝলকে উঠে রাজপুত্রের মৃত্যুতে ।
১৯১০ সালে একে সবচেয়ে স্পষ্ট করে দেখা গেল। ঐ বছর এটি পৃথিবীর মাত্র সোয়া দুই কোটি কিলোমিটার দূরত্ব দিয়ে অতিক্রম করে। এই দূরত্ব পৃথিবী থেকে সূর্যের দূরত্বের ১৫ ভাগের মাত্র ১ ভাগ।

মার্কিন সাহিত্যিক মার্ক টোয়েনের জন্ম ১৮৩৫ সালে। ঐ বছরও হ্যালির ধূমকেতু পৃথিবীর আকাশে দেখা যায়। রসিক এই লেখক ১৯০৯ সালে বলেন,
আমি এসেছিলাম ধূমকেতুর সাথে। আগামী বছর আবার ধূমকেতুটি পৃথিবী ঘুরে যাবে, সাথে আমিও হয়ত চলে যাব।
টোয়েন ১৯১০ সালের ২১ এপ্রিল মারা গেলেন, যার এক দিন আগেই দেখে নিলেন তাঁর জীবনকালে ধূমকেতুটির ২য় ভ্রমণ।

হ্যালির ধুমকেতুর কক্ষপথঃ 


সূত্রঃ
১. স্পেস ডট কম
২. উইকিপিডিয়াঃ Edmond Halley
৩. এনসাইক্লোপেডিয়া ব্রিটানিকা
Category: articles

বুধবার, ১৫ অক্টোবর, ২০১৪

২০ জানুয়ারি, ১৯৯৯। একটি খবর সবাইকে চমকে দিল। প্লুটো এখন আর গ্রহ নয়, একটি বিশাল বরফখণ্ড মাত্র। বিবিসিসহ বড় বড় সংবাদ মাধ্যমে প্রচারিত হয় এই খবর। কিন্তু প্লুটো আসলে তক্ষুনি তার গ্রহত্ব হারায়নি।
প্লুটো গ্রহ কিনা- এই মান নির্ধারণের দায়িত্ব আন্তর্জাতিক মহাকাশবিজ্ঞান সমিতির (IAU বা  International Astronomical Union) বিভাগ-৩ এর কাঁধে পড়ে।

১৯৩০ সালে ক্লাইড টমবাউ প্লুটো গ্রহটিকে আবিষ্কারের পর এটি সৌরজগতের নবম গ্রহের মর্যাদা লাভ করে। কিন্তু, বহু দিন ধরেই এটা স্পষ্ট যে প্লুটো অন্যান্য গ্রহের বৈশিষ্ট্যের সাথে সাদৃশ্য বজায় রাখতে অক্ষম। এর কক্ষপথ পাশ্ববর্তী গ্রহ নেপচুনকে ছেদ করে গেছে।  বিংশ শতাব্দীর একেবারে শেষের দিকে প্লুটোর বেশ কিছু বৈশিষ্ট্যের সাথে বহিঃস্থ সৌরজগতের নতুন আবিষ্কৃত অনেকগুলো বস্তুর মিল খুঁজে পাওয়া যায়। মাইনর প্ল্যানেট গবেষকদের কাছে ব্যাপারটি ছিল ব্যাপক আলোচিত।

পরে নেপচুন গ্রহের বাইরের এলাকার কিছু বস্তুর কক্ষপথ বেশ ভালোভাবে চিহ্নিত করতে পারার পর প্লুটো বিতর্ক আরও চাঙ্গা হল। ওই বস্তু গুলোকে নাম দেওয়া হয় ট্রান্স নেপচুনিয়ান অবজেক্টস বা TNO

IAU এর বিভাগ-৩ TNO এর তালিকায় প্লুটোকে এক নম্বরে রাখার ব্যাপারে চিন্তা করল। তখনও প্লুটোর গ্রহত্ব বজায় থাকল। তবে পরিচয় হল দুটো- গ্রহ এবং টিএনও একইসাথে। তখনও গ্রহের কোন সর্বজনস্বীকৃত সংজ্ঞা ছিল না। আশা ছিল যদি গ্রহের সংজ্ঞার ব্যাপারে মতৈক্যে পৌঁছা যায়, তবে সৌরজগতের অনেকগুলো বস্তুকে নতুন করে তালিকাভুক্ত করা যাবে। অন্যথায় বিতর্কিত বা ঐতিহাসিক পদবী রেখেই সন্তুষ্ট থাকতে হবে।

এই অনৈক্যের সুবাদে প্লুটো আরো কয়েক বছর গ্রহত্বের সাধ নিল। কিন্তু ২০০৩ সালে আবিষ্কৃত হল ইরিস। এর আকার প্লুটোর চেয়ে বড়। প্লুটো আবারও বিতর্কে পড়ে গেল। কফিনে শেষ পেরেকগুলো ঠুকে দিতে ২০০৪ সালে আবিষ্কৃত হল হোমিয়া (Haumea), ২০০৫ সালে মাকিমাকি(Makemake) যারা ভর ও আয়তনে প্লুটোর কাছকাছি । অন্য দিকে ১৮০১ সালে তথা নেপচুন আবিষ্কারের ৪৫ বছর আগে আবিষ্কৃত হয় সেরেস (Ceres)। একে অর্ধ-শতক ধরে গ্রহ বলে মনে করা হত। পরে ফেলা হয় গ্রহাণুদের তালিকায়। এরও ভর ও আয়তন প্লুটোর কাছাকাছি। তাছাড়া, প্লুটোর ভর চাঁদের মাত্র ১৮ শতাংশ! 
এখন তাহলে, প্লুটো যদি গ্রহ হয়, তাহলে এই ইরিস (যে প্লুটোর চেয়েও বড়), হোমিয়া, মাকিমাকি, সেরেস বেচারারা কী দোষ করল? অন্য দিকে, শুধু এরাই নয়, ২০০২ থেকে ২০০৭ এর মধ্যে অরকাস, স্যালাসিয়া, কৌয়ার, সেডনা ইত্যাদি ৬-৭ টি উল্লেখ্যযোগ্য বস্তু আবিষ্কৃত হল।
প্লুটোর সাথে অন্যান্য বামন গ্রহ ও চাঁদের তুলনা
আন্তর্জাতিক মহাকাশবিজ্ঞান সমিতি এবার গ্রহের সংজ্ঞা নির্ধারণ করল। আরেকটি তালিকা তৈরি করল বামন গ্রহদের নিয়ে। ২০০৭ সালের জানুয়ারিতে  ইরিস, হোমিয়া, মাকিমাকি ও সেরেসের সাথে প্লুটোর নাম লেখা হল বামন গ্রহদের (Dwarf Planet) খাতায়।
সংজ্ঞায়  বলা হল, গ্রহ হচ্ছে সেই সব বস্তু যারা
 ক. যথেষ্ট ভারী হওয়ায় নিজস্ব অভিকর্ষের চাপে গোলাকৃতি পেয়েছে।
 খ. তাপ নিউক্লিয়ার ফিউসন বিক্রিয়া ঘটানোর মত বেশি ভরবিশিষ্ট নয়।
 গ. আশেপাশের অঞ্চল থেকে প্ল্যানেটেসিমালদের সরাতে পেরেছে। ফলে কক্ষপথের সীমানায় আর কেউ নেউ। 
এই সংজ্ঞা অনুযায়ী বুধ, শুক্র, পৃথিবী, মঙ্গল, বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস ও নেপচুন গ্রহত্ব ধরে রাখতে সক্ষম হয়।
আর বামন গ্রহের সংজ্ঞা হলঃ
সেই সব বস্তু যাদের ভর গ্রহের সমান কিন্তু গ্রহও নয়, উপগ্রহও নয়; সূর্যকে সরাসরি প্রদক্ষিণ করে; নিজস্ব আকৃতি পাবার মত অভিকর্ষের মালিক কিন্তু কক্ষপথকে অন্যান্য বস্তু থেকে আলাদা বা স্বতন্ত্র করতে পারেনি।

প্লুটো যে বামন গ্রহই থাকবে- এই সিধান্ত চূড়ান্ত হলেও কতটা স্থায়ী হতে পারে তা সময়ই বলে দেবে, কারণ এই সিধান্তে সবাই খুশি নয়। কারণটা মূলত ঐতিহাসিক।
সূত্রঃ
১. উইকিপিডিয়াঃ Planet; Dwarf_planet;
২. নাসা
Category: articles
ট্রেস -৪
এখন পর্যন্ত জানা মতে, সৌরজগতের বাইরে সবচেয়ে বড় গ্রহটি এক বিস্ময়। তাত্ত্বিকভাবে এর অস্তিত্বই থাকা অসম্ভব। এর নাম দেওয়া হয়েছে ট্রেস -৪ (TrES-4)। এই গ্রহটি বৃহস্পতি গ্রহের ১.৭ গুণ বড়। এর ঘনত্ব অতিমাত্রায় স্বল্প, তাই একে ধোঁয়াটে গ্রহদের (Puffy Planets) কাতারে রাখা হয়েছে। এর ঘনত্ব হল প্রতি কিউবিক সেন্টিমিটারে মাত্র দশমিক ২ গ্রাম যা প্রায় তর্নিকাঠের (Balsa wood) ঘনত্বের সমান।উল্লেখ্য, পৃথিবীর ঘনত্ব প্রতি কিউবিক সেন্টিমিটারে সাড়ে ৫ গ্রামের ওপরে।
তর্নিকাঠ

