Advertisement

শনিবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৫


খালি চোখে একটি এবং টেলিস্কোপে রঙিন ডাবল স্টার মনে হলেও এখন জানা গেছে আলম্যাক আসলে ৪টি তারকার মিলিত আলো  
এটা ঠিক যে অ্যান্ড্রোমিডা তারামণ্ডলীতে অবস্থিত একই নামের গ্যালাক্সিটিই আমাদের কাছে বেশি পরিচিত। তবে, এই অ্যান্ড্রোমিডা তারামণ্ডলীতেই রয়েছে সমগ্র আকাশের অন্যতম দারুণ একটি ডাবল স্টার আলম্যাক। এর আনুষ্ঠানিক নাম গামা এ্যান্ড্রোমিডি (Gamma Andromedae)। এর দুটি অংশের একটিকে টেলিস্কোপে সোনালী এবং অপর অংশকে নীল আসমানী দেখায় (উপরের ছবি দেখুন)। গবেষণার আরেকটু গভীরে গিয়ে শেষমেশ জানা গেল এই তারার আলোর উৎসের মূলে রয়েছে আসলে চারটি তারা! একের ভেতর চার!



খুঁজে পাবার উপায়ঃ


অ্যান্ড্রোমিডা তারামণ্ডলী রূপকথায় একটি মেয়ের নাম। আর মেয়েটির বাম পায়ের তারাটিই হচ্ছে আলম্যাক। পেগাসাস বর্গের আলফেরাজ তারকা থেকে দুটি লাইন চলে গেছে পেগাসাস নামক উড়ুক্কু ঘোড়ার পেছনের দিকে। এই লাইনদ্বয় অ্যান্ড্রোমিডা তারামণ্ডলীর সম্পত্তির সম্পত্তি।
আলফেরাজ তারকা থেকে শুরু করে নিচের লাইন বরাবর চতুর্থ তারকাটি হচ্ছে আমাদের আজকের আলোচ্য তারা। দ্বিতীয় ক্রমের উজ্জ্বল তারকাটি সপ্তর্ষীমণ্ডলীর প্রদান সাতটি তারকার কাছাকাছি উজ্জ্বল।



এই তারাটি, আসলে বলা উচিত তারাব্যবস্থাটি (Star system) ৩৫০ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত।

একের ভেতর চারঃ
একে খালি চোখে একটি তারাই মনে হবে। কিন্তু টেলিস্কোপে দেখে বোঝা যাবে আসলে এখানে দুটি তারা আছে। বড়টি দেখতে সোনালী, আর ছোটখানা নীল। এই রঙিন জোড়ের সৌন্দর্য্য প্রত্যক্ষ করতে ৭৫ এক্স বিবর্ধনের টেলিস্কোপ প্রয়োজন। কোন কোন বিশেষজ্ঞের মত হচ্ছে, আলম্যাকের রঙের বৈচিত্র্য বকমণ্ডলীর তারকা আলবিয়েরোকেও (বকমুখ) হার মানায়। সাধারণত মনে করা হয়, আলবিয়েরো হল আকাশের সবচেয়ে সুন্দর ডাবল স্টার। শরত ও শীতের শুরুতে দুটো তারাই আকাশে থাকে। আপনি নিজেই বিচার করুন, কোনটা বেশি সুন্দর!

ইতিহাসঃ
১৭৭৮ সালে জোহান টবিয়েস মায়ের প্রাথমিক যুগের একখানা টেলিস্কোপ দিয়ে প্রথম আবিষ্কার করেন যে এটি আসলে ডাবল স্টার। এখন আমরা জানি, ছোট নীল তারাটি আসলে একটি ট্রিপল স্টার সিস্টেম। ফলে, সব মিলিয়ে আলম্যাক আসলে চার তারার মিলিত আলো।

পারসিয়াস তারামণ্ডলীর বিষম তারা এ্যালগলের কাছেই আলম্যাকের অবস্থান। এ্যালগল সর্বোচ্চ দীপ্তি প্রদর্শনের সময় আলম্যাকের সাথে সেয়ানে সেয়ানে আলো বিকিরণ করে।


সংক্ষিপ্ত প্রোফাইল
নামঃ গামা অ্যান্ড্রোমিডি (Gamma (γ) Andromedae)
তারামণ্ডলীঃ  অ্যান্ড্রোমিডা
অবস্থানঃ ২ ঘণ্টা ২২ মিনিট ৫৩ সেকেন্ড, +৪২° ১৯′
নামের উৎসঃ العناق الأرض
নামের অর্থঃ মরু বিড়াল (desert lynx)
দূরত্বঃ ৩৫০ আলোকবর্ষ
আপাত উজ্জ্বলতাঃ ২.২৬
তুলনামূলক উজ্জ্বলতাঃ অ্যান্ড্রোমিডা তারামণ্ডলীতে তৃতীয়


তথ্যসূত্রঃ
১। আর্থ স্কাই
২। ইউটিউবঃ ইংরেজি Almach এর উচ্চারণ আলম্যাক।
৩। উইকিপিডিয়াঃ Almach 
Category: articles

শনিবার, ১৪ নভেম্বর, ২০১৫

শুকতারা আসলে সৌরজগতের ২য় এবং পৃথিবীর নিকটতম গ্রহ শুক্র। আমরা একে 'তারা' বলে ডাকলেও আসলে এটি 'তারা' নয়, গ্রহ। যাই হোক, বছরের কিছু সময় এটা থাকে সন্ধ্যার আকাশে, কিছু সময় আবার ভোরের আকাশে। এই দুই সময় একে যথাক্রমে সন্ধ্যাতারা ও শুকতারা বলা হয়। সন্ধ্যাতারা থাকে সব সময় পশ্চিম দিকে, আর শুকতারা সব সময় পূর্ব দিকে। গত কয়েক মাস এবং আগামী কিছু দিন (আগস্ট-প্রায় ডিসেম্বর, ২০১৫) এটি ভোরের আকাশে আছে।

একে চেনার উপায়ঃ 
চাঁদের পরে রাতের আকাশে এটি সবচেয়ে উজ্জ্বল বস্তু। এমনকি, রাতের আকাশের উজ্জ্বলতম নক্ষত্র 'লুব্ধক'ও এর চেয়ে অনুজ্জ্বল। গ্রহটি এতই উজ্জ্বল ও বড় দেখায় যে মাঝে মাঝে একে দূরের কোন টাওয়ারের আলো বলে মনে হয়। দেখতেও প্রায় টেনিস বলের মত বড়। তাই এমন অস্বাভাবিক বড় কোন বস্তু দেখলেই একে শুক্র গ্রহ ধরে নিলে খুব একটা ভুল হবে না। আর যেহেতু এটা পশ্চিম বা পূবাকাশেই থাকে তাই সন্ধ্যায় এটা যেদিকে থাকবে সেটাই পশ্চিম, আর ভোরে যেদিকে থাকবে সেটাই পূর্ব দিক।
আরো পড়ুন,
১। ধ্রুবতারা দেখে দিক নির্ণয়
২। সূর্য দিয়ে দিক নির্ণয় 
Category: articles
প্রশ্নঃ ব্ল্যাক হোলতো দেখা যায় না, তাহলে এদেরকে শনাক্ত করা হয় কিভাবে?
উত্তরঃ ব্ল্যাক হোল আলোকে আটকিয়ে রাখার মাধ্যমে নিজেকে লুকিয়ে রাখতে সক্ষম হলেও নিজের কর্মকাণ্ড গোপন রাখতে পারে না। এটি এর নিকটস্থ বস্তু, বিশেষ করে গ্যাসকে এর অভিকর্ষ বল দ্বারা নিজের দিকে টেনে নেয়। ফলে, গ্যাস সর্পিল পথে এতে গিয়ে পতিত হয়। এই পতনশীল গ্যাস ব্ল্যাকহোলের চারপাশে একটি চাকতি (disk) গঠন করে। এই গ্যাস এত দ্রুত পাক খায় যে এরা উত্তপ্ত হয়ে এক্স-রে নির্গত করে। এই এক্স-রে বা রঞ্জন রশ্মি পৃথিবীতে বসে শনাক্ত করা যায়।
ব্ল্যাক হোলের কবলে নিকটস্থ গ্যাস। নীল অংশের কেন্দ্রে অবস্থিত কালো বিন্দুই ব্ল্যাক হোল। 

এছাড়াও ব্ল্যাকহোলের নিকটস্থ অন্য তারকার গতির প্রকৃতি থেকেও ব্ল্যাকহোল শনাক্ত করা যায়। যেমন কোন বাইনারি বা অন্য কোন মালটিপল স্টার সিস্টেমে গতি থেকে বোঝা যায়, এখানে আরেকটি তারকা থাকা উচিৎ। কিন্তু বাস্তবে ওখানে কাউকে দেখা যায় না, যার অর্থ সেটি ব্ল্যাকহোল।

সূত্রঃ
১। ক্যালটেক
Category: articles
অবলোহিত হচ্ছে এক ধরনের অদৃশ্য তড়িচ্চৌম্বক বিকিরণ। আমরা জানি, দৃশ্যমান আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য প্রায় ৩৯০ থেকে ৭০০ ন্যানোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। আর, লাল আলোই দৃশ্যমান আলোর সবচেয়ে উচ্চ তরঙ্গদৈর্ঘ্যের অধিকারী। লালের পর থেকেই শুরু হয় অবলোহিতের (Infrared) যাত্রা। ফলে এর পাল্লা শুরু ৭০০ ন্যানোমিটারে। বিস্তৃত ১ মিলিমিটার পর্যন্ত।
তারকার জন্ম 
তারকার মৃত্যু 
মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি 

প্রতিক্রিয়ারত গ্যালাক্সি 

সর্পিল গ্যালাক্সি 
সূত্রঃ
১। ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি (ক্যালটেক)
২। উইকিপিডিয়াঃ দৃশ্যমান বর্ণালী, অবলোহিত আলো  
Category: articles

