Advertisement

Friday, May 11, 2018

সপ্তর্ষিমণ্ডলীর ৭টি প্রধান তারাকে আমরা বলছি সপ্তর্ষি। এদের সবগুলো উজ্জ্বলতায় প্রায় সমান।
 সেটা জানার আগে নামগুলো জেনে নেওয়া যাক।

সপ্তর্ষির তারাগুলো। ইংরেজি নামসহ জানতে এখানে ক্লিক করুন। 
মনে রাখতে হবে, সপ্তর্ষি কিন্তু সব সময় এ অবস্থায় থাকে না। এটি উত্তর আকাশের তারাভুজ। উত্তর পূর্ব আকাশে থাকলে ক্রতু ও পুলহ তারা থাকবে উপরের দিকে। আবার উত্তর পশ্চিম আকাশে এই দুটি তারা থাকবে নীচের দিকে।

ওপরের ছবিতে যেমন দেখানো আছে, এর আকার এমন দেখা যায় সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বরের সন্ধ্যার আকাশে। প্রায় বরাবর উত্তর আকাশে। তার আগের তিন মাস থাকে উত্তর-পশ্চিম আকাশে।

আরও পড়ুন
☛ সপ্তর্ষিমণ্ডলীর খোঁজে

তারাগুলো বিভিন্ন দূরত্বে অবস্থিত হলেও এদের আপাত উজ্জ্বলতা প্রায় সমান। কারণ, অপেক্ষাকৃত দূরের তারাগুলো এক্ষেত্রে আসলে বেশি দীপ্তিময়। মানে অভ্যন্তরীণ উজ্জ্বলতা বা দীপ্তি বেশি।

আপাত উজ্জ্বলতা 
আর দূরত্ব কেমন দেখা যাক,
দূরত্ব (আলোকবর্ষে
আরও পড়ুন
☛ দিক নির্ণয়ে ধ্রুব তারা 
Category: articles

Friday, October 28, 2016

উত্তর গোলার্ধের আকাশের অন্যতম সহজলব্ধ তারামণ্ডলী হল ক্যাসিওপিয়া (Cassiopeia)।অন্যান্য তারামণ্ডলীর (constellation) চেয়ে ক্যাসিওপিয়ার গঠন অনেক সাবলীল ও দৃষ্টি নন্দন। এটি দেখতে অনেকটা ইংরেজি M বা W অক্ষরের মতো। আর এই মণ্ডলীর সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্রটিই হল শেডার (schedar)। নক্ষত্রদের আনুষ্ঠানিক নামকরণের ক্ষেত্রে তারামণ্ডলীর নামের সাথে গ্রিক অক্ষর মিলিয়ে নাম রাখা হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে উজ্জ্বলতম নক্ষত্রটিকে বলা হয় আলফা নক্ষত্র। ক্যাসিওপিয়ার ক্ষেত্রেও শেডার বা আলফা ক্যাসিওপি হল সবচেয়ে উজ্জ্বল।

খুঁজে পাবার উপায়ঃ 
শেডারকে পেতে হলে আগে পাওয়া দরকার ক্যাসিওপিয়া তারামণ্ডলীকে।

আপনি যদি সপ্তর্ষীমণ্ডলী চিনে থাকেন তবে ক্যাসিওপিয়াকে চিনবেনই। এরা সব সময় একে অপর থেকে উল্টো অবস্থানে থাকে। ক্যাসিওপিয়া যখন এর সর্বোচ্চ উচ্চতায় ওঠে,  সপ্তর্ষীমণ্ডলী তখন থাকে তার প্রায় বরাবর নিচে, দিগন্তেরও নিচে (বাংলাদেশ থেকে দেখতে)। এদের যে কোনো একটি যখন উত্তর- পূর্ব আকাশে থাকে, অপরটি তখন থাকে উত্তর- পশ্চিম আকাশে।