তথ্যটি দিলেন অ্যারিজোনার লয়েল মানমন্দিরের (Observatory) গবেষণা প্রদান জর্জি মান্দুশেভ। তিনি আরও বলেন, " গ্রহটির বহিঃস্থ বায়ুমণ্ডলের উপর অভিকর্ষীয় টান নগণ্য হওয়ায় সম্ভবত বায়ুমণ্ডলের কিছু অংশ ধূমকেতুর লেজের আকার ধারণ করেছে।"
গ্রহটির ভর অনেক, কিন্তু সেই তুলনায় ঘনত্ব খুবই কম। ফলে এক্সোপ্ল্যানেটদের (সৌরজগতের বাইরের গ্রহ) জগতে  এটি এক ব্যতিক্রম গ্রহ। ব্যতিক্রমের মাত্রা এতই বেশি যে বর্তমান থিওরি দিয়ে এর অস্তিত্ব ব্যাখ্যা করা যাচ্ছে না।
স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে এটি বেশি বড়।  মান্দুসেভ স্পেস ডট কমকে বলেন, গ্রহটির যা ভর, তাতে এর আকার বৃহস্পতির সমান হওয়া উচিত। অথচ এটি তার দ্বিগুণ। এডওয়ার্ড ডানহাম বলেন, "ট্রেস -৪ একটি তাত্ত্বিক সমস্যা বাঁধিয়েছে। অবশ্য, সমস্যা তৈরি হওয়া ভাল। কারণ, তা সমাধান হলে আমরা নতুন জিনিস জানতে পারি।"
গ্রহটি পৃথিবী থেকে ১৪০০ আলোকবর্ষ দূরে, হারকিউলিস নক্ষত্রপুঞ্জে অবস্থিত।  এর আরেকটি অবাক করা ব্যাপার হল, এই গ্রহ মাত্র সাড়ে তিন দিনে এর তারকাকে (GSC 02620-00648) প্রদক্ষিণ করে ফেলে। অর্থ্যাৎ, এতে সাড়ে তিন দিনে এক বছর হয়ে যায়।
ট্রেস-৪ গ্রহের মাতৃ তারকাও আরেক বিস্ময়। এর বয়স প্রায় সূর্যের সমান হলেও কাজেকর্মে এগিয়ে গেছে অনেক বেশি, হয়েছে বেশি পোক্ত। ভর বেশি হওয়ায় এর বিবর্তন ঘটেছে দ্রুত। মহাকাশবিজ্ঞানের ভাষায় এটি সাবজায়ান্টে পরিণত হয়েছে। সাবজায়ান্ট বলা হয় সেই সব তারকা/নক্ষত্রকে যারা হাইড্রোজেন জ্বালানী শেষ করে লোহিত দানবে (Red Giant) পরিণত হবার অপেক্ষায় আছে। অন্য দিকে, আরো ৫ থেকে ৭ বিলিয়ন বছর পরে আমাদের সূর্য লোহিত দানব হতে পারবে। সেই সময় সূর্য বিস্তৃত হয়ে পৃথিবী সহ নিকটবর্তী গ্রহসমূহকে গ্রাস করে ফেলবে।
ট্রেস-৪ যেহেতু এর মাতৃ তারকার খুব কাছে থেকে ঘুরছে, তাই বেচারার কপাল খারাপ, ভবিষ্যতে মাতৃ তারকার জঠরে চলে যেতে হবে। মান্দুশেভ বলেন, এটা ঘটবে, যখন নক্ষত্রটি আরো প্রায় ১০০ বছর পরে লোহিত দানবে রূপান্তরিত হবে।
ট্রেস-৪ এর মাতৃ তারকা GSC 02620-00648 সূর্যের চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণ উজ্জ্বল এবং প্রতি সেকেন্ডে ৩-৪ গুণ বেশি শক্তি নির্গত করে। নিয়মানুযায়ী অপেক্ষাকৃত বড় ও উজ্জ্বলতর নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণরত গ্যাসীয় গ্রহরা হালকা হয়। কিন্তু এই গ্রহটির আকার এত বিশাল কেন, তা ব্যাখ্যাতীত।

সূত্রঃ
১. স্পেইস ডট কম
২. উইকিপিডিয়াঃ Earth
Category: articles

বুধবার, ১ অক্টোবর, ২০১৪

১৪ বিলিয়ন বছর আগে বিগ ব্যাঙ (Big Bang) বা মহা বিস্ফোরণ নামক ঘটানার মাধ্যমে মহাবিশ্বের যাত্রা শুরু। আজকের এই অবস্থায় আসতে তাকে অতিক্রম করতে হয়েছে অনেকগুলো ধাপ।
চলুন, সংক্ষেপে দেখি, কখন কী ঘটেছে?
মহাবিশ্বের ক্রমবিকাশের সংক্ষিপ্তসার

 [ছবিতে দেখতে ছবির উপর বা এখানে ক্লিক করুন]
শুরুর মুহূর্তঃ বিগ ব্যাঙের পরই সময় গণনা শুরু। তাহলে সময় যখন শূন্য, তখনই মহাবিশ্বের আবির্ভাব।
০.০০১ ন্যানোসেকেন্ডঃ উইম্প (Weekly Interacting Massive Particles) বা দুর্বলভাবে ক্রিয়াশীল ভারী কণার গঠন।
০.০১ মিলিসেকেন্ডঃ কোয়ার্ক স্যুপ থেকে নিট্রন ও প্রোটনের গঠন
১০০ সেকেন্ডঃ পরমাণুর নিউক্লিয়াস তৈরি
৩ লক্ষ বছরঃ রিকম্বিনেশন, পরমাণুর (Atom) গঠন
৩০ লক্ষ বছরঃ তারকাদের গঠন, এদের আলোর মাধ্যমে পরমাণু থেকে কিছু ইলেক্ট্রনের বিচ্যুতি
১ বিলিয়ন বা ১০০ বছরঃ গ্যালাক্সি (Galaxy) বা ছায়াপথ গঠন
৩ বিলিয়ন বছরঃ আন্তঃছায়াপথীয় গ্যাসের নবতাপায়ন ( Reheating of Intergalactic gas)
১৪ বিলিয়ন বছরঃ গ্যলাক্সিগুচ্ছ তৈরি

Category: articles

সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৪

সূর্যের চেয়ে বহু গুণ ভারী একটি বিশাল নক্ষত্র বা তারকা যখন নিজস্ব অভিকর্ষের চাপে গুটিয়ে গিয়ে সিঙ্গুলারিটি গঠন করে, ফলে আলোও ঐ বস্তু থেকে বেরিয়ে আসতে পারে না, তখন তাকে ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণগহবর বলে।
অন্তত, এটা আমরা এত দিন তাই মনে করতাম।
এখন, একজন বিজ্ঞানী দাবী করলেন, গণিতের হিসাব অনুযায়ী ব্ল্যক হোলদের বাস্তবে অস্তিত্ত্ব থাকা অসম্ভব। তাঁর মতে, তারকাদের পক্ষে গুটিয়ে গিয়ে সিঙ্গুলারিটি গঠন করা সম্ভব নয়। এই মত, অধ্যাপিকা লরা মারসিনি হাউটনের।
এই মত সত্যি হলে, মহাবিশ্ব সৃষ্টির আগের তত্ত্ব বাতিল হয়ে যাবে।
চ্যাপেল হিলের আর্টস অ্যান্ড সায়েন্টিস্টস কলেজে ইউনিভার্সিটি অব নর্থ ক্যারোলিনার এই অধ্যাপক গবেষণাটি পরিচালনা করেন।
তিনি বলেন, একটি তারকা মারা যাবার সময় (জীবনের সমাপ্তিতে পৌঁছায়) হকিং বিকিরণ নিঃসরণ করে যার পূর্বানুমান করেন ড. স্টিফেন হকিং। ড. মারসিনির মতে, এই সময় তারকাটি বিশাল পরিমাণ ভরও হারায়, আর তার পরিমাণ এতই বেশি যে এর পক্ষে ব্ল্যাক হোলে পরিণত হওয়া অসম্ভব। জীবনের শেষের দিকে তারকাটি ফুলে উঠে ও বিস্ফোরিত হয়।ফলে, কখোনই সিঙ্গুলারিটি তৈরি হওয়া সম্ভব নয়, আর না ঘটনা দিগন্ত (Event Horizon) যেখান থেকে কোন কিছুই, এমনকি আলোও বাইরে আসতে পারে না বলে মনে করা হয়।
তিনি বলেন, "আমি এখনও হতভম্ব হয়ে আছি। গত ৫০ বছর ধরে আমরা সমস্যাটি পর্যালোচনা করছি। আমার মনে হয় এই সমাধান আমাদের অনেক কিছু চিন্তা করার খোরাক যোগাবে।"
ব্ল্যাক হোল আছে কি নেই- এ ব্যাপারে পরীক্ষামূলক প্রমাণ হয়তো এক সময় বাস্তব প্রমাণ পেশ করবে। কিন্তু আপাতত গণিতে কোন ভুল নেই, মত এই অধ্যাপিকার।
আরও বড় ব্যাপার হল, এই গবেষণা বিগ ব্যাং তত্ত্বকেও হুমকির মুখে ফেলতে পারে। অধিকাংশ বিজ্ঞানীর ধারণা, প্রায় ১৪ বিলিয়ন বছর আগে একটি অতি নিবিড়, অতি উষ্ণ ক্ষুদ্র কণিকা থেকে মহাবিশ্বের উৎপত্তি যা উৎপত্তির পর থেকে সম্প্রসারিত হয়ে আসছে।
মহাবিশ্বের দুটি অন্যতম মৌলিক নীতিকে একে অপরের বিপরীতে দাঁড় করিয়ে দেওয়ায় ব্ল্যাক হোলদেরকে খুবই অদ্ভুত মনে করা হয়।
হকিং বিকিরণ

উদাহরণস্বরূপ, আইন্সটাইনের অভিকর্ষ তত্ত্ব ব্ল্যাক হোলের ভবিষ্যদ্বাণী করে, অন্য দিকে কোয়ান্টাম তত্ত্বের কথা হচ্ছে কখোনই মহাবিশ্ব থেকে তথ্য হারিয়ে যেতে পারে না। অথচ ব্ল্যাক হোলের ইভেন্ট হরাইজন বা ঘটনা দিগন্ত সে কাজটিই করে।
এই দুই তত্ত্বের মীমাংসা এখনও হয়নি। ফলে এটা একটি প্যারাডক্সে রূপ নিয়েছে যাকে নাম দেওয়া হয়েছে ব্ল্যাক হোল ইনফরমেশন প্যারাডক্স অর্থাৎ কিভাবে কোন তথ্য বা বস্তু ব্ল্যাক হোলে হারিয়ে যেতে পারে?
অধ্যাপক মারসিনির এই সমাধান হয়তো দুই মৌলিক তত্ত্বকে সন্ধি করিয়ে দেবে।
বছরের শুরুর দিকে প্রফেসর স্টিফেন হকিংও বলেছিলেন, "ব্ল্যাক হোল বলতে কিছু নেই, আছে গ্রে হোল বা ধূসর গহবর"।
সূত্রঃ ডেইলিমেইল
Category: articles

বুধবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৪

পৃথিবীতে বসে থেকে আমরা সৌরজগতের কিয়দাংশই দেখতে পাই। আমরা কী কীইবা আর দেখি? দিনে সূর্যের প্রখর তেজ, রাতের আকাশের কোমল চাঁদ ও আরো কিছু গ্রহ। কিন্তু আমাদের সৌরজগতের চৌহদ্দি অত অল্প নয়। তাহলে, প্রশ্ন দাঁড়ায়, আমাদের সৌরজগত ঠিক কত বড়?

হিসাব দেবার আগে হিসাবের এককটা দেখে নেই। মহাকাশের দূরত্বগুলো এত বিশাল যে আমাদের এসআই একক (SI Unit) মিটার তো দূরের কথা, কিলোমিটারও পাত্তা পায় না। মহাকাশবিদগণ তাই অ্যাস্ট্রোনোমিকেল ইউনিট (astronomical unit বা AU) নামে একটি একক ব্যবহার করেন। এই এককটার মান হচ্ছে পৃথিবী থেকে সূর্যের গড় দূরত্ব বা ১৫ কোটি কিলোমিটারের সমান।

বুধ গ্রহ (Mercury ) সূর্য থেকে মাত্র .৩৯ এইউ (AU) দূরে। আর জুপিটার সূর্যের ৫.৫ এইউ দূরত্বে থেকে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করছে। দূরতম গ্রহ নেপচুনের দূরত্ব সূর্য থেকে ৩০.২ এইউ, যা ৪৫০৩ মিলিয়ন কিলোমিটারের সমান। প্লুটোর দূরত্ব ৩৯.২ এইউ। প্লুটো এখন বামন গ্রহ হলেও সৌর পরিবার থেকে তো আর নির্মূল হয়নি!

