Advertisement

Saturday, August 6, 2016

শুক্র গ্রহের পরিচয়

শুক্র সৌরজগতের ২য় গ্রহ। ২২৫ দিনে এটি সূর্যকে একবার ঘুরে আসে। অর্থ্যাৎ, কেউ যদি গ্রহটিতে বাস করতে পারত, তবে তাদের ২২৫ দিনে এক বছর হত। কিন্তু গ্রহটিতে দিনের দৈর্ঘ্য বছরের চেয়ে বেশি। এতে এক দিন হতে হতে পৃথিবীর প্রায় ২৪৫ দিন পেরিয়ে যায়। কেন? এর কারণ হচ্ছে এর আবর্তন গতি খুব ধীর। তাঁর মানে, গ্রহটিতে বছরের চেয়ে দিন বড়!
আরো পড়ুনঃ 
 অদ্ভুত এক গ্রহ

গ্যালিলিও আবিষ্কার করেন, শুক্র গ্রহও বড় ছোট হয় (রাতের আকাশে পৃথিবী থেকে দেখতে, চাঁদের মত) 

এই গ্রহটি নিজ অক্ষের সাপেক্ষে ঘোরে অন্য গ্রহদের উলটো দিকে। ফলে এতে সূর্য ওঠে পশ্চিমে, অস্ত যায় পূর্ব দিকে। রাতের আকাশের বস্তুদের মধ্যে উজ্জ্বলতায় এর অবস্থান দ্বিতীয়, অর্থ্যাৎ চাঁদকে বাদ দিলে এটিই রাতের আকাশের সবচেয়ে উজ্জ্বল বস্তু। এর আপাত উজ্জ্বলতা সর্বোচ্চ হয় -৪.৬ (মাইনাস ৪.৬)। আমরা জানি, আপাত উজ্জ্বলতা যত কম হয়, বস্তুটি হয় তত বেশি উজ্জ্বল। শুক্র (শুকতারা) গ্রহের এত বেশি উজ্জ্বলতার কারণে এটি ছায়া ফেলতেও সক্ষম হয়।
আরো পড়ুনঃ আপাত উজ্জ্বলতা কাকে বলে?

এর কক্ষপথ পৃথিবী থেকে ভেতরের দিকে হওয়ায় একে কখোনই সারা রাত ধরে দেখা যায় না। এটি দিগন্তের উপরে সর্বোচ্চ ৪৮ ডিগ্রি পর্যন্ত ওঠে। এটিও পৃথিবীর মতই পাথুরে গ্রহ। এর ভর, আকার ও কক্ষপথ পৃথিবীর কাছাকাছি হওয়ায় অনেক সময় একে পৃথিবীর যমজ বলা হয়। কিন্তু পৃথিবীর সাথে এর অমিলও কম নয়। চারটি পাথুরে গ্রহের (বুধ, শুক্র, পৃথিবী, মঙ্গল) মধ্যে এর বায়ুমণ্ডলের ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি, যা ৯৬% কার্বন ডাই অক্সাইডে ভরা। এর পৃষ্ঠে বায়ুর চাপ পৃথিবীর ৯২ গুণ।

বুধ গ্রহ সূর্যের সবচেয়ে নিকটের গ্রহ হলেও তাপমাত্রায় এক নম্বরে শুক্র। এর অন্যতম কারণ, এর বায়ুতে উপস্থিত কার্বন ডাই  অক্সাইড, যা পৃথিবীতেও গ্রিন হাউজ প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে উষ্ণতা বৃদ্ধির জন্যে দায়ী। এর পৃষ্ঠ তাপমাত্রা ৭৩৫ কেলভিন বা ৪৬২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অস্বচ্ছ সালফিউরিক এসিডে ঢাকা থাকায় একে খালি চোখে মহাশুন্য শুন্য থেকে একে দৃশ্যমান আলোতে দেখা যায় না। ধারণা করা হয়, পূর্বে এতে পানির অস্তিত্ব ছিল।
আরো পড়ুনঃ
শুক্র গ্রহে বসবাস!

পৃথিবী ও শুক্রের তুলনামূলক আকার

সূর্য থেকে এর গড় দূরত্ব ০.৭২ এইউ। এক এইউ হচ্ছে পৃথিবী থেকে সূর্যের গড় দূরত্ব। বুধ গ্রহের মতই এর কোন উপগ্রহ নেই। এর আয়তন পৃথিবীর চেয়ে একটু কম, পৃথিবীর প্রায় ৮৭ ভাগ। ভর পৃথিবীর প্রায় ৮২ ভাগ। এর পৃষ্ঠে অভিকর্ষজ ত্বরণ পৃথিবীর চেয়ে ১০% কম। ফলে, এই গ্রহে গেলে কারো ওজোন ১০% কমে যাবে। এর মুক্তিবেগ সেকেন্ডে ১০.৩৬ কিমি.। অর্থ্যাৎ, কোন বস্তুকে এই বেগে শুক্র গ্রহ থেকে নিক্ষেপ করলে এটি শুক্র গ্রহ থেকে চিরদিনের জন্যে হারিয়ে যাবে।

পৃথিবীর বাইরের গ্রহদের মধ্যে এতেই সর্বপ্রথম কোন মহাকাশযান অভিযানে যায়। ১৯৬২ সালে মেরিনার ২ নামক যানটি এই রেকর্ড করে। ১৯৭০ সালে ভেনেরা ৭ সর্বপ্রথম এতে অবতরণ করে। ১৯৯১ সালে ম্যাজেলান অরবিটার এর বিস্তারিত চিত্র ধারণ করতে সক্ষম হয়।


Advertisement 02

Unknown

লেখকের পরিচয়

মুসা ইয়াহিয়া বিশ্ব ডট কমের নিয়মিত লেখক। পাশাপাশি ব্যাপন ম্যাগাজিনে বিজ্ঞানে নোবেল বিষয়ে ধারাবাহিকভাবে লিখছেন। এই সাইটে লেখকের সব লেখা এখানে।