আরও পড়ুনঃ
তারামণ্ডলী কাকে বলে?
সপ্তর্ষীমণ্ডলীর সন্ধানে

ক্যাসিওপিয়া ও সপ্তর্ষীমণ্ডলী একে অপরের বিপরীত দিকে থাকে

অক্টোবর, নভেম্বর মাসগুলো ক্যাসিওপিয়াকে দেখার সেরা মাস। নভেম্বর মাসে রাত নয়টার দিকে এটি এর সর্বোচ্চ উচ্চতায় থাকে। এ সময় একে ইংরেজি M অক্ষরের মতো দেখায়। অবস্থানভেদে কখনও আবার W এর মতো দেখায়। এই আকৃতির কারণে একে খুঁজে পাওয়া আসলেই সহজ।

এবার চিত্র থেকে মিলিয়ে নিন কোন তারাটি শেডার। এর আগে আমরা আলডেরামিন নক্ষত্র নিয়ে কথা বলার সময়ও এর কথা বলেছিলাম। শেডার ও কাফকে যোগ করে সামনে গেলেই পাওয়া যায় আলডেরামিন।

ক্যাসিওপিয়ার তারাগুলো 

খেয়াল করুন, ক্যাসিওপিয়ার সবচেয়ে উজ্জ্বল তিনটি তারাকে দেখায় ইংরেজি V অক্ষরের মতো। আসলে শহরে বসে আকাশ দেখার সময় হঠাৎ করে তাকালে প্রথমেই W বা M এর বদলে V কেই চোখে পড়ে। বাকিরা একটু পরে চোখে ধরা পড়ে। এখন এই V এর শীর্ষে বা মাঝেই আছে শেডার।
আশা করি স্পষ্ট হয়েছে।

রূপকথায় ক্যাসিওপিয়াঃ 
পূরাণ বিখ্যাত ইথিয়পীয় রাণী ক্যাসিওপিয়ার নাম অনুসারে তারামণ্ডলীটির নামকরণ। তিনি ছিলেন সিফিয়াসের স্ত্রী। সিফিয়াস নামেও উত্তর আকাশে আরেকটি তারামণ্ডলী আছে। তাদের মেয়ে ছিল অ্যান্ড্রোমিডা। যাই হোক, ক্যাসিওপিয়া মণ্ডলীতে যে রাণীকে কল্পনা করা হয় তার বুকের মধ্যে শেডারের অবস্থান।

আর শেডার নামটিও এসেছে এ কারণেই। নামটি এসেছে আরবি ভাষা থেকে। আরবিতে صدر  (সাদর) অর্থ হল বক্ষ।

শেডারের বৈশিষ্ট্যঃ
নক্ষত্রটি পৃথিবী থেকে ২৩০ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত। এর আপাত উজ্জ্বলতা (apparent magnitude) হল ২.২। আমরা জানি, আপাত উজ্জ্বলতার মান বেশি হলে নক্ষত্ররা তুলনামূলক কম উজ্জ্বল হয়। সামগ্রিক বিচারে এটি রাতের আকাশের ৭১তম উজ্জ্বল নক্ষত্র। শেডার এই অরেঞ্জ জায়ান্ট বা কমলা দানব শ্রেণির নক্ষত্র।

আরো পড়ুনঃ
আপাত উজ্জ্বলতা কাকে বলে? 

কমলা দানব নক্ষত্র শেডার

আগে মনে করা হত, এটি একটি বিষম তারা। অর্থ্যাৎ, সময় সময় এর উজ্জ্বলতা কম- বেশি হয়। কিন্তু আধুনিক জ্যোতির্বিদরা এমন কনিও লক্ষণ খুঁজে পাননি। এর ভর সূর্যের প্রায় পাঁচ গুণ। তবে এর তাপমাত্রা সূর্যের চেয়ে কম। মনে করা হয়, নক্ষত্রটি ১০২ দিনে এক বার নিজ অক্ষের ওপর আবর্তন করে। আর আমাদের সূর্য এ কাজটি করে ২৫ দিনে।

অবস্থানঃ
শেডারের বিষুব লম্ব হল + ৫৬ ডিগ্রি। পজিটিভ চিহ্ন থেকে বোঝা যাচ্ছে এটি আকাশের উত্তর গোলার্ধে অবস্থিত। বাংলাদেশে আমাদের অক্ষাংশ প্রায় ২৩ ডিগ্রি হওয়ায় আমাদের মাথার ওপরের বিষুব লম্ব হল + ২৩ ডিগ্রি। ফলে শেডার আমাদের মাথার সোজা ওপর থেকে উত্তর দিকে আরও প্রায় ৩৩ ডিগ্রি কৌণিক দূরত্বে আছে।