দ্রুতবেগে ছোটা হাইওয়েগামী গাড়ি (ধরলাম বেগ ঘণ্টায় প্রায় ১১৫ কিলোমিটার) নিয়ে সূর্য থেকে নেপচুনে যেতে প্রায় ৪৬ হাজার বছর লেগে যাবে।
কিন্তু আমাদের সৌরজগতের দৌড় এখানেই শেষ নয়। গ্রহদের চৌহদ্দি যেখানে শেষ, সৌরজগতের পরিধি তার চেয়েও বহু দূর অবধি বিস্তৃত।

সৌরজগতের সবচেয়ে দূরবর্তী বামন গ্রহ ( dwarf planet) হল এরিস (Eris)। এও কিন্তু সৌরজগতের একটি ক্ষুদ্র গণ্ডির মধ্যেই পড়ে আছে। আবার, সৌরজগতের ৩০ এইউ থেকে ৫০ এইউ পর্যন্ত অর্থ্যাৎ সাড়ে ৭ বিলিয়ন অঞ্চল জুড়ে কুইপার বেল্ট (Kuiper belt) বিস্তৃত। এই বেল্টের মধ্যে আছে প্লুটো, ইরিস, মাকিমাকি ও হাউমেয়া বামন গ্রহরা। 
কাইপার বেল্ট

সবে তো শুরু!

আরও দূরে, প্রায় ৫০-২০০ এইউ দূরত্বে দেখা মিলবে প্রান্ত সীমার। এটা হচ্ছে সেই সীমানা, যেখান পর্যন্ত সেকেন্ডে ৪০০ কিলোমিটার বেগে ধেয়ে যায় সৌর বায়ু (Solar Wind) এবং সংঘর্ষে লিপ্ত হয় আন্তঃতারকা পদার্থের সাথে। এই পদার্থগুলো আবার একীভূত হয়ে ধূমকেতুর মত লেজ তৈরি করে যার বিস্তৃতি হয় সূর্য থেকে ২৩০ এইউ পর্যন্ত।

কিন্তু, সৌরজগতের সত্যিকার বিশালতা বোঝা যাবে এর অভিকর্ষের পাল্লা থেকে অর্থাৎ যে দূরত্ব পর্যন্ত কোন বস্তু সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘুরতে পারে।

সৌর পরিবার ও উর্ট ক্লাউড 
সৌরজগতের দূরবর্তী পরিসর হচ্ছে ওর্ট ক্লাউড পর্যন্ত। ওর্ট ক্লাউড হচ্ছে এক গুচ্ছ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র হিমেল (Icy) গ্রহের সমষ্টি। এরা ১ লক্ষ এইউ দূরত্বে থেকে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করছে। এই দূরত্ব ১.৮৭ আলোক বর্ষের সমান। যদিও আমরা ওর্ট ক্লাউডকে সরাসরি দেখি না, মনে করা হয় যেসব লং পিরিয়ড ধূমকেতু (Comet) সৌরজগতের নিকটবর্তী অংশে চলে আসে, তাদের উৎপত্তি এখানে।

সূর্যের অভিকর্ষ নিজের বাড়ি পেরিয়ে ২ আলোক বর্ষব্যাপী বিস্তৃত। এই পাল্লা সূর্য থেকে এর নিকটতম তারকা প্রক্সিমা সেন্টোরির দূরত্বের প্রায় অর্ধেক। বিশ্বাস করুন আর নাই করুন, এই অঞ্চলের মধ্যবর্তী যে কোন বস্তু সূর্যকে প্রদক্ষিণ (Revolution) করবে।

আগের সেই গাড়িটার কথা মনে আছে? ঐ গাড়িটার এই দূরত্ব পাড়ি দিতে প্রায় ২ কোটি বছর লাগবে! পৃথিবী থেকে  নিক্ষিপ্ত সর্বাধিক বেগের নাসার মহাকাশযান নিউ হরাইজন ( New Horizons)  একই কাজ করতে ৩৭ হাজার বছর সময় নেবে। এর গতি সেকেন্ডে ১৬.২৬ কি.মি বা ঘণ্টায় ৫৮৫৩৬ কি.মি। 

সূত্রঃ
১. www.universetoday.com/104486/how-big-is-our-solar-system/
২. উইকিপিডিয়াঃ Neptune, Eris, Kuiper belt; Oort cloud; New Horizons
Category: articles
পৃথিবীর সবচেয়ে কাছের নক্ষত্র সূর্য। পৃথিবীর তুলনায় সূর্য অনেক বিশাল। ১০৯টা পৃথিবীকে পাশাপাশি রেখে দিলে সূর্যের ব্যাসের সমান হবে। আর সূর্যের আয়তনের সমান স্থান পূরণ করতে হলে পৃথিবীর মত প্রায় ৯ লাখ গ্রহ লাগবে! সূর্যের একার ভর সৌরজগতের ৯৯.৮৬ শতাংশ ভরের জন্য দায়ী! 


 
কিন্তু নক্ষত্রের কাতারে দাঁড় করিয়ে দিলে আমাদের সূর্য হয়ে যায় সাদামাটা এক তারা। হ্যাঁ, অনেক তারকার চেয়ে সূর্য বড়, কিন্তু বহু তারকার চেয়েই আবার ছোট।

সূর্যের তুলনায় বিটলজুস কত বিশাল দেখুন। এ তো সবে শুরু। আছে আরও বিশাল বিশাল তারাও।

হাইপারজায়ান্ট তারাদের অনেকেই এত বিশাল যে এরা আমাদের সমগ্র সৌরজগতকে গিলে ফেলতে পারে। যেমন ধরা যাক ভিওয়াই ক্যানিস ম্যাজোরিসের (VY Canis Majoris) কথা। একে সূর্যের স্থানে বসিয়ে দিলে পরিধি শনি গ্রহকেও ছাড়িয়ে যেত। 

ভিওয়াই ক্যানিস ম্যাজোরিস সূর্যের স্থানে থাকলে পৃথিবী ও মঙ্গল দুটোই এর উত্তপ্ত প্লাজমায় ঝলসে যেত। গ্রহদ্বয়ের অবস্থান তো থাকতো সৌর পৃষ্ঠের অনেক ভেতরে। বুধ, শুক্র, বৃহস্পতি, শনি গ্রহ ও তাদের উপগ্রহদেরও একই ভাগ্য বরণ করতে হত। তাই এই দুষ্ট দূরে আছে বলে আমরা হাঁফ ছেড়ে বাঁচতে পারি! ও হ্যাঁ,  দূরত্ব আমাদের থেকে ৩ হাজার ৮৪০ আলোকবর্ষ দূরে। 

সূর্যের চেয়ে বড় বড় তারকারা

আমাদের সূর্যের পরিধি ২৭ লাখ মাইল বা ৪৩ লাখ কি. মি। মানে, সূর্যের চারপাশে চক্রাকারে ঘুরে আসতে এতটুকু পথ পাড়ি দিতে হবে। আর এই দানব ভিওয়াই ক্যানিস ম্যাজোরিসের পরিধি ১৯০ কোটি মাইল বা ৩০০ কোটি কিলোমিটার। ব্যাসার্ধ গড়ে সূর্যের প্রায় ১,৪২০ গুণ। 

মনে করুন কোনো ভাবে এতে এই দানবের পরিধি বরাবর আমরা ঘুরে আসব। এ পর্যন্ত মানুষের বানানো সবচেয়ে দ্রুতগামী যান পার্কার সোলার প্রোব। এর গতিবেগ ঘণ্টায় ৫,৮৬,৮০০ কিলোমিটার। এমন যানে চড়ে ভিওয়াই ক্যানিস ম্যাজোরিসের চারপাশে একবার ঘুরে আসতে ২১১ দিন লাগবে। যেখানে সূর্যকে ঘুরে আসতে লাগবে মাত্র ৭ ঘণ্টা। 
 
তবু ভিওয়াই ক্যানিস ম্যাজোরিসও তারকাদের রাজা নয়। এনএমএল সিগনি (NML Cygni) তার চেয়ে বড় দানব। এর ব্যাসার্ধ সূর্যের ১,৬৪০ গুণ, আর ভর ২৫-৪০ সৌর ভরের সমান। তবু এখানেই শেষ নয়। আরেকটি বড় তারার নাম ইউওয়াই স্কুটি ( UY Scuti)। এর ব্যাসার্ধ ১,৭০৮ সৌর ব্যাসার্ধের সমান। এটাকে সূর্যের স্থানে বসিয়ে দিলে বৃহস্পতির গ্রহ পর্যন্ত এর আলোকমণ্ডলের (Photosphere) পেটে চলে যাবে। এটা আছে আমাদের থেকে ৭,৮০০ আলোক বর্ষ দূরে।

সবচেয়ে বড় দুই তারার তুলনামূলক আকার 

এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত সবচেয়ে বড় আকারের তারার নাম স্টিফেনসন ২-১৮। অন্য নাম  স্টিফেনসন ২ ডিএফকে ১। সূর্যের তুলনায় ২১৫০ গুণ বড়। পৃথিবী থেকে দূরত্ব ১৯ হাজার আলোকবর্ষ। 

এ তো গেল সাইজ বা আকারের হিসাবে বড় তারার গল্প। সূর্যের চেয়ে বহুগুণ ভারী নক্ষত্রের কথাও জানতে পেরেছেন বিজ্ঞানীরা। এই যেমন আর১৩৯ এ তারাটা। ভর সূর্যের ৯৫ গুণ বেশি। দূরত্ব পৃথিবী থেকে ১,৬৩,০০০ আলোকবর্ষ। তবে এর চেয়ে ভারী তারা আছে ভূরুভূরি। এইচডি ১৫৫৫৮ তারা তো সূর্যের ১৫২ গুণ ভারী। আর এখন পর্যন্ত জানা মতে সবচেয়ে ভারী নক্ষত্রের নাম বিএটি ৯৯-৯৮। ভর সূর্যের ২২৬ গুণ। দূরত্ব পৃথিবী থেকে ১,৬৫,০০০ আলোকবর্ষ। 

সূর্যের চেয়ে বেশি ভারী তারা আবার জীবনের শেষ ভাগে অনেক ছোট হয়ে যায়। এই যেমন ব্ল্যাকহোল ও নিউট্রন তারা। জীবনের শেষভাগে ব্ল্যাকহোল তো বিন্দু বা রেখার মতো হয়ে যায়। আর নিউট্রন তারা হয় পৃথিবীর চেয়ে ছোট। জ্বালানি ফুরিয়ে গুটিয়ে যাবার সময় তৈরি নিউট্রন আরও ছোট হতে বাধা দেয়। ফলে তারাটা ব্ল্যাকহোল হতে পারে না। চওড়ায় হয় মাত্র ১২ মাইলের মতো। ঘন এ তারা থেকে একটি চিনির দানার সমান পদার্থ নিলে তার ভরই হবে একশো কোটি টন। 

