Advertisement

Sunday, April 15, 2018

জ্যোতির্বিদ্যায় জ্যামতিক কোণের পরিমাপ বিভিন্ন কারণে খুব গুরুত্বপূর্ণ। ধ্রুবতারা দেখে কোনো স্থানের অক্ষাংশ জানা যায়। ধ্রুবতারা সব সময় উত্তর আকাশে থাকে। এটি উত্তর দিগন্ত থেকে যত ডিগ্রি ওপরে থাকবে, ঐ জায়গার অক্ষাংশ হবে ঠিক তত। হ্যাঁ, বিষুব রেখার দক্ষিণের এলাকায় এই কৌশল কাজে আসবে না। কারণ ধ্রুবতারা থাকবে দিগন্তেরও নীচে!

উত্তর আকাশে ধ্রুবতারা থাকে অক্ষাংশের সমান কৌণিক উচ্চতায় 

এখন, ধ্রুবতারা দেখে অক্ষাংশ নির্ণয়ের জন্যে কোণ ও কোণের পরিমাপ সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকা দরকার। আরও নানা কারণে কোণের পরিমাপ বুঝতে হয়। যেমন এক তারা দিয়ে আরেক তারা খুঁজে পেতে তারাদের কৌণিক দূরত্ব বুঝতে হয়।

আরও পড়ুন
☛ খালি হাতে আকাশ মাপুন
☛ দিক নির্ণয়ে ধ্রুবতারা

দুটো সরলরেখার মিলনেই তৈরি হয় কোণ। যেমন নীচের OA এবং OB রেখাদ্বয় ৫৫ ডিগ্রি কোণ তৈরি করেছে। আবার OA এবং OC রেখা তৈরি করেছে ৯০ ডিগ্রি কোণ। ৯০ ডিগ্রি কোণের অপর নাম সমকোণ। সমকোণের দেখা আমরা পাই হরদম। ভূমি থেকে একটি গাছ খাড়া ওপরে উঠলে গাছ ও ভূমি তৈরি করে সমকোণ। ঘরের পূর্ব ও উত্তর দিকের দেয়ালের মিলন তৈরি করে সমকোণ। আপনি যদি পূর্ব দিকে তাকিয়ে থাকেন, তবে ৯০ ডিগ্রি ডানে ঘুরলে পাবেন দক্ষিণ। পশ্চিম থেকে ৯০ ডিগ্রি ডানে ঘুরলে পাবেন উত্তর।
দুই রেখার মিলনে হয় কোণ 
আরও পড়ুন
সূর্য দেখে দিক নির্ণয়

একটিমাত্র রেখার যেকোনো এক বিন্দুতে কোণ মাপ পরিমাপ করলে হবে দুই সমকোণ বা ১৮০ ডিগ্রি। পূর্ব ও পশ্চিম দিক বরাবর একটি রেখা কল্পনা করলে পাওয়া যাবে ১৮০ ডিগ্রি। বৃত্তাকার পথে ১৮০ ডিগ্রি পথ ঘুরলে একটি অর্ধবৃত্ত তৈরি হবে। যেমনটা হয়েছে নীচের ছবিতে। দুইজন মানুষ উল্টো দিকে হাঁটতে থাকলে বলা যায়, তারা ১৮০ ডিগ্রি কোণে হাঁটছে। কেউ আগের কথা থেকে সরে এসে বিপরীত কথা বললে আমরা বলি, "১৮০ ডিগ্রি উল্টো বলছেন এখন?"  

১৮০ ডিগ্রি বা দুই সমকোণ 
তার মানে পুরো বৃত্ত ঘুরে এলে হবে ৩৬০ ডিগ্রি বা চার সমকোণ।
বিভিন্ন রকম কোণ।
ছবির সূত্রঃ ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, সান্তা বারবারা  