আরও পড়ুনঃ


সূত্রঃ
১। http://earthsky.org/brightest-stars/schedar-short-life-of-burning-bright
২। https://en.wikipedia.org/wiki/Cassiopeia_(constellation)
৩। উইকিপিডিয়াঃ উজ্জ্বল তারাদের তালিকা
Category: articles

Tuesday, September 13, 2016

আলডেরামিন নক্ষত্রটি সিফিয়াস তারামণ্ডলীতে অবস্থিত। এই তারামণ্ডলীটি খুব বেশি উজ্জ্বল নয়। তারামণ্ডলীটির অপেক্ষাকৃত উজ্জ্বল একমাত্র নক্ষত্র হল আলডেরামিন। এর অপর নাম হল আলফা সিফিয়াই। নক্ষত্রটি অনেক দ্রুত বেগে আবর্তন করে।

জর্জিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির জ্যোতির্বিদরা অপটিক্যাল ইনটারফেরোমিটার ব্যবহার করে নক্ষত্রটির নতি, মেরু ও বিষুব ব্যাসার্ধ এবং তাপমাত্রা বের করেন। 

সিফিয়াস তারামণ্ডলির দেখতে ঘরের মতো, আমরা ছোটবেলায় দোচালা ঘরের যেরকম চিত্র আঁকতাম ঠিক তেমন।  আকাশের এক কোণে এর অনেকগুলো ম্লান তারকার মধ্যে আলডেরামিন একমাত্র ব্যতিক্রম। ফলে এই তারাটিকে চিনে নেওয়া খুব সহজ কাজ। এর তীব্র আবর্তন বেগের কারণেও এটি খুব পরিচিত।

আরো পড়ুনঃ 
নক্ষত্র কাকে বলে?
তারামণ্ডলীর পরিচয়
আবর্তন ও প্রদক্ষিণের পার্থক্য

আলডেরামিনকে খুঁজে পাবার উপায়ঃ
তারাটির অবস্থান উত্তর আকাশে। একে খুঁজে পেতে কাজে আসবে ইংরেজি W বা M অক্ষরের মতো (অবস্থানের উপর ভিত্তি করে দুই রকমের যে কোনো রকম হতে পারে) দেখতে আরেকটি তারামণ্ডলী ক্যাসিওপিয়া।

ঋতুভেদে ক্যাসিওপিয়াকে কখনো উত্তর-পূর্ব দিকে, কখনো বা উত্তর- পশ্চিম দিকে, আবার কখনো মাথার উপর থেকে একটু উত্তরের অবস্থানে সোজা উত্তর দিকে থাকবে।  নভেম্বর মাসের রাত নয়টার দিকে ক্যাসিওপিয়াকে সবচেয়ে ভালো দেখা যায়। এ সময় এটি থাকে উত্তর দিগন্ত থেকে সোজা উপরের দিকে। তারামণ্ডলীটির প্রধান অংশ (ডাব্লিউ বা এম আকৃতি) (+৬৫) থেকে (+৫৫) ডিগ্রি  বিষুব লম্ব জুড়ে অবস্থিত।  সব মিলিয়ে বছরের শেষ অর্ধেকের দিনগুলো একে খুঁজে পেতে বেশি সহায়ক। আগস্ট- সেপ্টেম্বর মাসেও সন্ধ্যা নামার পরেই এটি উত্তর- পূর্ব দিগন্ত দিয়ে উঁকি দিতে শুরু করে। 

ইংরেজি এম বা ডাব্লিউ আকৃতির ক্যাসিওপিয়া ও সিফিয়াস মণ্ডলী ।
সহজে বোঝার জন্যে ছবিটিকে রোটেট করা হয়েছে। 

