Advertisement

ভিডিও: আর্টিমিস ২ চাঁদ থেকে গতিশীল পৃথিবীতে কীভাবে ফিরে এল?

বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন, ২০১৬

নিউটনের অদ্ভুত স্বভাব

ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, নিউটন সর্বকালের সেরা বিজ্ঞানী। মাধ্যমিক পর্যায় থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষা- সব ক্ষেত্রেই শুধু নিউটনের এই ফর্মুলা, সেই ফর্মুলা। ফিজিক্সে ও ম্যাথে সমানে গবেষণা চালিয়ে গিয়েছেন। দেখিয়েছেন পায়ের নিচে যে সূত্র (অভিকর্ষ) কাজ করে, আকাশেও তা (মহাকর্ষ) একইভাবে কাজ করে। আবিষ্কার করেছেন ক্যালকুলাস, যা ছাড়া আধুনিক পদার্থবিদ্যা পুরোপুরি অচল। আর কিছু আপাতত নাই বা বললাম।
কিন্তু মানুষটার ব্যক্তি জীবন ছিল আলাদা। নিউটন সাহবে খুব একটা সুবিধার মানুষ ছিলেন না। অন্যান্য পণ্ডিত ব্যক্তিদের সাথে তাঁর সম্পর্ক ছিল খুব খারাপ। জীবনের শেষের দিকে তার বেশির ভাগ সময় কেটেছে উত্তপ্ত বিতর্কের মধ্য দিয়ে। নিঃসন্দেহে তাঁর প্রিন্সিপিয়া ম্যাথমেটিকা ফিজিক্সের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি প্রভাবশালী বই। এটি প্রকাশের পরপরই তিনি পরিচিতি লাভ করেন। তাঁকে রয়েল সোসাইটির প্রেসিডেন্ট বানানো হয়। তিনিই বিজ্ঞানী হিসেবে প্রথম নাইট হবার সুযোগ পান।

অল্প দিনের মধ্যেই তিনি রাজকীয় জ্যোতির্বিদ (প্রচলিত নাম অ্যাস্ট্রোনোমার রয়েল) জন ফ্ল্যামস্টিডের সাথে বিবাদে জড়িয়ে পড়েন। অথচ ইনিই নিউটনকে প্রিন্সিপিয়া প্রকাশের জন্যে প্রয়োজনীয় তথ্য- উপাত্ত দিয়ে সহযোগিতা করেছিলেন। তবে এবার নিউটনের সহযোগিতার রাস্তা বন্ধ হল। নিউটনও ছেড়ে কথা বললেন না। তিনি রয়েল অবজারভেটরির পরিচালনা পর্ষদে স্থান করে নিতে সক্ষম হলেন। এবার দ্রুত উপাত্তগুলো প্রকাশনার চেষ্টা করলেন। শেষ পর্যন্ত তিনি ফ্ল্যামস্টিডের গবেষণাকর্ম জব্দ করে ফেললেন। উপরন্তু এগুলো ফ্ল্যামস্টিডের জানের শত্রু এডমন্ড হ্যালিকে দিয়ে প্রকাশ করার জন্য সব রকম প্রস্তুতি সম্পন্ন করলেন। কিন্তু ফ্ল্যামস্টিড চলে গেলেন আদালত পর্যন্ত। ঠিক সময় মতোই তাঁর চুরি হওয়া গবেষণার প্রকাশনা বন্ধ করতে আদালতের আদেশ অর্জন করে নিতে পারলেন। নিউটনের মেজাজ সপ্তমে উঠে গেল। প্রতিশোধ নেওয়ার জন্যে তাঁর প্রিন্সিপিয়ার পরবর্তী সংস্করণগুলো থেকে ফ্ল্যামস্টিডের সব রেফারেন্স ধীরে ধীরে উঠিয়ে নিলেন।
আরো ভয়াবহ বিবাদে লিপ্ত হন জার্মান দার্শনিক গটফ্রিড লিবনিজের সাথে। নিউটন ও লিবনিজ দুজনেই গণিতের ক্যালকুলাস নামে একটি শাখা তৈরি করেন। আধুনিক পদার্থবিদ্যার অন্যতম ভিত্তি এই ক্যালকুলাস। এখন আমরা জানি যে নিউটন লিবনিজের অনেক বছর আগেই ক্যালকুলাস আবিষ্কার করেছিলেন। তবে তিনি তা প্রকাশ করেন অনেক দেরি করে। কে আগে আবিষ্কার করেছেন তা নিয়ে বিতর্কের ঝড় উঠল। দুই পক্ষেই কিছু বিজ্ঞানী শক্ত অবস্থান নিলেন। তবে মজার ব্যাপার হল, নিউটনের পক্ষে লেখা বেশির ভাগ রচনাই নিউটন নিজে লিখে বন্ধুদের নাম দিয়ে প্রকাশ করেন।