 
সূত্র
১. http://en.wikipedia.org/wiki/VY_Canis_Majoris
২. http://en.wikipedia.org/wiki/NML_Cygni
৩. http://en.wikipedia.org/wiki/Quadrillion
৪. http://www.fromquarkstoquasars.com
৫. http://en.wikipedia.org/wiki/UY_Scuti
Category: articles

মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৪

মহাবিশ্বের কোন কেন্দ্র নেই!
কসমোলজির আদর্শ থিওরি অনুযায়ী  ১৪ শত কোটি বছর আগে একটি বৃহৎ বিস্ফোরণের মাধ্যমে মহাবিশ্বের যাত্রা শুরু। তার পর থেকেই মহাবিশ্ব সম্প্রসারিত হচ্ছে। কিন্তু তবু প্রসারণের নেই কোন কেন্দ্র। সব দিকে একই রকম দেখতে। বিগ ব্যাঙকে সাধারণ কোন বিস্ফোরণ মনে করা ঠিক হবে না। মহাবিশ্ব কোন কেন্দ্র থেকে ছড়িয়ে পড়ছে না। বরং, সমগ্র মহাবিশ্বই প্রসারিত হচ্ছে। আমরা এখন পর্যন্ত যা জানি, মহাবিশ্ব সব দিকেই সমানভাবে প্রসারিত হচ্ছে।


১৯২৯ সালে এডুইন হাবল বলেন, তিনি আমাদের থেকে বিভিন্ন দূরত্বের গ্যালাক্সিদের বেগ মেপেছেন, আর তারা যতই দূরে যাছে ততই তাদের বেগ বেড়ে যাচ্ছে। এতে করে মনে হতে পারে, আমরা তাহলে মহাবিশ্বের কেন্দ্রে আছি। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে মহাবিশ্ব যদি হাবলের সূত্রানুযায়ী সুষমভাবে সম্প্রসারিত হয়, তাহলে যে কোন জায়গাকেই এই রকম কেন্দ্র মনে হবে।
আমরা যদি একটি গ্যালাক্সিকে (নাম দিলাম খ) প্রতি সেকেন্ডে ১০, ০০০ কি.মি. বেগে দূরে সরে যেতে দেখি তাহলে গ্যালাক্সি খ এর একজন এলিয়েন আমাদের গ্যালাক্সি 'ক' কে একই বেগে বিপরীত দিকে যেতে দেখবে। যদি 'খ' গ্যালাক্সির দিকেই আরেকটি গ্যালাক্সি 'গ' থাকে, তাকে আমরা সেকেন্ডে ২০, ০০০ কি.মি. বেগে সরে যেতে দেখবো। 'খ' গ্যালাক্সির এলিয়েন 'গ' কে ১০, ০০০ কি.মি/সে. বেগে সরতে দেখবে।
কোন গ্যালাক্সি থেকে অন্য গ্যালাক্সির বেগ কেমন দেখাবে তার সারণী দেখুন। 
              ক           খ           গ
ক থেকে         0 km/s    10,000 km/s   20,000 km/s
খ থেকে   -10,000 km/s         0 km/s   10,000 km/s
 
তাহলে, 'খ' গ্যালাক্সিতে থাকা এলিয়েনও নিজেকে মহাবিশ্বের কেন্দ্র মনে করবে।
বেলুনের উদাহরণঃ
মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ বোঝার জন্য স্থানকে একটি সম্প্রসারণশীল বেলুনের সাথে তুলনা করা হয়। আর্থার এডিংটন ১৯৩৩ সালে তাঁর বই দি এক্সপানডিং ইউনিভার্স (The Expanding Universe) বইয়ে এই উপমা দেন। ফ্রেড হয়েল তাঁর জনপ্রিয় বই দি নেচার অব দি ইউনিভার্স (The Nature of the Universe) বইয়ের ১৯৬০ এর সংস্করণেও একই উপমা প্রয়োগ করেন। হয়েল লেখেন, "আমার গণিতশাস্রের বাইরের বন্ধুরা আমাকে প্রায়ই বলে, মহাবিশ্বের এই সম্প্রসারণ তারা বুঝতে পারছে না। গণিতের অত শত হিসেব বাদ দিয়ে আমি বেলুনের উপমা দেই যার পৃষ্ঠে আছে অনেকগুলো বিন্দু। বেলুনটা যদি ফেটে যায়, তবে এই বিন্দুগুলো  পরস্পর থেকে দূরে সরতে থাকবে। ঠিক এভাবেই গ্যালাক্সিরাও দূরে সরে।
বেলুনের উপমাটা আসলেই দারুণ, কিন্তু একে সঠিকভাবে বুঝতে হবে। নইলে এটা আরো বিভ্রান্তির জন্ম দেবে। হয়েল বলেন, "অনেকভাবে এই উপমা ভুল দিকে নিয়ে যেতে পারে"। মনে রাখতে হবে, ত্রিমাত্রিক (Three Dimensional) স্থানকে (Space) বেলুনের দ্বি-মাত্রিক পৃষ্ঠের সাথে তুলনা করতে হবে। এখানে পৃষ্ট সুষম (Homogenous)  এবং কোন বিন্দুকে কেন্দ্র বিবেচনা করা যাবে না। বেলুনের নিজের কেন্দ্রের অবস্থান পৃষ্ঠে নয়, তাই একে মহাবিশ্বের কেন্দ্রও মনে করা যাবে না। এবার আপনি বেলুনের রেডিয়াল ডিরেকশনকে সময় মনে করতে পারেন।
হয়েলের প্রস্তাবনা ছিল এ রকম। কিন্তু এটাও কিছুটা বিভ্রান্তিকর হতে পারে।
পৃষ্ঠের বিন্দুগুলোকে মহাবিশ্বের অংশ মনে না করলেই আরো ভালো হয়। ঊনবিংশ শতকের শুরুতে গাউস আবিষ্কার করেন, স্থানের বৈশিষ্ট্য যেমন বক্রতাকে স্বকীয় রাশিমালা দ্বারাই প্রকাশ করা যায় যে রাশিগুলো কোথায় বক্রতা ঘটছে তা বিবেচনা ছাড়াই পরিমাপ করা যায়। তাহলে, 'স্থান' এর বাইরে অন্য কোন মাত্রার (Dimension) উপস্থিতি না থাকলেও স্থান বাঁকতে পারে। তিনটা পাহাড়ের মাথার মধ্যবর্তী বিশাল ত্রিভুজের কোণ (Angle) মাপার মাধ্যমে গাউস 'স্থান' (Space) এর বক্রতাও মাপার চেষ্টা করেছিলেন।
বেলুনের উপমা ভাববার সময় মাথায় রাখতে হবে-
* বেলুনের দ্বি-মাত্রিক পৃষ্ঠ ত্রিমাত্রিক স্থানের অনুরূপ।
* যে ত্রিমাত্রিক স্থানে বেলুন আবদ্ধ আছে তা অন্য কোন উচ্চ-মাত্রিক ফিজিকেল (Physical) স্থানের অনুরূপ নয়।
* 'বেলুনের কেন্দ্র' ফিজিকেল কোন অর্থ বহন করবে না।
* মহাবিশ্বের আকার সসীম হতে পারে যা বেলুনের পৃষ্ঠের মতই প্রসারিত হচ্ছে, আবার অসীমও হতে পারে।
* প্রসারণশীল বেলুনের মতই গ্যালাক্সিরা প্রসারিত হচ্ছে, কিন্তু গ্যালাক্সি নিজে প্রসারিত হচ্ছে না। কারণ তার নিজস্ব অভিকর্ষ।
(চলবে)
আরও পড়ুনঃ গ্যালাক্সিরা প্রসারণের সময় কিভাবে আলোর বেগকে পরাজিত করে? 
সূত্রঃ
http://math.ucr.edu/home

Category: articles

রবিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৪

এলিয়েনের হাতে অপহরণের কিসসাঃ ১ম পর্ব 

মনুষ্যসদৃশ (humanoid ) প্রাণিটির পরনে ছিল দামী ইউনিফর্ম ও কালো টুপি। যানটির নিচ থেকে বেরিয়ে এল বিশাল এক আকৃতি। যানটি আরো কাছে এগিয়ে এল, প্রায় ৫০-৮০ ফুট ওপরে ও ৩০০ ফুট সামনে। পরবর্তীতে ১৯৬১ সালের অক্টোবরের ২১ তারিখে (ঘটনার এক মাস পর) বার্নে নিকাপের (NICAP=National Investigations Committee On Aerial Phenomena*) গোয়েন্দা ওয়াল্টন ওয়েবকে বলেন, "যেভাবেই হোক, প্রাণিগুলো মানুষ ছিল না।"
চোখ থেকে বাইনোকুলার সরিয়ে বার্নে গাড়ির দিকে ছুটে গেলেন।  উত্তেজিত হয়ে বেটিকে বললেন, "ওরা আমাদের ধরতে আসছে!"
বস্তুটা আবারও অবস্থান পাল্টিয়ে সরাসরি  গাড়ির ওপরে চলে এল। বস্তুটার দিকে বেটিকে চোখ রাখতে বলে বার্নে দ্রুত গতিতে গাড়ি ছুটিয়ে দিলেন। উজ্জ্বল, তারকাখচিত রাত হলেও বেটি জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে ইন্ধকার ছাড়া কিছুই দেখলেন না।
একটু পরই হিল দম্পতি ছন্দোময় বিপ বিপ বা গুঞ্জনধ্বনি শুনলেন।মনে হচ্ছিল শব্দটা গাড়ির ট্রাঙ্কে বাড়ি খেয়ে ফিরে যাচ্ছিল। গাড়ি একটু কেঁপে উঠল আর তাদের গা বেয়ে শির শির অনুভূতি বয়ে গেল। তারা বলেন, ঐ সময় তাদের চেতনা পরিবর্তিত রূপ ধারণ করল আর তাদের চিন্তাশক্তি নিষ্প্রভ হয়ে গেল। একটু পর আবার কোডের মত বিপ বিপ বা গুঞ্জনধ্বনি তাদের চিন্তাশক্তি সম্পুর্ণরূপে ফিরিয়ে দিল। তারা দেখলেন, ততক্ষণে ৩৫ মাইল (৫৬কি.মি) দক্ষিণে চলে এসেছেন। কিন্তু এই পথটুকু পাড়ি দেবার স্পষ্ট বা পূর্ণাংগ কোন স্মৃতি তাদের মনে নেই।  তাদের হঠাৎ করে অপরিকল্পিতভাবে সামনে রাস্তা বন্ধ ও একটি আগুণের গোলক দেখে বাঁক নেবার কথা মনে আছে।
প্রতিক্রিয়াঃ
ভোরের দিকে বাড়িতে ফিরে তাদের অদ্ভূত চাঞ্চল্যকর অনুভূতি হল যা তাদের ভাষায় বোঝানো যাচ্ছিল না। বার্নে বাইনোকুলারের চামড়ার ফিতা ছেঁড়া দেখতে পেলেন, কিন্তু মনে করতে পারলেন না এটা কখন ও রকম হল। আরো দেখলেন, তার প্রিয় পোশাকের কিনার ব্যাখ্যাতীতভাবে চাঁছা।
গোসল সেরে সতেজ হয়ে দু'জনেই যা দেখলেন তা আঁকার চেষ্টা করলেন। দেখা গেল, দু' জনের আকাঁয় দারুণ মিল। অবাক হয়ে তারা ইউএফও দেখা ও গাড়িতে করে বাড়ি ফিরে আসার মধ্যবর্তী সব ঘটনা মনে করার চেষ্টা করলেন। কিন্তু গুঞ্জনধ্বনিটা শোনার পর থেকে তাদের স্মৃতি অসম্পূর্ণ ও খণ্ডিত হয়ে গেল। তাদের অস্পষ্ট স্মৃতিত চাঁদের মত উজ্জ্বল একটি বস্তুকে রাস্তার উপর বসে থাকতে দেখল। বেটির মতে ঐ মুহূর্তে তার স্বামী আচমকা মোড় নিয়েছিলেন।