শুক্রবার, ১৩ নভেম্বর, ২০১৫

ছোট ম্যাজেলানিক ক্লাউড (SMC) গ্যালাক্সিটিকে সবচেয়ে সহজে চোখে পড়ে দক্ষিণ গোলার্ধের আকাশ থেকে। এটি এর বড় ভাই লার্জ ম্যাজেলানিক ক্লাউড থেকেও দক্ষিণে অবস্থিত। তবে এরা দুজনেই আমাদের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির বাইরে অবস্থিত হলেও দুজনেই মিল্কিওয়ের স্যাটেলাইট গ্যালাক্সি অর্থ্যাৎ এরা মিল্কিওয়েকে প্রদক্ষিণ করছে।
১৭ ডিগ্রি উত্তর গোলার্ধ থেকে এদের কোনটাকেই চোখে পড়ে না। অর্থ্যাৎ উত্তর আমেরিকা, উত্তর আফ্রিকা, সমগ্র ইউরোপ এবং এশিয়ার উল্লেখযোগ্য অংশ থেকে (ভারতের দক্ষিণ অংশ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ছাড়া) এদেরকে দেখা যাবে না। শরতের শেষ এবং শীতের শুরুতে (অক্টোবরে শেষ রাতে, নভেম্বর ও ডিসেম্বরে রাতের প্রথম প্রহরে এবং জানুয়ারিতে সন্ধ্যার পরপরই) ছোট ম্যাজেলানিক ক্লাউডকে সবচেয়ে ভালোভাবে দেখা যায়। যখন ইংরেজি W বা M (অবস্থানভেদে) অক্ষরের মত আকৃতির ক্যাসিওপাইয়া তারামণ্ডলী রাতের উত্তর আকাশের চূড়ায় উঠবে তখনই দক্ষিণ আকাশের চূড়ায় দেখা যাবে এসএমসিকে (SMC- Small Magellanic Cloud)।
বড় ও ছোট ম্যাজেলানিক ক্লাউড
দক্ষিণ খ-মেরু (Celestial pole) থেকে এটি ২০ ডিগ্রি কৌণিক দূরত্বে এবং টিউক্যানা তারামণ্ডলীতে এর অবস্থান। একে খুঁজে পেতে আপনাকে সহায়তা করবে রাতের আকাশের দশম উজ্জ্বল তারকা নদীমুখ (Acherner)। আকাশ নদীর সমার্থক তারামণ্ডলী ইরিডেনাসে অবস্থিত এই তারকাটি থেকে ১৫ ডিগ্রি নিচে এসএমসি এর অবস্থান। এঁকেবেঁকে চলা আকাশনদী তারামণ্ডলীটি আদম সুরতের পায়ের নক্ষত্র রিজেলের নিকট থেকে শুরু হয়ে আখেরনার (নদীমুখ) তারকায় গিয়ে শেষ হয়েছে।
উজ্জ্বলতা এবং আকার- দুই ক্ষেত্রেই এসএমসি বড়ভাই এলএমসি (লার্জ ম্যাজেলানিক ক্লাউড) এর চেয়ে অনেক পিছিয়ে। প্রায় আড়াই বাই ৫ ডিগ্রি অঞ্চল জুড়ে এর বিস্তার। ওভারঅল উজ্জ্বলতা +২। প্রায় ১৩ বর্গ ডিগ্রি অঞ্চল জুড়ে এর দীপ্তি ছড়িয়ে থাকায় এলএমসির চেয়ে একে খুঁজে পাওয়া কঠিন, আর প্রয়োজন হয় খুব অন্ধকার আকাশের।
ইতিহাস ও রূপকথাঃ
এটি অনুজ্জ্বল এবং দক্ষিন গোলার্ধে অবস্থিত হবার সুবাদে প্রাচীন ইউরোপের রূপকথার বেড়াজাল থেকে রক্ষা পেয়েছে। তবে অস্ট্রেলিয়ায়র রূপকথায় এর স্থান আছে। পলিনেশীয়দের কাছে দুই ম্যাজেলানিক ক্লাউডই চলাচলের ভালো সহায়ক ছিল। নিউজিল্যান্ডে এদেরকে ঝড়ের পূর্বাভাস মনে করা হত। ৬ষ্ঠ শতকের শুরুর দিকে ফার্ডিন্যান্ড ম্যাজেলানের গবেষণার সূত্র ধরে এদের সাথে ম্যাজেলান নামের সংযোগ ঘটে। বেয়ারের ইউর‍্যানোমেট্রিয়াতে এদেরকে যথাক্রমে ubecula major ও nubecula minor বলা হয়েছিল। ১৭৫৬ সালে ফরাসী জ্যোতির্বিদ লেকেইলি তাঁর তারা মানচিত্রে এদেরকে বর্তমান নাম দেন।
বৈশিষ্ট্যঃ
এলএমসির পরে এটি মিল্কিওয়ের চতুর্থ নিকটবর্তী গ্যালাক্সি। সবচেয়ে ভালো হিসাব অনুযায়ী এটি ২ লাখ ১০ হাজার আলোকবর্ষ দূরে তথা এলএমসির চেয়ে ৩০ শতাংশ বেশি দূরে অবস্থিত। অনিয়তাকার গ্যালাক্সিটি মিল্কিওয়ের টানের কারণের দণ্ডযুক্ত সর্পিল কাঠামো প্রদর্শন করে। সবচেয়ে প্রসারিত অঞ্চলে এর ব্যাস ১৫ থেকে ১৭ হাজার আলোকবর্ষ। এতে তারকার সংখ্যা মাত্র কয়েক কোটি, যা এলএমসি বা মিল্কিওয়ের চেয়ে অনেক কম।
আকাশে ঠিকানাঃ
খ-গোলকে এর অবস্থান নিম্নরূপঃ
বিষবাংশঃ ৫২ মিনিট ৪৫ সেকেন্ড
বিষুব লম্বঃ প্রায় (-) ৭২ ডিগ্রি।

সূত্রঃ
১। আর্থ স্কাই
২। উইকিপিডিয়াঃ ইরিডেনাস
Category: articles

বৃহস্পতিবার, ১২ নভেম্বর, ২০১৫

ধরুন, বিদেশে গিয়ে আপনার সাথে এক বিদেশীর সাক্ষাৎ হলো। তিনি আপনাকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘আপনার বাড়ি কোথায়?’

আপনার উত্তর, 'বাংলাদেশে'। এবার যদি তিনি জিজ্ঞেস করেন, ‘বাংলাদেশ কোথায় অবস্থিত?’, আপনি নিশ্চয়ই বিরক্ত হবেন। ধৈর্য্য ধরে রাখতে পারলে, বলবেন, ম্যাপে খুঁজে দেখুন। যাদের ওয়ার্ল্ড ম্যাপ সম্বন্ধে ধারণা আছে, তারা নিশ্চয় কোন দেশ বা অঞ্চলের নাম শুনেই বুঝে ফেলেন, ও আচ্ছা! আপনি ঐদিকে থাকেন, ঠিক আছে।




রাতের আকাশের দিকে তাকালে আমাদের মনে হয় যেন একটি গম্বুজের মাঝে অনেকগুলো আলোর বিন্দু সেঁটে দেওয়া আছে। বাস্তবে গম্বুজ না হলেও এই আকাশকে বলা হয় খ-গোলক (Celestial spehere)। এই খ-গোলকে তারকা, গ্যালাক্সি, উল্কা, ধূমকেতু  ইত্যাদির অবস্থান সহজে বোঝার জন্যে পুরো আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান সমিতি (IAU) আকাশকে ৮৮টি অঞ্চলে ভাগ করেছে। এই ৮৮টি অঞ্চলের প্রত্যেকটিকে বলা হয় এক একটি হয় তারামণ্ডলী ( Constelation)। এই সবগুলোর মিলিত ক্ষেত্রফল পুরো আকাশের ৩৬০ ডিগ্রি অঞ্চল জুড়ে রয়েছে। তাই, আকাশের যে কোন বস্তু কোন না কোন মণ্ডলীতে অবস্থিত থাকবেই। সবচেয়ে সহজে চোখে পড়ে এমন কিছু তারামণ্ডলী হচ্ছে আদমসুরত বা কালপুরুষ, বৃশ্চিক (Scorpius), বকমণ্ডলী (Cygnus), সপ্তর্ষিমণ্ডলী (Ursa Major) ইত্যাদি।

অবশ্য তারামণ্ডলীর এই সীমানা নির্ধারণ দৈবভাবে করা হয়নি। প্রাচীন কাল থেকেই মানুষ রাতের আকাশের বিভিন্ন তারাদের তুলনামূলক অবস্থানের ভিত্তিতে আকাশে রূপকথারসহ নানারকম প্রাণী, বিভিন্ন ভঙ্গীমার মানুষসহ নানাবিধ আকৃতি কল্পনা করেছে। তবে এদের সবাই তারামণ্ডলী হিসেবে স্বীকৃতি পায়নি। কেননা, অনেক ক্ষেত্রেই একই তারা একাধিক নকশায় স্থান পেত। উপরন্তু, বিভিন্ন নকশার তারাগুলোকে আবার অন্যভাবে চিন্তা করলে আলাদা আকৃতি তৈরি হত। বর্তমানে তাই এমনভাবে সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে যাতে একই তারা একধিক মণ্ডলীতে না থাকে। ভিন্ন তারামণ্ডলীর কিছু তারা বা একই তারামণ্ডলীর কয়েকটি তারা মিলিত হয়ে যে আকৃতির সৃষ্টি হয় এখন তাকে নাম দেওয়া হয়েছে asterism। বাংলা এখনো জ্যোতির্বিজ্ঞানে এর কোন নাম নেই। তবে একে আমরা তারানকশা বলতে পারি। এমন কিছু উদাহরণ হলো সামার ট্রায়াঙ্গেল, উইন্টার হেক্সাগন, সাউদার্ন ক্রস, কাস্তে, গ্রেট স্কয়ার অব পেগাসাস ইত্যাদি।
 
উল্লেখ্য, আকাশে তারারা আমাদের চোখে বিভিন্ন আকৃতি হিসেবে ধরা পড়লেও বাস্তবে একই তারামণ্ডলীর তারারা কিন্তু কোন চ্যাপ্টা তল বা গম্বুজে সাঁটানো নয়, বরং এক একটি তারকা পৃথিবী থেকে আলাদা দূরত্বে অবস্থিত। দূরত্ব অনেক বেশি বলেই সবাইকে একই তলে অবস্থিত মনে হয়। যেমন বলা যায় আদম সুরতের কথা। এর উজ্জ্বল তারাগুলোর দূরত্ব ২৫ আলোকবর্ষ থেকে শুরু করে ২২৫ আলোকবর্ষ পর্যন্ত বিস্তৃত।


বছরের আলাদা সময়ে আকাশে আলাদা তারামণ্ডলী চোখে পড়ে। এর কারণ দুটো- পৃথিবীর আবর্তন ও সূর্যের চারদিকে প্রদক্ষিণ। সন্ধ্যার আকাশে যে তারাদের সমাবেশ ঘটে, রাতে গড়াতে গড়াতে তারা পৃথিবীর নিজ অক্ষের চারদিকে আবর্তনের জন্যে পশ্চিমে হেলতে থাকে। যদি পৃথিবীর শুধু আবর্তনই থাকত, প্রদক্ষিণ তথা সূর্যের চারদিকে বেগ না থাকত, তবে প্রতি রাতের একই সময়ে নির্দিষ্ট কোন স্থানে একই তারা দেখা যেত। কিন্তু পৃথিবীর প্রদক্ষিণের কারণে কোন তারকা প্রতি দিন প্রায় ৪ মিনিট আগে একই জায়গায় আসে। কারণ পুরো আকাশের মোট কৌণিক ক্ষেত্রফল ৩৬০ ডিগ্রি। এই পুরো অঞ্চল পৃথিবী ৩৬৫ দিনে ঘুরে, অর্থ্যাৎ প্রতি দিন প্রায় ১ ডিগ্রি করে ঘুরতে হয়। আবার পৃথিবীর আবর্তনের জন্যে প্রতি ডিগ্রির জন্যে সময় লাগে প্রায় ৪ মিনিট।
এ জন্যেই শীত, গ্রীষ্মসহ আলাদা ঋতুতে আলাদা তারামণ্ডলী চোখে পড়ে। যেমন (উত্তর গোলার্ধের) শীতকালে আদম সুরতের দেখা মেলে, কিন্তু এ সময় বৃশ্চিকমণ্ডলী (Scorpius) হারিয়ে যায় দিনের আলোতে। আসলে কোন তারামণ্ডলী রাতে চোখে না পড়ার কারণ, এর সূর্যের সাথে সাথে বা আগেই অস্ত যাওয়া।

প্রাচীন জ্যোতির্বিদ টলেমি এইরকম ৪৮টি তারামণ্ডলী তালিকাভূক্ত করেন। তিনি অনেকগুলোই করতে পারেননি কারণ, তাঁর বাসস্থান থেকে পুরো আকাশ চোখে পড়ত না। পরবর্তীতে মুসলিম বিজ্ঞানীরা অধিকাংশ তারকা নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা ও এদের নামকরণ করেন। তাই দেখা যায়, অধিকাংশ তারাদের বর্তমান নাম আরবি ভাষা থেকে আসা।

এই ৮৮টি তারামণ্ডলীর মধ্যে ১৩টি তারামণ্ডলীতে সূর্য সারা বছর পর্যায়ক্রমে অবস্থান করে। এরাই মূলত রাশিচক্র। রাশিচক্র বলার কারণ সূর্য ঘুরেফিরে এদের মাঝেই থাকে। তবে সূর্য কখন কোথায় অবস্থান করে সেটার ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ বের করার বিদ্যা তথা জ্যোতিষবিদ্যার কোন বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। প্রকৃতপক্ষে তাদের রাশিচক্রে এখনও ১২টি তারামণ্ডলী হিসেব করা হয় এখন যা সেকেলে হয়ে গেছে।

সূত্র: নাসা 
Category: articles
বামন গ্রহ প্লুটো ক্ষুদ্রতম বহিঃস্থ চারটি উপগ্রহের আবর্তন বেগ এতটাই বেশি যা বিজ্ঞানীদের কাছে একেবারেই অপ্রত্যাশিত। জুলাইয়ের ১৪ তারিখে নাসার মহাকাশযান নিউ হরাইজন এর কাছ দিয়ে উড়ে যাবার সময় এমনই অদ্ভুত ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছে। নভেম্বরের ৯ তারিখে বিজ্ঞানীরা আমেরিকান এ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির (AAS) এর একটি মিটিং-এ বিষয়টি নিয়ে আলাপ করেছেন।