ক্যাসিওপিয়াকে আমরা সহজেই পেয়ে যাব। এবার কাজ হল একে কাজে লাগিয়ে সিফিয়াস ও আলডেরামিনকে বের করা। দেখুন, ক্যাসিওপিয়ার সবচেয়ে উজ্জ্বল উপরের তিনটি তারাকে দেখতে ইংরেজি ভি (V) অক্ষরের মত মনে হয়। এদের মধ্যে উপরের দুটি কাফ ও শেডার। শেডারকে কাফের সাথে যোগ করে সামনে চলে গেলেই পাওয়া যাবে আলডেরামিন। ছবি দেখেই বোঝা যাচ্ছে, পুরো সিফিয়াসকেও খুব সহজেই খুঁজে পাওয়া যাবে।


আলডেরামিনের বৈশিষ্ট্যঃ 
এটি একটি সাদা নক্ষত্র। একে এ শ্রেণীর (Class A) তারা মনে করা হয়। বর্তমানে এটি প্রধান ধারা থেকে সাবজায়ান্ট ধাপে রূপ নিচ্ছে। প্রধান ধারার (main sequence) নক্ষত্ররা হাইড্রোজেনের ফিউসান ঘটিয়ে হিলিয়াম উৎপন্ন করতে থাকে। আমাদের সূর্য একটি প্রধান ধারার নক্ষত্র। মনে করা হচ্ছে, আলডেরামিনের হাইড্রোজেন জ্বালানি ফুরিয়ে গেলে এটি রেড জায়ান্ট বা লোহিত দানবে পরিণত হবে।

নক্ষত্র বিশেষজ্ঞ জিম কেলারের মতে আলডেরামিনের দীপ্তি সূর্যের ১৮ গুণ। অন্য দিকে এটি আবার খুব জোরে ঘুরছে। এটি ১২ ঘণ্টার কম সময়ের মধ্যে একবার নিজ অক্ষের সাপেক্ষে ঘূর্ণন সম্পন্ন করে ফেলে, যেখানে কাজটি করতে আমাদের সূর্যের সময় লাগে প্রায় এক মাস।

আরো পড়ুনঃ 
☛ আবর্তন ও প্রদক্ষিণের পার্থক্য

জিম কেলার বলেন,
নক্ষত্রটির কাজের সাথে এই ঘূর্ণনের সম্পর্ক থাকতে পারে। আমাদের সূর্যের চৌম্বকক্ষেত্র খুব সক্রিয়। তবে 'এ শ্রেণী'র নক্ষত্রদের ক্ষেত্রে চৌম্বকক্ষেত্র থাকার কথা নয়। কিন্তু আলডেরামিন সূর্যের প্রায় সমপরিমাণ এক্সরে বিকিরণ নির্গত করছে। এর অন্যান্য বৈশিষ্ট্য থেকেও বোঝা যাচ্ছে এতে শক্তিশালী চৌম্বকক্ষেত্র উপস্থিত। এর কারণ এখনো জানা সম্ভব হয়নি। 

তবে সিফিয়াসের আরো দুটি দানব নক্ষত্রের তুলনায় আলডেরামিন কিছুই নয়। এরা হল মিউ সিফিয়াই এবং ভিভি সিফিয়াই। এরা দুজনেই সুপারজায়ান্ট- মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির বৃহত্তম এবং উজ্জ্বলতম গ্যালাক্সিদের দলের সদস্য। হাজার হাজার সূর্যকে মিলিত করলেও এদের উজ্জ্বলতার কাছে তা ম্লান হয়ে যাবে। অবশ্যই এখানে আমরা নক্ষত্রের প্রকৃত উজ্জ্বলতা দা দীপ্তির কথা বলছি। দূরে অবস্থিত বলেই এরা পৃথিবীর আকাশে সূর্যের কাছে হেরে যাচ্ছে।


এদের কোনো একটিকে যদি সূর্যের জায়গায় বসানো হয়, তবে এরা বৃহস্পতির কক্ষপথ পর্যন্ত জায়গা দখল করে ফেলবে। এরা এত দীপ্তিমান হয়েও রাতের আকাশে তুলনামূলক অনুজ্জ্বল হবার কারণ হচ্ছে এরা পৃথিবী থেকে কয়েক হাজার আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত। তবে তুলনামূলকভাবে আলডেরামিন খুব কাছে অবস্থিত- মাত্র ৪৯ আলোকবর্ষ।

আরো পড়ুনঃ
☛ আপাত উজ্জ্বলতা কাকে বলে? 