কয়েক ঘণ্টা ঘুমিয়ে বেটি ঘটনার সময়ের জুতা ও জামা ক্লজিটে রাখলেন। দেখা গেল কাপড়ের আঁচল ও জিপার ছেঁড়া। ক্লজিট থেকে পরে বের করে দেখলেন যে কাপড়ের ওপর গোলাপি পাউডার লেগে আছে। দড়িতে ঝোলানো হলে গোলাপী পাউডার মিলিয়ে গেল। কিন্তু কাপড়টা চিরতরে নষ্ট হয়ে গেল। পরবর্তীতে পাঁচটি ল্যাবে ঐ কাপড়ের ফরেনসিক টেস্ট চালানো হয়।
গাড়ির পেছনের তোড়ং-এ চকচকে, এককেন্দ্রিক কিছু বৃত্ত দেখা গেল যা আগে ছিল না। বৃত্তগুলোর কাছে কম্পাস নিলে এর কাঁটা জোরে ঘুরতে লাগল, আবার কয়েক ইঞ্চি দূরে সরাতেই কাঁটা স্বাভাবিক হয়ে গেল।
সময়টা কোথায় গেলঃ
১৯৬১ সালের নভেম্বরে আবার নিকাপ তাদের ইন্টারভিউ নিল। একটা প্রশ্ন ছিল তাদের ভ্রমণের সময় নিয়ে। যদিও তাদের বাড়ি ফেরার কথা ৪ ঘণ্টায় সেখানে সময় লেগেছিল ৭ ঘণ্টা। অন্যান্য ইউএফও কেসেও এমন সময় হারানোর ঘটনা ঘটে। একে নাম দেওয়া হয়েছে মিসিং টাইম।
১৯৬২ সালের ফেব্রুয়ারিতে তারা কয়েকবার ঐ রাস্তায় ঘুরতে গেলেন। যেখানে রাস্তার উপর উজ্জ্বল গোলকটি দেখেছিলেন সেটা চিহ্নিত করা গেল না।
নিউ হ্যাম্পাশায়ারে সরকারী ফলক
মিসিং সময়ের ঘটনা জানার জন্যে তাদেরকে সম্মোহিত করার চেষ্টা করা হল। ১৯৬৪ সালে ডক্টর সাইমন আবারো এ রকম একটি চেষ্টা চালালেন। সম্মোহন থেকে কোন তথ্য পাওয়া না গেলেও এর পর বেটি ও বার্নে কিছুটা চিন্তামুক্ত হন।
নোটঃ
*নিকাপের কাজ হচ্ছে ইউএফও বিষয়ক ঘটনা নিয়ে অনুসন্ধান চালানো।
সূত্রঃ
১. উইকিপিডিয়া
২. অ্যাবাউট ডট কম 
Category: articles

সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৪

এনজিসি ৬৮৭২ (NGC 6872) গ্যালাক্সি পৃথিবী থেকে ২১২ মিলিয়ন (বা ২১.২ কোটি) আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত। একে IC 4970 গ্যালাক্সির সাথে প্যাভো (Pavo) নক্ষত্রপুঞ্জে দেখা যায়। এর আকৃতি অনেকটা সেকশন চিহ্নের (§) মত।
১৯৯৯ সালে ইউরোপিয়ান সাউদার্ন মানমন্দির (ESO) একে খুঁজে পায়। এর অপর নাম কনডর ছায়াপথ (Condor Galaxy)।

প্রথম দর্শনে, একে অন্য সর্পিল ছায়াপথের মতই মনে হবে। আসলেও তাই-কিন্তু আকার বাদ দিয়ে। এনজিসি ৬৮৭২ এর আকার বিস্ময়কর রকম বিশাল। এই পোস্ট লেখা পর্যন্ত এই গ্যালাক্সিটিই বৃহত্তম সর্পিল গ্যালাক্সি। সার্বিকভাবে সবচেয়ে বড় গ্যালাক্সি অবশ্য আইসি ১১০১।
এই মহাজাগতিক দৈত্যের প্রশস্ততা ৫ লাখ ২২ হাজার আলোক বর্ষ যা আমাদের মিল্কিওয়ে ছায়াপাথের পাঁচ গুণ। এটি মিল্কিওয়ে অ্যান্ড্রোমিডা (আমাদের নিকটত গ্যালাক্সি) কে হজম করার পরও পেট ভরবে না।
এটা এত বিশাল হল কেন? সায়েন্স ফিকশনে যেমন দেখা যায় বাতিকগ্রস্থ বিজ্ঞানীর আকার বড় করার ওষুধ খেয়ে  মাকড়সা, মাছ ইত্যাদি মানুষের চেয়ে বিশাল হয়ে যায়- তেমন কোন ঘটনা নাকি!
হিসেব করে দেখা গেছে, কোটি কোটি বছর আগে নিকটবর্তী গ্যালাক্সি আইসি ৪৯৭০ (IC_4970) এই এনজিসি ৬৮৭২ এর কাছাকাছি আসে। ঐ সময় এরা সংঘর্ষ এড়াবার মত যথেষ্ট দূরত্বে ছিল, কিন্তু দু'জন দু'জনার অভিকর্ষীয় টানে আটকা পড়ে। ফলে, দু'জন সন্ধি করে বিশাল এই দানবীয় রূপ পরিগ্রহ করে। উইকিপিডিয়ার আর্টিকেলে তাই গ্যালাক্সিদ্বয় একই পৃষ্ঠায় ঠাঁই পেয়েছে।
কিন্তু যেই অভিকর্ষীয় বল ছায়াপথ দুটোকে একত্র করেছে, তাই হবে এদের মৃত্যুর কারণ। হ্যাঁ, গ্যালাক্সিদের প্রাণ নেই, মরতে পারে না, কিন্তু এপোড় - ওপোড় তো হয়ে যেতে পারে।  এনজিসি ৬৮৭২ এর ভাগ্যে তাই ঘটতে যাচ্ছে। আইসি ৪৯৭০ এর টানে এর অন্যতম ভারী একটি বাহু আলাদা হয়ে গিয়ে একে বামন ছায়াপথে রূপ দিতে যাচ্ছে।
অতএব, বেশি দিন সম্ভবত এনজিসি ৬৮৭২ এর পক্ষে বৃহত্তম সর্পিল গ্যালাক্সি (Spiral Galaxy) হবার রেকর্ড ধরে রাখা সম্ভব হবে না।
প্রায় ৪ বিলিয়ন বছর পরে একই রকম কিছু একটা আমাদের গ্যালাক্সিতেও ঘটে যাচ্ছে। হাবল পরিমাপের একটি বিশ্লেষণীতে দেখা গেছে মিল্কিওয়ে অ্যান্ড্রোমিডার সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হবে। তাহলে, ভবিষ্যতে এমনও হতে পারে আমরাই হয়ে যেতে পারি বৃহত্তম স্পাইরাল গ্যালাক্সির অংশ।
কিন্তু হায়, যদি কিয়ামত হবার আগে তা ঘটার সুযোগ হয়ও, আমরা সেই আনন্দ উদযাপন করার সুযোগ পাব না! (আপনি কি ৪ শ' কোটি বছর বেঁচে থাকবেন?)
সূত্রঃ
১. http://www.jpl.nasa.gov/news/news.php?release=2013-016
২. http://en.wikipedia.org/wiki/NGC_6872_and_IC_4970
Category: articles

রবিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৪

২০১৩ সালের শুরুর দিকে মহাকশবিজ্ঞানীরা এক গুচ্ছ সক্রিয় ছায়াপথীয় অন্তর্বস্তু আবিষ্কার করেন যার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত ৪ শ' কোটি আলোক বর্ষব্যাপী বিস্তৃত। এখানে, সক্রিয় বলতে সেই সব কৃষ্ণগহবরদের বোঝানো হচ্ছে যারা তাদের সীমানায় অবস্থিত অঞ্চলকে গ্রাস করে চলেছে।
ছবিঃ নাসা

এই কাঠামোটি হচ্ছে বিশাল কোয়াসার গুচ্ছ বা এলকিউজি ( large quasar group ) বা LQG। এর আকৃতি নিতান্তই বিশাল। আমাদের আবাস গ্যালাক্সি মিল্কিওয়ের আড়াআড়ি দূরত্ব ১ লক্ষ আলোকবর্ষ। আমাদের পাশ্ববর্তী ছায়াপথ অ্যান্ড্রোমিডা (Andromeda)  আমাদের থেকে ২৫ কোটি আলোকবর্ষ দূরে আর ওর আকার মিল্কিওয়ের প্রায় আড়াই গুণ (২ লাখ ৬০ হাজার আলোকবর্ষ তার ব্যাস)। তার অর্থ এই এলকিউজি খুব সহজেই অ্যান্ড্রোমিডা, মিল্কিওয়ে ও এদের মাঝখানে যা আছে সবকিছুকে হজম করে ফেলতে পারে।
আরেকভাবে তুলনা করা যাক! পৃথিবীর বয়স ৪ শ" কোটি বছরের কিছুটা বেশি। তাহলে এলকিউজিটির এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে আলো যতক্ষণে পৌঁছবে, ততক্ষণে পৃথিবী তৈরি হয়েছে, শীতল হয়েছে, এতে জীবনের উদ্ভব ঘটেছে, ডাইনোসররা আবির্ভূত হয়ে বিলুপ্তও হয়ে গেছে, মানুষ পৃথিবীতে এসেছে, সভ্যতা গড়ে তুলেছে, আমি এই লেখাটি লিখেছি, আপনি পড়েছেন। সোজা কথায়, পৃথিবীর সমগ্র ইতিহাসের সমান সময়ে কিছু আলোক কণা এই দানবীয় কাঠামোর এক প্রান্ত হতে অন্য প্রান্তে পৌঁছায়।
বেতার তরঙ্গের উৎস ও অতি উজ্জ্বল বস্তু কোয়াসারদের সর্বোচ্চ গুচ্ছ ৬০ কোটি আলোক বর্ষ বিস্তৃত। নতুন আবিষ্কৃত LQG ৭৩ টি কোয়াসার নিয়ে গঠিত। ৪০০ কোটি আলোক বর্ষের সমান প্রশস্ততা নিয়ে এটি অন্য কোয়াসার গুচ্ছদের লজ্জায় ফেলে দিয়েছে।
এই LQG টি এত বিশাল যে এ আধুনিক সৃষ্টিতত্ত্বকে ইউটার্ন করিয়ে দিতে পারে। সাধারণ আপেক্ষিকতাকে বড় মাপের বস্তুর ক্ষেত্রে প্রয়োগ করলে অনেকগুলো সৃষ্টিতত্ত্ব বিষয়ক (Cosmological) তত্ত্বের আবির্ভাব ঘটে। এদের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ন ও মৌলিক হচ্ছে কসমোলোজিক্যাল নীতি। এই নীতির অবিচ্ছেদ্য বক্তব্য হচ্ছে, যথেষ্ট বড় দূরত্বের বস্তু পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রে মহাবিশ্বে পছন্দনীয় কোন দিক বা অবস্থান নেই।
সোজা কথায়, মহাবিশ্বকে যে দিক থেকেই পর্যবেক্ষণ করা হোক না কেন, দেখতে একই রকম লাগবে। অর্থাৎ এটা একটা মৌলিক সমজাতীয়তা (Homogeneity)।
 সূত্রঃ
১. http://en.wikipedia.org/wiki/Large_quasar_group
২.  http://www.fromquarkstoquasars.com
Category: articles

শনিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৪

আমরা সবাই জানি, ব্ল্যাকহোল বা কৃষ্ণগহবর মহিবিশ্বের সবচেয়ে ভারী বস্তু।  (না জানলে এখন তো জানেন!) তারা পুরো নক্ষত্রমণ্ডলকে গিলে ফেলতে পারে। এখন, মহাবিশ্বে ব্ল্যাকহোলই শুধু নেই, আছে সুপারম্যাসিভ ব্ল্যকহোলও (Super-massive Black holes)। বাংলায় একে বলা যাক মহা ভারী কৃষ্ণগহবর

ব্ল্যাকহোল ও সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাকহোলের পার্থক্য হল একজন সাধারণ মানুষের সাথে অতিমানবের (Superman) পার্থক্যের মত। সাধারণ মানুষও অনেক সময় অসাধারণ কাজ করে ফেলে, আর সুপারম্যান! সব সময় সুপার!
মহা ভারী ব্ল্যাকহোলরাই মহাবিশ্বের বৃহত্তম কৃষ্ণগহবর। সাধারণ কৃষগহবর যেখানে শত শত বা হাজার হাজার নক্ষত্রকে, এমনকি পুরো তারকামণ্ডলকে হুমকিতে ফেলতে পারে, সেখানে মহা ভারী ব্ল্যাকহোলর সমগ্র ছায়াপথকে (Galaxy) কে গ্রাস করে ফেলতে পারে। এদেরকেই সাধারণত ছায়াপথের কেন্দ্রে দেখা যায়। এদের ভর বিলিয়ন বিলিয়ন সৌর ভরের সমপরিমাণ হতে পারে।
এদের ভর এত বেশি যা চিন্তা করতে গেলে মাথা কেমন কেমন করে ওঠবে! বৃহত্তমদের মধ্যে বৃহত্তম ব্ল্যাকহোল হবার রেকর্ড এখন পর্যন্ত ধরে রেখেছে এনজিসি ১২৭৭ ( NGC 1277) নামক ছায়াপথের কেন্দ্রে অবস্থিত একটি ব্ল্যাকহোল । এনজিসি ১২৭৭ হচ্ছে একটি লেন্টিকুলার গ্যালাক্সি। লেন্টিকুলার গ্যালাক্সিদের আকৃতি হচ্ছে উপবৃত্তাকার ও স্পাইরাল এই দুই আকৃতির মাঝামাঝি প্রকৃতির। পারসিউস( Perseus) নক্ষত্রপুঞ্জে (Constellation) এনজিসি ১২৭৭ এর অবস্থান। এর দূরত্ব আমাদের বাড়ি মানে মিল্কিওয়ে ছায়াপথ থেকে ২২ কোটি আলোকবর্ষ।
এই এনজিসি ১২৭৭ গ্যলাক্সির কেন্দ্রে অবস্থিত বৃহত্তম ভারী ব্ল্যাকহোলটি তার গ্যালাক্সির স্ফীত অংশের ৫৯ ভাগ ভরের জন্য দায়ী। হিসেব করে এই কৃষ্ণদানবের ভর পাওয়া গেছে গেছে ১৭ বিলিয়ন সৌর ভরের সমান। [সূত্র- ২] জেনে রাখুন এক সৌর ভর মানে আমাদের সূর্যের ভরই হচ্ছে 2×1030  কেজি। [ ১ বিলিয়ন মানে ১০০ কোটি] তাহলে ভাবুন ব্যাটা কত বিশাল ভারী!
এখন পর্যন্ত এর চেয়ে ভারী ব্ল্যাকহোলের সন্ধান মেলেনি। আক্ষরিক অর্থেই এই দানব নিজের আবাসকে (মানে ছা্যাপথকে) গিলে ফেলছে। এনজিসি ১২৭৭ ছায়াপথে কোটি কোটি তারকা ও তার দশগুণ গ্রহ ও অন্যান্য পাথুরে বস্তু আছে। এতকিছু থাকতে একটা মাত্র বস্তু ১৪% ভর ধরে রেখেছে। কি মহা দানবরে বাবা! অথচ অন্যান্য নিরীহ (!) ব্ল্যাকহোলরা তার ছায়াপথের মাত্র ০.১ ভাগ ভর ধারণ করে।
এর এই বিশালতার কারণে অন্যান্য ব্ল্যাকহোলও এর কাছে নিতান্তই তুচ্ছ। এই দানবকে সৌরজগতে নিয়ে আসা হলে সব গ্রহ সে তার পেটে চালান করে দিত। আমাদের সৌরজগতের নেপচুন গ্রহের কক্ষপথের চেয়ে কৃষ্ণগহবরটি ১১ গুণ প্রশস্ত, তার ঘটনা দিগন্তকে বিবেচনাই না রেখে হিসেব করেই। (ঘটনা দিগন্ত বা Event Horizon হচ্ছে ব্ল্যাকহোলের যেই সীমা যেখান থেকে আলোও আসতে পারে না)

সূত্রঃ
১.  http://www.fromquarkstoquasars.com/the-4-largest-objects-in-the-known-universe/
২. http://www.nature.com/nature/journal/v491/n7426/full/nature11592.html
৩. http://en.wikipedia.org/wiki/NGC_1277
Category: articles

মঙ্গলবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০১৪

আমেরিকার নিউ হ্যাম্পাশায়ার অঙ্গরাজ্যের একটি গ্রাম্য এলাকা। এখানেই বেটি ও বার্নে হিল দম্পতি ১৯৬১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মুখোমুখি হন ভিনগ্রহবাসী এলিয়েনের।  হিল দম্পতি বাস করতেন নিউ হ্যাম্পাশায়ারের পোস্টমাউথে। বার্নে ( ১৯২২-১৯৬৯) চাকুরী করতেন আমেরিকান ডাক বিভাগে আর বেটি ছিলেন সমাজকর্মী। বার্নে ছিলেন আফ্রিকান বংশোদ্ভূত কৃষ্ণাঙ্গ, অন্য দিকে বেটি ছিলেন ইউরোপিয়ান শ্বেতাঙ্গ।
ঘটনাটিকে নাম দেওয়া হয়েছে হিল অপহরণ ( Hill Abduction)। আসুন দেখি কী ঘটেছিল সে দিন আসলে।
মূল ঘটনাঃ


হিলদের বর্নণা মতে, ঘটনাটি ঘটে ১৯ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে দশটায়। কানাডায় ছুটি কাটিয়ে তারা পোর্টসমাউথে ফিরে যাচ্ছিলেন। নিউ হ্যাপমাশায়ারের সাগরতীর দিয়ে যাবার সময় রাস্তায় গাড়ির সংখ্যা অল্পই ছিল। ল্যাংকাস্টারের ঠিক দক্ষিণে থাকতে বেটি আকাশে একটি উজ্জ্বল বিন্দু দেখতে পেলেন। এটা চাঁদ এবং বৃহস্পতি গ্রহের নিচ থেকে চাঁদের পশ্চিম দিক দিয়ে উপরের দিকে উঠছিলো। বার্নে রুট-৩ এ গাড়ি চালানোর সময় বেটি বললেন যে তিনি একটা উল্কা দেখতে পেয়েছেন। তবে, এটি বিমান বা কৃত্রিম উপগ্রহের মত উপরের দিকে যাচ্ছিল।
এর ক্রমেই উজ্জ্বল থেকে উজ্জ্বলতর হয়ে ওঠা ও অস্বাভাবিক চলাচলের কারণে কৌতুহলী হয়ে ওটাকে আরো কাছ থেকে দেখার জন্য বেটি বার্নেকে থামতে বলেন। টুইন মাউন্টেইনের দক্ষিণে গাড়ি থামানো হল। ভালুক থাকতে পারে ভেবে বার্নে গাড়ির ভেতর থেকে তার পিস্তলটি নিয়ে বের হলেন।
বেটি তার বাইনোকুলার দিয়ে অস্বাভাবিক আকৃতির একটি যান দেখলেন। ওটা থেকে একাধিক রঙের আলোর ঝলক চাঁদের গায়ে ঝিলিক দিচ্ছিল। কয়েক বছর আগে বেটির বোন তাকে ফ্লাইং সসার দেখার কথা বিশ্বাস করিয়ে ছেড়েছিলে। বেটি ভাবলেন, এটাই তাহলে সেটা। কিন্তু  বাইনোকুলারে দেখে বার্নে বললেন এটা মন্ট্রিল থেকে ভার্মন্টগামী বাণিজ্যিক এয়ারলাইনার। মত পাল্টালেন একটু পরই। কারণ, মুহূর্তের মধ্যে ওটা তার দিকে ঘুরে গেল। তিনি বুঝলেন, তিনি যাকে প্লেন ভেবেছেন, তা প্লেন নয়। তাড়াতাড়ি গাড়িতে উঠে তিনি ফ্র্যাংকোনিয়া গিরিপথের সড়কে পড়লেন।
হিউম্যানয়েড