নিউ হরাইজন মিশনের কো-ইনভেসটিগেটর মার্ক শোয়ালটার বলেন,
হাইড্রা (Hydra), নিক্স (Nix), কেরবারোস (Kerberos) এবং স্টাইক্স (Styx) উপগ্রহুগুলো ঘুরন্ত লাটিমের ন্যায় আচরণ করছে। সৌরজগতে এরাই সবচেয়ে বিস্ময়কর উপগ্রহ।
তিনি আরো বলেন,
এদের এই অবস্থাকে আমি বিশৃঙ্খল বলেই ক্ষান্ত হব না, এ যে বিশাল গণ্ডগোল। সত্যি বলতে, এমন কিছু আমরা আগে কখোনই দেখিনি, এরা কী বার্তা দিচ্ছে তাও মাথায় আসছে না। 
নাসার নিউ হরাইজনের বরাতে পাওয়া প্লুটোর উপগ্রহদের ছবি
এই চার উপগ্রহ প্লুটোকে প্রদক্ষিণ করার পাশিপাশি প্লুটোর বৃহত্তম উপগ্রহ শ্যারনকে প্রদক্ষিণ করছে। এদের কোন কোনটার আবর্তন গতি অনেক বেশি। নিক্সের গতি এর কক্ষপথ থেকে পেছন দিকে। কিছু আবার আবার প্লুটোর দিকেই সব সময় পাশ ফিরে থাকে যা সৌরজগতের অন্য উপগ্রহগুলোর বৈশিষ্ট্যের সাথেও মিলে যায়।
তবে ঘুর্ণন বেগে সবচেয়ে এগিয়ে আছে সর্ববহিঃস্থ উপগ্রহ হাইড্রা। এটি বামন গ্রহ প্লুটোকে একবার ঘুরে আসতে আসতে নিজের অক্ষের উপর ৮৯ বার চক্কর খায়। শোলালটার বলেন,
 হাইড্রা আরেকটু জোরে ঘুরলেই এর পৃষ্ঠবস্তু কেন্দ্রবিমুখী বলের কারণে হারিয়ে যেত। 
বিজ্ঞানীরা মনে করেন, প্লুটোর বৃহত্তম উপগ্রহ শ্যারনের উচ্চ কৌণিক বল (টর্ক) সবগুলো উপগ্রহের যুগপৎ আবর্তনে বাধা দিয়ে থাকতে পারে।

সূত্রঃ
১। আর্থ স্কাই
২। নাসা 
Category: articles

রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০১৫

নিজস্ব অভিকর্ষের বন্ধনে আবদ্ধ আলোকোজ্জ্বল গোলাকার প্লাজমাকে নক্ষত্র বলা হয়। উল্লেখ্য, কঠিন, তরল ও গ্যাসীয় পদার্থের বাইরে পদার্থের আরেকটি অবস্থা হচ্ছে এই প্লাজমা। নক্ষত্রকে বাংলায় তারকা বা তারাও বলা হয়। তবে, আমরা রাতের আকাশে চাঁদ ছাড়া যা কিছু তাদের দেখি সবাইকেও আবার অনেক সময় তারা বলে সম্বোধন করি। যদিও রাতের আকাশে তারা পাশাপাশি সৌরজগতের গ্রহদের মধ্যে খালি চোখে দৃশ্যমান পাঁচটি গ্রহসহ অন্যান্য বস্তুও থাকতে পারে। পৃথিবীর নিকটতম এবং দিনের আকাশের একমাত্র নক্ষত্র সূর্য। অন্যান্য নক্ষত্ররা অনেক দূরে থাকায় দিনে সূর্যের আলোর সাথে টেক্কা দিতে না পেরে রাতের আকাশে হাজির হয়।
নক্ষত্রের জন্ম নেবুলা তথা গ্যাসীয় মেঘ ও ধূলিকণা থেকে। নেবুলার এই সকল উপাদান নিজস্ব উপাদানের চাপে সঙ্কুচিত হয়ে তৈরি করে প্রোটো স্টার বা ভ্রুণ তারা। ধীরে ধীরে এর তাপমাত্রা বাড়তে থাকে। তাপমাত্রা এক কোটি কেলভিনে পৌঁছলে এতে শুরু হয় নিউক্লিয় ফিউশান বিক্রিয়া। এ প্রক্রিয়া চলতে থাকে নক্ষত্রে হাইড্রোজেন শেষ হবার আগ পর্যন্ত। এর পরবর্তীতে এটি জায়ান্ট বা সুপারজায়ান্ট ধাপে প্রবেশ করে। পরিশেষে শ্বেত বামন, নিউট্রন স্টার বা ব্ল্যাক হোলে পরিণত হবার মধ্য দিয়ে এর জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটে।
ছবিটি বড় করে দেখতে এখানে ক্লিক করুন। 
অনেকগুলো তারকা মিলিতভাবে কোন নক্ষত্রস্তবক বা গ্যালাক্সি তৈরি করতে পারে। সাধারণত, একেকটি গ্যালাক্সিতে কয়েক হাজার থেকে শুরু করে লক্ষ কোটি পর্যন্ত তারকা থাকতে পারে। রাতের আকাশের উজ্জ্বলতম নক্ষত্র লুব্ধক। অন্য দিকে পৃথিবীর নিকটতম নক্ষত্র প্রক্সিমা সেন্টোরি। এর দূরত্ব পৃথিবী থেকে ৪.২৪ আলোকবর্ষ দূরে।
সূত্রঃ
১। ইংরেজি উকিপিডিয়াঃ প্লাজমা
২। ইংরেজি উকিপিডিয়াঃ প্রক্সিমা সেন্টোরি
৩। ব্যাপন ম্যাগাজিনঃ ব্ল্যাক হোলের জন্মগ্রহণ
৪। স্কাই অ্যান্ড টেলিস্কোপঃ তারকা কাকে বলে? 
Category: articles
এ মাসে সংক্ষেপে জানাচ্ছি। আমরা জানি, রাতের আকাশে ৫টি গ্রহ খালি চোখে দেখা যায়- শুক্র, বৃহস্পতি, শনি, মঙ্গল ও বুধ। চলুন দেখি, এ মাসে কাদেরকে কোথায় দেখা যাবে।
নভেম্বরের ১২ তারিখের দৃশ্য
এ মাসের সন্ধ্যার একমাত্র গ্রহ শনি।
দীর্ঘ প্রায় এক বছর ধরে রাতের আকাশ উজ্জ্বল করে শনি গ্রহ এই মাসে হারিয়ে যেতে বসেছে রাতের আকাশ থেকে। বিদায় শনি! এর কারণ এ মাসের মাঝামাঝিতে এটি পৃথিবী ও সূর্যের সাথে একই রেখা বরাবর অবস্থানে চলে আসবে। ফলে এটি অস্ত যাবে সূর্যের সাথে সাথেই, এবং ক্রমান্বয়ে আগেই। এরপরে ডিসেম্বরের শেষের দিকে হাজির হবে পূবাকাশে, ভোরে সূর্যের আগেই উদিত হয়ে। এখানে একটি সহজ বিষয় মাথায় রাখা দরকার- সন্ধ্যার পশ্চিমাকাশ থেকে কোন গ্রহ হারিয়ে যাবার কিছু দিন পরেই এটি ভোরের পূবাকাশে হাজির হয়। কারণ, সন্ধ্যার আকাশ থেকে হারায় তখনি যখন ভোরে এটি সূর্যের সাথে বা আগেই উদিত হয় এবং পরিণামে যুগপৎ বা আগেই অস্ত যায়।
তবে শনির উল্টো ঘটনা ঘটবে বুধের ক্ষেত্রে- এটি ১৭ তারিখে ভোরের আকাশ থেকে সন্ধ্যার আকাশে ফিরে আসবে। অবশ্য এটি খুবই অনুজ্জ্বল। অন্য দিকে শুক্র, বৃহস্পতি ও মঙ্গল থাকবে ভোরের আকাশেই।
মাসের শুরুর দিকে ভোরের ২/৩ ঘণ্টা আগে বৃহস্পতির উদয় ঘটলেও দিন গড়াতে গড়াতে মাসের শেষের দিকে এর উদয় ঘটবে মধ্য রাতের পরেই। আর এক্ষেত্রে অন্য সবার চেয়ে এই গ্রহটি এগিয়ে থাকবে।
সূত্রঃ
১। আর্থ স্কাই
Category: articles

রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০১৫

আপনি যদি নতুন তারা দেখা শুরু করেন অথবা তারা দেখতে দেখতে বুড়োও হয়ে যান (অভিজ্ঞতার দিক দিয়ে!)- দুই ক্ষেত্রেই আপনার সেরা বন্ধু হবে একখান দুরবিন বা বাইনোকুলার। আসুন, জেনে নিই দুরবিন সম্পর্কে কিছু প্রয়োজনীয় বিষয় এবং রাতের আকাশে আপনি এটা দিয়ে কী কী দেখতে পাবেন।

