Advertisement

Monday, April 25, 2016

এ সপ্তাহের তারাঃ চিত্রা

আকাশের ১৫তম উজ্জ্বল নক্ষত্র চিত্রা। এর ইংরেজি নাম স্পাইকা (Spica)। চিত্রাকে দেখতে একটিই তারকা মনে হয়। কিন্তু বাস্তবে এটি অন্তত দুটি তারকার সমন্বিত চিত্র যার উভয়টি সূর্যের চেয়ে বড় এবং উষ্ণ। এরা এক লক্ষ আশি হাজার কিমি. দূরত্বে থেকে একে অপরকে প্রদক্ষিণ করছে। এই দূরত্ব কিন্তু পৃথিবী থেকে সূর্যের দূরত্বের চেয়ে ঢের ছোট। পৃথিবী থেকে সূর্যের গড় দূরত্ব ১৫ কোটি কিমি.।
কন্যামণ্ডলীতে চিত্রার অবস্থান 

চিত্রা নক্ষত্র খুঁজে পাবার উপায়ঃ
চিত্রা কন্যারাশির উজ্জ্বলতম নক্ষত্র। অন্য অনেক নক্ষত্রের মতই চিত্রাকে খুঁজে পেতেও সহায়তা করবে সপ্তর্ষীমণ্ডলী। সপ্তর্ষীমণ্ডলীর তারাভুজ সপ্তর্ষীর চামচের হাতলের শেষ তিনটি নক্ষত্রকে একটি বৃত্তচাপের অংশ মনে করে সামনে বাড়িয়ে দিলে একটি উজ্জ্বল তারা পাওয়া যায়। এটি হচ্ছে রাতের আকাশের ৪র্থ উজ্জ্বল নক্ষত্র স্বাতী (Arcturus)। এই বৃত্তচাপকে আরেকটু বাড়িয়ে দিলেই পাওয়া যাবে চিত্রা।
সপ্তর্ষী → স্বাতী → চিত্রা 

এপ্রিল মাসে একে সন্ধ্যার কিছু পরেই পূর্ব দিগন্তে উঁঁকি দিতে দেখা যায়। এ সময় একে রাতের অধিকাংশ সময়ই দেখা যায়। দুই মাস পরে এটি সন্ধ্যার পরে আকাশের চূড়ায় পৌঁছে যায়। আগস্টের শেষের দিকে একে সন্ধ্যার পরে সামান্য সময়ের জন্যে পশ্চিমাকাশে দেখা যায়। এর পরেই এটি ডুবে যায় পশ্চিমে।
বৈশিষ্ট্যঃ

স্পাইকা ২৬২ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত। এটি ভার্গো মণ্ডলীর (কন্যারাশি) উজ্জ্বলতম তারকা হিসেবে নাম পেয়েছে আলফা ভার্জিনিস। স্পাইকার বাইনারি জগতের দুটি নক্ষত্রকে টেলিস্কোপেও আলাদা করে চেনা যায় না। একটির বদলে দুটি তারার উপস্থিতি শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছিল স্পেক্ট্রোস্কোপ বা বর্ণালীবীক্ষণ যন্ত্রের মাধ্যমে। বর্ণালীবীক্ষণ যন্ত্র আলোর বিভিন্ন রঙকে আলাদাভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারে। এই বাইনারি সিস্টেমের দুটি তারকাই সূর্যের চেয়ে বড় এবং উষ্ণ। এর মধ্যে বড়টি সম্ভবত নীল দানব বা উপদানব (সাব জায়ান্ট) জাতের নক্ষত্র।
এর মধ্যে বড়টির পৃষ্ঠ তাপমাত্রা ২২, ৪০০ কেলভিন এবং ছোটটির ১৮, ৫০০ কেলভিন। অথচ সূর্যের পৃষ্ঠ তাপমাত্রা মাত্র ৫৮০০ কেলভিন। এরা একে অপর থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার কিমি. দূরে অবস্থিত এবং যৌথ অভিকর্ষ কেন্দ্রকে মাত্র চার দিনে এক বার ঘুরে আসে।
এদের সমন্বিতভাবে নিঃসৃত আলো সূর্যের আলোর চেয়ে ২২০০ গুণ উজ্জ্বল। অন্য দিকে ব্যাস যথাক্রমে সূর্যের ৭.৮ ও ৪ গুণ। অন্যতম উজ্জ্বল এই নক্ষত্রটি সময় সময় চাঁদের পেছনে ঢাকা পড়ে। জ্যোতির্বিদরা সন্দেহ করছেন, এটি শুধুই বাইনারি স্টার নয়, সম্ভবত আরো তিনটি তারা নিয়ে আসলে এখানে একটি কুইন্টিপল জগত (পাঁচ তারার সমন্বয়) গড়ে উঠেছে।
দেখা যাক, এই অনুমান সত্য হয় কিনা! 


Advertisement 02

Abdullah Al Mahmud

লেখকের পরিচয়

আব্দুল্যাহ আদিল মাহমুদ। প্রভাষক, পরিসংখ্যান বিভাগ, পাবনা ক্যাডেট কলেজ। এর আগে রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন EAL-এ। পড়াশোনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগে। সম্পাদনা করছেন Stat Mania বিশ্ব ডট কম। পাশাপাশি লিখছেন বিজ্ঞানচিন্তা, ব্যাপন পাই জিরো টু ইনফিনিটিসহ বিভিন্ন ম্যাগাজিনে। অসীম সমীকরণ মহাবিশ্বের সীমানা নামে দুটি বই লেখার পাশাপাশি অনুবাদ করেছেন অ্যা ব্রিফার হিস্ট্রি অব টাইম । লেখকের এই সাইটের সব লেখা এখানে ফেসবুক | পারসোনাল ওয়েবসাইট