ইতিহাসে আলডেরামিনঃ
অতীতে এক সময় এটি ধ্রুব তারা ছিল। অর্থ্যাৎ, তখন এর অবস্থান ছিল আমাদের বর্তমান ধ্রুবতারা পোলারিসের জায়গায়, প্রায় উত্তর দিক বরাবর। সর্বশেষ এ অবস্থা ছিল ১৮, ০০০ খৃষ্টপূর্ব সালে। আরো ৫,৫০০ বছর পরে এটি আবার ধ্রুবতারার স্থান দখল করবে। ৭৫০০ সালের দিকে এটি প্রকৃত উত্তর দিক থেকে তিন ডিগ্রি দূরে থাকবে। এর অর্থ, আমাদের পোলারিস এর চেয়ে ভালো ধ্রুবতারা।  পোলারিস প্রায় বরাবর উত্তর দিকেই থাকে। এর বিষুব লম্ব (+৮৯) ডিগ্রির বেশি দেখেই সেটা অনুমান করা যায়।  ২১০০ সালে পোলারিস প্রকৃত উত্তর থেকে মাত্র ০.৪৫ ডিগ্রি দূরে থাকবে।

নামকরণঃ
আলডেরামিন শব্দটি এসেছে আরবি আযযিরা আল ইয়ামিন (الذ راع اليمين) থেকে। এর অর্থ হল 'ডান বাহু'। সিফিয়াস মণ্ডলীর নাম রূপকথার একজন রাজার নামে দেওয়া। ডান বাহু বলতে সেই রাজার ডান বাহু বোঝানো হচ্ছে।


সংক্ষিপ্ত প্রোফাইলঃ 
আপাত উজ্জ্বলতাঃ + ২.৫
দূরত্বঃ ৪৯ আলোকবর্ষ
বিষুব লম্বঃ +৬২.৫ ডিগ্রি
নামঃ আলফা সিফিয়াই


সূত্রঃ
১। http://earthsky.org/brightest-stars/alderamin-the-kings-brightest-star
২। https://en.wikipedia.org/wiki/Alpha_Cephei
Category: articles

Monday, April 25, 2016

আকাশের ১৫তম উজ্জ্বল নক্ষত্র চিত্রা। এর ইংরেজি নাম স্পাইকা (Spica)। চিত্রাকে দেখতে একটিই তারকা মনে হয়। কিন্তু বাস্তবে এটি অন্তত দুটি তারকার সমন্বিত চিত্র যার উভয়টি সূর্যের চেয়ে বড় এবং উষ্ণ। এরা এক লক্ষ আশি হাজার কিমি. দূরত্বে থেকে একে অপরকে প্রদক্ষিণ করছে। এই দূরত্ব কিন্তু পৃথিবী থেকে সূর্যের দূরত্বের চেয়ে ঢের ছোট। পৃথিবী থেকে সূর্যের গড় দূরত্ব ১৫ কোটি কিমি.।
কন্যামণ্ডলীতে চিত্রার অবস্থান 

চিত্রা নক্ষত্র খুঁজে পাবার উপায়ঃ
চিত্রা কন্যারাশির উজ্জ্বলতম নক্ষত্র। অন্য অনেক নক্ষত্রের মতই চিত্রাকে খুঁজে পেতেও সহায়তা করবে সপ্তর্ষীমণ্ডলী। সপ্তর্ষীমণ্ডলীর তারাভুজ সপ্তর্ষীর চামচের হাতলের শেষ তিনটি নক্ষত্রকে একটি বৃত্তচাপের অংশ মনে করে সামনে বাড়িয়ে দিলে একটি উজ্জ্বল তারা পাওয়া যায়। এটি হচ্ছে রাতের আকাশের ৪র্থ উজ্জ্বল নক্ষত্র স্বাতী (Arcturus)। এই বৃত্তচাপকে আরেকটু বাড়িয়ে দিলেই পাওয়া যাবে চিত্রা।
সপ্তর্ষী → স্বাতী → চিত্রা 