১. তারা দেখা শুরু করতে টেলিস্কোপের চেয়ে বেশি ভালো কাজে আসে এই দুরবিন
প্রকৃতপক্ষে টেলিস্কোপ কিনতে আগ্রহী অধিকাংশ তারাপ্রেমীরই উচিত টেলিস্কোপ কেনার আগে প্রায় ১ বছর ধরে দুরবিন দিয়ে কাজ চালানো। কারণ, প্রথম বার টেলিস্কোপ ব্যবহার করতে গিয়ে পড়তে হয় বিপত্তিতে। কারণ, একই সাথে জটিল একটি যন্ত্রের পরিচালনা এবং রাতের আকাশের সাথে প্রাথমিক পরিচয়-কাজ দুটো একসাথে করতে মানিয়ে নেওয়া সময়সাপেক্ষ ব্যাপার।
বাজারে প্রাপ্ত একটি মোটামুটি মানের দুরবিনই রাতের আকাশের প্রত্যাশিত দৃশ্য তুলে ধরতে সক্ষম হবে। যন্ত্রের বিবর্ধন (Magnification) ও আলোক সমাবেশ ক্ষমতার (Light-gathering power) সমন্বয়ে আকাশ হয়ে ওঠে কয়েকগুণ বেশি জ্বলমলে। একটি ৭ × ৫০ বাইনোকুলারও খালি চোখের চেয়ে ৭ গুণ বেশি বস্তু চোখের সামনে সামনে হাজির করতে পারবে। মাসের বা বছরের কোন সময় কী দেখবেন তার খোঁজখবর রাখতে নিয়মিত পড়ুন আমাদের রাতের আকাশ সেকশন। এ কাজে প্লেনিস্ফিয়ারও ভালো কাজে আসতে পারে।
২. ছোট এবং সহজে ব্যবহারযোগ্য দুরবিন দিয়ে শুরু করুন
শুরুতেই বিশাল সাইজের দুরবিন কিনলে বিপত্তিতে পড়তে হবে যদি না আপনি ট্রাইপডও কেনার ইচ্ছা করেন। অন্যথায় দুরবিনখানি আপনার হাতে থেকে আপনার কথা শোনার চেয়ে অভিকর্ষের কথা শোনার দিকে বেশি মনযোগ দেবে যার পরিণাম, কাঁপাকাঁপি আর অস্থির আকাশ। নতুনদের জন্য ৭ × ৫০ আকারের দুরবিনই যথেষ্ট যা দেখাবেও অনেক কিছু, হাতেও বসে থাকবে ভদ্রভাবে। চাইলে পাখি দেখাসহ অন্য কাজেও সহজেই ব্যবহার করতে পারবেন আলোকযন্ত্রটি।
৩. দুরবিন দিয়ে চাঁদ দেখুন
দুরবিন কেনার শুরুর দিনগুলোতে আপনি চাঁদের বিভিন্ন দশা (Phase) যেমন পূর্ণচাঁদ তথা পূর্ণিমা, ক্রিসেন্ট বা অর্ধচন্দ্র (Crescent) ইত্যাদি দেখা শুরু করে দিতে পারেন। অবশ্য আপনি আমাদের মিল্কিওয়ে গ্যলাক্সি বা তারও বাইরে অন্য কোন গ্যালাক্সির দূর আকাশের বস্তুগুলো (deep-sky objects) দেখতে চাইলে স্বভাবতই চাঁদকে এড়িয়ে যেতে চাইবেন। কিন্তু চাঁদ নিজেই একটি দর্শনীয় বস্তু। মনে রাখতে হবে, দুরবিন দিয়ে চাঁদ দেখার সেরা সময় হচ্ছে গোধূলীর (Twilight)। এই সময় এর আলোর তীব্রতা থাকবে কম এবং দেখা যাবে অনেকটা বিস্তারিত। দেখতে পারেন চন্দ্রসাগর (Maria) নামে পরিচিত অগ্ন্যুৎপাতের ফলে চাঁদে সৃষ্ট কালো সমতল অঞ্চলও।
৪. চলুন, এবার গ্রহ দেখি
আমাদের রাতের আকাশ সেকশনে আপনি নিয়মিত গ্রহদেরও খোঁজখবর পাবেন। আমরা জানি, সৌরজগতের আটটি গ্রহের মধ্যে খালি চোখে দেখা যায় শুধু ৫টি- বুধ, শুক্র, মঙ্গল, বৃহস্পতি ও শনি। ইউরেনাস ও নেপচুন খালি চোখে ধরা দেয় না। অবশ্য ভুল বলা হলো, আরেকটিও খালি চোখে দেখা যায়- আমাদের প্রিয় নীল গ্রহটি যাতে আমরা বাস করি!
চলুন দেখে নিই উপরোক্ত ৫টি গ্রহ দুরবিনে কেমন দেখাবে।
বুধ ও শুক্রঃ
এরা দুজনেই অভ্যন্তরীণ তথা ভেতরের দিকের (Inner) গ্রহ। এদের ক্ষেত্রে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করার কক্ষপথ পৃথিবীর চেয়ে ক্ষুদ্র। এ কারণেই অনেক সময় গ্রহ দুটি চাঁদের মত বিভিন্ন দশা প্রদর্শন করে থাকে। ঘটনাটি ঘটে পৃথিবী ও সূর্যের মাঝপথ পাড়ি দেবার সময়। দুরবিন আপনাকে এদের দশা ফাঁস করে দিতে সহায়তা করবে।
মঙ্গলঃ
লাল এই গ্রহটি আসলেই দেখতে লাল। আর দুরবিন এর তীব্রতা আরো বাড়িয়ে তুলবে। আকাশের তারাদের তুলনায় (যারা সত্যিই তারা, গ্রহ নয়) মঙ্গলের গতি অনেকটা বেশি। এ সময় আপনি দুরবিনের সাথে আপনার বন্ধুত্বকে রাঙিয়ে নিতে পারেন।
বৃহস্পতিঃ
এবার শুরু আসল খেলা! নতুনদের জন্যেও বৃহস্পতি একটি দারুণ শিকার। দুরবিন স্থিরভাবে ধরে রাখতে পারলে বৃহস্পতি আপনার সামনে তার চারটি উপগ্রহও প্রকাশ করে দেবে। এগুলো সর্বপ্রথম গ্যালিলিও তাঁর স্ব-আবিষ্কৃত প্রতিসারক টেলিস্কোপ দিয়ে পর্যবেক্ষণ করেন। এ জন্যে এদেরকে বলা হয় গ্যালিলীয় উপগ্রহ। দুরবিন দিয়ে দেখলে বোঝা যাবে যে বিভিন্ন রাতে গ্রহটির উপগ্রহগুলোর অবস্থান থাকে ভিন্ন ভিন্ন জায়গায়।
শনিঃ
যদিও শনির বলয় (Ring) দেখতে হলে টেলিস্কোপ ছাড়া উপায় নেই, কিন্তু দুরবিন আপনাকে এর সোনালী রঙ অন্তত দেখাবে। অভিজ্ঞ দর্শকরা অবশ্য শনির বৃহত্তম উপগ্রহ টাইটানও (Titan) দেখতে পান। একটু শক্তিশালী দুরবিন ব্যবহার করলে আপনি দেখবেন যে শনি আসলে পুরোপুরি গোলাকার (Round) নয়, কিছুটা উপবৃত্তাকার (Elliptical)।
ইউরেনাস ও নেপচুনঃ
খালি চোখে ধরা না পড়লেও দুরবিনের চোখে ধরা পড়ে যায় সৌরজগতের সর্ববহিস্থ গ্রহ দুটি। ইউরেনাসের বায়ুমণ্ডলে মিথেন গ্যাস থাকায় একে দেখাবে সবুজাভ। বছরে একবার ইউরেনাস খালি চোখে ধরা পড়ার মত উজ্জ্বল হয়। আরেকটু দূরবর্তী নেপচুনকে অবশ্য দেখা যাবে তারকার মতো যদিও এরও বায়ুমণ্ডল ইউরেনাসের মতই।
অনান্যঃ
গ্রহদের বাইরেও সৌরজগতের আরো কিছু বস্তু দেখতে আপনাকে সহায়তা করবে দুরবিন। খোঁজ রাখতে পারেন অনিয়মিত ধূমকেতুদের (Comet)। দুরবিনে ১২ টি পর্যন্ত গ্রহাণুও (Asteroid) দেখা যায়। আমরা যথাসম্ভব এদের আপডেট খবর ওয়েবসাইটে জানানোর চেষ্টা করবো।
৫. আমাদের হোম গ্যলাক্সি মিল্কিওয়ে দেখতে দুরবিন
পৃথিবীর নিকটবর্তী স্টার ক্লাস্টার (Star Cluster) তারাস্তবক দেখতে দুরবিন বেশ কাজে আসবে। এখানে মনে রাখার বিষয়, রাতের আকাশে আমরা যত তারা দেখি তার সবই মিল্কিওয়ের গ্যালাক্সির সম্পত্তি। তাই কিছু তারা নিয়ে গঠিত তারাস্তবক সমর্কেও একই কথা বলা চলে। বেশি দূরের ক্লাস্টার দেখতেও অবশ্য চাই টেলিস্কোপ। শীতকালের আকাশে আপনি দেখতে পাবেন কৃত্তিকা মণ্ডল (Pleiades) নামক ৭টি তারার জালি। খালি চোখে অনেকেই এখানে মাত্র ৬টি তারকা দেখলেও বাইনোকুলার আপনাকে আরো অনেকগুলো দেখিয়ে দেবে। এর দূরত্ব পৃথিবী থেকে ৪০০ আলোকবর্ষ
আরেকটি দারুণ জিনিস আপনি দেখতে পাবেন আদম সুরত তথা কালপুরুষ (Orion) তারামণ্ডলীতে। এটিও ভালো দেখা যাবে শীতকালে। এর নাম ওরিওন নেবুলা। অন্য দিকে গ্রীষ্মকালে দেখতে পাবেন ধনুমণ্ডলীতে (Sagittarius) অবস্থিত লেগুন নেবুলা। মিল্কিওয়ে নিজেই একটি দর্শনীয় বস্তু। চোখে পড়বে অনেক বেশি তারকা এবং আরো আরো নানান কিছু।
৬. মিল্কিওয়ে ছাড়িয়ে
পৃথিবীর কাছাকাছি গ্রহদের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য গ্যালাক্সি এ্যান্ড্রোমিডা। খালি চোখে এটি দেখা গেলেও বাইনোকুলার এর সৌন্দর্য্য তুলে ধরবে আরো বেশি করে। পাশাপাশি দেখার মতো আরো আছে বড় ও ছোট ম্যাজেলানিক ক্লাউড।
মোটকথা আপনি নতুন তারা দেখা শুরু করলে দুরবিনই আপনার জন্যে টেলিস্কোপের চেয়ে বেশি কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। 
Category: articles

বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০১৫

দিক নির্ণয়ের এই কৌশলটি আমার মতে সবচেয়ে সহজ। কারণ, বাস্তবে করতে গিয়ে কোন ঝামেলা ছাড়াই সুফল পেয়েছি।

প্রয়োজনীয় পরিবেশ: উন্মুক্ত সূর্যালোক

প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি
১। একটি খুঁটি, লাঠি বা ছড়ি (১ ফুট লম্বা হলেই যথেষ্ট)
২। (আবশ্যিক নয়) ৩-৪টি ছোট ছড়ির টুকরো (৬ ইঞ্চি উচ্চতার)

কার্যপ্রণালী
১। একটি মসৃণ  ও সমতল স্থানে যান। ঐ স্থানে সূর্যের আলোর উপস্থিতি থাকতে হবে। এমন জায়গা বাছাই করতে হবে যেন অন্তত ২০-৩০ মিনিটের মধ্যে জায়গাটি ছায়ার দখলে না যায়
২। ভূমির সাথে খাড়াভাবে বড় খুঁটিখানা পুঁতে দিন।
৩। খুঁটির ছায়ার একেবারে প্রান্তে একটি দাগ দিয়ে রাখুন। অথবা, ছোট একখানা খুঁটি বসিয়ে দিন।
৪। ৫-১০ মিনিট অপেক্ষা করুন। দেখবেন, ছায়ার প্রান্তভাগ আগের জায়গা থেকে সরে গেছে।
৫। ৩ ও ৪ নং ধাপ অন্তত ৩-৪ বার করুন।


৬। এবারে খেয়াল করুন, সবগুলো খুঁটি বা দাগ একটি সরল রেখা তৈরি করেছে। এই রেখাটিই পূর্ব-পশ্চিম দিক নির্দেশ করছে। তাহলে, পশ্চিম দিক হচ্ছে যেদিকে প্রথম দাগ বা ছোট খুঁটিটি ছিল। আর, যেদিকে শেষ খুটি বসিয়েছেন সেদিকেই পূর্ব দিক।

এবার যদি আপনি পূর্ব দিকে মুখ কর দাঁড়ান, তার অর্থ হবে আপনার বাঁয়ে উত্তর দিক এবং ডানে দক্ষিণ।


এর আগে আমরা দেখেছিলাম, কিভাবে ধ্রুবতারা (North Star বা Polaris) দিয়ে উত্তর বের করা যায়। তবে, ঐ কৌশল কাজ করবে মেঘমুক্ত রাতের আকাশে। আর এখনকার কৌশল কাজ করবে দিনে। তাহলে রাত দিন ২৪ ঘণ্টাই আমরা খুব সহজেই দিক নির্ণয় করতে পারবো। শর্ত একটিই, মেঘমুক্ত আকাশ।

এটা কীভাবে কাজ করে?

আমরা জানি পৃথিবী পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে নিজ অক্ষের উপর আবর্তিত হচ্ছে। এ কারণেই সূর্যকে পূর্ব থেকে পশ্চিমে যাচ্ছে বলে মনে হয়। এই জন্যে সূর্য যতই পশ্চিম দিকে যেতে থাকে তার ছায়া ততোই পূর্ব দিকে সরতে থাকে। এখানে এ তথ্যটিই কাজে লাগানো হচ্ছে। অবশ্য আমরা জানি, সূর্য সব সময় ঠিক পূর্ব দিক থেকে উদিত হয় না বা ঠিক পশ্চিম দিকে অস্তও যায় না। বছরজুড়ে নিরক্ষরেখা থেকে দক্ষিণে বা উত্তরে সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয়ের ঘটনা ঘটে।

তবুও এ কৌশল কাজ করে, কারণ সূর্যের গতিপথ যেদিকেই থাকুক, ছায়া পূর্ব-পশ্চিম বরাবরই থাকে। 
Category: articles

সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০১৫

আমরা আগেই জেনেছি, সৌরজগতের খালি চোখে দৃশ্যমান ৫টি গ্রহের মধ্যে শনিই সবচেয়ে অস্পষ্ট। কিন্তু কিছু দিন ধরেই রাতের আকাশে চলছে এই নিয়মের ব্যতিক্রম। এই ব্যত্যয় চলবে এ মাসেও। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে, এই মাসেও উত্তর গো্লার্ধের আকাশে বুধ (Mercury) সন্ধ্যার গোধূলীর আভায় লুকিয়ে থাকবে। অন্য তিনটি দৃশ্যমান গ্রহও তথা শুক্র (Venus), বৃহস্পতি (Jupiter) ও মঙ্গল (Mars) সূর্যাস্তের আগে দেখা দেবে পূর্ব দিগন্তে। বিস্তারিত জানা যাক একে একে।
বুধঃ
আমরা জানি, বুধ সৌরজগতের সবচেয়ে ভেতরের (Innermost) গ্রহ এবং তাই এর অবস্থান থাকে সব সময় সূর্যের কাছাকছি। ২০১৫ সালের জুলাই মাসে গ্রহটি ভোরের আকাশ থেকে সন্ধ্যার আকাশে পাড়ি দিয়েছিল। সেপ্টেম্বরের শেষ পর্যন্ত এটি সন্ধ্যার আকাশেই থাকবে। তবে, গত কয়েক মাসের মতোই উত্তর গোলার্ধের আকাশপ্রেমীদের এই গ্রহটি দেখার ব্যাপারে কিছুটা হতাশ হতে হবে। উল্টো দিকে দক্ষিণ গোলার্ধে কিন্তু বছরের সবেচেয়ে ভালো সাজে দেখা যাবে গ্রহটিকে।
দক্ষিণ ও ক্রান্তীয় উত্তর অঞ্চলে (কর্কটক্রান্তি রেখা) গ্রহটি সূর্যের ২ ঘণ্টা পর পর্যন্ত দিগন্তের উপরে থাকবে। মধ্য-উত্তর গোলার্ধে সূর্যাস্তের  ১ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যেই বুধও অস্ত যাবে। আরো উত্তরে দুরবিন দিয়েও একে খুঁজে পাওয়া দুষ্কর হবে। মাস শেষে গ্রহটি সন্ধ্যার আকাশ থেকে লাফ দিয়ে চলে যাবে ভোরের আকাশে। অক্টোবরে অবশ্য উত্তর গোলার্ধে একে ভালোই চোখে পড়বে।

শনিঃ
পুরো সেপ্টেম্বর মাসেই মেঘমুক্ত আকাশে সন্ধ্যা নামার সাথে সাথেই শনি গ্রহ দৃষ্টির সামনে চলে আসবে। উত্তর অক্ষাংশ অঞ্চলে সন্ধ্যার কয়েক ঘণ্টা পর পর্যন্ত শনি দিগন্তের উপরে হাজির থাকবে। তবে, দক্ষিণ গোলার্ধের আকাশে গ্রহটি আরো বেশি সময় এমনকি মধ্য রাত পর্যন্ত জ্বলজ্বল করবে।
কিভাবে চেনে যাবে গ্রহটিকে? অনেক দিন ধরেই এটি দক্ষিণ-পশ্চিম আকাশের কাঁকড়াবিছার মতো আকৃতির তারামণ্ডলী বৃশ্চিকের সামনে অবস্থান করছে। দেখতে সোনালী রঙ এর গ্রহটি স্থির আলো প্রতিফলিত করে। অর্থ্যাৎ, এটি নক্ষত্রের মত মিটমিট করে জ্বলে না। এ মাসে একে চাঁদের পাশে দেখা যাবে। তারিখটি হচ্ছে ১৮ সেপ্টেম্বর। দুরবিন ছাড়া কখোনই এর উপগ্রহগুলো চোখে পড়ে না।

শুক্রঃ
সেপ্টেম্বরের ২১ তারিখকে কেন্দ্র করে এক সপ্তাহ জুড়ে শুকতারা শুক্র এই মাসে নিজের সবচেয়ে উজ্জ্বল আলো প্রতিফলিত করবে। দৃশ্যমান অবস্থায় একে চিনতে কখোনোই ভুল হয় না। কারণ, এটি পৃথিবীর আকাশের ৩য় উজ্জ্বলতম বস্তু যেখানে ১ম ও ২য় বস্তুদ্বয় এর সাথে তুলনীয়ই নয়। কারণ, এরা হলো যথাক্রমে সূর্য ও চন্দ্র।
তবে গ্রহটিকে দেখে মুগ্ধ হবার জন্যে ২১ তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা করার কোন মানে নেই। কারণ, পুরো মাসেই পূবাকাশে ভোরের আলো ফুটে ওঠার আগেই গ্রহটি উজ্জ্বলভাবে চোখে ধরা দেবে। পাশাপাশি অনুজ্জ্বল গ্রহ মঙ্গলকে খুঁজে পেতেও কাজে আসবে গ্রহটি। সেপ্টেম্বরের ৯, ১০ ও ১১ তারিখে অপসৃয়মান ক্রিসেন্ট মুনের (অর্ধ-চন্দ্র) সাহায্যে  শুক্র (Venus), বৃহস্পতি (Jupiter), ও মঙ্গলকে খুঁজে পাওয়া যাবে।


মঙ্গলঃ 
জুনের মাঝামাঝিতে মঙ্গল ভোরের আকাশে পাড়ি দিয়েছিল। সূর্যের চারদিকে পৃথিবী ও মঙ্গলের কক্ষীয় গতি প্রায় সমান। পৃথিবীর ক্ষেত্রে বেগটি যেখানে সেকেন্ডে ১৮ মাইল, মঙ্গলের ক্ষেত্রে তা ১৫। ফলে সূর্যোদয়ের আভা থেকে গ্রহটি রেহাই পেতে সময় লেগে যায়। তবে একবার রেহাই পেলে তা কিছু দিন বলবৎ থাকে। এটিই ঘটছে দক্ষিণ গোলার্ধের আকাশে গত কয়েক মাস ধরে।
এই মাসে শুক্রের ভোরের আকাশে উপস্থিতি মঙ্গলকে খুঁজে পেতে সুবিধা করে দিয়েছে। তারিখ যতোই এগোতে থাকবে, গ্রহটি সূর্যোদয়ের ততোই আগে দেখা যেতে থাকবে এবং দেখাও যাবে ক্রমান্বয়ে দিগন্ত থেকে বেশি উপরের দিকে। পুরো মাস জুড়ে মঙ্গলের কাছাকাছি অবস্থান করে শুক্র গ্রহটিকে খুঁজে পাবার ক্ষেত্রে লাইটহাউসের ভূমিকা পালন করবে।

বৃহস্পতিঃ
পৃথিবীর আকাশে অন্য যে কোন নক্ষত্রের চেয়েও সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহটি বেশি উজ্জ্বল দেখায়। শুক্রের পরেই উজ্জ্বলতায় এর অবস্থান। এ বছরের আগস্টে শুক্রের সাথে সাথে এটিও চলে আসে ভোরের আকাশে। তবে, এ মাসে মঙ্গল বা শুক্রের চেয়ে এর অবস্থান সূর্যের আভার বেশি কাছে। তবে তারিখ গড়াবার সাথে সাথে গ্রহখানা উল্লেখিত গ্রহ দুটির দিকে এগোতে থাকবে। অক্টোবরের ১৭ তারিখে এটি মঙ্গলকে ধরে ফেলবে এবং ২০১৮ সাল পর্যন্ত নিকটতম অবস্থানের রেকর্ড ধরে রাখবে।

অক্টোবরের ২৬ তারিখে এটি ধরে ফেলবে শুক্রকে এবং বছরের তৃতীয় ও শেষ মিলন ঘটাবে। একই তারিখে মঙ্গলকে সাথে নিয়ে এই তিন গ্রহ একটি চমৎকার প্রদর্শনী দেখাবে যার আবার দেখতে অপেক্ষা করতে হবে ২০২১ সাল পর্যন্ত।


তথ্যসূত্রঃ Earthsky
Category: articles

বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০১৫


২০১৫ সালের জুলাই মাস দুটি পূর্ণিমা (full moon) পাচ্ছে। এই ঘটনা কিন্তু অহরহ ঘটে না। অধিকাংশ ইংরেজি মাসই একটিই মাত্র পূর্ণিমা পায়। সত্যি বলতে, প্রতি দুইকি তিন বছরের মধ্যে একবার এই ঘটনা ঘটে। আর এই ক্ষেত্রে  ২য় পূর্ণিমাটিকে বলা হয় ব্লু মুন (Blue Moon)।
এই মাসের প্রথম পূর্ণিমাটি ঘটতে যাচ্ছে ২ তারিখ। বাংলাদেশ সময় ৮টা বেজে ২০ মিনিটে।
এই মাসে আরেকটি পূর্ণিমা হবে জুলাইয়ের ৩১ তারিখে। তার মানে সেটিই হচ্ছে ব্লু মুন, অন্তত নামের দিক দিয়ে, সে দেখতে যেমনই হোক না কেন।

একই মাসে আবার দুটি পূর্ণিমা পেতে অপেক্ষা করতে হবে ২০১৮ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত। ঐ বছর ফেব্রুয়ারিতে কোন পূর্ণিমাই হবে না। মার্চেই আবার হবে দুটো।

কারণ, ফেব্রুয়ারি বাদ দিলে অন্য সব মাসই ৩০ বা ৩১ দিনের। আর দুটি পূর্ণ চন্দ্র তথা পূর্ণিমার মাঝখানে ব্যাবধান থাকে ২৯.৩ দিন থেকে ২৯.৮ দিনের। ফলে, কোন মাসের একটি পূর্ণিমা যদি মাসের একেবারে শুরুতেই ঘটে যায়, তাহলেই ব্লু মুন পাবার সম্ভাবনা তৈরি হয়ে যায়।

ফলে, ফেব্রুয়ারিই একমাত্র মাস যাতে কোনোভাবেই দুটি পুর্ণিমার সুযোগ তৈরি হবে না। আবার, এটাই একমাত্র মাস যাতে অনেক সময় একটি পূর্ণিমাও নাও হতে পারে। যেমন দেখুন ২০১৮ সালে ফেব্রুয়ারি মাসে একটিও পূর্ণ চন্দ্র নেই। একই ঘটনা ঘটবে আবার ২০৩৭ সালে। তার অর্থ ঐ দুটি বছর দুটি করে ব্লু মুন পাওয়া যাবে। মানে একই বছরে এমন দুটি মাস পাওয়া যাবে যাতে দুটি করে পূর্ণিমা সংঘটিত হবে।
জানতে চান পূর্ণিমা কিভাবে ঘটে?
সূত্রঃ Earth Sky
Category: articles

বুধবার, ১ জুলাই, ২০১৫

গত মাসের মত এ মাসেও চলুন জেনে নিই কোন গ্রহের কী খবর। এ মাসে কোন গ্রহ কোথায় চোখে পড়বে এবং ধীরে ধীরে ওরা কোন দিকে যাবে এবং কিছু দিন পর ওদেরকে কোথায় পাওয়া যাবে, এসব জানাই এই পোস্টের উদ্দেশ্য।
বৃহস্পতি ও শনিঃ
এই মাসে যেহেতু এই দুই উজ্জ্বল গ্রহ সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে এসেছে, তাই একত্রেই উল্লেখ করলাম। পৃথিবীর রাতের আকাশের উজ্জ্বলতম বস্তু এবং সার্বিকভাবে ৩য় উজ্জ্বল বস্তু (সূর্য ও চন্দ্রের পরে) গ্রহ শুক্রের অবস্থান জুনের শেষ ও জুলাইয়ের শুরুর দিনগুলোতে বৃহস্পতির একেবারে কাছাকাছি। তবে সবচেয়ে নিকটে অবস্থান জুনের ৩০ ও জুলাইয়ের ১ তারিখে। এই দুইটি দিনে এরা এতই কাছাকাছি থাকে যে পৃথিবী থেকে দেখতে চাঁদের ব্যাস যতটুকু মনে হয় এদের আপাত দূরত্ব তার চেয়ে কম। ২০১৬ সালের ২৭ আগস্টের আগে এরা আর এতটা নিকটবর্তী হবে না।
কিন্তু পশ্চিম আকাশের সৌন্দর্য্য জুলাইয়ের ১ তারিখেই শেষ হচ্ছে না। বছরের এই সময়গুলোতে শুক্র এমনিতেই বেশি উজ্জ্বল। কিন্তু এই মাসের ৯-১০ তারিখের দিকে এটি এর সর্বোচ্চ ঔজ্জ্বল্য প্রদর্শন করবে।
মাসের শুরুর দিকে মধ্য-উত্তর অক্ষাংশে সন্ধ্যার পর শুক্র আকাশে থাকবে ৩ ঘণ্টার কাছাকাছি। মাসের শেষের দিকে এই সময়টি হয়ে যাবে মাত্র ১ ঘণ্টা। আগস্টের মাঝামাঝিতে এটি আমাদের সন্ধ্যার আকাশকে বিদায় জানাবে।
শুক্রের মতো বৃহস্পতিও আগস্টে চলে যাবে ভোরের আকাশে। ২০১৫ সালের ২৬ অক্টোবরে এরা ভোরের আকাশে আবার খুবই নিকটাবস্থানে আসবে। ঐ একই দিনে আরেকটু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটবে। এই দুই গ্রহের সাথে যোগ দিবে মঙ্গল। ২০২১ সালের আগে এই তিন গ্রহ আর এত কাছে আসবে না।