হিল দম্পতি বলেন, তারা গিরিপথের সড়ক ধরে ধীরে ধীরে এগোচ্ছিলেন যাতে বস্তুটাকে ভালোমত দেখা যায় যা আরো কাছ ঘনিয়ে আসছিল। এক সময় বস্তুটা একটা রেস্টুরেন্ট ও ক্যানন মাউনটেইনের সিগনাল টাওয়ার পেরিয়ে গেল। পাহাড় পেরিয়ে এটি 'ওল্ড ম্যান অব দি মাউনটেইন' এর কাছে বের হয়ে এল। উল্লেখ্য 'ওল্ড ম্যান অব দি মাউনটেইন' হল পাহাড়ের কিনারে একটি নকশা যাকে দেখতে মানবমুখের মত লাগে।
বেটির মতে বস্তুটি পাহাড়ের মানবমুখের চেয়ে দেড়গুণ বড় ছিল। মানবমুখটির দৈর্ঘ্য ৪০ ফুট বা ১২ মিটার। বস্তুটা ঘুরপাক খাচ্ছিল। নিরব ও জ্বলজ্বলে যানটি রাতের আকাশে অস্বাভাবিকভাবে উপর-নিচ করছিল। গিরিপথের ৩ নং রুট দিয়ে যাবার সময় ওটা যেন তাদের সাথে ইঁদুর-বিড়াল খেলছিল।
গিরিপথের প্রায় ১ মাইল দক্ষিণে ওটা তাদের দিকে নেমে আসল। বার্নেকে রাস্তার মাঝখানে গাড়ি থামাতে হল।গাড়ির পুরো উইন্ডশিল্ড ঢেকে দিয়ে যানটা তাদের মাথার ৮০ থেকে ১০০ ফুট ওপরে ভেসে থাকল। ওটাকে দেখতে তখন প্যানকেকের মত লাগছিল।
পিস্তল পকেটে নিয়ে বার্নে গাড়ি থেকে বেরিয়ে ওটার আরো কাছে গেলেন। বাইনোকুলার দিয়ে বার্নে আট দশজন মনুষ্য-সদৃশ আকৃতিকে তার দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখলেন। একজন ছাড়া সবাই যানটির সামনের অংশকে বেষ্টনকারী হলওয়ের পেছনের দেয়ালের প্যানেলের দিকে সরে গেল। বাকি আকৃতিটি তাকে স্বস্থানে দাঁড়িয়ে থেকে তাকিয়ে থাকার জন্য একটি বার্তা চালান করল।
পরবর্তী অংশ পড়ুন এখানে......
সূত্রঃ
১. http://en.wikipedia.org/wiki/Betty_and_Barney_Hill_abduction
২. http://www.ufocasebook.com/Hill.html
৩. http://ufos.about.com/od/aliensalienabduction/p/hill.htm
Category: articles

সোমবার, ১৪ জুলাই, ২০১৪

দুই মেরুতে সূর্য ৬ মাস দিগন্তের উপরে ও ছয় মাস দিগন্তের নিচে থাকে। মেরুবৃত্ত থেকে দূরের অক্ষাংশে আমরা যেমন রাত দিন অনুভব করি সেখানের রাত দিন ঠিক তেমন নয়, অনেকটা গোধূলির মত।
এর মূল কারণ হল সূর্যের সাথে পৃথিবীর ২৩.৫ ডিগ্রি নতি।
কোন মেরুতে কখনঃ
২১ মার্চ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর ছয় মাস উত্তর মেরুতে অবিরত দিন ও দক্ষিণ মেরুতে অবিরত রাত থাকে। ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ২১ মার্চ ঘটে উল্টোটি মানে ৬ মাস একটানা দক্ষিণ মেরুতে দিন ও উত্তর মেরুতে রাত। তার মানে ২১ মার্চ ও ২৩ সেপ্টেম্বর হচ্ছে মেরুদ্বয়ে রাত দিন পাল্টানোর দুই প্রান্তিক তারিখ। এই দুই দিন উভয় মেরু সূর্য থেকে সমান দূরে থাকে।
উত্তর মেরুতে দিনঃ
২১ মার্চের পর উত্তর মেরু সূর্যের দিকে ঝুঁকতে থাকে। ঝুঁকতে ঝুঁকতে ২১ জুন গিয়ে ঝোঁকার পরিমান হয় সর্বোচ্চ। ২১ জুনের পর  উত্তর মেরু এবার সূর্য থেকে দূরে সরতে থাকে। সরতে সরতে ২৩ সেপ্টেম্বরে সূর্য থেকে দক্ষিণ মেরুর সমান দূরত্বে থাকে।
এই ছয় মাস উত্তর মেরুতে (প্রকৃত অর্থে মেরুবৃত্তে) সূর্য দিগন্তের উপরে অবস্থান করে। তাই তখন এখানে দিন। অপর দিকে এই সময় দক্ষিণ মেরুবৃত্ত দিগন্তের নিচে অবস্থান করায় সেখানে রাত।
দক্ষিণ মেরুতে দিনঃ
উত্তর মেরু সূর্য থেকে সরতে সরতে ২৩ সেপ্টেম্বরে এসে দক্ষিণ মেরুর সমান দূরত্বে পৌঁছেছিল। এবার সে আরো সরতে থাকে। এভাবে ২২ ডিসেম্বর উত্তর মেরু সূর্যের সবচেয়ে দূরে ও দক্ষিণ মেরু সবচেয়ে কাছে থাকে। এবার দক্ষিণ মেরুর আবার সরার পালা। দক্ষিণ মেরু সরতে থাকে আর উত্তর মেরু পুনরায় দূরত্ব কমাতে থাকে। এভাবে ২১ মার্চ আবার দুই মেরু সূর্য থেকে সমান দূরে থাকে। ফলে, এই ছয় মাস দক্ষিণ মেরুতে দিন আর উত্তর মেরুতে রাত হয়।
Category: articles
পরিক্রমণকালে পৃথিবীর মেরুরেখা ধ্রুবতারামুখি হয়ে কক্ষতলের সাথে সব সময় ৬৬.৫ ডিগ্রি কোণ করে হেলে থাকে। আবার নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখার সমতল কক্ষতলের সাথে ২৩.৫ ডিগ্রি হেলে থাকে।
সাধারণত ২১ মার্চ ও ২৩ সেপ্টেম্বর পৃথিবীর সব জায়গায় দিন রাত্রি সমান হয়। চিত্রে খেয়াল করুন, এই দুই দিন সূর্য থেকে উত্তর ও দক্ষিণ মেরু সমান দূরত্বে থাকে। আর তাই উত্তর বা দক্ষিণ কোন গোলার্ধই একে অপরের চেয়ে সূর্যের আলো বেশি বা কম পায় না। (চিত্রে মনোনিবেশ করুন)
এই দিন তাই ২৪ ঘন্টার অর্ধেক সময় যে কোথাও দিন  ও বাকিটা রাত থাকে।
এই দিন গুলোয় সূর্যরশ্মি নিরক্ষরেখায় ৯০ ডিগ্রি কোণে, সুমেরু ও কুমেরুবৃত্তে ৬৬.৫ ডিগ্রি ও মেরুদ্বয়ে ০ ডিগ্রি কোণে পতিত হয়।

২৩ সেপ্টেম্বরের আগে ২১ জুন পৃথিবীর উত্তর মেরু সূর্যের দিকে সবচেয়ে ঝুঁকে থাকে ও দক্ষিণ মেরু সবচেয়ে দূরে থাকে। পরের দিন থেকে উত্তর মেরু সরতে থাকে আর দক্ষিণ মেরু কাছে আসতে থাকে। এভাবে ২৩ সেপ্টেম্বরে এসে দুই মেরু সমান দুরত্বে আসে। একে বলে শারদ বিষুব ( autumnal equinox)।
আবার ২১ মার্চের আগে ২২ ডিসেম্বরে সূর্য দক্ষিণ মেরুর দিকে সবচেয়ে হেলে থাকে আর উত্তর মেরু থেকে সবচেয়ে দূরে থাকে। এর পর থেকে আবার দক্ষিণ মেরু থেকে সরতে সরতে এবং উত্তর মেরুর দিকে আসতে ২১ মার্চে এসে দুই মেরু থেকে সমান দূরত্বে আসে। একে বলে বাসন্ত বিষুব ( Vernal equinox)।
Category: articles

সোমবার, ৭ জুলাই, ২০১৪

মহাকাশবিজ্ঞানে এক অতি প্রয়োজনীয় একক হল আলোকবর্ষ । সাবধান! শেষে 'বর্ষ' শব্দ দেখে একে সময়ের একক মনে করা যাবে না! এটি আসলে দূরত্বের একক।

এর মানে কী?
আলো এক বছরে যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে বলা হয় এক আলোকবর্ষ। আলো যেখানে প্রতি সেকেন্ডেই ৩ লক্ষ কিলোমিটার (১ লক্ষ ৮৬ হাজার মাইল) পথ অতিক্রম করে, সেখানে এক বছরে কত দূর যাবে ভাবতেই নিজেকে খুব ছোট্ট ছোট্ট লাগে, তাই না? নিচে আমরা দেখবো, এই মান আসলে কত বিশাল এবং এর কিছু উদাহরণ।

আলোকবর্ষ এককটির প্রয়োজন হল কেন? 
মহাজাগতিক বস্তুসমূহ এবং তাদের মধ্যকার দূরত এত বিশাল যে আমাদের সাধারণ এসআই একক মিটার এমনকি কিলোমিটারও সেখানে কোণঠাসা। প্রয়োজন আরও অনেক বড় এককের। যেমন আমাদের প্রতিবেশি গ্যালাক্সিদের মধ্যে সবচেয়ে বড়- অ্যান্ড্রোমিডার দূরত্ব যদি আপনি এসআই একক মাপতে যান, তাহলে তা হবে 2.4×1022 মিটার। এত বড় মান এসআই এককে লিখতে গেলে অঙ্কটি যেমন বড় হয়ে যায়, তেমনি এর মানে বোঝাও হয়ে দাঁড়ায় কঠিন। তাই জ্যোতির্বিদ্যায় অন্যান্য এককের পাশাপাশি আলোকবর্ষ এককটি ব্যবহার করা হয়। সাধারণত নিকটবর্তী নক্ষত্রদের দূরত্ব বের করতে এই এককটি ব্যবহার করা হয়। 


এখন, এই এককে হিসাব করলে দেখা যায়, আমাদের সৌরজগত যে গ্যলাক্সিতে অবস্থিত (মিল্কিওয়ে) তার ব্যাস প্রায় ১ লাখ আলোকবর্ষ।  আমাদের প্রতিবেশি গ্যালাক্সি অ্যান্ড্রোমিডার দূরত্ব প্রায় ২.৫ লাখ ও ব্যাস ২ লাখ বিশ হাজার আলোকবর্ষ । ফলে, সহজে লেখাও যাচ্ছে, বিভিন্ন দূরত্বের তুলনাও করা যাচ্ছে।  আবার, সৌরজগতের বাইরে বৃহত্তম গ্রহ ট্রেস-৪ এর দূরত্ব পৃথিবী থেকে ১৪০০ আলোকবর্ষ দূরে।

আরো দেখুনঃ জ্যোতির্বিদ্যায় দূরত্বের এককেরা

আলোকবর্ষের মান কত? 
আলোকবর্ষ হল সেই পরিমাণ দূরত্ব যা আলো এক বছরে অতিক্রম করে। আমরা জানি আলোর বেগ প্রতি সেকেন্ডে 3×108 মিটার, মানে ৩ এর পরে ৮টি শুন্য দিলে যা হয়। মাইলের হিসাবে তা ১ লক্ষ ৮৬ হাজার।