কোণের পরিমাপ
কোণের আন্তার্জাতিক এককের নাম রেডিয়ান। তবে সাধারণ মানুষের কাছে এই হিসাব জনপ্রিয় নয়। আমরা চিনি ডিগ্রি। এক রেডিয়ান হলো ৫৭ দশমিক ৩ ডিগ্রির সমান। জ্যোতির্বিদ্যায় নানা সময় ডিগ্রিকে আরও ছোট করে পরিমাপের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। এটা দুইভাবে করা যায়। একটি হলো দশমিক পদ্ধতি। যেমন ৩০.৫ ডিগ্রি মানে ৩০ ডিগ্রি ও আরও এক কোণের অর্ধেক। তবে আরেকটি সুবিধাজনক উপায়ও আছে।

ডিগ্রির অপেক্ষাকৃত ছোট এককগুলোর নাম হলো মিনিট ও সেকেন্ড। না, এখানে সময়ের কথা বলছি না। এক ডিগ্রিকে ৬০ ভাগ করলে তার প্রতি অংশের নাম এক মিনিট। আবার এক মিনিটকে ৬০ ভাগ করলে প্রতি ভাগের নাম হয় এক সেকেন্ড। হ্যাঁ, সময়ের সাথে এখানটা মিলে গেছে! ভাগগুলোকে যথাক্রমে আর্কমিনিট (ডিগ্রির ৬০ ভাগের এক ভাগ) ও আর্কসেকেন্ডও (মিনিটের ৬০ ভাগের এক ভাগ) বলে।

যেমন ৪০.১৮৭৫ ডিগ্রি কোণকে এভাবেও লেখা যায়: ৪০ ডিগ্রি ১১ মিনিট ১৫ সেকেন্ড। একে এভাবেও লেখা হয়: ৪০° ১১′ ১৫″।
Category: articles

Monday, July 4, 2016

মহাজাগতিক সভ্যতার প্রকারভেদ 

আমরাতো বর্তমানে যুগে নিজেদেরকে অনেক উন্নত মনে করি। কিন্তু মহাজাগতিক স্কেলে আসলে আমরা কতটুকু উন্নত? মহাজাগতিক স্কেলে কোনো বুদ্ধিমান প্রাণীর সম্প্রদায়ের সভ্যতাকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়। এটা হল টাইপ ১, টাইপ ২ এবং টাইপ ৩ সভ্যতা।
টাইপ ১ সভ্যতাকে গ্রহ সভ্যতাও (Planetary civilization) বলা হয়। এই সভ্যতায় প্রাণীরা তাদের নিকটবর্তী নক্ষত্র থেকে গ্রহে আসা সম্পূর্ণ শক্তি ধরে রাখতে ও ব্যবহার করতে পারে।
টাইপ ২ সভ্যতার প্রাণী সম্পূর্ণ নক্ষত্রের শক্তি ব্যবহারে সক্ষম। কল্পনা করা হয় যে এরা নক্ষত্রের চারপাশে একটি ডাইসন স্ফিয়ার তৈরি করে। পুরো নক্ষত্রকে বেষ্টনকারী এই গোলক নক্ষত্রের সব শক্তি শোষণ করে, যা প্রাণীরা কাজে লাগায়।
অন্য দিকে টাইপ ৩ সভ্যতার প্রাণীরা পুরো গ্যালাক্সিকে নিয়ন্ত্রণে নিতে সক্ষম।
এই তিনটিই হল মূল শ্রেণিবিভাগ। আরো কিছু বাড়তি প্রকারভেদও আছে। তবে সেটা 'আজকের ছবি' বিভাগে প্রকাশের যোগ্য নয়।

সূত্রঃ
১। https://en.wikipedia.org/wiki/Kardashev_scale
Category: articles

Thursday, June 30, 2016

কয়েক দিন ধরে এমনিতেই এ বিষয়ে লেখার ইচ্ছে ছিল। ইচ্ছেটা ত্বরান্বিত হল একজন পাঠকের কমেন্ট পেয়ে। তিনি উজ্জ্বল তারাদের গল্প পড়ে এ বিষয়ে জানতে চেয়েছেন।
প্রশ্নঃ
এখানে তারাদের বিষুবলম্ব দেওয়া আছে। আমাদের মাথার উপরকার বিষুবলম্ব +২৩ ডিগ্রি ।।এটা হতে কীভাবে তারাদের নির্ণয় করব? ১ ডিগ্রি পার্থক্যের জন্য কতটুকু উত্তর বা দক্ষিণে যাব?
(Avi Dewan)