মাসের ১৭-১৮ তারিখে গ্রহ দুইটি চাঁদ এবং সিংহ মণ্ডলীর উজ্জ্বলতম নক্ষত্র রেগুলাসের সাথে জড়সড় হয়ে থাকবে। ফলে ঐ দিনের পশ্চিম আকাশ অল্প একটু জায়গায় অনেকগুলো উজ্জ্বল বস্তু পেয়ে ধন্য হবে।

বৃহস্পতি গ্রহ হওয়ায় এর নিজস্ব আলো না থাকলেও এটি রাতের আকাশে যতক্ষণ থাকে উজ্জ্বলতায় হার মানিয়ে দেয় নক্ষত্রদেরও।

মঙ্গলঃ
জুনের ১৪ তারিখে মঙ্গল পাড়ি দিয়েছিল ভোরের আকাশে। আগস্ট বা সেপ্টেম্বরের আগে গ্রহটিকে চোখের লেন্স দিয়ে দিয়ে ধরতে পারার সম্ভাবনা ক্ষীণ।

শনিঃ
বছরের এই সময়টি আসলে সত্যি বলতে এই গ্রহটির রাজত্বই চলে রাতের আকাশে। বৃশ্চিক মণ্ডলীর (Scorpius) মাথার সামনে এটি উজ্জ্বল হয়ে জ্বলে উঠে সন্ধ্যার পরপরই। থাকেও প্রায় সারা রাত। জুলাইয়ের ২৪, ২৫ ও ২৬ তারিখে গ্রহটি বৃশ্চিকের উজ্জ্বলতম ও রাতের আকাশের ১৬ তম উজ্জ্বল নক্ষত্র জ্যেষ্ঠা (Antares) এবং চাঁদের সাথে মিলেমিশে থাকবে।

বুধঃ
বুধ সূর্যের নিকটতম গ্রহ। গত মাসের মত এ মাসেও গ্রহটি উত্তর গোলার্ধের মানুষের খালি চোখে দেখা যাবে না। জুলাইয়ের ২৩ তারিখ পর্যন্ত এটি ভোরের আকাশে অতঃপর পাড়ি দেবে সন্ধ্যার আকাশে।
Category: articles

শনিবার, ২০ জুন, ২০১৫

পৃথিবী থেকে সূর্যের গড় দূরত্ব ১৫ কোটি কিলোমিটার। তবে এই দূরত্ব সব সময় একই থাকে না। থাকত যদি পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘুরতে বৃত্তাকার পথে। কিন্তু সব গ্রহই সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে উপবৃত্তাকার পথে। কেপলারের গ্রহের প্রথম সূত্র অনুসারে।



সূর্যের চারদিকে পৃথিবীর কক্ষপথের সবচেয়ে কাছের অবস্থানকে বলে অনুসূর। আর সবচেয়ে দূরের অবস্থানের নাম অপসূর। পৃথিবী সূর্যের সবচেয়ে কাছে থাকে জানুয়ারি মাসে। আর সবচেয়ে দূরে থাকে জুলাই মাসে। মজার ব্যাপার হলো, আমরা অনেকেই মনে করি, শীত কালে সূর্য পৃথিবীর সবচেয়ে কাছে থাকে। অথচ জানুয়ারির তীব্র শীতের সময়ই কিন্তু আমরা সূর্যের সবচেয়ে কাছে থাকি। এই ধারণা ভুল হওয়ার আরও সহজ প্রমাণ হলো, ঐ জানুয়ারি মাসেই কিন্তু দক্ষিণ গোলার্ধে থাকে তীব্র গরম। আসল কথা হলো শীত বা গরম পৃথিবী-সূর্যের দূরত্বের কারণে হয় না। হয় পৃথিবীর কক্ষ তল হেলে থাকার কারণে।

আরও পড়ুন
☛ অনুসূর বনাম অপসূর

অনুসূর অবস্থানে পৃথিবী সূর্য থেকে ১৪.৭ কোটি কিলোমিটার দূরে থাকে। আর জুলাই মাসে অপসূর অবস্থানে এলে এই দূরত্ব বেড়ে হয় ১৫.২ কোটি কিলোমিটার।

পৃথিবী থেকে সূর্যের দূরত্ব 

জ্যোতির্বিদ্যায় পৃথিবী থেকে সূর্যের দূরত্ব খুব বেশি গুরুত্ব বহন করে। সৌরজগতের বিভিন্ন গ্রহ উপগ্রহের দূরত্বের হিসাব করতে কাজে লাগে এ দূরত্বটি। এই দূরত্বের গড়কে বলা হয়
এক অ্যাস্ট্রোনমিকেল ইউনিট (এইউ) । মহাজাগতিক বস্তুর দূরত্বের পরিমাপে আলোকবর্ষের মতো এই এককটিও খুব গুরুত্বপূর্ণ। অনেক ক্ষেত্রেই দূরত্ব বলা ও বোঝা দুই ক্ষেত্রেই এইউ একক্টি সুবিধাজনক।

আরও পড়ুন
☛ জ্যোতির্বিদ্যায় দূরত্বের এককেরা

প্লুটো আমাদের থেকে ৫৮৭ কোটি কিলোমিটার দূরে আছে। এটাকে এভাবে বললে আরও সহজ হয়: ৩৯ এইউ। একইভাবে সূর্য থেকে বৃহস্পতি গ্রহের দূরত্ব হয় ৫ দশমিক ২। নেপচুনের দূরত্ব প্রায় ৩০ এইউ। ধূমকেতুর উৎসস্থল বলে অনুমিত সৌরজগতের একেবারে প্রান্তের দিকে অবস্থিত উর্ট মেঘের দূরত্ব সূর্য থেকে ১ লক্ষ এইউ।

অন্য দিকে, সৌরজগতের সবচেয়ে কাছের নক্ষত্র প্রক্সিমা সেন্টৌরির (Proxima centauri) দূরত্ব পৃথিবী থেকে প্রায় আড়াই লাখ এইউ। কিন্তু এই দূরত্বটি এতই বেশি যে একে আলোকবর্ষ এককে মাপাই বেশি সুবিধাজনক। সেই হিসেবে এর দূরত্ব ৪ দশমিক ২ আলোকবর্ষ।

কে মেপেছেন এই দূরত্ব?
খৃষ্টের জন্মের ২৫০ বছর আগেই অ্যারিসটারকাস দূরত্বটি মাপেন। সাম্প্রতিক সময় ১৬৫৩ সালে ক্রিষ্টিয়ান হাইগেনও মাপেন এই দূরত্ব। ১৬৭২ সালে আবার মাপেন গিওভানি ক্যাসিনি। তার পদ্ধতি ছিল লম্বন পদ্ধতি।

সূত্র
১। ইউনিভার্স টুডে: হাউ ফার ইজ আর্থ ফ্রম দ্য সান
২। উইকিপিডিয়া: পেরিহেলিয়ন ও অ্যাপহেলিয়ন
Category: articles

মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০১৫

 রাতের আকাশে যখন পৃথিবী থেকে দেখতে চাঁদের পুরোটাকে আলোকিত মনে হয় তাকেই আমরা বলি পূর্ণিমা, পূর্ণ চন্দ্র বা ফুল মুন (full moon)। কিন্তু কিভাবে ঘটে পূর্ণিমা?

পৃথিবীর আবর্তনের জন্যে চন্দ্র, সূর্য ও রাতের নক্ষত্রদের পূর্ব থেকে পশ্চিমে যেতে দেখা যায়। চাঁদের ক্ষেত্রে আরেকটি ব্যাপার হচ্ছে এটি আবার পৃথিবীকে কেন্দ্র করেও ঘুরছে। ফলে অন্য গ্রহ নক্ষত্রদের চেয়ে প্রতি দিনের রাতের এর অবস্থান পরিবর্তন হয় তুলনামূলক অনেক বেশি। 
পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করতে করতে একটা সময় চন্দ্র, পৃথিবী ও সূর্যের সাথে একই রেখায় আসে। আর এই কল্পিত রেখার মাঝখানে যখন পৃথিবী থাকে, তখনই পশ্চিম দিক থেকে আসা সূর্যের আলো সোজাভাবে পূর্ব দিকে থাকা চাঁদের উপর গিয়ে পড়ে। ফলে, পৃথিবী থেকে দেখতে চাঁদের পুরোভাগ আলোকিত হয়ে থালার মতো দেখা যায়।
এ সময় চাঁদ দিগন্তের খানিকটা মাত্র উপরে থাকে। সূর্য যখন দিগন্ত থেকে আরো বেশি নিচে নেমে যায়, তখন পূর্ব দিকে চাঁদও দিগন্তের আরো  উপরে উঠে আসে। এভাবে সারা রাত চলে ভোরের যখন সূর্যোদয় ঘটে চাঁদ তখন পশ্চিম দিগন্ত দিয়ে অস্ত যায়।

সহজ ভাষায় এটাই হলো পূর্ণিমা হবার কারণ। কিন্তু প্রশ্ন করা যায়, সূর্যগ্রহণ বা চন্দ্রগ্রহণের সময়ওতো চাঁদ, পৃথিবী ও সূর্য একই রেখায় থাকে। তাহলে প্রতিটা পূর্ণিমাতেই কেন চন্দ্রগ্রহণ হয় না?
এটা ঠিক যে, চন্দ্রগ্রহণ একমাত্র পূর্ণিমার সময়েই ঘটতে পারে। আবার সূর্যগ্রহণও হতে পারে যখন এই তিন বস্তু একই রেখায় থাকে। তখন অবশ্য তিনজনের মধ্যে মাঝখানে থাকতে হবে চাঁদকে।

প্রতি  পূর্ণিমাতেই চন্দ্রগ্রহণ না হবার কারণ হচ্ছে, পৃথিবী থেকে দেখতে দিগন্তের উপরে-নিচে হিসেব করলে আমরা চাঁদ ও সূর্যকে পৃথিবীর সাথে একই রেখায় দেখবো। কিন্তু চাঁদ ঐ সময়টিতে তথা পূর্ণিমার সময় একটু উত্তরে বা দক্ষিণে থাকতে পারে। এটাই ঘটে অধিকাংশ সময়।
কিন্তু যখনই উত্তর-দক্ষিণে না থেকে বরাবরে অবস্থান করে তখনই পূর্ণিমা পরিণত হয় চন্দ্রগ্রহণে।

অনেক সময় একই মাসে দুটি পূর্ণিমা ঘটে যেতে পারে। বিস্তারিত জানতে দেখুন এই পোস্ট।
Category: articles

বুধবার, ৩ জুন, ২০১৫

উল্লেখ্য, সৌরজগতের আটটি গ্রহের মাত্র ৫ টি খালি চোখেই ভালো দেখা যায়। বাকি ২টি দেখা যায় না। আরেকটি? আরে, আরেকটিতো পৃথিবীই। এর মধ্যে শুক্র, বৃহস্পতি ও শনিকে বেশ সহজেই দেখা যায়।
আচ্ছা, একে একেই দেখি।
শুক্রঃ শুক্রকে প্রতি সন্ধ্যায়ই চোখে পড়ে পশ্চিমাকাশে। তবে বছরের এ সময় সন্ধ্যার পর প্রায় ৩ ঘণ্টা পর্যন্ত দিগন্তের উপরে থাকে। সূর্য ও চন্দ্রের পরেই কিন্তু আকাশের সবচেয়ে উজ্জ্বল বস্তু শুক্র। এটা অবশ্য বলা হচ্ছে পৃথিবীর দৃষ্টিভঙ্গি থেকে। প্রকৃত উজ্জ্বলতা অবশ্যই ভিন্ন।
জুনের ৬ তারিখে এই গ্রহের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটবে। ঐ দিন পশ্চিমাকাশে পৃথিবী, শুক্র ও সূর্যের অন্তর্গত কোণ তথা দ্রাঘণ  (elongation) হবে সর্বোচ্চ। পুরো জুন জুড়েই সন্ধ্যার পরে সন্ধ্যাতারাটি লাইটহাউসের মতো সূর্যের আলো প্রতিফলন করতে থাকবে। জুনের ১৮ ও ১৯ তারিখের আগে ও পরে কয়েকদিন রমজানের নতুন চাঁদকে দেখা যাবে শুক্র গ্রহের আশেপাশেই।