এপ্রিল মাসে একে সন্ধ্যার কিছু পরেই পূর্ব দিগন্তে উঁঁকি দিতে দেখা যায়। এ সময় একে রাতের অধিকাংশ সময়ই দেখা যায়। দুই মাস পরে এটি সন্ধ্যার পরে আকাশের চূড়ায় পৌঁছে যায়। আগস্টের শেষের দিকে একে সন্ধ্যার পরে সামান্য সময়ের জন্যে পশ্চিমাকাশে দেখা যায়। এর পরেই এটি ডুবে যায় পশ্চিমে।
বৈশিষ্ট্যঃ

স্পাইকা ২৬২ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত। এটি ভার্গো মণ্ডলীর (কন্যারাশি) উজ্জ্বলতম তারকা হিসেবে নাম পেয়েছে আলফা ভার্জিনিস। স্পাইকার বাইনারি জগতের দুটি নক্ষত্রকে টেলিস্কোপেও আলাদা করে চেনা যায় না। একটির বদলে দুটি তারার উপস্থিতি শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছিল স্পেক্ট্রোস্কোপ বা বর্ণালীবীক্ষণ যন্ত্রের মাধ্যমে। বর্ণালীবীক্ষণ যন্ত্র আলোর বিভিন্ন রঙকে আলাদাভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারে। এই বাইনারি সিস্টেমের দুটি তারকাই সূর্যের চেয়ে বড় এবং উষ্ণ। এর মধ্যে বড়টি সম্ভবত নীল দানব বা উপদানব (সাব জায়ান্ট) জাতের নক্ষত্র।
এর মধ্যে বড়টির পৃষ্ঠ তাপমাত্রা ২২, ৪০০ কেলভিন এবং ছোটটির ১৮, ৫০০ কেলভিন। অথচ সূর্যের পৃষ্ঠ তাপমাত্রা মাত্র ৫৮০০ কেলভিন। এরা একে অপর থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার কিমি. দূরে অবস্থিত এবং যৌথ অভিকর্ষ কেন্দ্রকে মাত্র চার দিনে এক বার ঘুরে আসে।
এদের সমন্বিতভাবে নিঃসৃত আলো সূর্যের আলোর চেয়ে ২২০০ গুণ উজ্জ্বল। অন্য দিকে ব্যাস যথাক্রমে সূর্যের ৭.৮ ও ৪ গুণ। অন্যতম উজ্জ্বল এই নক্ষত্রটি সময় সময় চাঁদের পেছনে ঢাকা পড়ে। জ্যোতির্বিদরা সন্দেহ করছেন, এটি শুধুই বাইনারি স্টার নয়, সম্ভবত আরো তিনটি তারা নিয়ে আসলে এখানে একটি কুইন্টিপল জগত (পাঁচ তারার সমন্বয়) গড়ে উঠেছে।
দেখা যাক, এই অনুমান সত্য হয় কিনা! 
Category: articles

Friday, April 15, 2016

মাইজার ও অ্যালকর আকাশের অন্যতম বিখ্যাত ডাবল স্টার। দুটোর মধ্যে মাইজারকে খুব সহজেই দেখা যায়, এমনকি শহর থেকেও। এর পাশেই অবস্থান অ্যালকরের। তবে একে খুঁজে পেতে চোখের একটু পরিশ্রম হবে।

মাইজার ও অ্যালকর 

এরা দুজনেই সপ্তর্ষীমণ্ডলীর সদস্য। তবে মাইজার  আবার সাতটি তারায় গঠিত চামচের মত দেখতে সপ্তর্ষী নামক তারাভুজের অংশ। প্রাচীন কাল থেকেই চোখ পরীক্ষার জন্যে অ্যালকর তারাটি ব্যবহৃত হত। অবশ্য স্বাভাবিকের চেয়ে সামান্য খারাপ চোখ দিয়ে অ্যালকরকে দেখা সম্ভব। তবু, আগেকার যুগে সেনাবাহিনীতে সৈন্য নিয়োগের সময় এই তারাটির মাধ্যমে চোখের পরীক্ষা নেওয়া হত। শহরের আলো বা ঝাপসা আকাশের কারণে খালি চোখে অনেক সময় একে দেখা না গেলেও দুরবিনে এটি ঠিকই দর্শনীয় হয়ে ওঠে।