উত্তরঃ
প্রথমে দেখি বিষুব লম্ব কাকে বলে? পৃথিবীর বিষুব রেখা থেকে ঠিক উপরে আকাশের কল্পিত রেখার নাম খ-বিষুব। খ-বিষুব থেকে উত্তরে বা দক্ষিণের অবস্থানকে বিষুব লম্ব দ্বারা প্রকাশ করা হয়। উত্তরে গেলে '+' চিহ্ন ও দক্ষিণে গেলে মাইনাস (-) চিহ্ন ব্যবহার করা হয়। যেমন রাতের আকাশের চতুর্থ উজ্জ্বল নক্ষত্র স্বাতীর বিষুব লম্ব (+১৯) ডিগ্রি। তাই আমাদের অক্ষাংশ ২৩ ডিগ্রি উত্তর বলে এটি বাংলাদেশের উপর দিয়ে পূর্ব থেকে পশ্চিমে যায়।
আরো পড়ুনঃ 
☛  বিষুব লম্ব কাকে বলে?

খালি চোখে আমরা একসাথে যতগুলো তারা দেখি তার সংখ্যা কয়েক হাজার। এখন ধরুন দুটি উজ্জ্বল তারকা কিছুটা দূরে অবস্থান করছে। আমরা এ দুটির নাম জানলাম। এদের বিষুব লম্বও জানলাম। ধরলাম, জানা আছে যে একটি তারা অপরটি থেকে ৫ ডিগ্রি দূরে আছে। এই বিষুব লম্ব কাজে লাগিয়ে বাস্তব রাতের আকাশে এদেরকে খুঁজে পাব কীভাবে? উল্লেখ্য যে বিষুব রেখাকে উদ্দেশ্য করে নিবন্ধটি লিখলেও আকাশের এই পরিমাপ অন্য কাজেও ব্যবহার করা যাবে। যেমন, বিষুব লম্বতো শুধু উত্তর- দক্ষিণে কাজ করে। আমাদের এই পরিমাপ কাজ করবে পূর্ব- পশ্চিম ও কোনাকুনি যে কোনো দিকেই।
আরো পড়ুনঃ
আমরা খালি চোখে কত তারা দেখি?

প্রথমে আমাদেরকে মনে রাখতে হবে পুরো আকাশ সব মিলিয়ে একটি গোলকের মতো ৩৬০ ডিগ্রি। এর মধ্যে আমরা একসাথে এর অর্ধেক মানে ১৮০ ডিগ্রি দেখতে পাই, কারণ বাকিটা থাকে আমাদের উল্টো পাশে। পূর্ব থেকে পশ্চিম বা উত্তর থেকে দক্ষিণ দিগন্ত পর্যন্ত কৌণিক দূরত্ব ১৮০ ডিগ্রি। কোনাকুনিভাবে দুটি বিপরীত বিন্দু যোগ করলেও ১৮০ ডিগ্রিই পাওয়া যাবে। মনে রাখতে হবে যে কোনো সরল রেখা মানেই কিন্তু ১৮০ ডিগ্রি। আর, দিগন্ত থেকে মাথার উপর পর্যন্ত কৌণিক দূরত্ব হচ্ছে ৯০ ডিগ্রি।
বিভিন্ন ডিগ্রির পরিমাপ 
এবার মূল কাজ শুরু করি। আমরা খালি হাতেই আকাশ মাপবো। এ জন্যে আপনাকে ডান বা বাম হাতটি লম্বা করে প্রসারিত করে সামনে মেলে ধরতে হবে। এবার আকাশের যে দিকের পরিমাপ নিতে চান হাতটি সেদিকে ধরুন। হাতকে টান টান করে রাখতে হবে, বাঁকিয়ে রাখা যাবে না। এবার বিভিন্ন ডিগ্রির জন্যে বিভিন্ন কৌশল খাটাতে হবে। কিশোর, যুবক, বৃদ্ধ বা মোটা, চিকন- সবার ক্ষেত্রেই এই কৌশল কাজ করবে। তাই উদ্বিগ্ন হবার প্রয়োজন নেই।
☛ আপনার হাতের তর্জনিটির প্রস্থ হবে আকাশের ১ ডিগ্রির সমান। তাহলে দুই ডিগ্রি মাপতে হলে দুই হাতের দুটি তর্জনি ধরুন।
☛ ৩, ৪ বা ৬ ডিগ্রি মাপার নিয়ম ছবি থেকে দেখে নিন। বুঝতেই পারছেন, একটু বুদ্ধি খাটিয়েই এখান থেকে ৫ ডিগ্রিও মাপা যাবে। অবশ্য পাঁচ ডিগ্রি মাপার আরেকটি উপায় আছে, যা একটু পরেই বলছি।
☛ ১০ ডিগ্রি মাপতে হলে হাতকে মুঠো বানিয়ে মুঠোর ব্যাস (এক পাশ থেকে অপর পাশ) দেখতে হবে।
☛ ২৫ ডিগ্রি মাপতে হলে মুঠো থেকে বৃদ্ধাঙ্গুলি ও কনিষ্ঠাকে যতদূর সম্ভব ছড়িয়ে দিতে হবে।
আকাশের ডিগ্রি পরিমাপে আঙ্গুল ও মুষ্ঠি
সপ্তর্ষীমণ্ডলী থেকে ধ্রুব তারার কৌণিক দূরত্ব প্রায় ২৫ ডিগ্রি

