ভিডিও

Advertisement

ভিডিও: আর্টিমিস ২ চাঁদ থেকে গতিশীল পৃথিবীতে কীভাবে ফিরে এল?

বুধবার, ১৭ জুন, ২০২০


তারিখ: ২১ আগস্ট, ২১২৬। মহাপ্রলয়

স্থান: পৃথিবী
পৃথিবীর নানা প্রান্তে হতাশায় আচ্ছন্ন অনেকগুলো মানুষ লুকানোর চেষ্টায় ব্যস্ত। কোটি কোটি মানুষ আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে। কেউ কেউ পালিয়েছে ভূমির গভীরে। আশ্রয় নিয়েছে গুহা বা খনির দেয়ালে। কেউ আবার সাবমেরিনে চেপে সাগরে ডুব দিয়েছে। কেউ কেউ বেপরোভাবে এদিক-সেদিক ছোটাছুটি করছে। তবে অধিকাংশ মানুষই হতবুদ্ধি ও বিষণ্ণ হয়ে বসে আছে। অপেক্ষা করছে শেষ পরণতির জন্যে। 



আকাশের অনেক উঁচুতে আলোর একটি বড় রেখা দেখা যাচ্ছে। শুরুতে শুধু দেখা গিয়েছিল হালকা ধোঁয়ার মুদু বিকিরণ। একদিন সেটাই মহাশূন্যের বুকে গড়ে তুলল ফুটন্ত গ্যাসের প্রচণ্ড ঘুর্ণি। গ্যাসের ওপরের দিকে একটি কালো, কুৎসিত ও ভয়ানক জিনিস দেখা যাচ্ছে। ধূমকেতুটির ক্ষুদ্র মাথা দেখে এর ভয়ানক ধ্বংসাত্মক ক্ষমতা আঁঁচ করা কঠিন। সেকেন্ডে প্রায় চল্লিশ হাজার মাইল বেগে এটি ধেয়ে আসছে পৃথিবীর দিকে। প্রতি সেকেন্ডে দশ মাইল। লক্ষ কোটি টন বরফ ও পাথর শব্দের সত্তর গুণ বেগে পৃথিবীতে আঘাত হানার জন্যে প্রস্তুত।  

দেখা ও অপেক্ষা করা ছাড়া মানুষের করার কিছুই নেই। অনিবার্য পরিণতির মুখে পড়ে বিজ্ঞানীরা বহু আগেই টেলিস্কোপ থেকে মুখ সরিয়ে নিয়েছেন। নিরবে বন্ধ করে দিয়েছেন কম্পিউটার। দূর্যোগের সঠিক আচরণ এখনও সঠিকভাবে বোঝা যাচ্ছে না। যেটুকু জানা গেছে, সেটাই এত ভয়াবহ যে তা সাধারণ মানুষকে জানানো ঠিক হবে না। কোনো কোনো বিজ্ঞানী টিকে থাকার কিছু পূর্ণাঙ্গ কৌশল তৈরি করেছেন। নিজেদের টেকনিক্যাল জ্ঞান কাজে লাগিয়ে অন্যদের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থায় থাকার ইচ্ছে তাদের। কেউ কেউ দূর্যোগটিকে মনোযোগ দিয়ে পর্যবেক্ষণের চেষ্টারত। শেষ দিনটি পর্যন্তও তাঁরা তাঁদের সত্যিকার বিজ্ঞানীসুলভ আচরণ বজায় রাখতে চাচ্ছেন। পৃথিবীর গভীরে রাখা টাইম ক্যাপসুলে পাঠিয়ে দিচ্ছেন সে উপাত্ত। উদ্দেশ্য, ভবিষ্যৎ বংশধররা যাতে সেটা কাজে লাগাতে পারেন।  

সংঘর্ষের মুহূর্ত আরও ঘনিয়ে এল। সারা পৃথিবীর লাখ লাখ মানুষ ভয়ে ভয়ে ঘড়ির দিকে তাকাচ্ছে। শেষ তিনটি মিনিট। 
গ্রাইন্ড জিরোর ঠিক ওপরে আকাশ বিদীর্ণ হয়ে গেল। এক হাজার ঘন মাইল পরিমাণ বায়ু ছুটে গেল একদিকে। একটি শহরের আকারের চেয়েও বেশি পরিমাণ ধোঁয়া কুণ্ডলী পাকিয়ে ভূমির দিকে এগিয়ে আসছে। পনের সেকেন্ড পরেই আঘাত হানল ভূপৃষ্ঠে। দশ হাজার ভূমিকম্পের সমান আঘাতে কেঁপে ওঠল পৃথিবী। স্থানান্তরিত বাতাসের শক ওয়েভ উড়ে যাচ্ছে পৃথিবী পৃষ্ঠের ওপর দিয়ে। ভেঙে পড়ল স্থাপনাগুলো। যেটাই সামনে পড়ল, নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল। সংঘর্ষের স্থানের চারপাশে সমতল ভূমিতে একটি বৃত্তাকার তরল পাহাড় তৈরি হলো। উচ্চতা কয়েক মাইল। একশো মিটার চওড়া গর্ত দিয়ে পৃথিবীর ভেতরের বস্তু বেরিয়ে আসছে। গলিত পাথরের দেয়াল ঢেউ তুলে ছড়িয়ে পড়ছে ধীরে ধীরে। এ তীব্র আঘাতের সামনে ভূপৃষ্ঠ যেন সামান্য একটি কম্বল। 

গর্তের ভেতরের লক্ষ কোটি টন পাথর বাষ্পীভূত হয়ে গেছে। তার চেয়ে অনেক বেশি ছিটকে ওপরে উঠে যাচ্ছে। কিছু কিছু চলে যাচ্ছে মহাকাশের দিকেও। এর চেয়ে বেশি পরিমাণে নিক্ষিপ্ত হচ্ছে অর্ধ-মহাদেশ এলাকা জুড়ে। এরপর পতিত হচ্ছে শত শত, এমনকি হাজার হাজার মাইল দূরের এলাকায়। যেখানেই তা পড়ছে, ঘটাচ্ছে মারাত্মক ধ্বংসযজ্ঞ। কিছু কিছু নিক্ষিপ্ত পদার্থ গিয়ে পড়ছে সাগরে। সেট থেকে শুরু হচ্ছে সুনামি। ফলে দূর্যোগের মাত্রা আরও বৃদ্ধি পেল। ধুলোময় ধ্বংসাবশেষের একটি বড় অংশ বায়ুমণ্ডলে উঠে গেল। সূর্য পুরোপুরি ঢাকা পড়ে গেল। সূর্যের আলোর মুখ দেখা যাচ্ছে না পৃথিবীর কোথাও থেকেই। তার বদলে দেখা যাচ্ছে শত কোটি উল্কার পৈশাচিক ঝলকানি। তীব্র উত্তাপ পাঠিয়ে এরা ঝলসে দিচ্ছে মাটির পৃথিবী। কারণ বিচ্ছিন্ন খণ্ডগুলো মহাশূন্য থেকে ফের ফিরে আসছে বায়ুমণ্ডলে। 

উপরের দৃশ্যপটটি একটি অনুমান। সু্ইফট টাটল (Swift-Tuttle) নামের একটি ধূমকেতু ২১২৬ সালের ২১ আগস্ট তারিখে পৃথিবীতে আঘাত হানবে। যদি সেটাই ঘটে, বৈশ্বিক দূযোর্গ অবধারিত। ইতি ঘটবে মানুষেরও। ১৯৯৩ সালে একে দেখার পরে হিসাব-নিকাশ করে দেখা গেল ২১২৬ সালে আসলেও একটি সংঘর্ষ হতে যাচ্ছে। পরে সংশোধিত হিসাবে দেখা যায়, এটি এক সপ্তাহের জন্যে পৃথিবীকে মিস করবে। অল্পের জন্য বাঁচা। আমরা এর দিক থেকে নিশ্চিন্তেই থাকতে পারি। তবে বিপদ যে একেবারেই নেই তা কিন্তু নয়। আজ হোক, কাল হোক, সুইফট টাটল বা এরই মতো কেউ পৃথিবীতে আঘাত হানবেই। হিসেব করে দেখা গেছে, অর্ধ-কিলোমিটার বা তারও বেশি চওড়া দশ হাজার বস্তুর কক্ষপথ পৃথিবীর কক্ষপথের ওপর দিয়ে গেছে। বিশাল বিশাল এই উপদ্রপগুলোর জন্ম সৌরজগতের বহিঃস্থ শীতল এলাকায়। কিছু কিছু হলো ধূমকেতুর ধ্বংসাবশেষ। আটকা পড়ে আছে গ্রহদের মহাকর্ষীয় বাঁধনে। অন্যদের উৎপত্তি গ্রহাণু বেষ্টনীতে (asteroid belt)। জায়গাটা মঙ্গল ও বৃহস্পতি গ্রহের মাঝখানে। কক্ষপথের ভারসাম্যহীনতার কারণে এরা নিয়মিত সৌরজগতে আসা-যাওয়া করছে। আকারে ছোট হলেও এদের প্রতিক্রিয়া ভয়ঙ্কর। পৃথিবী ও অন্য গ্রহদের স্থায়ী বিপদের কারণ।
এ বস্তুগুলোর মধ্যে অনেকগুলোই পৃথিবীর সবগুলো নিউক্লিয়ার অস্ত্রের চেয়েও বেশি ক্ষতিসাধন করতে সক্ষম। যে-কোনো সময় কোনো একটি আঘাত হানতে পারে। সেটা মানুষের জন্যে একটি খারাপ খবরই হবে। সেটা হবে মানব ইতিহাসের একটি আকস্মিক ও নজিরবিহীন প্রতিবন্ধক। কিন্তু পৃথিবীর ক্ষেত্রে এ রকম ঘটনা মোটামুটি নিয়ম মেনে চলে। ধূমকেতু বা গ্রহাণুর এ মাত্রার সংঘর্ষ গড়ে কয়েক মিলিয়ন১ বছরে একবার ঘটে। অনেকের বিশ্বাস, এ ধরনের এক বা একাধিক ঘটনার ফলেই সাড়ে ছয় কোটি বছর আগে ডাইনোসররা বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল। পরের বার হয়ত আমাদের পালা।

অনেক ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষেরা আরমাগেডনে২ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাসী। বাইবেলের বুক অব রিভিলেশন পুস্তকে এ যুদ্ধে সংঘটিত হতাহত এবং ক্ষয়ক্ষতির ভালো একটি বিবরণ দেওয়া আছে। সেটা এ রকম:
এরপর এল বিদ্যুত চমক, বজ্রধ্বনি ও গুড়ুম গুড়ুম শব্দ। সাথে একটি তীব্র ভূমিকম্প। মানুষ পৃথিবীতে পা ফেলার পরে এত বড় ভূমিকম্প আর কখনও আর ঘটেনি। এটা এতই তীব্র ছিল। বিভিন্ন দেশের শহরগুলো ভেঙে পড়ল। দ্বীপগুলো হারিয়ে গেল। দেখা যাচ্ছে না পাহাড়গুলোও। আকাশ থেকে এক একটি একশো পাউন্ড৩ ওজোনোর শিলাবৃষ্টি পড়ল মানুষের মাথা ওপর। শিলাবৃষ্টির প্রকোপে মানুষ ঈশ্বরকে গালাগাল করতে লাগল। প্রকোপটা আসলেই ভয়াবহ ছিল। 