গাণিতিক হিসাব তাহলে এ রকমঃ
১ আলোকবর্ষ  = ১ বছরে আলোর অতিক্রান্ত পথ
                    = ৩৬৫ দিনে আলোর অতিক্রান্ত পথ
                    = ৩৬৫ × ২৪ ঘণ্টায়  আলোর অতিক্রান্ত পথ
                    =  ৩৬৫ × ২৪ × ৩৬০০ সেকেন্ডে আলোর অতিক্রান্ত পথ
                    = 365 × 24 × 3600 ×  3×108 মিটার
                    = 9.4607×1015 মিটার। 
অর্থাৎ ৯ ৪৬০ ৮০০ ০০০ ০০০ ০০০ মিটার। 

এটি ৯ ট্রিলিয়ন কিলোমিটারের চে একটু বেশি বা প্রায় ৬ ট্রিলিয়ন কিলোমিটার। 
জ্যোতির্বিদ্যায় আরেকটি প্রয়োজনীয় একক পারসেক। এটি আলোকবর্ষের চেয়ে বড়। এর মান ৩.২৬ আলোকবর্ষের সমান। 

অপেক্ষাকৃত ছোট দূরত্বের ক্ষেত্রে আবার আলোকবর্ষের পরিবর্তে আলোকমিনিট বা আলোকসেকেন্ড জাতীয় এককগুলো ব্যবহার করা হয়। বোঝাই যাচ্ছে, আলোর এক মিনিটে অতিক্রান্ত দূরত্বই হচ্ছে আলোকমিনিট ইত্যাদি। উপরের ছবিতে এ রকম প্রয়োগগুলো দেখুন। 
Category: articles

শনিবার, ২৮ জুন, ২০১৪

পৃথিবী প্রতি ঘন্টায় ১৬৭০ কি.মি. বেগে ( সেকেন্ডে ৪৬৫ মি. বা ১০৭০ মাইল /ঘণ্টা) নিজের অক্ষের চারদিকে ঘুরছে। এই ঘুর্নণের দিক হচ্ছে পশ্চিম থেকে পূবে।  আর এই ঘূর্নণের দিকই নির্ধারণ করেছে কোন দিক মেরু হবে। এই যে ঘুর্ণন বেগ -এটি কার্যকর শুধুমাত্র বিষুব অঞ্চলের জন্য, যা দুই মেরুর ঠিক মাঝে অবস্থিত। বিষুব অঞ্চল থেকে যতই মেরুর দিকে যাওয়া হবে ততই এই বেগ হ্রাস পেতে থাকবে।

আরও পড়ুন
☛ মেরু ও বিষুব অঞ্চলের পরিচয়

বিষুব রেখা থেকে মেরুর দিকে গেলে ঘূর্নণের হ্রাসপ্রাপ্ত মান বের করতে হলে স্বাভাবিক মানের সাথে অক্ষাংশের cos এর মান গুণ করতে হবে।

পৃথিবীর দুই মেরুর ঠিক মাঝে অবস্থিত বিষুব অঞ্চল 

যেমন, ৪৫ ডিগ্রি অক্ষাংশে এই বেগ হবে 1670 *Cos 45 Km/h= 1670*.707 = 1180 Km/h।
এই মান কমতে কমতে মেরুতে গিয়ে হয় জিরো। কারণ মেরুতে অক্ষাংশ হল ৯০ ডিগ্রি।  Cos 90 = 0 বলে গুনফল হয় জিরো।

এটাতো গাণিতিক মত। তবে গণিত কখোনই অসত্য কথা বলে না। মেরুতে বেগ কেন জিরো এটা একটি উদাহরণের সাহায্যে বোঝার চেষ্টা করি। হ্যাঁ, আমরা টপিকের মধ্যেই আছি। একটু পর বোঝা যাবে।

গ্রামে আগেকার দিকে মাঠের মাঝখানে একটি খুঁটি গেঁড়ে খুঁটির সাথে গরুকে বেঁধে খুঁটির চারপাশে চক্রাকারে ঘোরানো হত। এতে করে ধান গাছে অল্প যে কিছু ধান থেকে যেত তা গরুর পায়ের চাপে ঝরে পড়ে নিচে জমা হত। আমরা যদি একটু চিন্তা করি,  রশির একেবার প্রান্ত বিন্দুতে ঘূর্নণ বেগ সর্বোচ্চ। খুঁটির দিকে কাছাকাছি হলে ক্রমেই বেগ কমতে থাকবে। কারণ, যে সময়ে বাইরের প্রান্ত বিন্দু এক চক্কর দেবে সেই সময়েই ভেতরের যে কোন বিন্দুও এক চক্কর দিয়ে দেবে। কিন্তু ভেতরের যে কোন বিন্দু চক্কর দিতে অনেক কম পথ যেতে হবে। সময় একই লাগায় ভেতরের বিন্দুর বেগ কম হতে হবে।

কল্পনায় এবার পৃথিবীকে একবার পশ্চিম থেকে পূবে চক্কর দেওয়ান। অথবা একটি আপেল/ কমলা হাতে নিয়ে একইভাবে ঘোরান। দেখবেন প্রান্তবিন্দুর দিকে ক্রমান্বয়ে বেগ কম এবং একেবারে মেরুতে জিরো।

এবার মূল আলচনায় ফিরে আসি। আসলে এই ঘূর্ণনের সাথেই মেরুর ব্যাপার জড়িত।
পৃথিবী পশ্চিম থেকে পূবে আবর্তন করায় এর দুই আবর্তন অক্ষ উত্তরে ও দক্ষিণে অবস্থিত। আসলে এই অক্ষটি হচ্ছে কেন্দ্র দিয়ে দুই মেরুর সংযোজক সরলরেখা। দুই মেরু বিন্দু পৃথিবীর আবর্তন অক্ষের দুই প্রান্ত বিন্দু। ফলে এই বিন্দু দুইটি আসলে বিশেষ দুটি বিন্দু, যেমন বিশেষ বিন্দু আর কোথাও নেই।

পৃথিবী যদি উত্তর থেকে দক্ষিণে বা দক্ষিণ থেকে উত্তরে আবর্তন করত তবে পূবে ও পশ্চিমে এই রকম বিশেষ দুটি সৃষ্টি হত।

আবার, উত্তর ও দক্ষিণ মেরু যথাক্রমে পৃথিবীর সর্ব উত্তর ও সর্ব দক্ষিণের বিন্দু। বিন্দুগুলো প্রকৃত/আক্ষরিক অর্থেই প্রান্তিক। কিন্তু একটু চিন্তা করুন পূর্ব বা পশ্চিমে কি এমন কোন প্রান্তিক অবস্থান আছে যাকে আমরা সবচেয়ে পূর্ব/ পশ্চিম বলবো?


ম্যাপে আমরা যেটাকে পূর্ব / পশ্চিম বলি সেটা শুধুই আপেক্ষিক। বেশিরভাগ ম্যাপেই আমেরিকাকে পশ্চিমে ও ওশোনিয়াকে পূর্বে দেখানো হয়। তাই বলে বলা যাবে না যে আমেরিকাই সবচেয়ে পূর্বের জায়গা।

পৃথিবীর ম্যাপকে একটু ভিন্নভাবে দেখানো হল। তাহলে আমেরিকা আসলে আমাদের থেকে পূর্ব দিকে নাকি পশ্চিম দিকে? 
ইলাস্ট্রেটেড অক্সফোর্ড ডিকশনারির পেছনে একটি ওয়ার্ল্ড ম্যাপ আছে। তাতে আমেরিকাকে দেখানো হয়েছে রাশিয়ার ডানে - মানে পূবে- একেবারে পৃষ্টার ডান পাশে। দেখানো যেতেই পারে।  তার মানে এই নয় যে আমেরিকাই এখন পূবে চলে গেছে। ঐ ম্যাপে আফ্রিকা ও ইউরোপ একেবারে বাঁয়ে- মানে পশ্চিমে। কিন্তু কোনটাই পরম পশ্চিম বা পরম পূর্ব নয়।

ধরুন, আপনি পূর্ব-পশ্চিমের কোন অবস্থান থেকে (মানে কোন একটি দ্রাঘিমাংশ বিন্দু থেকে) (ধরুন) পূবে যাচ্ছেন। যতই পূবে যান না কেন পশ্চিম সব সময় আপনার পেছনেই থাকবে।

যেমন আপনি বাংলাদেশ থেকে পূবে যেতে থাকলে ক্রমে মায়ানমার, চীন, তাইওয়ান, জাপান, প্রশান্ত মহাসাগর পেরিয়ে আমেরিকায় পৌঁছে যাবেন। আরো যেতে থাকলে মেক্সিকো, কিউবা, মরক্কো,  আলজেরিয়া, মধ্য প্রাচ্য, পাকিস্তান, ভারত হয়ে ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে আসবেন। নাক বরাবর যদি হাঁটতে থাকেন, সব সময়ই কিন্তু আপনার পেছনে পশ্চিম থাকবে।

কিন্তু এবার আপনি যদি বলেন, না, পূর্ব-পশ্চিমে পরিধি পাড়ি না দিয়ে আমি উত্তর-দক্ষিণ বরাবর পাড়ি দেব। এই অভিযানে স্বাগতম। এবারে আপনি উত্তর দিকে যাত্রা করলেন। তাহলে ভারত, ভুটান, চীন, মঙ্গোলিয়া ও রাশিয়া পাড়ি দিয়ে আপনি চলে যাবেন সুমেরুতে, মানে উত্তর মেরুতে।
ধরুন ঠিক এই মুহূর্তে আপনি সুমেরু (উত্তর মেরু) থেকে আরেক পা বাড়ালেন (এত পথ আপনাকে হাঁটিয়েই নিচ্ছি)। একটু আগে আপনার পেছনে ছিলো দক্ষিণ। এবার? পেছনে উত্তর আর সামনে দক্ষিণ।

হায়! হায়! আপনিতো ঘোরেননি, কিন্তু দিক যে পাল্টে গেলো!
যাক, কিছু মনে না করে আপনি যখন আরো এগিয়ে আমেরিকা মহাদেশের উপর দিয়ে চলে বাংলাদেশের প্রতিপাদ স্থান চিলি পার হয়ে দক্ষিণ মেরু ক্রস করলেন, আরেকটি ধাক্কা! সামনে এতক্ষণ দক্ষিণ ছিল, তা আবার ঘুরে উত্তর হয়ে গেলো।

এটাই হলো উত্তর ও দক্ষিণ বিন্দুর বিশেষত্ব। কিন্তু পূর্ব বা পশ্চিমের কোন বিন্দুর এমন কোন বিশেষত্ব নেই, কোন প্রান্তিক বিন্দু নেই, তাই মেরুও নেই।

সূত্রঃ
১। image.gsfc.nasa.gov/poetry/ask/a10840.html
Category: articles

জ্যোতির্বিজ্ঞান পরিভাষা: জেনে নিন কোন শব্দের কী মানে

এখানে সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যাসহ জ্যোতির্বিদ্যায় প্রয়োজনীয় পরিভাষাগুলোর তালিকা দেওয়া হলো। সাজানো হয়েছে অক্ষরের ক্রমানুসারে। এই তালিকা নিয়মিত আপডেট...