বিতর্ক চরমে উঠলে লিবনিজ একটি ভুল করে বসলেন। তিনি রয়েল সোসাইটিকে এই বিতর্ক সমাধান করে দিতে প্রস্তাব দিলেন। এর প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিউটন অনুসন্ধান চালানোর জন্যে একটি 'নিরপেক্ষ' কমিটি করে দিলেন। মজার ব্যাপার হল, এই কমিটির সদস্যরা সবাই ছিল নিউটনেরই বন্ধু। কিন্তু এটাই শেষ নয়। নিউটন পরে নিজেই কমিটির রিপোর্ট লিখেন। রয়েল সোসাইটি রিপোর্ট প্রকাশও করল। এতে বলা হল, লিবনিজ গবেষণাকর্ম চুরি করেছেন। এতেও নিউটন শান্তি পাননি। তিনি রয়েল সোসালিটির নিজস্ব সাময়িকীতে রিপোর্টটি সম্পর্কে বেনামে একটি রিভিউ লিখেন। জানা যায়, লিবনিজের মৃত্যুর পরে নিউটন বলেন যে তিনি 'লিবনিজের বুক ভাঙতে পেরে' চরম তৃপ্তি পেয়েছেন।

এই দুই বিতর্কের সময়কালের মধ্যেই নিউটন ক্যামব্রিজ ও একাডেমিক জগত ছেড়ে চলে আসেন। তিনি ক্যামব্রিজে ক্যাথলিক বিরোধীতায় এবং পরবর্তীতে পার্লামেন্টের রাজনীতিতে সক্রিয় হন। শেষ পর্যন্ত রয়েল মিন্ট এর ওয়ার্ডেনের মতো লোভনীয় পদ অর্জন করেন। এখানে এসে তিনি এবার সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য পদ্ধতিতে তাঁর বুদ্ধি খরচ করতে থাকেন উগ্র অপকৌশলের পেছনে। অবশ্য এখানে তিনি নকলবাজির বিরুদ্ধেও তীব্র আন্দোলন শুরু করেন। শুধু তাই নয়, বেশ কিছু ব্যক্তিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যদণ্ডও দেন।

সূত্রঃ
[স্টিফেন হকিং এর বই 'A Briefer History of Time' থেকে অনূদিত। বইটির অনুবাদ সম্পন্ন করেছি।
সব কিছু ঠিক থাকলে বইটি আগামী বই মেলায় আলোর মুখ দেখবে। এটা Brief নয়, Briefer History of Time, বইটি আগের বইটির আপডেট ভার্সন] 


Advertisement 02

আব্দুল্যাহ আদিল মাহমুদ

লেখকের পরিচয়

আব্দুল্যাহ আদিল মাহমুদ। প্রভাষক, পরিসংখ্যান বিভাগ, সিলেট ক্যাডেট কলেজ। পড়াশোনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। প্রকাশিত বই পাঁচটি | সব লেখা | ফেসবুক | পারসোনাল ওয়েবসাইট

জ্যোতির্বিজ্ঞান পরিভাষা: জেনে নিন কোন শব্দের কী মানে

এখানে সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যাসহ জ্যোতির্বিদ্যায় প্রয়োজনীয় পরিভাষাগুলোর তালিকা দেওয়া হলো। সাজানো হয়েছে অক্ষরের ক্রমানুসারে। এই তালিকা নিয়মিত আপডেট...