অবশ্যই পৃথিবী আরও নানা রকম প্রতিকূল ঘটনার শিকার হতে পারে। বিপুল পরিমাণ বলের বাঁধনে পরিব্যপ্ত মহাবিশ্বে পুঁচকে একটি বস্তু এই পৃথিবী। এত কিছুর পরেও অন্তত সাড়ে তিন শ কোটি বছর ধরে আমাদের গ্রহটি প্রাণ ধারণের উপযোগী হিসেবেই আছে। তবে গ্রহটিতে আমাদের সাফল্যের পেছনে রহস্য কিন্তু মহাকাশই। সেটা অনেকভাবেই। বিশাল শূন্যতার মহাসাগরে আমাদের সৌরজগত ক্ষুদ্র একটি সক্রিয় অঞ্চল। আমাদের নিকটতম নক্ষত্রের (সূর্যের পরে) অবস্থান চার আলোকবর্ষ৪ দূরে। এই দূরত্ব কত বেশি সেটা বুঝতে হলে একটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে। সূর্য থেকে মাত্র সাড়ে আট মিনিটের মধ্যে আলো নয় কোটি ত্রিশ লক্ষ মাইল পথ পেরিয়ে আসে।  চার বছরে তো অতিক্রম করে ২০ ট্রিলিয়ন (২০ লক্ষ কোটি) মাইলেরও বেশি পথ।

সূর্য একটি আদর্শ বামন নক্ষত্র। অবস্থান আমাদের আকাশগঙ্গা ছায়াপথের (Milky Way galaxy) একটি আদর্শ অঞ্চলে। এ ছায়াপথে নক্ষত্রের সংখ্যা প্রায় দশ হাজার কোটি। কারও ভর সূর্যের কয়েক শতাংশ। কারও কারও ভর আবার সূর্যের এক শ গুণ। এরা ধীরে ধীরে ছায়াপথের কেন্দ্রের চারপাশে ঘুরছে। ঘুরছে ছায়াপথে থাকা প্রচুর পরিমাণ গ্যাসীয় মেঘ ও ধুলো, অজানা সংখ্যক ধূমকেতু ও গ্রহাণু, গ্রহ এবং কৃষ্ণগহ্বরও। এই বিপুল পরিমাণ বস্তুর উপস্থিতির কথা শুনে মনে হতে পারে, ছায়াপথটি বুঝি বিভিন্ন বস্তু দিয়ে কানায় কানায় ভর্তি। এ ধারণা ভুল। আসলে, ছায়াপথটির দৃশ্যমান অংশ প্রায় এক লাখ আলোকবর্ষ পরিমাণ চওড়া। আকৃতি হলো থালার মতো। কেন্দ্রীয় অংশটা একটু স্ফীত। একে ঘিরে ছড়িয়ে আছে কয়েকটি সর্পিল বাহু। বাহুগলো গড়া নক্ষত্র ও গ্যাসীয় পদার্থ দ্বারা। এমনই একটি সর্পিল বাহুতে রয়েছে আমাদের সূর্য। কেন্দ্র থেকে এটি আছে প্রায় ত্রিশ হাজার আলোকবর্ষ দূরে।

আমরা যতদূর জানি, আকাশগঙ্গা ছায়াপথে খুব ব্যতিক্রমধর্মী কিছুই নেই। একই রকম আরেকটি ছায়াপথ হলো অ্যান্ড্রোমিডা। এটি আছে আমাদের থেকে বিশ লাখ আলোকবর্ষ দূরে। আকাশের অ্যান্ড্রোমিডা তারামণ্ডলের দিকে এর অবস্থান৫। খালি চোখে একে ঝাপসা ছোপ ছোপ আলোর মতো মনে হয়। বিলিয়ন বিলিয়ন নক্ষত্র সাজিয়ে রেখেছে আমাদের দৃশ্যমান মহাবিশ্ব। কোনোটি সর্পিল, কোনোটি উপবৃত্তাকার, কোনোটি আবার নির্দিষ্ট আকারহীন। দূরত্বের মাপাকাঠি এখানে বিশাল। শক্তিশালী টেলিস্কোপের সাহায্যে কয়েক বিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরের ছায়াপথও আলাদাভাবে দেখা সম্ভব। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তো এদের আলো আমাদের কাছে পৌঁছতেই পৃথিবীর বয়সের (সাড়ে চারশো কোটি বছর) চেয়ে বেশি সময় লেগে গেছে।

এই বিশাল ফাঁকা স্থানের উপস্থিতির অর্থ হলো মহাকাশে সংঘর্ষের ঘটনা খুব বেশি ঘটে না। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বিপদ লুকিয়ে আছে এর আশেপাশেই। গ্রহাণুদের কক্ষপথ সাধারণত পৃথিবীর কাছাকাছি থাকে না। এদের বড় অংশই মঙ্গল ও বৃহস্পতির মাঝখানের গ্রহাণু বেষ্টনীতেই থাকে সব সময়। তবে বৃহস্পতির বিপুল ভর গ্রহাণুদেরকে কক্ষপথ থেকে ছিটকে দিতে পারে। ফলে এদের কোনো কোনোটি সূর্যের দিকে চলে আসে। ডেকে আনে পৃথিবীর বিপদ।

আরেকটি বিপদ হলো ধূমকেতু। মনে করা হয়, দর্শনীয় এ বস্তুগলোর উৎপত্তি সূর্য থেকে প্রায় এক আলোকবর্ষ দূরের একটি মেঘপুঞ্জে। এখানে দোষ বৃহস্পতির নয়। দায়ী বরং নিকটস্থ নক্ষত্ররা। ছায়াপথ স্থির বসে নেই। শুধু নক্ষত্রগুলোই ছায়াপথ কেন্দ্রকে প্রদক্ষিণ করছে না, ছায়াপথ নিজেও ধীরে ধীরে আবর্তন করছে। সূর্য তার সঙ্গী গ্রহদেরকে নিয়ে প্রায় ২০ কোটি বছরে ছায়াপথকে পুরো একবার ঘুরে আসে। এ যাত্রাপথে মুখোমুখি হতে হয় নানা রকম অভিজ্ঞতার। নিকটবর্তী নক্ষত্ররা ধূমকেতুর মেঘকে নাড়িয়ে দিতে পারে। কিছু কিছু ধূমকেতু তখন ছিটকে আসবে সূর্যের দিকে। ধূমকেতুরা সৌরজগতের ভেতরের দিকে চলে এলে সূর্যের উত্তাপে এদের উদ্বায়ী পদার্থ বাষ্পীভূত হয়ে যায়। সৌর বায়ুর ধাক্কায় একটি লম্বা প্রবাহ তৈরি হয়। এটাই ধূমকেতুর বিখ্যাত লেজ। সৌরজগতের ভেতরের দিকে চলে এলেও ধূমকেতুর সাথে পৃথিবীর সংঘর্ষ হবার সম্ভাবনা খুব কম। ক্ষতি ধূমকেতুও করে। তবে তার দোষ কিন্তু পড়ে পথে দেখা হওয়া নক্ষত্রের ওপর। তবে আমাদের ভাগ্য ভাল যে নক্ষত্রের মাঝের দূরত্ব অনেক বেশি হওয়ায় এমন ঘটনা খুব বেশি ঘটে না।

ছায়াপথের চারপাশে ঘুরতে ঘুরতে আরও কিছু বস্তু আমাদের দিকে চলে আসতে পারে। যেমন ছায়াপথে ভেসে চলা গ্যাসের বড় বড় মেঘপুঞ্জ। এরা অনেক চিকন হলেও সৌরবায়ুকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করতে পারে। প্রভাবিত করতে পারে সূর্য থেকে আসা তাপের প্রবাহকে। অন্ধকার মহাশূন্যে আরও নানান ভয়নাক জিনিস লুকিয়ে থাকতে পারে। যেমন, বিচ্ছিন্ন গ্রহ, নিউট্রন নক্ষত্র, বাদামী বামন, কৃষ্ণগহ্বর ইত্যাদি৬। এরাসহ আরও অনেকেই আমাদের অজান্তেই আমাদের দিকে ধেয়ে আসতে পারে। সৌরজগতে ঘটে যেতে পারে টালমাটাল অবস্থা।

বিপদ আরও ভয়াবহও হতে পারে। কোনো কোনো জ্যোতির্বিদ মনে করেন, সূর্য হয়ত একটি দ্বি-তারা৭ জগতের অংশ। আমাদের ছায়াপথের আরও বহু নক্ষত্রের অবস্থাই এমন। প্রস্তাবিত সূর্যের এই সঙ্গী তারাটির নাম নেমেসিস। তবে অস্তিত্ব থাকলেও এটা হবে অনেক বেশি অনুজ্জ্বল। দূরত্ব হবে অনেক বেশি। এজন্যই এখনও একে খুঁজে পাওয়া যায়নি। সূর্যের চারপাশের কক্ষপথে এর গতি ধীর হলেও মহাকর্ষের মাধ্যমে এটি উপস্থিতির জানান দিতে পারে। মাঝে মাঝে দূরের ধূমকেতুদের গতিপথ পাল্টে পাঠিয়ে দিতে পারে পৃথিবীর দিকে। পরিণতিতে ঘটবে একের পর এক সাংঘাতিক সংঘর্ষ। ভূতাত্ত্বিকেরা দেখেছেন যে নিয়মিত বিরতিতে বড় আকারের বাস্তুগত (ecological) বিপর্যর ঘটে। এটা ঘটে প্রতি ৩০ লাখ বছর পরে একবার।

আরও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে জ্যোতির্বিদরা জানলেন, সম্পূর্ণ ছায়াপথরাই সংঘর্ষ বাঁধাতে পারে। আকাশগঙ্গার সাথে আরেকটি ছায়াপথের ধাক্কা লাগার সম্ভাবনা কেমন? এমন কিছু প্রমাণ অবশ্য আছেই। নক্ষত্রদের দ্রুত চলাচল দেখে বোঝা যায়, ইতোমধ্যে আকাশগঙ্গা ছায়াপথ নিকটস্থ ছায়াপথদের সাথে সংঘর্ষ করে নড়েচড়ে বসেছে। তবে নিকটস্থ দুটো ছায়াপথের সংঘর্ষ বাঁধলেই যে ছায়াপথ পরিবারের নক্ষত্রদেরও বিপর্যয় ঘটবে এমন কোনো কথা নেই। ছায়াপথদের ঘনত্ব এত কম যে নক্ষত্রদের মধ্যে সংঘর্ষ না ঘটিয়েও এরা একে অন্যের সাথে মিশে যেতে পারে।