মাইজার সম্ভবত সপ্তর্ষীর সবচেয়ে বিখ্যাত তারা। অ্যালকরকে বাদ দিলেও মাইজার নিজেও একটি ডাবল স্টার। এটা যে আসলে একটি ডাবল স্টার তা ১৬৫০ সালেই জানা গিয়েছিল। উপরন্তু টেলিস্কোপে দেখা ডাবল স্টারদের মধ্যে এটিই প্রথম।


আগে মনে করা হত নিজেরা অনেক দূরে অবস্থিত থেকেও শুধু আকাশের একই দিকে অবস্তিত হওয়াই শুধু ডাবল স্টার হবার কারণ হতে পারে। এদের নিজেদের মধ্যে সম্ভবত কোন আকর্ষণ কাজ করে না। কিন্তু ১৮৮৯ সালে এই ধারণা পাল্টে গেল। স্পেক্ট্রোস্কোপের মাধ্যমে দেখা গেল, মাইজার দুটো নক্ষত্রের মধ্যে টেলিস্কোপে দেখা উজ্জ্বলতর সদস্যটি আসলে নিজেও আবার দুটো নক্ষত্রের সমন্বয়। মাইজার এই বাইনারি সিস্টেমও স্পেক্ট্রোস্কোপির মাধ্যমে আবিষ্কৃত প্রথম বাইনারি স্টার।


পরে দেখা গেল, অপেক্ষাকৃত অনুজ্জ্বল নক্ষত্রটিও আসলে বাইনারি স্টার। ফলে, সব মিলিয়ে শুধু মাইজারই দুইয়ে দুইয়ে চারটি নক্ষত্র হল। এরকম ক্ষেত্রে তারাদের বলা হয় কোয়াড্রুপল স্টার। এর আগে আমরা দেখেছিলাম আলম্যাকও একটি কোয়াড্রুপল স্টার।

মাইজার  ও অ্যালকর

এবার আসি অ্যালকরের কথায়। আগে মনে করা হত সাথে মাইজারের কোন মহাকর্ষীয় টান নেই। আরো মনে করা হত, অ্যালকর কোন বাইনারি জগতের সদস্য নয়। কিন্তু এ ধারণাও পাল্টে গেল ২০০৯ সালে। স্বতন্ত্রভাবে দুই দল জ্যোতির্বিদ দেখালেন যে অ্যালকর আসলে অ্যালকর  এ ও বি দুটো তারায় গঠিত। এখন মনে করা হয় অ্যালকরের এই বাইনারি জগৎ মাইজারের কোয়াড্রুপল জগতের সাথে মহাকর্ষীয় বন্ধনে আবদ্ধ। ফলে সব মিলিয়ে ছয়টি তারকার সমাবেশ!


মাইজার ও অ্যালকর শুধু আমাদের চোখের পরীক্ষাই নিচ্ছে না, নিচ্ছে আমাদের প্রযুক্তির উন্নতির পরীক্ষাও!

আরবি  المئزر শব্দ থেকে মাইজার নামটি এসেছে। এর শাব্দিক অর্থ কোমরবন্ধ বা বেল্ট।
Category: articles

Saturday, November 21, 2015


খালি চোখে একটি এবং টেলিস্কোপে রঙিন ডাবল স্টার মনে হলেও এখন জানা গেছে আলম্যাক আসলে ৪টি তারকার মিলিত আলো  
এটা ঠিক যে অ্যান্ড্রোমিডা তারামণ্ডলীতে অবস্থিত একই নামের গ্যালাক্সিটিই আমাদের কাছে বেশি পরিচিত। তবে, এই অ্যান্ড্রোমিডা তারামণ্ডলীতেই রয়েছে সমগ্র আকাশের অন্যতম দারুণ একটি ডাবল স্টার আলম্যাক। এর আনুষ্ঠানিক নাম গামা এ্যান্ড্রোমিডি (Gamma Andromedae)। এর দুটি অংশের একটিকে টেলিস্কোপে সোনালী এবং অপর অংশকে নীল আসমানী দেখায় (উপরের ছবি দেখুন)। গবেষণার আরেকটু গভীরে গিয়ে শেষমেশ জানা গেল এই তারার আলোর উৎসের মূলে রয়েছে আসলে চারটি তারা! একের ভেতর চার!