☛ ৫ ডিগ্রি মাপার আরেকটি কৌশল হল হাতের মাঝের তিনটি আঙ্গুলকে মেলে ধরা।
৫ ডিগ্রি মাপার উপায় 

সপ্তর্ষীমণ্ডলীর দুটি নক্ষত্র দুবে ও মেরাক ৫ ডিগ্রি দূরে। এই দুটিকে যোগ করে ছয় গুণ সামনে গেলেই পাওয়া যায় ধ্রুবতারা। 
☛  ১৫ ডিগ্রি মাপতে হলে তর্জনি ও কনিষ্ঠা আঙ্গুলির একটিক অন্যটির উল্টো দিকে টান টান করে ছড়িয়ে রাখতে হবে।
১৫ ডিগ্রি মাপার উপায় 

ধ্রুবতারা থেকে কোচাবের কৌণিক দূরত্ব ১৫ ডিগ্রি
☛ ৫০ ডিগ্রি মাপার জন্যে কী করা যায়? দুই হাতকে মিলিয়ে একত্রে ২৫ ডিগ্রি করে মাপলেইতো হয়ে গেল। এইভাবে-
সপ্তর্ষীমণ্ডলী থেকে সিংহমণ্ডলীর উজ্জ্বলতম ও আকাশের ২১ তম উজ্জ্বল নক্ষত্র রেগুলাসের কৌণিক দূরত্ব ৫০ ডিগ্রি 

চাইলে ভিডিওটি দেখে নিতে পারেন। এতে বিষয়গুলো খুব সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। 

আরো পড়ুনঃ
উজ্জ্বল তারাদের গল্প
তারামণ্ডলীর পরিচয়
Category: articles

Sunday, June 19, 2016

জ্বলন্ত গ্যাসের বিশাল এক অগ্নিগোলক আমাদের সূর্য। এর আলো এবং তাপ পেয়েই পৃথিবী হয়েছে সবুজ শ্যামল। তবে সূর্যের তাপমাত্রা নির্দিষ্ট নয়। এর কোর, মানে কেন্দ্রভাগে তীব্র মহাকর্ষের কারণে অত্যাধিক চাপ ও তাপমাত্রা তৈরি হয়। এই তাপমাত্রা হয় ১৫ মিলিয়ন বা দেড় কোটি ডিগ্রি সেলসিয়াস (২৭ মিলিয়ন ফারেনহাইট) পর্যন্ত।
২০০৭ সালে মহাকাশযান হিনোদে এই ছবি তোলে