মহাপ্রলয়ের আলোচনা অধিকাংশ মানুষকে মুগ্ধ করে। তাঁদের কাছে মহাপ্রলয় মানে আকস্মিক ও দৃষ্টিকাড়া উপায়ে পৃথিবীর মৃত্যু। তবে ধীরে ধীরে শেষ হয়ে যাওয়ার চেয়ে হঠাৎ মৃত্যুর মধ্যেই বিপদ কম। অনেকগুলো উপায়ে পৃথিবী ধীরে ধীরে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে যেতে পারে। যেমন, বাস্তুসংস্থানের ক্রমানবনতি, জলবায়ু পরিবর্তন বা সূর্য থেকে আসা তাপের পরিমাণের একটুখানি তারতম্য। ভঙ্গুর পৃথিবীতে এগুলো আমাদের অস্তিত্বকে হুমকির মুখে না ফেললেও আরাম-আয়েশের জীবনে ইতি অবশ্যই ঘটাবে। তবে এ ধরনের পরিবর্তন ঘটতে হাজার হাজার বা এমনকি লক্ষ লক্ষ বছরও লেগে যায়। আধুনিক প্রযক্তির সাহায্যে মানুষ হয়ত এগুলোকে প্রতিরোধও করতে পারবে। যেমন, নতুন করে ধীরে ধীরে বরফ যুগের সূচনা হতে থাকলেও আমাদের সম্পূর্ণ বিপর্যয় ঘটবে না। সেটা ঘটার আগে সবকিছু নতুন করে ঢেলে সাজাবার জন্যে যথেষ্ট সময় হাতে থাকবে আমাদের। ধরে নেওয়া যায় যে একবিংশ শতাব্দীতেও প্রযুক্তির অভূতপূর্ব উন্নতি ঘটতে থাকবে। ফলে এটা বিশ্বাসযোগ্য যে মানুষ বা তার বংশধররা ক্রমেই জগতের বড় কাঠামোর নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবে। ঠেকাতে পারবে বড় বড় সব দূর্যোগও।

তাত্ত্বিকভাবে কি মানুষ চিরকাল বেঁচে থাকতে পারে? হয়ত পারে। কিন্তু আমরা দেখব, অমরত্ব অর্জন করা সোজা কথা নয়। হয়ত সেটা অসম্ভবই। মহাবিশ্ব নিজেই ভৌত সূত্রের অধীন। সূত্রগুলোই এর জীবনচক্র বেঁধে দিয়েছে: জন্ম, বিবর্তন এবং হয়ত মৃত্যু। নক্ষত্রের নিয়তির সাথে আমাদের নিয়তি অনিবার্যভাবে জড়িয়ে আছে।

অনুবাদকের নোট:
    ১। এক মিলিয়ন সমান দশ লক্ষ
   ২। বাইবেলের নিউ টেস্টামেন্ট অংশ অনুসারে পৃথিবীর শেষের দিকে একটি বড় যুদ্ধ হবে। এ যুদ্ধের ময়দানের সত্যিকার বা প্রতীকি নাম হলো আরমাগেডন।
   ৩। এক পাউন্ড সমান ০.৪৫৩৬ কেজি। মানে, ১০০ পাউন্ড সমান প্রায় ৪৫ কেজি।
   ৪। এক আলোকবর্ষ হলো আলোর এক বছরে অতিক্রান্ত দূরত্ব।
   ৫। অ্যান্ড্রোমিডা একই সাথে একটি ছায়াপথ এবং একটি তারামণ্ডলের নাম। মহাকাশের বিভিন্ন বস্তুর অবস্থান নির্দিষ্ট করার জন্যে পুরো আকাশের দৃশ্যমান গোলককে ৮৮টি অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে। এর প্রতিটিকে এক একটি তারামণ্ডল (constellation) বলে।
    ৬। এদের পরিচয় ও পার্থক্য দেখুন পরিশিষ্ট অংশে।
   ৭। বর্তমানে দ্বি-তারা বা ডাবল স্টার বলা হয় এমন দুটো তারাকে যাদেরকে পৃথিবী থেকে দেখতে খুব কাছাকাছি মনে হয়। বাস্তবে এরা নিজেদের থেকে অনেক দূরে অবস্থান করেও পৃথিবীর আকাশে কাছাকাছি অবস্থানে থাকতে পারে। আবার হতে পারে এরা একে অপর কেন্দ্র করে ঘুরছে। এই দ্বিতীয় ক্ষেত্রে এদেরকে বাইনারি স্টার বা জোড়া তারা বলে। আলোচ্য অংশে দ্বি-তারা বলতে আসলে জোড়াতারাকে বোঝানো হয়েছে।

মূল: দ্য লাস্ট থ্রি মিনিটস, পল ডেভিস
অনুবাদ: আব্দুল্যাহ আদিল মাহমুদ 
Category: articles

সোমবার, ৪ মে, ২০২০

রানিং চিকেন নেবুলা। সূত্র: নাসা অ্যাপড

হ্যাঁ, ছবিটা দেখলে অনেকের কাছেই মনে হবে একটি চিকেন দৌড়াচ্ছে বুঝি! তবে অনেকের কাছেই এটি আবার একটি নেবুলা। বাংলায় যাকে বলে নীহারিকা। যেখানে তৈরি হয় নতুন নতুন নক্ষত্ররা। নেবুলাটি আইসি ২৯৪৪ নামে নথিবদ্ধ আছে। এর বিস্তৃতি প্রায় ১০০ আলোকবর্ষ। পৃথিবী থেকে দূরত্ব ৬ হাজার আলোবর্ষ। আকাশের Centaurus বা মহিষাসুর তারামণ্ডলের দিকে তাকালে পাওয়া যাবে একে। 
Category: articles

বৃহস্পতিবার, ৮ আগস্ট, ২০১৯

রাতের আকাশে ঝিকিমিকি তারকারাজির দিকে তাকালে কত বিচিত্র রূপই না চোখে পড়ে! প্রতিটি তারকা ভিন্ন। কিছু বড়, কিছু ছোট, কিছু গরম, কিছু ঠাণ্ডা। নীল বা হলুদ বা লাল। মানুষ তারকারাজি নিয়ে গবেষণা করছে বহুকাল ধরে। তারকারাজিকে ভালো করে চিনতে আবিষ্কার করেছে তারকার শ্রেণীবিন্যাস পদ্ধতি। পৃথিবী পরিমণ্ডলের রাসায়নিক মৌলসমূহের সহজ পাঠের জন্য আছে পর্যায় সারণি, উদ্ভিদ ও প্রাণিজগতের শ্রেণিবিন্যাসের জন্য আছে নির্দিষ্ট নিয়মাবলী বা পদ্ধতি। তেমনি তারকারাজির শ্রেণিবিন্যাসের জন্য আছে কতগুলো পদ্ধতি। তারকারাজির এই শ্রেণিবিন্যাস সহজেই একটি তারকার বৈশিষ্ট্য বুঝতে সাহায্য করে। আমরা আজকে জানব সে সম্পর্কে। এখানে পাঁচটি পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। 

তারার নিজেই আলো বানাতে পারে। প্লাজমা পদার্থে গড়া এই বস্তুদের আকৃতি মহাকর্ষের কল্যাণে উপগোলকের (spheroid) মতো। আমাদের সবচেয়ে কাছের তারকা সূর্য। তারপরে সবচেয়ে কাছে প্রক্সিমা সেন্টোরি

পদ্ধতি-০১: তাপমাত্রা
চিত্র-১: তারার রং দিয়ে শ্রেণিবিন্যাস 

১। শুধুমাত্র রং দেখেই তারকার শ্রেণিবিন্যাস করা সম্ভব। তাপমাত্রা নির্ধারণে তারকার রং নির্দেশক  হিসেবে কাজ করে। বর্তমানে দশ রঙের তারকা আমাদের চোখে পড়ে। প্রতিটি রঙের সাথে যুক্ত থাকে তাপমাত্রার পরিসীমা। O শ্রেণির তারকার বর্ণ নীল বা অতিবেগুনী। B শ্রেণির তারকার বর্ণ নীল সাদা, A শ্রেণির তারকার বর্ণ সাদা, F শ্রেণির তারকার বর্ণ হলুদ সাদা, G শ্রেণির তারকার বর্ণ হলুদ, K শ্রেণির তারকার বর্ণ কমলা এবং M শ্রেণির তারকার বর্ণ লাল। অন্যান্য তিনটি শ্রেণি অবলোহিত। L শ্রেণির তারকার বর্ণ দৃশ্যমান আলোতে খুব গাঢ় লাল দেখায়। এসব তারকা ক্ষার ধাতু এবং ধাতুর  হাইড্রাইডের বর্ণালি দেখায়। T শ্রেণির তারকা L শ্রেণির তুলনায় শীতল। Y শ্রেণির তারকা সবচেয়ে শীতল। এরা বাদামি বামন তারকা এবং L, T থেকে আলাদা। উদাহরণস্বরূপ, রাতের আকাশে তাকালেই সহজে চোখে পড়ে অরায়ন তারামণ্ডলীর বিটলজুস তারকাটি। এটি M শ্রেণির তারকা। কারণ বর্ণ লাল।

চিত্র-২: বর্ণ ও সংখ্যা দিয়ে শ্রেণিবিন্যাস 

২ নং চিত্রে একদিকে O থেকে Y পর্যন্ত তারকার রঙ অন্যদিকে ০-৯ পর্যন্ত প্রতিটি রঙের মধ্যে ১০ টি তাপমাত্রার ব্যান্ড দেখানো হয়েছে। O থেকে Y পর্যন্ত এবং ০-৯ পর্যন্ত তাপমাত্রা পর্যায়ক্রমে কমে যায়। নির্দিষ্ট বর্ণের পরে নির্দিষ্ট একটি সংখ্যা রেখে সহজে তাপমাত্রা হিসেব করা যায়। 0 হচ্ছে সবচেয়ে গরম এবং ৯ সবচেয়ে শীতল। উদাহরণস্বরূপ,  A0, A5 এর চেয়ে বেশি গরম, যা A9 এর চেয়ে গরম, যা F0 এর তুলনায় গরম। উপরে আলোচিত বিটলজুস M1 শ্রেণীর একটি তারকা।