খুঁজে পাবার উপায়ঃ


অ্যান্ড্রোমিডা তারামণ্ডলী রূপকথায় একটি মেয়ের নাম। আর মেয়েটির বাম পায়ের তারাটিই হচ্ছে আলম্যাক। পেগাসাস বর্গের আলফেরাজ তারকা থেকে দুটি লাইন চলে গেছে পেগাসাস নামক উড়ুক্কু ঘোড়ার পেছনের দিকে। এই লাইনদ্বয় অ্যান্ড্রোমিডা তারামণ্ডলীর সম্পত্তির সম্পত্তি।
আলফেরাজ তারকা থেকে শুরু করে নিচের লাইন বরাবর চতুর্থ তারকাটি হচ্ছে আমাদের আজকের আলোচ্য তারা। দ্বিতীয় ক্রমের উজ্জ্বল তারকাটি সপ্তর্ষীমণ্ডলীর প্রদান সাতটি তারকার কাছাকাছি উজ্জ্বল।



এই তারাটি, আসলে বলা উচিত তারাব্যবস্থাটি (Star system) ৩৫০ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত।

একের ভেতর চারঃ
একে খালি চোখে একটি তারাই মনে হবে। কিন্তু টেলিস্কোপে দেখে বোঝা যাবে আসলে এখানে দুটি তারা আছে। বড়টি দেখতে সোনালী, আর ছোটখানা নীল। এই রঙিন জোড়ের সৌন্দর্য্য প্রত্যক্ষ করতে ৭৫ এক্স বিবর্ধনের টেলিস্কোপ প্রয়োজন। কোন কোন বিশেষজ্ঞের মত হচ্ছে, আলম্যাকের রঙের বৈচিত্র্য বকমণ্ডলীর তারকা আলবিয়েরোকেও (বকমুখ) হার মানায়। সাধারণত মনে করা হয়, আলবিয়েরো হল আকাশের সবচেয়ে সুন্দর ডাবল স্টার। শরত ও শীতের শুরুতে দুটো তারাই আকাশে থাকে। আপনি নিজেই বিচার করুন, কোনটা বেশি সুন্দর!

ইতিহাসঃ
১৭৭৮ সালে জোহান টবিয়েস মায়ের প্রাথমিক যুগের একখানা টেলিস্কোপ দিয়ে প্রথম আবিষ্কার করেন যে এটি আসলে ডাবল স্টার। এখন আমরা জানি, ছোট নীল তারাটি আসলে একটি ট্রিপল স্টার সিস্টেম। ফলে, সব মিলিয়ে আলম্যাক আসলে চার তারার মিলিত আলো।

পারসিয়াস তারামণ্ডলীর বিষম তারা এ্যালগলের কাছেই আলম্যাকের অবস্থান। এ্যালগল সর্বোচ্চ দীপ্তি প্রদর্শনের সময় আলম্যাকের সাথে সেয়ানে সেয়ানে আলো বিকিরণ করে।


সংক্ষিপ্ত প্রোফাইল
নামঃ গামা অ্যান্ড্রোমিডি (Gamma (γ) Andromedae)
তারামণ্ডলীঃ  অ্যান্ড্রোমিডা
অবস্থানঃ ২ ঘণ্টা ২২ মিনিট ৫৩ সেকেন্ড, +৪২° ১৯′
নামের উৎসঃ العناق الأرض
নামের অর্থঃ মরু বিড়াল (desert lynx)
দূরত্বঃ ৩৫০ আলোকবর্ষ
আপাত উজ্জ্বলতাঃ ২.২৬
তুলনামূলক উজ্জ্বলতাঃ অ্যান্ড্রোমিডা তারামণ্ডলীতে তৃতীয়


তথ্যসূত্রঃ
১। আর্থ স্কাই
২। ইউটিউবঃ ইংরেজি Almach এর উচ্চারণ আলম্যাক।
৩। উইকিপিডিয়াঃ Almach 
Category: articles