কেন্দ্রে নিউক্লকিয়ার ফিউসান বিক্রিয়ার মাধ্যমে প্রচুর শক্তি (তাপ, আলো ইত্যাদি) উৎপন্ন হয়। এই শক্তি ছড়িয়ে পড়ে আরও বাইরের দিকে, পৃষ্ঠে এবং বায়ুমণ্ডলে। শুরুতে শক্তি পৌঁছে বিকিরণ অঞ্চলে (radiative zone)। এখানে এই শক্তি সর্বোচ্চ ১০ লাখ বছর পর্যন্ত এদিক- ওদিক ছোটাছুটি করে। এর পর এটি চলে আসে পরিচলন অঞ্চলে (convective zone)। এখানে তাপমাত্রা ২০ লাখ ডিগ্রি সেলসিয়াসের (৩৫ লাখ ফারেনহাইট) নিচে নেমে আসে। এখানে তৈরি হয় উত্তপ্ত আয়নিত গ্যাসের (প্লাজমা) বড়ো বড়ো বুদ্বুদ। এরা এখান থেকে পরবর্তী স্তর ফোটোস্ফিয়ার বা আলোকমণ্ডলের দিকে উঠতে থাকে।
আরো দেখুনঃ
☛  এক নজরে সূর্য

আলোকমণ্ডলের তাপমাত্রা ৫৫০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা দশ হাজার ফারেনহাইট। সূর্যের এখানকার
বিকিরণই আলো হিসেবে ধরা পড়ে। এই আলোকমণ্ডলে অবস্থিত সৌর দাগ বা সৌরকলঙ্ক (sunspot) আশেপাশের দাগের চেয়ে কম উত্তপ্ত এবং কালো। বড়ো দাগগুলোর কেন্দ্রে তাপমাত্রা চার হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নামতে পারে।
বায়ুমণ্ডলে পরের স্তরটি হল বর্ণমণ্ডল বা ক্রোমোস্ফিয়ার (Chromosphere)। এর তাপমাত্রা আলোকমণ্ডলের চেয়ে কম। মাত্র ৪৩২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। উজ্জ্বল আলোকমণ্ডলের তীব্রতার কারণে এই স্তরের আলো দৃশ্যমান হয় না। কিন্তু চন্দ্রগ্রহণের সময় আলোকমণ্ডল চাঁদের পেছনে ঢাকা পড়লে একে বলয়ের মতো দেখা যায়।
তাপমাত্রা হঠাৎ করে আবার বেড়ে যায় এর করোনা বা বহিস্থ বায়ুমণ্ডলে। এই অঞ্চলের অপর নাম কিরীট বা ছটামণ্ডল। এটা শুধু সূর্যগ্রহণের সময়ই দেখা যায়। এই সময় এর প্লাজমা মুকুটের বিন্দুর মতো বাইরের দিকে ছড়িয়ে পড়ে। এর তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ২০ লাখ ডিগ্রি পর্যন্ত হতে পারে।
সূর্য সৌরজগতের সবচেয়ে বড়ো ও বেশি ভরের বস্তু। এর দূরত্ব পৃথিবী থেকে গড়ে প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার বা নয় কোটি ৩০ লক্ষ মাইল। এখান থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে ৮ মিনিট ১৯ বা ২০ সেকেন্ড সময় লাগে। এটাকেও দূরত্বের একটি একক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। অর্থ্যাৎ, সূর্য পৃথিবী থেকে প্রায় ৮ আলোকমিনিট দূরে অবস্থিত।
আরও পড়ুনঃ
পৃথিবী থেকে সূর্যের দূরত্ব কত?
আলোকবর্ষ কাকে বলে?
জ্যোতির্বিদ্যায় দূরত্বের এককেরা

সূত্রঃ
১। http://solarscience.msfc.nasa.gov/corona.shtml
২। http://www.space.com/17137-how-hot-is-the-sun.html
Category: articles

Sunday, February 14, 2016

আমরা জানি, আলোর এক বছরে অতিক্রান্ত দূরত্বকে আলোকবর্ষ বলে। এ জন্যেই এই নিবন্ধে আমরা সেটা আলোচনা করতে যাচ্ছি না। আমরা এখানে দেখতে চাচ্ছি, এই এককটি আসলে কী কাজে লাগে। তবে কয়েকটি মান আবার জাবর কেটে নেওয়া উচিত। আলোর বেগ হচ্ছে সেকেন্ডে ১ লক্ষ ৮৬ হাজার মাইল বা ৩ লক্ষ কিলোমিটার। আর আলোকবর্ষের মান প্রায় ৯ ট্রিলিয়ন কিলোমিটার বা প্রায় ৬ ট্রিলিয়ন মাইল।