পদ্ধতি-০২: আকার
চিত্র ৩: তারকার আকার থেকে শ্রেণিবিন্যাস 


তারকার আকার নির্দেশক একটি রোমান সংখ্যা তাপমাত্রার পরে যোগ করা শ্রেণিবিন্যাস করা হয়। 0 বা Ia+ একটি হাইপারজায়ান্ট (hypergiant) তারকা নির্দেশক। Ia, Iab এবং Ib সুপারজায়ান্ট তারকার (যথাক্রমে উজ্জ্বল, মাঝারি, অনুজ্জ্বল) প্রতিনিধিত্ব করে। II উজ্জ্বল দৈত্য, III দৈত্য, IV উপ-দৈত্য, V প্রধান ক্রমের নক্ষত্র (এটি একটি তারকার জীবনের অংশ যেখানে তারকাটির সর্বাধিক সময় ব্যয় হয়) এবং VI উপ-বামন। D একটি একটি সাদা বামন তারকা নির্দেশক। উদাহরণ: DA7 (সাদা বামন), F5Ia + (হলুদ হাইপারজায়ান্ট), G2V (প্রধান পরম্পরার হলুদ তারকা)। আমাদের সূর্য G2V এবং বিটলজুস M1la বা উজ্জ্বল সুপারজায়ান্ট।


পদ্ধতি-০৩: তারকার বর্ণালি 


চিত্র ৪: বর্ণালি দিয়ে শ্রেণিবিন্যাস 

১. তারকার আলোকে প্রিজম ব্যবহার করে আলাদা করা যায়। প্রিজমের ভেতর দিয়ে টর্চ লাইট অতিক্রম করালে কতগুলো বর্ণের একটি পরিসীমা পাওয়া যাবে, যা বর্ণালি নামে পরিচিত। তারকার আলো এমন বর্ণালি তৈরি করে। প্রত্যেকটি তারকার বর্ণালি ভিন্ন ভিন্ন। প্রতিটি তারকার বর্ণালির মধ্যে অন্ধকার লাইন থাকে, যা শোষণ লাইন নামে পরিচিত। এই শোষণ লাইন থেকে তারকার রাসায়নিক গঠন সম্পর্কে ধারণা করা যায়। 


২. তারকার বর্ণালিটি একটি ডেটাবেজের সাথে তুলনা করা হয়। একটি ভাল জ্যোতির্বিজ্ঞান ডেটাবেজ প্রতিটি তারকার টাইপের জন্য ভিন্ন ভিন্ন সাধারণ বর্ণালি দেবে। সেই বর্ণালি ডেটাবেজ দেখে সহজেই তারকার শ্রেণিবিভাগ করা যায়।

পদ্ধতি-০৪: ধাতুর উপস্থিতি নির্ণয় 


চিত্র ৫: ধাতুর উপস্থিতির সাহায্যে শ্রেণিবিন্যাস 

১. তারকায় ধাতুর (হাইড্রোজেন এবং হিলিয়াম ছাড়া অন্য উপাদান) অনুপাত নির্ধারণ

কোনো তারকার মধ্যে ১% এরও বেশি ধাতু থাকলে তাকে ধাতু সমৃদ্ধ তারকা বলা হয়। এসব তারকাকে পপুলেশন-১ এর তারকা হিসেবেও চিহ্নিত করা হয়। কোনো তারকার মধ্যে ১% ধাতু থাকলে তাকে ধাতু-দরিদ্র তারকা বলা হয়। এসব তারকাকে পপুলেশন-২ এর তারকা হিসেবেও চিহ্নিত করা হয়। মহাবিশ্বের আদিকালে পপুলেশন-২ জাতের তারকারাজি গঠিত হয়েছিলো, কারণ তখন ধাতুর পরিমাণ কম ছিলো।

২. কিছু তারকা তাত্ত্বিকভাবে ধাতুহীন, কিন্তু এদের খুঁজে পাওয়া খুবই কঠিন। এদেরকে পপুলেশন-৩ শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এই তারকারাজি বিগ ব্যাংয়ের পরেই সৃষ্টি হয় বলে মনে করা হয়। যখন একমাত্র উপাদান হাইড্রোজেন এবং হিলিয়াম ছিল। অন্য কোনো ধাতুর উপস্থিতি ছিল না।

পদ্ধতি-০৫:  উজ্জ্বলতার পরিবর্তন



১. তারকার উজ্জ্বলতা পরিবর্তনশীল কি না নির্ধারণ করা। সব না হলেও কিছু কিছু তারকা এই ধর্ম প্রদর্শন করে। এই উজ্জ্বলতার পরিবর্তন নানা কারণে হতে পারে। সেটা ভিন্ন আলোচনা। 



২. কোনো তারকা বাইনারি তারকা কি না তা নির্ধারণ করা। দুটি তারকা একে অপরকে কেন্দ্র করে ঘুরলে তারা বাইনারি বা জোড়া তারা। রাতের আকাশে সর্বাধিক উজ্জ্বল তারকা সিরিয়াস বা লুব্ধক। সিরিয়াস ও সিগনাস X-1 এই তারকা দুটি বাইনারি তারকা। আমরা খালি চোখে সিগনাস X-1 দেখতে পাই না। কারণ এই তারকাটি ব্ল্যাক হোলে পরিণত হয়ে গেছে।

সূত্র
উইকিহাউ ও উইকিপিডিয়া।
Category: articles

বুধবার, ৭ আগস্ট, ২০১৯

মহাবিশ্বের বয়স নির্ণয়ের একটি উপায়ই হলো সবচেয়ে পুরাতন নক্ষত্রের বয়স দেখা। মহাবিশ্বের জন্মের অল্প কিছুকাল পরেই নক্ষত্রের জন্ম হয়ে গিয়েছিল। মহাবিশ্বের বর্তমান বয়স ধরা হয় ১৩৮০ কোটি বছর। আর মনে করা হয়, সবচেয়ে প্রাচীন ভ্রুণতারার (protostar) জন্ম হয়েছিল বিগ ব্যাংয়ের ৩০ কোটি বছর পর।

মহাবিশ্বের জন্মের আগেই কি নক্ষত্রের জন্ম হয়েছিল? 

বিগ ব্যাং থেকে নক্ষত্রের জন্মের সময়টা নিয়ে একটু জেনে নেওয়া যাক।

আমাদের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিসহ সব গ্যালাক্সিতেই রয়েছে প্রচুর পরিমাণ গ্যাসীয় মেঘ ও ধুলিকণা। প্রাথমিক অবস্থায় এদেরকে বলা হয় নীহারিকা বা নেবুলা (Nebula)। সাধারণত এক একটি নেবুলা আড়াআড়িভাবে বহু আলোকবর্ষ পরিমাণ জুড়ে বিস্তৃত থাকে। একটি নেবুলাতে যে পরিমাণ গ্যাস থাকে তা দিয়েই আমাদের সূর্যের মতো কয়েক হাজার নক্ষত্রের জন্ম হতে পারে। নেবুলার অধিকাংশ উপাদানই হচ্ছে বিভিন্ন হালকা গ্যাস- বিশেষ করে হাইড্রোজেন ও হিলিয়ামের অণু। এই গ্যাস ও ধুলিকণা ঘনীভূত হয়ে যথেষ্ট পরিমাণ অভিকর্ষ উৎপন্ন করলে নিজস্ব অভিকর্ষের চাপেই সঙ্কুচিত হতে থাকে। কোনো কোনো জ্যোতির্বিদ আবার মনে করেন, এই অন্তর্মুখী সঙ্কোচনের জন্য শুধু অভিকর্ষই নয়, গ্যাস ও ধুলিকণায় সৃষ্ট চৌম্বকক্ষেত্রও দায়ী।

গ্যাসগুলো জড় হতে হতে বিভব শক্তি হারিয়ে ফেলে এবং বাড়িয়ে ফেলে তাপমাত্রা। তাপমাত্রা বাড়তে বাড়তে সঙ্কোচনশীল গ্যাস বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত হয়ে এক একটি আলাদা নক্ষত্র তৈরি হয়। এই তারকার অন্তর্বস্তুর সঙ্কোচনের হার হয় অনেক বেশি। এর গ্যাসীয় মেঘ অনেক দ্রুত আবর্তন করে করে এর কৌণিক ভরবেগ বজায় রাখে। এক সময় এই নক্ষত্রের তাপমাত্রা প্রায় ২ হাজার কেলভিনে পৌঁছায়। এই অবস্থায় হাইড্রোজেন অণু ভেঙ্গে গিয়ে মৌলটির পরমাণুতে পরিণত হয়। এর তাপমাত্রা এক সময় উঠে যায় ১০ হাজার কেলভিনে। সঙ্কুচিত হয়ে সূর্যের প্রায় ৩০ গুণ আয়তন লাভ করলে এই নব-সৃষ্ট তারকাকে বলে প্রোটোস্টার বা ভ্রুণতারা (protostar)। এবার এতে হাইড্রোজেন পরমাণু জোড়া লেগে লেগে হিলিয়ামে পরিণত হতে থাকে। এই নিউক্লিয় বিক্রিয়াটিকে বলে ফিউশন বা সংযোজন (fusion) বিক্রিয়া।

আরও পড়ুন
 নক্ষত্র থেকে ব্ল্যাকহোল

ফিউশন বিক্রিয়া চলার সময় নক্ষত্রের নাম হয় প্রধান ক্রমের তারা (main sequence star)। আমাদের সূর্য এখন এই দশায় আছে। 

মূল কথায় ফিরে আসা যাক। মহাবিশ্বের বয়স ১৩৮০ কোটি বছর হলে এর ভেতরের সব নক্ষত্রের বয়স অবশ্যই এর চেয়ে কম হওয়া উচিত। কিন্তু ২০১৩ সালে পাওয়া গেল বিপরীত এক পর্যবেক্ষণ।  হাবল স্পেস টেলিস্কোপ খুঁজে পেল ব্যতিক্রমী এক তারা। নাম মেথুসেলাহ। হিসেব করে এর বয়স পাওয়া যাচ্ছে ১৪৫০ কোটি বছর। যা সর্বোচ্চ ৮০ কোটি এদিক-ওদিক হতে পারে। কিন্তু মহাবিশ্বের বয়সের চেয়ে পুরাতন নক্ষত্র কীভাবে এল? 

জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের কপালে ভাঁজ। একদল বিজ্ঞানী তাই ভাবছেন, নিশ্চয় মহাবিশ্বের বয়স বের করতেই ভুল হয়েছে। 

আরও পড়ুন

গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় একটি বৈজ্ঞানিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। আশা করা হয়েছিল, এখানে একটি সমাধান মিলবে। কিন্তু সর্বশেষ তথ্য থেকে বোঝা যাচ্ছে, মহাবিশ্ব সম্পর্কে আমাদের মৌলিক জ্ঞানই সম্ভবত ত্রুটিপূর্ণ।

বড় কাঠামোয় মহাবিশ্ব নিয়ে কথা বলতে গেলেই চলে আসে আইনস্টাইনের সার্বিক আপেক্ষিকতা (general relativity)। নিউটনের মহাকর্ষীয় তত্ত্বের আধুনিক রূপ এটি। ১৯১৬ সালে আইনস্টাইন প্রথম প্রকাশ করেন তত্ত্বটি। অনেকের মতেই, এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে সফল তত্ত্ব। ব্ল্যাক হোল থেকে শুরু কাল দীর্ঘায়ন– সব কিছুই সঠিক ব্যাখ্যা করছে তত্ত্বটি। অবশ্য প্রতিদ্বন্দ্বী তত্ত্ব কোয়ান্টাম মেকানিক্সের সাফল্যও কম নয়।

সার্বিক আপেক্ষিক তত্ত্ব সফল হলেও অনেক সময় এর কিছু ফলাফল দেখে অবাক হতে হয়। প্রথম অবাক হবার পালা আইনস্টাইনের নিজেরই। তিনি দেখলেন, তত্ত্ব বলছে, মহাবিশ্ব প্রসারিত হচ্ছে। তিনি তখনও স্থির মহাবিশ্বে বিশ্বাসী। যেমনটা ছিলেন নিউটন। আইনস্টাইন ভাবলেন, তত্ত্বে কোনো ভুল আছে। তাই তত্ত্বের সমীকরণে একটি বাড়তি ধ্রুবক লাগিয়ে সেই ভুল দূর করার চেষ্টা করলেন।

পরে ১৯২০ এর দশকে হাবল আবিষ্কার করলেন, সেটা কোনো ভুল ছিল না। আইনস্টাইন পরে স্বীকার করেন, এটা ছিল তাঁর জীবনের সেরা ভুল।

অবশেষে জানা গেল, মহাবিশ্বের একটি সূচনা আছে। অনন্তকাল ধরে মহাবিশ্ব ছিল না। তাই মহাবিশ্বের বয়স বের করার প্রচেষ্টা শুরু হলো। কিন্তু বয়স দেখে তো বিজ্ঞানীরা হতবাক। এ যে মাত্র ২০০ কোটি বছর। যেখানে পৃথিবীরই বয়স প্রায় ৪৫০ কোটি বছর।

ফ্রেড হয়েল প্রস্তাব করলেন, মহাবিশ্বের আসলে সূচনা-টূচনা বলে কিছু নেই। সব বাজে কথা। মহাবিশ্ব অনন্তকাল ধরে টিকে আছে একইভাবে। নিজের মত প্রমাণ করতে তিনি আইনস্টাইনের সমীকরণও ব্যবহার করলেন। তবে তাঁর সমাধান সমস্যা কমানোর চেয়ে বাড়াতেই বেশি অবদান রাখল। নতুন পর্যবেক্ষণ থেকে দেখা গেল, মহাবিশ্বের বয়স ১০ থেকে ২০ বিলিয়ন বছর হয়। মানে এক হাজার থেকে দুই হাজার কোটি বছর। গ্রহণযোগ্য এই মতের চাপে হয়েলের মত বাতিল হয়ে গেল।

কিন্তু সমাধান কি আদৌ হয়েছে? বয়সের সমস্যা হাজির হয়েছে আবারও। গত মাসের সম্মেলনে বয়স নিয়ে বেশ কজন বিজ্ঞানী নতুন করে হিসেব দিয়েছেন। কিছু দিন আগে হলেও এসব নতুন হিসেবকে কেউ পাত্তা দিতেন না। বিগ ব্যাংয়ের পরবর্তী সময়ে নির্গত হয় মহাজাগতিক মাইক্রোওয়েভ পটভূমি বিকিরণ (cosmic microwave background)। যার রেশ আছে আজকের পৃথিবী ও মহাবিশ্বেও। এই বিকিরণের তথ্য কাজে লাগিয়ে মহাবিশ্বের বয়সের নির্ভরযোগ্য হিসেব পাওয়া যায়।

পটভূমি বিকিরণ দিয়ে পাওয়া হিসেবের সাথে মিলে যায় সরাসরি বের করা হিসেবও। দূরের ছায়াপথের নক্ষত্রের প্রসারণ দেখে মহাবিশ্বের প্রসারণ বেগ বের করা যায়। সেখান থেকে জানা যায়, মহাবিশ্ব প্রসারিত হয়ে বর্তমান অবস্থায় আসতে কত সময় নিয়েছিল। এই দুটি হিসেব দারুণভাবে মিলে যায়। একই সাথে হিসেবটি ছিল দারুণ সূক্ষ্ম।। আবার সবচেয়ে প্রাচীন নক্ষত্রের বয়সের চেয়ে এই বয়স বেশিও ছিল। ফলে সবকিছুই ঠিকঠাক ছিল।

কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, মহাবিশ্বের দুটো বয়স আলাদা। পার্শ্ববর্তী ছায়াপথদের কাজে লাগিয়ে পাওয়া বয়সের সাথে বিকিরণ থেকে হিসেব করা বয়সের পার্থক্য কয়েক হাজার কোটি বছর। যাকে হেসে উড়িয়ে দেওয়া অসম্ভব। তাও আবার দেখা যাচ্ছে মহাবিশ্বের চেয়ে পুরাতন নক্ষত্রেরও অস্তিত্ব আছে।

এত কিছু যে নক্ষত্র নিয়ে তার নাম এইচডি ১৪০২৮৩। অন্য তারার মতোই খটমটে এক নাম। তবে ডাক নামও আছে একখান। মেথুসেলাহ। ১৯১২ সাল থেকেই নক্ষত্রটি বিজ্ঞানীদের চেনা। দূরত্বও পৃথিবী থেকে বেশি নয়— মাত্র ১৯০ আলোকবর্ষ। 

বিজ্ঞানীরা এখন জানেন, নক্ষত্রটিতে লোহার পরিমাণ খুব সামান্য। তার মানে এর জন্ম হয়েছিল এমন সময় যখন মহাবিশ্বে লোহা খুব কম ছিল। আর তার মানে এর বয়স অন্তত মহাবিশ্বের বয়সের কাছাকাছি।

তাহলে কি মহাবিশ্বের বয়স বের করতেই ভুল হয়েছে? প্রসারণ থেকে মহাবিশ্বের বয়স বের করতে হলে অনেক কিছুই সঠিকভাবে জানা দরকার। এই যেমন ছায়াপথরা একে অপর থেকে কত বেগে সরে যাচ্ছে, কত দূরে থাকলে কত দ্রুত সরছে ইত্যাদি। আর দূরের ছায়াপথের ক্ষেত্রে এই মানগুলো বিজ্ঞানীরা বের করেন অনেক অনুমানের ওপর ভিত্তি করে।

এটা যাচাই করার জন্য অন্য উপায়ে প্রসারণ বের করতে হয়। বিকল্প এসব উপায়ের মধ্যে সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি হলো মহাকর্ষ তরঙ্গ। ভারী নক্ষত্রদের মিলনে সৃষ্ট স্থান-কালের ঢেউ।

গত মাসের সম্মেলনের বেশ কয়েক দিন আগে এ বিষয়ে নেচার অ্যাস্ট্রোনোমি জার্নালে একটি নিবন্ধ প্রকাশিত হয়। এখানে মহাকর্ষ তরঙ্গ দিয়ে মহাবিশ্বের প্রসারণ হার দেখানো হয়। ব্যবহার করা হয় ২০১৭ সালের একটি মহাকর্ষ তরঙ্গ।

আরও পড়ুন
 মহাকর্ষ তরঙ্গ

কিন্তু এই হার দিয়েও মেথুসেলাহ নক্ষত্রের রহস্যের সমাধান হচ্ছে না। সমাধান হচ্ছে না মহাজগতের বয়স সমস্যারও। কেউ কেউ তাই আবার পদার্থবিদ্যার আমূল পরিবর্তনের কথা ভাবছেন।

সূত্র
১। দ্য ন্যাশনাল
২। উইকিপিডিয়া
Category: articles

নাম শুনেই বোঝা যাচ্ছে, চেহারা মাছের মাথার মতো বলেই এই নাম হয়েছে এর। তবে সবার কাছে তেমন মনে নাও হতে পারে। নেবুলা মানেই নতুন নক্ষত্র তৈরির কারখানা। আর এই নেবুলাটার অবস্থান উত্তর আকাশে। ক্যাসিওপিয়া তারামণ্ডলীতে। পাশেই আছে তারা তৈরির আরেকটি উর্বর কারখানা। হার্ট নেবুলা। এছাড়াও আছে বিখ্যাত ডাবল স্টার ক্লাস্টার। সব মিলিয়ে তৈরি হয়েছে তারা তৈরির এক উর্বর অঞ্চল। নেবুলাটির দূরত্ব মাত্র ৬ হাজার আলোকবর্ষ।

সূত্র: অ্যাস্ট্রোনমি পিকচার অব দ্য ডে (নাসা)
Category: articles

সোমবার, ১১ মার্চ, ২০১৯


দুই বা তার বেশি বস্তুর মধ্যে দূরত্ব মাপতে আমরা সাধারণত যে রাশি ব্যবহার করি সেটা আসলে মাপে রৈখিক দূরত্ব। যেমন ধরা যাক ছবিতে A ও B এর দূরত্ব ২০ মিটার। এই ২০ মিটার কিন্তু এদের রৈখিক দূরত্ব। আবার ধরা যাক, A ও C এর দূরত্ব ৩০ মিটার। এটাও রৈখিক দূরত্ব।


তবে জ্যোতির্বিজ্ঞান বা ভূগোলে সমবসময় রৈখিক দূরত্ব (linear distance) দিয়ে কাজ চলে না। দরকার হয় কৌণিক (angular) দূরত্বের। রৈখিক দূরত্বের ব্যবহার একেবারেই নেই এমনটা ভাবলেও আবার বড্ড ভুল হয়ে যাবে।  আমরা জানি, আলো প্রতি সেকেন্ডে  ১ লক্ষ ৮৬ হাজার মাইল দূরত্ব অতিক্রম করে। এটা কিন্তু রৈখিক দূরত্বই। আবার পৃথিবী থেকে চাঁদের গড় দূরত্ব তিন লক্ষ ৮৪ হাজার কিলোমিটার। এটাও রৈখিক দূরত্ব। এভাবে রৈখিক দূরত্বও কিন্তু খুব কাজে লাগে। 


একইভাবে কাজে লাগে রৈখিক বেগ (linear velocity)। বেগ মানে হলো অবস্থান পরিবর্তনের হার। যেমন ধরুন, একটি বস্তু ১ সেকেন্ডে ১০ মিটার পথ গেল। তাহলে তার বেগ হলো সেকেন্ডে ১০ মিটার। বা কেতাবি ভাষায় $10 ms^{-1}$ । একইভাবে আরেকটি বস্তু যদি ৫ সেকেন্ডে ২০ মিটার যায়, তাহলে তার বেগ হবে $\frac {20}{5}$ বা $4 ms^{-1}$। সহজ কথায় বলা যায়, এক সেকেন্ডে (বা এক মিনিটে, যদি আপনি ভিন্ন মাপকাঠিতে মাপতে চান) নির্দিষ্ট দিকে অতিক্রান্ত দূরত্বই হলো বেগের মান।