বৃহস্পতিঃ
সন্ধ্যার পর ৩ ঘণ্টা পর্যন্ত রাতের আকাশের উজ্জ্বলতায় শুক্রের একক রাজত্বের পতনের পর উত্তরাধিকার লাভ করবে বৃহস্পতি। গ্রহরাজ এতখানিই উজ্জ্বল যে একে ভুলক্রমে শুক্র ছাড়া অন্য কিছু মনে করে ফেলার কোন কারণই নেই।
বছরের শুরুতে বৃহস্পতি আকাশে শুক্রের বিপরীত প্রান্তে থাকলেও জুনে এসে এটি সন্ধ্যার পরে অবস্থান করে শুক্রের মতোই পশ্চিমাকাশে, শুক্রের একটু উপরে।
মজার ব্যাপার হচ্ছে, জুনের শেষ দিক থেকে শুরু করে ২০১৬ সালের ২৭ আগস্ট পর্যন্ত এই দুই উজ্জ্বল গ্রহ থাকবে নিকটতম দূরত্বে।
পৃথিবীর আকাশে বৃহস্পতির উজ্জ্বলতা যে কোনো নক্ষত্রের চেয়েও বেশি। তবে রাতের আকাশের উজ্জ্বলতার রাজত্বের সময়কাল কমে গেছে গ্রহটির। কিছু দিন আগে রাতের অনেকাংশ ধরে সূর্যালোক প্রতিফলিত করলেও এই মাসের শুরুর দিকে এটি দিগন্তের উপরে থাকবে শুক্র ডুবে যাবার পর ১ থেকে ২ ঘণ্টা। জুনের শেষ দিকে দুই গ্রহ এতই কাছাকাছি থাকবে যে অস্ত যাবে প্রায় একই সময়ে।
মধ্যে-উত্তর গোলার্ধে মাসের প্রথম দিকে গ্রহটি আকাশে থাকবে সাড়ে ৩ ঘণ্টা আর মাসের শেষের দিকে থাকবে আড়াই ঘণ্টা।
খালি চোখে বৃহস্পতির কোন উপগ্রহ চোখে পড়বে না। তবে দুরবিনের সহায়তায় চারটি উপগ্রহ- আয়ো, ইউরোপা, গ্যানিমিড ও ক্যালিস্টোকে চোখে পড়বে। এই চারটি গ্রহকে আবিষ্কারের বদৌলতে বিজ্ঞানী গ্যালিলিওর নাম অনুসারে গ্যালিলিয়ান উপগ্রহ বলা হয়।
জুনের বিশ তারিখে চাঁদ বৃহস্পতিকে অতিক্রম করে আরো পূবে চলে আসবে। পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহটি ঠিক তার পরদিনই পেরিয়ে আসবে সিংহরাশির (Leo Constellation) উজ্জ্বলতম নক্ষত্র রেগুলাসকে।
শনিঃ
রাত নামার পরই সোনালী গ্রহ শনির রাজত্ব শুরু হবে পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব আকাশে। থাকে প্রায় ভোর পর্যন্ত। সারা রাত পশ্চিমে ঘোড়া দৌড়িয়ে ভোরের দিকে হাজির হয় দক্ষিণ-পশ্চিম আকাশে। জুনের ১ ও ২ তারিখে গ্রহটি পূর্ণ চাঁদ ও জ্যেষ্ঠা (Antares) তারকার খুবই কাছাকাছি ছিল।
শনির কোন উপগ্রহই বাইনুকুলার দিয়েও চোখে পড়ে না, প্রয়োজন হবে ছোট্ট একখান টেলিস্কোপের। কারণ! শনিতো বৃহস্পতির চেয়ে দূরে থাকে।

মঙ্গলঃ
অনেক দিন ধরেই মঙ্গল গ্রহটি নিজেকে গোধূলির আলোয় লুকিয়ে রাখছে। ফলে, প্রতি মাসে দুই এক দিন ছাড়া একে দেখা সম্ভব ছিল না। জুনের ১৪ তারিখে এটি হাজির হবে ভোরের আকাশে। এ মাসেও লাল গ্রহটি দৃষ্টির আড়ালে থেকে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
বুধঃ
সূর্যের সবচেয়ে নিকটতম গ্রহটি উত্তর-গোলার্ধ থেকে ভালো চোখে পড়বে না। তবে, দক্ষিণ গোলার্ধের লোকেরা জুনের ১০ তারিখের দিকে একে ভোরের আকাশে দেখবেন। মধ্য-উত্তর গোলার্ধ থেকে গ্রহটিকে জুনের ২২ বা ২৩ তারিখে দেখা যাবে। যাদের বাইনোকুলার আছে, পূবাকশে একটু উঁকিঝুঁকি মেরে দেখতে পারেন।
জুলাইর ২৩ তারিখ নাগাদ বুধ ভোরের আকাশেই থাকবে। এর পরে এটি হাজির হবে সন্ধ্যার আকাশে।

উল্লেখ্য, রাতের আকাশে যাই দেখি তাদেরকেই আমরা 'তারা' বললেও এই পাঁচখান কিন্তু গ্রহ। এদের নিজস্ব আলো নেই। এরা চাঁদের মতোই সূর্যের আলোকেই আমাদের দিকে ফিরিয়ে দেয়।
 সূত্রঃ
১। earthsky
Category: articles

মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০১৫

রাতের আকাশে তারা দেখে পথ নির্ণয় করতে পারার মধ্যে এক ধরণের আনন্দ আছে। এই আনন্দের ভাগীদার হতে চাইলে আপনাকে চিনতে সপ্তর্ষীমণ্ডলী। আপনি হয়তো মনে করছেন, সন্ধ্যাতারা তথা শুক্রগ্রহকেতো চিনিই। ওটা যেহেতু পশ্চিম দিকে থাকে তাই আর কিছু জানার কী দরকার?
কিন্তু ভাই! সন্ধ্যাতারা সন্ধ্যার কয়েক ঘণ্টার পরই আপনাকে হতাশ করে দিয়ে দিগন্তের ওপারে হারিয়ে যাবে। তখন? এমন কাউকে দরকার যে তখনও আকাশে থাকবে। তাহলে, আপনার আশা পূরণ করতে পারে সপ্তর্ষীমণ্ডল। কারণ এর মাধ্যমে আপনি সহজেই খুঁজে পাবেন সব সময় উত্তর দিকে মুখ করে রাখা ধ্রুব তারা।  এটি হচ্ছে একটি তারামণ্ডলী (Constellation)। তারামণ্ডলী হচ্ছে আকাশের একেকটি এলাকা যেখানে অনেকগুলো তারকা মিলে বিভিন্ন প্রাণী ও বস্তুর আকৃতি তৈরি করেছে। অবশ্য প্রকৃতপক্ষে একেকটি তারামণ্ডলীর বিভিন্ন অবস্থান পৃথিবী থেকে ভিন্ন ভিন্ন দূরত্বে।
যাই হোক, আর্সা ম্যাজর বা সপ্তর্ষীমণ্ডলীর তারকাগুলোর মিলিত চিত্র দেখতে একটি ভালুকের মত। এতে মোট তারকা আছে অন্তত ৭২০টি। এদের মধ্যে গ্রহ আছে ২১টি তারকার। সবচেয়ে উজ্জ্বল তারকার নাম এলিওথ (Alioth) বা এপসাইলন আরসি ম্যাজোরিস। ভয় নেই, আমাদের এতগুলো তারকা কাজে লাগবে না।
কাজে লাগবে সাতটি তারকা। এগুলো বেশ উজ্জ্বল। আকৃতি হচ্ছে পেয়ালার মত। এজন্যেই এদেরকে আমেরিকায় বলা হয় বিগ ডিপার (Big Dipper) বা বড় পেয়ালা। দেখতে আবার অনেকটা লাঙলের মতোও হওয়ায় ইউরোপে একে বলা হয় লাঙল (Plough)। আর, সাতটি তারকা নিয়ে গঠিত হওয়ায় এবং এর মূল তারামণ্ডলীতে এগুলো অপেক্ষাকৃত সহজে দৃশ্যমান ও উজ্জ্বল হবার কারণে বাংলায় মণ্ডলীটির নামই হয়েছে এই সাতটি তারকার নামে-সপ্তর্ষীমণ্ডলী। শুনে মনে হয় এই তারামণ্ডলীতে যেন তারকাই আছে ৭টি। নিচে দেখুন সম্পূর্ণ তারামণ্ডলী।
ভালুকের লেজসহ পেছন দিকে ৭টি তারকার উপর ফোকাস করুন। এরাই হলো বিগ ডিপার।

এই সাতটি তারকা খুঁজে পেলেই আপনি পেয়ে যাবেন ধ্রুবতারাকে। বিগ ডিপার ও এর মাধ্যমে ধ্রুব তারাকে খুঁজে পাবার প্রাথমিক উপায় বলেছিলাম আগের পোস্টে।  কিন্তু সমস্যা দাঁড়ায় এক জায়গায়। ওখানে বিগ ডিপারের ছবি যেমন দেওয়া আছে, এটা সব সময় এরকম থাকে না। ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে তারকাগুলো অবস্থান পরিবর্তন করে।
চার ভিন্ন ঋতুতে এর অবস্থান ভিন্ন ভিন্ন জায়গায়। গ্রীষ্মকাল (Summer) তথা উন, জুলাই ও আগস্ট মাসে এটি থাকে উত্তর-পশ্চিম দিগন্তে। পরের ঋতু তথা শরৎকালের (Autumn বা Fall) তিনটি মাস তথা সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বরে এটি নেমে আসে উত্তর দিগন্তের নিম্নাংশে। শীতকালের পরের তিন মাসের জন্যে এটি অবস্থান করে উত্তর-পূর্ব দিগন্তে। বসন্তকালের তিন মাস তথা মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসে এর অবস্থান উত্তর দিগন্তের উচ্চাংশে। শরৎকালে যেখানে ছিল তার বিপরীতে উপরের দিকে। নিচে বিভিন্ন ঋতুতে এর অবস্থান দেখানো হল।
জুন, জুলাই, আগস্ট (গ্রীষ্মাকালে) সপ্তর্ষীমণ্ডলী 
সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বরে সপ্তর্ষীমণ্ডলী  
ডিসেম্বর, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে সপ্তর্ষীমণ্ডল
মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসে 

বলাই বাহুল্য, প্রত্যেক ঋতুর শেষ দিকে এর আকৃতি চিত্রের চেয়ে একটি ভিন্ন হবে। কিন্তু আকৃতি যেমনই থাকুক, এর চামচ বা পেয়ালার একেবারে সাম্নের দুটি তারকাকে যোগ করে বর্ধিত করে ৬গুণ সামনে গেলেই পাওয়া যাবে ধ্রুবতারা। তারামণ্ডলীটির অবস্থান সংক্ষেপে এভাবে দেখানো যায় -
আকাশের তারাদের বর্তমানে আমরা যে আকৃতি দেখি, সময়ের সাথে সাথে বদলে যাবে সেই চিত্র। যেমন দেখুন ১ লাখ বছর আগে বিগ ডিপারের চিত্র কেমন ছিল এবনহ ১ লাখ বছর পরে কেমন হবে।

