Advertisement

Thursday, February 11, 2016

শনাক্ত হল মহাকর্ষ তরঙ্গ

অনুসন্ধান চলছিল ১০০ বছর ধরে। এবারে আন্তর্জাতিক এক দল পদার্থবিদ ঘোষণা দিলেন, পাওয়া গেছে মহাকর্ষ তরঙ্গ (Gravitational wave)। ফলে সত্যি হল আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিক তত্ত্বের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ভবিষ্যদ্বাণী। এর আগে স্থান-কালের বক্রতার প্রতিক্রিয়া প্রত্যক্ষ করা গেলেও বিশাল ভরের বস্তুরা এই বক্রতা যে তরঙ্গের মাধ্যমে  চারপাশে ছড়িয়ে দেয় তাকে সরাসরি শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

লিগো অবজারভেটরির নির্বাহী পরিচালক ডেভিড রিজ ঘোষণাটি দেন। তিনি একে ৪০০ বছর আগে গ্যালিলিওর টেলিস্কোপ আবিষ্কারের সাথে তুলনা করেন। এর কারণ হতে পারে, তখন টেলিস্কোপের মাধ্যমে গ্যালিলিও মহাকাশের অনেক অজানাকে নিয়ে আসেন চোখের সামনে। একইভাবে বর্তমানে আবিষ্কৃত মহাকর্ষীয় তরঙ্গও মহাবিশ্বের একটি রহস্যময় বস্তুকে নিয়ে এল ধরাছোঁয়ার মধ্যে।

মহাকাশের নতুন এক দিগন্ত খুলে দেওয়া এই আবিষ্কার যে নোবেল পুরস্কার পাবার যোগ্য তা নিয়ে খুব বেশি সন্দেহ নেই।

মহাকর্ষ তরঙ্গ সৃষ্টির জন্যে প্রয়োজন উত্তাল কোন ঘটনা। এটা হতে পারে সুপারনোভা, দুটি নিউট্রন নক্ষত্রের সংঘর্ষ বা ব্ল্যাক হোলের মিশ্রণ। মহাবিশ্বের ফেব্রিকের এই কম্পন বা স্থান-কালের বক্রতা চলে আলোর বেগে। পৃথিবীতে পৌঁছতে পৌঁছতে একটি পরমাণুর ব্যাসের বিলিয়ন ভাগের এক ভাগ হয়ে যায় এটি। এ কারণেই এদেরকে ধরতে বিজ্ঞানীদের খুব বেশি চতুরতার পরিচয় দিতে হয়েছে।
এর পেছনে কাজ করা প্রতিষ্ঠানটি হচ্ছে লিগো- Laser Interferometer Gravitational-Wave Observatory। এটি অনলাইনে আসে ২০০২ সালে। কিন্তু সফলতা আসছিল না। পরে লিগো এর যান্ত্রিক সংবেদনশীলতা বাড়ায় ১০ গুণ। ফলে, উন্নততর লিগো আগের চেয়ে ১০ হাজার গুণ বেশি আয়তনের অঞ্চল থেকে মহাকর্ষ তরঙ্গ শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। এ কারণে নতুন পরিস্থিতিতে সাফল্যের সম্ভাবনা বেড়ে গিয়েছিল।
এই সাফল্য মহাবিশ্বের আরেকটি জানালা খুলে দিল আমাদের সামনে। এটা ঠিক যেন এ রকম যে আগে আমরা অন্ধ ছিলাম, আর এখন দেখতে পাচ্ছি মহাবিশ্বকে। এই তরঙ্গ কাজে লাগিয়ে বিজ্ঞানীরা ব্ল্যাক হোল, নিউট্রন স্টার এবং শিশু মহাবিশ্ব নিয়ে নতুনভাবে গবেষণা করতে পারবেন যা আগে ছিল অচিন্তনীয়।
এটা আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিক তত্ত্বের সর্বশেষ বড় পূর্বাভাস।

সূত্রঃ Earth sky


Advertisement 02

Abdullah Al Mahmud

লেখকের পরিচয়

আব্দুল্যাহ আদিল মাহমুদ। বিশ্ব ডট কমের সম্পাদক ও প্রধান কন্ট্রিবিউটর। পাশাপাশি লিখছেন জিরো টু ইনফিনিটি ,ব্যাপনবিজ্ঞান চিন্তায়। লেখকের এই সাইটের সব লেখা এখানে । প্রকাশিতব্য অনূদিত বই- কালের সংক্ষিপ্ততর ইতিহাস, যা বিজ্ঞান পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হচ্ছে।
সোশ্যাল মিডিয়াঃ ফেসবুক। গুগল প্লাস