এই এককটি ব্যবহারের মাধ্যমে মহাজাগতিক বিভিন্ন বস্তুর দূরত্বের তাৎপর্য এবং পারস্পরিক তুলনা খুব সহজে করা যায়।  সাধারণত নক্ষত্র এবং ছায়াপথের দূরত্ব পরিমাপের ক্ষেত্রে এটি বেশি ব্যবহৃত হয়।এর ব্যবহারগুলো দেখা যাকঃ-
১. এখন পর্যন্ত মানুষের পাঠানো সবচেয়ে দূরবর্তী মহাকাশযান হচ্ছে ভয়েজার ১। ২০১৪ সালের অক্টোবরে এর দূরত্ব ছিল ১৮ আলোকঘণ্টা। বুঝতেই পারছেন, আলো এক ঘণ্টায় যত দূর যাবে সেটাই আসলে এক আলোকঘণ্টা। বর্তমানে সূর্যের সাপেক্ষে যানটির বেগ সেকেন্ডে ১৭ কিলোমিটার (ঘন্টায় ৩৮ হাজার মাইল)। এই বেগ নিয়ে চলতে থাকলে যানটি আরো প্রায় ১৭ হাজার ৫০০ বছর পরে ১ আলোকবর্ষ দূরত্বে পৌঁছবে। ২০১২ সালের আগস্টে এটি প্রথম কোন যান হিসেবে সৌরজগতের চৌহদ্দি পার হয়।
আন্তঃনাক্ষত্রিক জগতে বিচরণ করছে ভয়েজার ১। ছবিঃ নাসা

২. সৌরজগতের অন্যতম দূরবর্তী  অঞ্চল উর্ট ক্লাউডের ব্যাস প্রায় ২ আলোকবর্ষ।
৩. সূর্যের নিকটতম নক্ষত্র প্রক্সিমা সেন্টোরির দূরত্ব ৪.২২ আলোকবর্ষ।
৪. সূর্যের অভিকর্ষের সর্বোচ্চ পাল্লা ২ আলোকবর্ষ পর্যন্ত বিস্তৃত। এর বাইরে সূর্যের আধিপত্যে নাক গলায় আন্তঃনাক্ষত্রিক বস্তু।
৫. লুব্ধক আমাদের রাতের আকাশের সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্র। এর দূরত্ব ৮.৬ আলোকবর্ষ।
৬. এইচডি ১০৭০০ ই (HD 10700 e) একটি সম্ভাব্য বাসযোগ্য বহির্গ্রহ (Exoplanet)। এর দূরত্ব ১১.৯ আলোকবর্ষ।
আরো পড়ুনঃ বৃহত্তম বহির্গ্রহ; ট্রেস-৪

৭. গ্লিজ ৫৮১ (Gliese 581) একটি লোহিত বামন নক্ষত্র। এর চারদিকে প্রদক্ষিণরত বেশ কিছু বাসযোগ্য গ্রহ পাওয়া গেছে। নক্ষত্রটির দূরত্ব ২০ আলোকবর্ষ।
৮. রাতের আকাশের ২য় উজ্জ্বল নক্ষত্র সুহাইল (Canopus)। এর দীপ্তি সূর্যের ১৫ হাজার গুণ। দূরত্বে এটি ৩১০ আলোকবর্ষ।
৯. আমাদের নিজস্ব গ্যালাক্সি মিল্কিওয়ের কেন্দ্র ২৬ হাজার আলোকবর্ষ দূরত্ব অবস্থিত।
১০. মিলিওয়ের নিজের ব্যাস প্রায় ১ লাখ আলোকবর্ষ।
১১. অ্যান্ড্রোমিডা গ্যালাক্সি প্রায় ২৫ লাখ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত।
১২. খালি চোখে দৃশ্যমান সবচেয়ে দূরবর্তী বস্তু হচ্ছে ট্রায়াঙ্গুলাম গ্যালাক্সি। এর দূরত্ব ৩০ লাখ আলোকবর্ষ।
১৩. আমাদের নিকটতম গ্যালাক্সি ক্লাস্টার বা ছায়াপথ স্তবক ভার্গো ক্লাস্টারের দূরত্ব ৫ কোটি ৯০ লাখ আলোকবর্ষ।
১৪. ছায়াপথের দেয়াল স্লোয়ান গ্রেট ওয়ালের (Sloan Great Wall) দূরত্ব এক বিলিয়ন আলোকবর্ষ।
১৫. সবচেয়ে উজ্জ্বল কোয়াসার ৩সি ২৭৩ (3C 273) এর দূরত্ব ২.৪ বিলিয়ন আলোকবর্ষ।