কোনো বস্তু একটি নির্দিষ্ট বেগে যেতে থাকলে এই বেগকে বলা হয় সমবেগ (uniform velocity)। এক্ষেত্রে বেগ বের করার সূত্র খুব সোজা। বেগকে v, দুরত্বকে s এবং সময়কে t দিয়ে প্রকাশ করা হলে বেগ হবে,
$$v = \frac{s}{t}$$

এই সূত্রটিরই ব্যবহার একটু আগে আমরা করেছি। তবে বেগ যদি সুষম না হয়, তাহলে আর এই সূত্র কাজ করবে না। অবস্থান পরিবর্তনের হারকে যেমন বেগ বলে, তেমনি বেগ পরিবর্তনের হারকে বলে ত্বরণ (acceleration)। অসমবেগের ক্ষেত্রে ত্বরণের মান কাজে লাগে।

এতক্ষণ আমরা যা বললাম তার সবই কিন্তু রৈখিক কথাবার্তা। কৌণিক দূরত্ব কখন কাজে আসে তার একটি উদাহরণ চিন্তা করা যাক। আমরা জানি, রাতের আকাশে ধ্রুব তারা সবসময় উত্তর আকাশে থাকে। বরাবর উত্তর দিকের দিগন্তের উপরে। সময় গড়াবার সাথে সাথে অন্যান্য তারা পশ্চিম দিকে ঢলে পড়লেও ধ্রুব তারা থাকে প্রায় একই জায়গায়।

আরও পড়ুন
☛ দিক নির্ণয়ে ধ্রুব তারা

ধ্রুব তারা দিয়ে অক্ষাংশ বের করার দারুণ একটি উপায় আছে। কোনো জায়গা থেকে ধ্রুব তারা দিগন্ত থেকে যত ডিগ্রি উপরে থাকবে, ঐ জায়গার অক্ষাংশ হবে তত ডিগ্রি। যেমন বাংলাদেশের অক্ষাংশ প্রায় ২৩ ডিগ্রি। ফলে ধ্রুবতারাকেও উত্তর দিগন্ত থেকে ২৩ ডিগ্রি উপরে চোখে পড়ে। এই যে ভূমি থেকে ২৩ ডিগ্রি উপরের এই দূরত্ব, এটা কিন্তু রৈখিক দূরত্ব নয়। বরং কৌণিক দূরত্ব।

খালি হাতে রাতের আকাশের কৌণিক দূরত্ব মাপার বিস্তারিত উপায় লেখা আছে এখানে

এ তো গেল কৌণিক দূরত্বের কথা। অতএব, আগের মতোই, কৌণিক অবস্থান পরিবর্তনের হারই হলো কৌণিক বেগ। জ্যোতির্বিজ্ঞানে অসংখ্য জায়গায় এর ব্যবহার আছে। যেমন ধরা যাক সূর্যের চারদিকে পৃথিবীর কক্ষপথের কথা। পৃথিবী মোটামুটি এক বছরে সূর্যকে পুরোটা ঘুরে আসে। একইভাবে চাঁদসহ কৃত্রিম উপগ্রহরা ঘোরে পৃথিবীর চারপাশে। এসব হিসাব-নিকাশে দরকার হয় কৌণিক বেগ।

কৌণিক বেগ মাপা হয় বস্তুর সাবেক ও বর্তমান অবস্থানের কৌণিক অবস্থান দিয়ে। অন্য কথায় দুই অবস্থানে উৎপন্ন কোণ দিয়ে।

উপরের চিত্র দেখুন। মনে করুন, একটু বস্তু ০ ডিগ্রি অবস্থানে আছে। এটি ঘড়ির কাঁটার উল্টো দিকে যাত্রা শুরু করল। ধরুন ৩০ ডিগ্রি ঘুরল। আরও ধরুন এটা অতিক্রম করতে বস্তুটির ২ সেকেন্ড লাগল। তাহলে বস্তুটির কৌণিক বেগ হলো সেকেন্ডে ১৫ ডিগ্রি। আমরা ধরে নিচ্ছি, বেগ সুষম। মানে, বেগ বাড়ছে-কমছে না।

কোনো বস্তু ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরলে পুরো এক ঘূর্ণন সম্পন্ন হয়। যেমন পৃথিবী সূর্যের চারদিকে পুরোটা একবার ঘুরে এলে ৩৬০ ডিগ্রি ঘোরা হয়। ঘূর্ণন বৃত্তাকার না হলেও (যেমন কক্ষপথ কিন্তু উপবৃত্তাকার) পুরো ঘূর্ণনে ৩৬০ ডিগ্রি-ই হয়।

উপরে আমরা কৌণিক বেগকে ডিগ্রি আর সেকেন্ড দিয়ে প্রকাশ করেছি। তবে কোণের আন্তর্জাতিক একক হলো রেডিয়ান। সেই হিসেবে কৌণিক বেগের একক হলো প্রতি সেকেন্ডে অতিক্রান্ত রেডিয়ান। আমরা জানি, ১৮০ ডিগ্রিকে রেডিয়ান এককে বলা হয় π রেডিয়ান। তাহলে কোনো বস্তু অর্ধবৃত্ত ঘুরলে (উপরের ০ ডিগ্রি থেকে ১৮০ ডিগ্রি অবস্থানে এলে) π রেডিয়ান কৌণিক দূরত্ব অতিক্রম করা হবে। একইভাবে পুরো বৃত্ত ঘুরে অতিক্রম করা হবে 2π রেডিয়ান দূরত্ব। কৌণিক দূরত্বকে সাধারণত θ বা α দ্বারা প্রকাশ করা হয়।

কৌণিক বেগ বের করার সূত্র হলো,

$$\omega = \frac{\theta}{t}$$

যেখানে $\omega$ (ওমেগা) হলো কৌণিক বেগ।

কৌণিক বেগের জন্যে যে অন্য কারও চারদিকে ঘুরে আসতে হবে এমন কোনো কথা নেই। যেমন পৃথিবী নিজ অক্ষের চারপাশেও ঘুরে। এ কারণেই দিন-রাত হয়। এখানে পুরো এক ঘূর্ণন, মানে ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে আসতে সময় লাগে প্রায় ২৪ ঘণ্টা। মানে এক দিন।

রাতের আকাশের তারা খুঁজে পেতে কৌণিক বেগের কারিশমা দেখতে পড়ুন:
☛ উজ্জ্বল তারাদের গল্প 

কৌণিক দূরত্ব থেকে আমরা সহজেই রৈখিক দূরত্ব বের করতে পারি।

উপরে চিত্রে বৃত্তটির ব্যসার্ধ r। তাহলে এর পরিধি হলো 2πr। মনে করুন, একটি সুতা দিয়ে একটি বৃত্ত বানানো হলো। বানানোর পরে এর ব্যাসার্ধ r হলে সুতার দৈর্ঘ্য ছিল 2πr। পরিধি মানে এটাই। আরেকভাবে চিন্তা করা যায়। বৃত্তটিকে একটি চাকা হিসেবে কল্পনা করুন। তাহলে এই চাকা পুরো একবার ঘুরলে 2πr দূরত্ব অতিক্রম করবে। পুরো একবার ঘূর্ণন! কথাটা চেনা চেনা লাগছে না? হ্যাঁ, পুরো একবার ঘূর্ণনের মানে হলো ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে আসা। রেডিয়ান এককে 2π কোণ। তবে π এর ব্যবহার দুই জায়গায় আলাদা। 2πr এর π-এর মান হলো ৩.১৪১৫... যা একটি অমূলদ ধ্রুবক। বৃত্তের পরিধি ও ব্যাসের ভাগফল। আর 2π কোণ যখন বলা হবে, তখন π মানে হলো ১৮০ ডিগ্রি কোণ। এখানে π এর একক আছে (রেডিয়ান, বা ডিগ্রিতে বললে ১৮০ ডিগ্রি)। কিন্তু 2πr এর π-এর কোনো একক নেই। একটি বিশুদ্ধ সংখ্যা।

উপরের তথ্য কাজে লাগিয়ে আমরা সহজেই কৌণিক আর রৈখিক বেগের সম্পর্ক বুঝতে পারি।

মনে করি, একটি বস্তু ১ মিনিটে পুরো বৃত্ত ঘুরে এল। ধরি, বৃত্তের ব্যসার্ধ (r) ১০ মিটার। বিশাল এক বৃত্ত! তাহলে এর রৈখিক বেগ কত?

উত্তর হবে,
$$v = \frac{2 \pi r}{60} = \frac{2 \pi × 5}{60} = 1.05 ms^{-1}$$

একইভাবে ১ মিনিটে ১৮০ ডিগ্রি (π রেডিয়ান) বা অর্ধবৃত্ত ঘুরে এলে রৈখিক বেগ হবে $\frac{\pi r}{60} ms^{-1}$।

তার মানে, রৈখিক বেগের সাথে কৌণের সম্পর্ক পাওয়া যাচ্ছে।

বোঝাই যাচ্ছে, কোণের সাথে ব্যাসার্ধ গুণ করে সময় দিয়ে ভাগ দিলেই রৈখিক বেগ পাওয়া যাচ্ছে।
তার মানে, $v=\omega r$

উপরের সম্পর্ক থেকে বোঝা যাচ্ছে, কেন্দ্র থেকে যত দূরে যাওয়া হবে, রৈখিক দূরত্ব তত বেশি হতে হবে। মানে বৃত্তের কেন্দ্র থেকে বেশি দূরে থাকলে সমান কৌণিক দূরত্ব অতিক্রম করতে বেশি রৈখিক দূরত্ব অতিক্রম করতে হবে। বাস্তবে এর অনেক উদাহরণ আছে। যেমন দুটি গাড়ি মোড় ঘুরছে। দুটি গাড়িই কিন্তু সমান কোণ নিয়ে ঘুরবে। কিন্তু যেটি দূরে দিয়ে ঘুরবে সেটিকে বেশি রৈখিক পথ অতিক্রম করতে হবে।


একটু চিন্তা করুন। রাতের আকাশে ধ্রুবতারা একই জায়গায় থাকার সাথে এই ধারণার মিল আছে। 

আরও পড়ুন

আসলে কৌণিক বেগ নিয়ে লিখতে থাকলে কখনও কথা ফুরোবে না। তাই আপাতত ক্ষান্ত দিলাম। 
Category: articles

শুক্রবার, ৩১ আগস্ট, ২০১৮

রাতের আকাশে খালি চোখে পাঁচটি গ্রহ দেখা যায়। বুধ, শুক্র (শুকতারা বা সন্ধ্যাতারা হিসেবে), মঙ্গল, বৃহস্পতি ও শনি। তবে একই সাথে সবগুলো গ্রহকে সাধারণত দেখা যায় না। চারটি দেখাও বেশ ভাগ্যের ব্যাপার বটে!