সূত্রঃ
[১] আর্সা ম্যাজর- উইকিপিডিয়া
[২] আর্থ স্কাই 
Category: articles
প্রথমে দেখি সূর্য ব্ল্যাক হোল হতে পারবে কিনা।
না, সূর্য কখোনই ব্ল্যাক হোলে পরিণত হবে না। তারকাদের জীবনের পরিণতি ঘটতে পারে মূলত দুইভাবে। সূর্যের কাছাকাছি ভরের তারকাদের জীবনের সমাপ্তি ঘটে সরল ও শান্তভাবে। এসব তারকার অন্তর্ভাগের হাইড্রোজেন জ্বালানী ফুরিয়ে যাবার পর এরা লোহিত দানব ধাপে পদার্পণ করে। পরবর্তীতে এই লোহিত দানব নক্ষত্রই (Red Giant Star) তার বহির্ভাগ মহাকাশে নিক্ষেপ করে গ্রহ নীহারিকায় (Planetary Nebula) পরিণত করে। আর অন্তর্ভাগ সংকুচিত হয়ে শ্বেত বামন (White Dwarf) গঠন করে।
অন্য দিকে, সূর্যের চেয়ে অনেকগুণ বেশি ভারী তারকারা জ্বালানী ফুরিয়ে পরিণত হয় লোহিত সুপারজায়ান্ট তারকায়। এরাও পরে বহির্ভাগ ছুড়ে ফেলে দেয়। এই ঘটনাকে বলে সুপার নোভা বিস্ফোরণ। বিস্ফোরণের পরে থেকে যাওয়া অংশ হয় নিউট্রন তারকা নয়তো ব্ল্যাক হোলে পরিণত হয়। তারকার ভর দুই থেকে পাঁচ সৌর ভরের মধ্যে থাকলে হবে নিউট্রন স্টার। নিউট্রন নক্ষত্রের কোর বা মূলবস্তুর চাপ এত বেশি হয় যে, প্রোটন ও ইলেকট্রন একত্রিত হয়ে নিউট্রন গঠন করে।
আরো বেশি ভর হলে হবে ব্ল্যাক হোল। প্রকৃতপক্ষে, যেসব তারকার ভর পাঁচ সৌর ভরের চেয়ে বেশি হয় তাদের সুপার নোভা বিস্ফোরণের পরও মূলবস্তুর নিজস্ব অভিকর্ষ এত শক্তিশালী হয় যে, ঐ বস্তু থেকে কোন কিছুই, এমনকি আলোও বেরিয়ে আসতে পারে না। আমরা কোন বস্তু দেখি যখন ঐ বস্তু থেকে আলো আমাদের চোখে এসে পড়ে। এটা প্রমাণ করেছিলেন বিজ্ঞানী হাসান ইবনে হাইশাম। যেহেতু ব্ল্যাক হোল থেকে আলো বেরিয়ে আসতে পারে না, তাই একে দেখাও যায় না। খেতাবটাও পেল সেজন্যেই। নামটি দিয়েছিলেন আমেরিকান পদার্থিবিদ জন হুইলার।
প্রশ্ন তোলা যেতে পারে, আলো তো কোন কণা নয়, তাহলে এটা অভিকর্ষের কাছে ধরা খায় কী করে? অভিকর্ষ তো শুধু ভরের সাথে জড়িত। আলোক কণিকা ফোটনের তো ভরই নেই? ক্যামনে কী?
আসলে অভিকর্ষ ভরের সাথে সম্পৃক্ত- এটা হল নিউটনের বক্তব্য। কিন্তু অভিকর্ষের আধুনিক মতবাদ তথা আইনস্টাইনীয় মত অনুযায়ী অভিকর্ষ কোন বল নয়। অভিকর্ষ হচ্ছে স্থান কালের বক্রতা। আর, ব্ল্যাক হোল তার চারপাশের স্থান কালকে এত বেশি পরিমাণ বাঁকিয়ে দেয় যে আলোক কণা ঐ বক্রতা থেকে সরলরেখার মতো বেরিয়ে আসতে পারে না।
ফলে, ভর কম হবার কারণে সূর্য ব্ল্যাক হোল হতে পারছে না। কিন্তু ধরা যাক, কোন কারণে আমাদের সৌরজগতের সূর্য ব্ল্যাক হোল বনে গেল। সূর্য যদি ব্ল্যাক হোল হয়ে যায়, তাহলে কী ঘটবে?
পৃথিবীর কিছুই ঘটবে না। কিন্তু বিপত্তি ঘটবে পৃথিবীর প্রাণিদের নিয়ে। রেহাই পাবো না আমরাও। কেন? কারণ, সূর্য যদি ব্ল্যাক হোল হয়ে যায় তাহলে আমরা বঞ্চিত হব এর আলো থেকে। সারা দুনিয়া ঢেকে যাবে অন্ধকার পর্দার আড়ালে।
তাহলে কি বলা যায় সূর্য ব্ল্যাক হোল না হওয়াতে আমরা বেঁচে গেছি? মোটেই না। আরো ৪৫০ কোটি বছর পর সূর্য পরিণত হবে লোহিত দানব নক্ষত্রে। এই সময় সূর্য বড় হয়ে গিয়ে পৃথিবীর কাছাকাছি পর্যন্ত পৌঁছে যাবে। বিজ্ঞানীরা একমত হতে পারেননি যে পৃথিবী সূর্যের পেটে চলে যাবে নাকি বাইরেই থাকবে। তবে যদি পেটে নাও যায়, পৃথিবীতে প্রাণের অস্তিত্ব কোনভাবে অব্যাহত থাকবে না। কারণ সৌরপৃষ্ঠ কাছাকাছি হবার দরুণ যে প্রচণ্ড উত্তাপ উৎপন্ন হবে তা সহ্য করা বনী আদমের জন্যে সম্ভব হবে না। মানুষ আসলেই দুর্বল প্রাণী। মানুষ যদি টিকে যাবার উপাউ বেরও করে ফেলতে পারে বেঁচে থাকার জন্য তাও যথেষ্ট হবে না। কেননা, প্রচণ্ড তাপে সমুদ্রের পানি শুকিয়ে যাবে। অন্য কারণে মানুষ যদি তত দিনে ধ্বংস নাও হয়ে যায়, তাহলে তাকে পানি ছাড়া, অক্সিজেনের সঠিক পরিমাণ ছাড়া এবং দূষিত বায়ুমণ্ডলসহ আরো নানাবিধ বিরূপ পরিবেশে বেঁচে থাকার উপায় বের করতে হবে।
অবশ্য আমাদের আপাতত সেই চিন্তা নেই। আমাদের ৪৫০ কোটি বছরের প্রজন্মের ঘাড়ে পড়বে সেই কাজ! 
সূত্রঃ
[১] উইকিপিডিয়াঃ গ্রহ নীহারিকা 
[২] তারকার জীবনচক্র- বিবিসি 
[৩] কিউরিয়াস অ্যাস্ট্রো 
Category: articles

শনিবার, ২১ মার্চ, ২০১৫

এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় গেলেই আমরা অনেক সময় দিক হারিয়ে ফেলি। যে দিককে পশ্চিম মনে হচ্ছিল, একটু পরই দেখা যায় তার উল্টো দিকে কোন মসজিদের মুখ। কিন্তু যদি আশেপাশে যদি মসজিদ না থাকে? নেই কম্পাসও! কম্পাস থাকলেও কম্পাসের উপর চোখ বুঁজে ভরসা করা যায় না। কম্পাস দ্বারা একেবারে নিখুঁত উত্তর জানতে হলে কম্পাসের কাঁটা দেখে আরো কিছু হিসাব নিকাশ করতে হয়।
তাহলে দিক নির্ণয় করবেন কীভাবে? আকাশে তারকা আছে না? প্রাচীন কালের মানুষ দূরের পথ কিংবা সাগর যাত্রায় অনায়াসে দিক নির্ণয় করতেন তারকা দেখে।
সন্ধ্যার পরপরই আকাশে দেখা যায় তারাদের আধিপত্য। এদের সবাই অবশ্য জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষায় 'তারকা' তথা নক্ষত্র (Star) নয়। রাতের আকাশের প্রধান দুটি উজ্জ্বল তারা- যথাক্রমে শুক্র ও বৃহস্পতি তো আমাদের সৌরজগতেরই গ্রহ। যাই হোক, সন্ধ্যায় উদিত হবার পর, প্রায় সব তারাই পশ্চিম দিকে চলতে থাকে। এরা যদিও মূলত পৃথিবীকে কেন্দ্র করে প্রদক্ষিণ করে না, তবু পৃথিবীর আবর্তনের (rotation) কারণে এ রকম মনে হয়।
খেয়াল করুন, বলেছি 'প্রায় সব তারকাই পশ্চিমে যেতে থাকে'। কিন্তু একটি তারকা আছে যে সর্বদা উত্তর মেরুর উপর বসে থাকে, নড়ে চড়ে না। বরং দেখে মনে হয়, আকাশের সব তারকাই যেন ওকে ঘিরে আবর্তিত হচ্ছে। এই তারকার নাম ধ্রুবতারা। ইংরেজিতে বলে পোলারিস (Polaris) বা মেরু তারা (Pole Star)। উত্তরে থাকে বলে একে আবার নর্থ স্টার (North Star) ও বলে।

সময় বাঁচাতে চাইলে শর্টকাটে পড়ে নিনঃ
» তারার সন্ধানেঃ ধ্রুবতারা 

এই তারকা যেহেতু ঠিক উত্তর দিকে থাকে, তাই একে বের করে ফেলতে পারলেই কেল্লা ফতে! এর দিকে তাকিয়ে থাকা মানে আপনার ডানে পূর্ব, বাঁয়ে পশ্চিম আর পেছনে দক্ষিণ। যদি মনে হয়ে থাকে, ধ্রুবতারা চিনে নেওয়া অনেক ঝামেলার কাজ, তবে ভুল ধারণায় আছেন। চলুন, দেখে নেই।
ধাপ-১: সপ্তর্ষিমণ্ডলী খুঁজে বের করুন 
সপ্তর্ষীমণ্ডলী (Ursa Major) মূলত একটি তারামণ্ডলী (Constellation)। এর মধ্যে প্রধান সাতটি তারকা একটি চামচের মত আকৃতি তৈরি করেছে। এই সাতটি তারকাকে উত্তর আমেরিকায় বলে বিগ ডিপার (The Big Dipper) আর ইউরোপে বলে লাঙল (Plough)। এই সাতটি তারকা খুঁজে পাওয়া মোটামুটি বেশ সহজ। সাতটি তারকার ৩টি মিলে চামচের বাঁট আর বাকি চারটি তৈরি করেছে মাথা। ছবিতে দেখুন।। প্রথম ছবিতে খুঁজে নেবার চেষ্টা করে ২য় ছবি থেকে মিলিয়ে নিন।

আরো পড়ুনঃ
» সপ্তর্ষীমণ্ডলী খুজে পাবার উপায়



ধাপ-২: ধ্রুবতারার দিকে একটি রেখা টানুন
বিগ ডিপারের একেবারে সামনের দুটি তারকাকে মনে মনে যোগ করে বর্ধিত করুন। রেখাটিকে টেনে লম্বা করে নাক বরাবর সোজা প্রথম যে উজ্জ্বল তারকা পাবেন- সেটিই হলো আমাদের কাঙ্ক্ষিত ধ্রুবতারা। বিগ ডিপারের সামনের দুই  তারকা মিলে যে দৈর্ঘ্য হয় (লাল দাগ টেনে দেখানো হল), ধ্রুব তারার দূরত্ব তার ছয় গুণ।


আরো দেখুনঃ দিক নির্ণয়ে হাত ঘড়ি

ধাপ-৩: মিলিয়ে নিন
সন্দেহ লাগছে? আকাশে এত তারার মাঝে সন্দেহ দানা বাঁধতেই পারে- আসলেই এটা ধ্রুবতারা কিনা। আসলে ধ্রুবতারাকে আমরা বড় চামচ বিগ ডিপার দিয়ে চিনলেও এটা কিন্তু বিগ ডিপারের অংশ নয়। চামচ আছে আরেকটি। তার নাম ছোটি চামচ বা আসল নাম লিটল ডিপার (Little Dipper)। এটি অবস্থিত অন্য আরেকটি তারামণ্ডলী লঘুসপ্তর্ষী তে। বড় চামচের মত ছোত চামচও সাতটি তারায় গঠিত। অবস্থান বড় ভাইয়ের মাথার উপরে। এর বাঁটের একেবারে প্রান্তভাগের তারকাটিই হচ্ছে ধ্রুবতারা।

সূত্রঃ
[১] জ্যোতির্বিজ্ঞান পরিভাষা- উইকিপিডিয়া
[২] How to find 'Polaris' - the North Star
[৩] ভিডিও 
 [৪] ভিডিও
Category: articles

জ্যোতির্বিজ্ঞান পরিভাষা: জেনে নিন কোন শব্দের কী মানে

এখানে সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যাসহ জ্যোতির্বিদ্যায় প্রয়োজনীয় পরিভাষাগুলোর তালিকা দেওয়া হলো। সাজানো হয়েছে অক্ষরের ক্রমানুসারে। এই তালিকা নিয়মিত আপডেট...