সূত্রঃ
[১] উইকিপিডিয়াঃ Light year
Category: articles

Monday, February 1, 2016

জ্যোতির্বিদ্যা মানেই বিশাল বিশাল দূরত্বের হিসাব। মহাকাশের বিভিন্ন বস্তুর দূরত্ব নির্ণয়ের জন্যে আলাদা আলাদা একক ব্যবহৃত হয়। এমন কিছু একক হচ্ছে-
অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিটঃ পৃথিবী থেকে সূর্যের দূরত্ব। তবে, পৃথিবী সূর্যের চারদিকে প্রদক্ষিণের সময় এই দূরত্বটি প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হয়। পৃথিবী সূর্যের চারদিকে এর কক্ষপথের অনুসূর ও অপসূর অবস্থানে যথাক্রমে নিকটতম ও দূরতম অবস্থানে থাকে। বর্তমানে এই এককটির মান ধরায় হয় ১৪৯ ৫৯৭ ৮৭০ ৭০০ মিটার যা প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার বা ৯ কোটি ৩০ লক্ষ মাইলের সমান। একে সংক্ষেপে এইউ (AU- Astronomical unit) বলা হয়। সাধারণত সৌরজগতের বিভিন্ন বস্তুদের দূরত্বের হিসাব করতে এই এককটি ব্যবহৃত হয়।

আলোকবর্ষঃ আলো এক বছরে যে দূরত্ব অতিক্রম করে। সূর্যের নিকটতম নক্ষত্র প্রক্সিমা সেন্টোরি ৪.২ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত। রাতের আকাশের উজ্জ্বলতম নক্ষত্র লুব্ধকের দূরত্ব ৮.৬ আলোকবর্ষ।নিকটবর্তী নক্ষত্রদের দূরত্ব নির্ণয়ে এই একক কাজে লাগে।
আরো দেখুনঃ এক আলোকবর্ষ কত বড়?
পৃথিবী থেকে বিভিন্ন বস্তুর দূরত্ব। ছবিটি বড় করে দেখতে এখানে ক্লিক করুন।  

পারসেক (pc): ৩.২৬ আলোকবর্ষ। পারসেকের হিসাবে প্রক্সিমা সেন্টোরি ১.৩ একক দূরে অবস্থিত। রাতের আকাশের খালি চোখে দেখা যাওয়া নক্ষত্রদের অধিকাংশই সূর্যের ৫০০ পারসেকের মধ্যে অবস্থিত। এককটি নিকটবর্তী নক্ষত্রদের দূরত্ব বের করতে ব্যবহৃত হলেও
কিলোপারসেক (kpc): এক পারসেকের ১ হাজার গুণ। গ্যালাকটিক স্কেলের দূরত্ব মাপতে ব্যবহৃত হয়। আমাদের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির ব্যাস ৩৪ kpc।
মেগাপারসেক (Mpc): এক পারসেকের ১০ লক্ষ গুণ। নিকটবর্তী গ্যালাক্সিদের দূরত্ব মাপার জন্য এই একক কাজে আসে। অ্যান্ড্রোমিডা গ্যালাক্সি .৭৮ Mpc দূরত্বে অবস্থিত। অন্য দিকে আমাদের নিকটতম বড় গ্যালাক্সি স্তবক ভার্গো ক্লাস্টার (Virgo Cluster) ১৬.৫ Mpc দূরে আছে।
সূত্রঃ
১। ইংরেজি উইকিপিডিয়া
২। টেলিস্কোপ ডট অর্গ
৩। উইকিপিডিয়াঃ পারসেক
Category: articles