এমন ব্যাপারই ঘটছে এ মাসেও। গত মাসটাও প্রায় এমন ছিল। এক সাথে চারটি উজ্জ্বল গ্রহ। শুক্র, মঙ্গল, বৃহস্পতি ও শনি। সন্ধ্যার পরই আকাশের পশ্চিম, ও দক্ষিণ-পশ্চিম আকাশকে রাঙিয়ে রাখে চারটি গ্রহের মিলনরেখা।

শুক্র
চাঁদের পরেই রাতের আকাশের সবচেয়ে উজ্জ্বল বস্তু। এছাড়া এ মাসে গ্রহটি একটু বেশিই উজ্জ্বল। মাসের শুরুতে সন্ধ্যার দেড় ঘণ্টা পরেও থাকছে দিগন্তের উপরে। তবে মাসের শেষের দিকে থাকবে মাত্র এক ঘণ্টা। মাসের ২১ তারিখে শুক্র সবচেয়ে উজ্জ্বল হবে।

আরও পড়ুন
☛ শুকতারার পরিচয়

আগস্ট মাসের ২৮ তারিখের সন্ধ্যার আকাশ।
সূত্র: Stellarium
বৃহস্পতি
গ্রহরাজও এ মাসে দারুণ উজ্জ্বল। এমনিতেই এটি যে কোনো নক্ষত্রের চেয়েও উজ্জ্বল। শুধু শুক্রর কাছেই এর হার। তবে এ বছর মঙ্গলে কারণে এটি একটি পিছিয়ে পড়ল। পৃথিবীর খুব কাছে এসে পড়ায় এ মাসের ৭ জুলাই থেকে ৭ সেপ্টেম্বর— এই দুই মাস মঙ্গল উজ্জ্বলতায় বৃহস্পতির চেয়ে এগিয়ে ছিল।

আরও পড়ুন
☛ গ্রহ-নক্ষত্রদের কে কত উজ্জ্বল কীভাবে বুঝবেন?
এক নজরে বৃহস্পতি

মাসের শুরুতে সন্ধ্যার প্রায় তিন ঘণ্টা আর মাসের শেষের দিকে প্রায় দুই ঘণ্টা পরে অস্ত যাবে বৃহস্পতি।

মঙ্গল
বর্তমান সময়ে লাল গ্রহটিকে সন্ধ্যার আকাশে খুব সহজে দেখা যায়। এক দিকে লাল বলে এমনিতেই নজরে পড়ে সহজে। তাও আবার এখন উজ্জ্বলতায় বৃহস্পতির সাথে দিচ্ছে টেক্কা। তবে দ্রুতই অনুজ্জ্বল হয়ে পড়ছে বেচারা। মাসের শুরুতে এটি শনির দশগুণ উজ্জ্বল হলেও মাসের শেষে থাকছে মাত্র ৫ গুণ উজ্জ্বল।

আরও পড়ুন
মঙ্গল গ্রহ লাল কেন?

শনি
শনিকে দেখা যাচ্ছে মঙ্গল ও বৃহস্পতির প্রায় মাঝে। ডুববে প্রায় মধ্য রাতে।

গত মাসের ছবি
শুক্র, চাঁদ ও চাঁদের প্রতিফলনের ছবি। ছবিটা তোলা পর্তুগালে। তুলেছিলেন হেনরিক ফেলিচিয়ানো সিলভা। সূত্র: Earthsky.org। 
আরও পড়ুন
☛ উজ্জ্বল তারাদের গল্প

সুত্র:
১। Earthsky.org
২। Stellarium
Category: articles

রবিবার, ১২ আগস্ট, ২০১৮

মহাকাশ নিয়ে আমাদের আকর্ষনের কোন কমতি নেই সেই প্রাচীনকাল থেকেই। কখনো খালি চোখে, কখনো দুরবিন, কখনও বা টেলিস্কোপ দিয়ে নানান তথ্য উদঘাটনে মহাকাশকে তন্নতন্ন খুঁজে ফিরেছে নামজাদা বিজ্ঞানীসহ অনেক সাধারণ মানুষও। এখন এতো এতো গবেষণার তথ্য উপাত্তের ভীড়ে আমাদের মনে হুট করে প্রশ্ন জাগতে পারে, পৃথিবী তো ৭১ শতাংশ পানিতে নিমজ্জিত, তাহলে কি মহাকাশে কোন পানি নেই? থাকলেই বা তা কতটুকু? কোথায় রয়েছে সবচেয়ে বেশি পানি? এই প্রশ্নগুলো গুছিয়ে দিতে এসো আজ দেখে নেয়া যাক- মহাকাশে পানির পরিমাণ কতটুকু এবং কোথায় বা সবচেয়ে বেশি পানি রয়েছে?


আমরা সকলেই জানি যে, প্রাচুর্যতায় ভরপুর আমাদের এই পৃথিবী ছাড়া বিশ্বজগতের অন্য কোথাও প্রাণের অস্তিত্ব এখন অবধি প্রমাণিত হয়নি। কোথায় প্রাণের বিকাশের পূর্বশর্ত হিসেবে সেখানে পানির উপস্থিতি থাকা বাঞ্ছনীয়। যার স্বয়ংসম্পূর্ণতা আমাদের এই পৃথিবীতে রয়েছে। কিন্তু মজার ব্যাপার কি জানেন,পৃথিবীর চেয়েও বহুগুণ পানি রয়েছে আমাদের সৌরজগতের অন্যান্য গ্রহ এবং উপগ্রহে! এখন মনে স্বাভাবিকভাবে প্রশ্নের উদয় হতে পারে, পানি যেহেতু আছে, প্রাণ থাকবে না কেন? কিম্ভুতকিমাকার চেহারার সায়েন্স ফিকশনের সবুজ ঘড়িওয়ালা এলিয়েন থাকবে না কেন?

পানি মানেই কিন্তু যে স্বচ্ছ শীতল নির্মল পানি হতে হবে এমন নয়। অন্যান্য গ্রহের নানান প্রকার গ্যাস, গলিত পদার্থ, চাক চাক বরফকে আমরা সাধারণভাবে পানি বললেও- তা আসলে বহু যৌগ পদার্থের সংমিশ্রণে সৃষ্টি হওয়া রাসায়নিক তরল। যেমন, বিজ্ঞানীদের ধারণা ইউরেনাসের হাইড্রোজেন-মিথেন এর পিছনে রয়েছে উত্তপ্ত এক সমুদ্র। এই সমুদ্রে পানির সাথে দ্রবীভূত আছে অ্যামোনিয়া।

মূল কথায় আসা যাক। এখন প্রথমত প্রশ্ন আসতে পারে- সৌরজগতের কোথায় সবচেয়ে বেশি পানি রয়েছে এবং তার পরিমাণ কতটুকু? মহাকাশ সংস্থা নাসার দেয়া পরিসংখ্যান দেখে নেয়ে যাক। নড়েচড়ে বসুন কিন্তু। কারণ বিজ্ঞানের তথ্যগুলো সাদা দৃষ্টিতে নয়, অন্তরের দৃষ্টি দিয়ে দেখতে হয় ধীরেসুস্থে।

পৃথিবীতে তরল পানির পরিমাণ হলো ১.৩৩৫ জেটালিটার (Zettalitres ZL)। এক জেটালিটার মানে, একশ কোটি ঘন কিলোলিটার! সংখ্যায় লিখলে যা হবে, 1000000000000000000000 ঘন কিলোলিটার! কি, মাথায় চক্কর কাটছে?

আমাদের প্রিয়তম পৃথিবীর আয়তন হলো ১০৮৩.২১ জেটালিটার (পৃথিবী কঠিন পদার্থ হলেও তুলনার সুবিধার্থে আয়তনকে লিটারে প্রকাশ করা হয়েছে)। অর্থাৎ আয়তনের তুলনায় পৃথিবীতে পানির পরিমাণ হলো মাত্র 0.12 শতাংশ! যা মূলত পৃথিবীর উপরিভাগে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। সমুদ্রতলের সবচেয়ে গভীরতম খাদ ম্যারিয়ানা ট্রেঞ্চের গভীরতা প্রায় ১১ কিলোমিটার। অর্থাৎ ভূপৃষ্ঠস্থ সর্বোচ্চ চূড়া এভারেস্টের চেয়েও ৩ কিলোমিটারের মতো গভীর! স্বাভাবিকভাবে মাটি খুঁড়তে থাকলে তিন কিলোমিটারের পরে আর পানি পাওয়া যাবে না। তারপর থেকে পৃথিবী আস্ত এক গমগমে আগুনের গোল্লা। যাকে ভিতরে রেখে আমাদের বসবাসের জন্যে পৃথিবীপৃষ্ঠ অনেকটা শীতলপাটির মতো বিছিয়ে আছে।

পৃথিবীর গঠন। প্রায় তিন কিলোমিটার গভীরে গেলেই কিন্তু পানির দেখা পাওয়া যাবে না। 

অন্যদিকে সৌরজগতের অন্যতম অধিবাসী ট্রিটনে তরল পানির আয়তন হলো, 0.03 জেটালিটার। আর তার আয়তন হলো 10.35 জেটালিটার। ট্রিটনের আয়তন অনুযায়ী তার মধ্যে পানি আছে ৬৫ শতাংশ! যেখানে পৃথিবীর আয়তন অনুযায়ী তাতে পানির পরিমাণ মাত্র ০.১২ শতাংশ।

সুতরাং, সহজেই বুঝে নেয়া যায় যে, আয়তনের পাল্লায় ট্রিটনের পানির পরিমাণ বহুগুণ বেশি! এটাই শেষ নয়, উদাহরণ এখনো বাকি আছে যে। বরং একগ্লাস পানি খেয়ে নিন। আর ভাবতে থাকুন, এই একগ্লাস পানি, ভূপৃষ্ঠের ০.১২ শতাংশ পানির কত শত জেটালিটার ক্ষুদ্র অংশ?

তারপর, চমৎকার সুন্দর গ্যাসীয় বলয় থাকা বামন গ্রহ প্লুটোর আয়তন হলো ৭.০১ জেটালিটার। আর প্লুটোতে পানির পরিমাণ হলো ১ জেটালিটার। যা তার আয়তনের ৬২ শতাংশ। বৃহস্পতিগ্রহের অন্যতম উপগ্রহ ইউরোপার আয়তন ১৬.০৬ জেটালিটার। আর তার অভ্যন্তরস্থ পানির পরিমাণ, ২.৬ জেটালিটার। যা আয়তনের ১৮ শতাংশ। শনির উপগ্রহ এনসেলেডাসের ৬৮% ই পানি দিয়ে পরিপূর্ণ।

শনির উপগ্রহ এনসেলেডাস

১৬১০ সালে বিজ্ঞানী গ্যালিলিওর আবিষ্কার করা বৃহস্পতিগ্রহের ৬৭টি উপগ্রহের মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম এবং সৌরজগত পরিবারের মধ্যে তৃতীয় বৃহত্তম উপগ্রহ ক্যালিস্টর আয়তন হলো ৫৮.৬৩ জেটালিটার। যার অভ্যন্তরে তরল পানির পরিমাণ, ৫.৩ জেটালিটার। অর্থাৎ আয়তনের তুলনায় ৩৩ শতাংশ বা এক-তৃতীয়াংশের কিছু বেশি।

১৬৫৫ সালের ২৫ মার্চ ক্রিস্টিয়ান হাইগেনস- এর আবিষ্কার করা শনিগ্রহের বৃহত্তম এবং ঘন বায়ুমণ্ডল বিশিষ্ট একমাত্র উপগ্রহ টাইটানের আয়তন ৭১.৬০ জেটালিটার। আর তার মধ্যে তরল পানির অস্ত্বিত্ব রয়েছে ১৮.৬ জেটালিটার। টাইটানের মোট আয়তনের ৪৪ শতাংশ।

বৃহস্পতির সর্ববৃহৎ উপগ্রহ গ্যানিমিড সৌরজগতেরও সবচেয়ে বড় উপগ্রহ। আকারে যা বুধগ্রহের চেয়েও বড়। গ্যানিমিড ৬ লাখ ২১ হাজার মাইল দূর দিয়ে বৃহস্পতিকে প্রদক্ষিণ করে। আয়তন হলো, ৭৬.২৯ জেটালিটার। আর তরল পানির আয়তন ৩৫.৪ জেটালিটার। যার প্রেক্ষিতে আয়তনের তুলনায় পানি হলো, ৬৯ শতাংশ।

বিভিন্ন গ্রহ-উপগ্রহে পানির পরিসংখ্যান।
বড় করে দেখতে এখানে ক্লিক করুন।  

সৌরজগতের সবচেয়ে বেশি পানি রয়েছে বৃহত্তম উপগ্রহ গ্যানিমিডে। যাতে তরল পানির উপস্থিতি রয়েছে ৩৫.৪ জেটালিটার। যা তার আয়তনের ৬৯ শতাংশ। খেয়াল করেছেন কি পানির উপস্থিতিতে শীর্ষের দিকে থাকা ইউরোপা, ক্যালিস্টো, গ্যানিমিডের অবস্থান পৃথিবীর তুলনায় দশগুণ বিশাল সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহ বৃহস্পতিতে। এখন তাহলে কি আমরা বলতে পারি না গ্রহের অন্তর্ভূক্ত পরিবার হিসেবে বৃহস্পতিগ্রহে সবচেয়ে বেশি পানি রয়েছে। বোধহয় পারি!

গ্যানিমিডসহ বৃহস্পতির প্রধান ৪টি উপগ্রহ।
Category: articles

বুধবার, ৮ আগস্ট, ২০১৮

চাঁদ। পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ। পুরো সৌরজগতের পঞ্চম বৃহৎ উপগ্রহ। পৃথিবীর রাতের আকাশে সবচেয়ে উজ্জ্বল বস্তু। দিনের আকাশে সূর্যকে আমরা যতটা বড় দেখি, রাতের বেলায় পূর্ণ চাঁদকেও প্রায় ততটাই বড় দেখি। দুজনের সাইজের মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাৎ থাকলেও দূরত্বের কারণেই এটা সম্ভব হয়েছে। অথচ সূর্য যেখানে পৃথিবী থেকে গড়ে প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার দূরে আছে, সেখানে চাঁদের দূরত্ব মাত্র ৩ লক্ষ ৮৪ হাজার ৪ শ কিলোমিটার।

পৃথিবী ও কক্ষপথে চাঁদ 

আরও পড়ুন:

☛ পৃথিবী থেকে সূর্যের দূরত্ব কত?
☛ চাঁদ কীভাবে আলো দেয়?
☛ অপসূর বনাম অনুসূর 

তাহলে চাঁদ আসলে ঠিক কত বড়? 

জ্যোতির্বিদ্যায় বড়ত্বের হিসাব হয় অনেকভাবে। ভর, আয়তন, ব্যাসার্ধ বা ব্যাস। তবে আমাদের আজকের আলোচনার সাথে সবচেয়ে প্রাসংগিক হলো সাইজ। এটা আয়তন, ব্যাসার্ধ বা ব্যাস যেকোনোটা দিয়েই চিন্তা করা যায়।

চাঁদের আকার পৃথিবীর চার ভাগের এক ভাগ থেকে সামান্য বেশি মাত্র। ২৭ ভাগ। মূল কথায় আসি। গোল চাঁদের গড় ব্যাসার্ধ হলো ১০৮০ মাইল। মানে ১৭৩৮ কিলোমিটার। তার মানে এটি এর দুই গুণ মানে ২১৬০ মাইল (৩৪৭৫ কিমি.) চওড়া। পৃথিবীর এর তিন গুণের চেয়ে বেশি চওড়া। বিষুব অঞ্চলে চাঁদের পরিধি হলো ৬৮৮৪ মাইল বা ১০৯১৭ কিমি.।

পৃথিবী ও অন্যান্য বস্তুর তুলনায় চাঁদের আকার 

চাঁদ ও পৃথিবীর তুলনামূলক সাইজ নিয়ে নাসা সুন্দর একটি উপমা দিয়েছে।
পৃথিবী যদি একটি পয়সার মতো হয়, তবে চাঁদের আকার হবে কফির দানার সমান। 
চাঁদের পৃষ্ঠতলের ক্ষেত্রফল ১ কোটি ৪৬ লক্ষ বর্গ মাইল বা ৩ কোটি ৮০ লক্ষ বর্গ কিমি.। এটা আমাদের এশিয়া মহাদেশের ক্ষেত্রফলের চেয়েও অল্প। জেনে রাখলে ক্ষতি কী, এশিয়ার ক্ষেত্রফল হলো ১ কোটি ৭২ লক্ষ বর্গ মাইল বা ৪ কোটি ৪৫ লক্ষ বর্গ কিমি.।

আরও কিছু বিষয় নিয়ে তুলনাটা হয়েই যাক না। চাঁদের ঘনত্ব ও ভর দুটোই পৃথিবীর চেয়ে কম। ভর পৃথিবীর মাত্র ১.২ ভাগ। মানে পৃথিবীর ভর চাঁদের ৮১ গুণ। চাঁদের প্রতি ঘন সেন্টিমিটার আয়তন জায়গার গড় ভর ৩.৩৪ গ্রাম। পৃথিবীর ক্ষেত্রে যেটা গড়ে ৫.৫১৪ গ্রাম।

চাঁদের মহাকর্ষ পৃথিবীর মাত্র ১৬.৬ ভাগ। কেউ পৃথিবীতে লাফ দিয়ে ১০ ফুট উঠতে পারলে চাঁদে গিয়ে এক লাফে উঠতে পারবেন ৬০ ফুট। বাহ! কী মজার ব্যাপার।

আরও পড়ুন:
☛ অন্য গ্রহে লাফালাফি

সূত্র:
১। নাসা: স্পেসপ্লেস
২। নাসা: মুন পোর্টাল
৩। উইকিপিডিয়া: Moon
৪। স্পেস ডট কম: How big is moon?
Category: articles

রবিবার, ৫ আগস্ট, ২০১৮


ছোটবেলায় কে না পড়েছেন?
Twinkle, twinkle, little star,
How I wonder what you are!
Up above the world so high,
Like a diamond in the sky.
কিন্তু বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে কবিতাটা ভুল। তারা মিটমিট করে জ্বলে ঠিকই, কিন্তু আমরা একে দেখে হতবাক হই না এটি কী দিয়ে তৈরি সেটা ভেবে। হ্যাঁ, বিমোহিত হই। কিন্তু সেটা না জানার কারণে নয়। জানি বলেই।

তাই একে আমি সংস্কার করে বাংলায় বলি এভাবেঃ
"মিটমিট করে তারা
আমি জানি কারা ওরা
কারণ আমার আছে জ্ঞান
ওরা হল হাইড্রোজেন"

আমার 'কবিতা'টি আসলে আইয়ান ডি বুশ লিখিতে কবিতার সরল ভাবানুবাদ।

মূল কবিতাটি লেখেন জেন টেইলর, ১৮০৬ সালে। তখন আমরা তারা দেখে আসলেই হতভম্ব হতাম। এদের মধ্যে কী আছে তা কল্পনাও করতে পারতাম না।

এক সময় নক্ষত্রের বর্ণালী দেখে জানা গেল একটি সাধারণ নক্ষত্রে প্রায় ৭১ শতাংশ হাইড্রোজেন ও ২৭ % এর মতো হিলিয়াম থাকে।

নক্ষত্রের উপাদান 

আরও পড়ুন:
☛ নক্ষত্র কাকে বলে
☛ উজ্জ্বল তারাদের গল্প 

ডি বুশ তাই লিখেছিলেন এভাবে:
Twinkle Twinkle little star,
I don't wonder what you are;
For by spectroscopic ken,
I know that you're hydrogen;
Category: articles

মঙ্গলবার, ৩ জুলাই, ২০১৮

[লিখেছেন: ওয়েস আল কারণী]

চলছে ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনা! আর ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা তর্ক ! ভাবছেন মহাকাশের পোর্টালে আবার খেলার কথা! কারণ আছে বৈকি । আপনারা হয়ত ব্রাজিলের পতাকায় অনেকগুলো তারা দেখে থাকবেন! এগুলো নিছকই এলোমেলো কিছু তারা না! ব্রাজিলের পতাকায় প্রতিটি তারাই আকাশের তারা ও তারামন্ডলের অনুকরণে রাখা হয়েছে।

ব্রাজিলের পতাকায় নক্ষত্রের মেলা
চিত্র অনুসারে ১ নং তারাটি হল প্রভাস (Procyon), যা পৃথিবী থেকে ১১.৪৬ আলোকবর্ষ দূরে শূণীমণ্ডলে(constellation canis minor) অবস্থিত একটি যুগল তারা (binary star)। প্রভাস ব্রাজিলের অ্যামাজন অঙ্গরাজ্যের প্রতীক হিসেবে ব্যাবহৃত হয়।

তারাগুলো এলোমেলো বা ইচ্ছে খামখেয়ালের বশে বসিয়ে দেওয়া নয় 


২ নং গোলকের মাঝে অবস্থিত তারাগুলো আসলে মৃগব্যাধ বা Canis Major তারামন্ডল! অন্ধকার রাতে পৃথিবী থেকে দূর-আকাশের দিকে তাকালে যে সকল নক্ষত্র দেখা যায়, তাদের কিছু কিছু নক্ষত্রের সাথে কাল্পনিক রেখা যুক্ত করে, বিভিন্ন বিষয়বস্তু কল্পনা করা হয়। প্রাচীনকালের জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এই সকল বিষয়বস্তুর নামকরণ করেছিলেন পৌরাণিক চরিত্র বা পার্থিব কোন বস্তুর সাথে মিল রেখে। এই নক্ষত্রসমূহ নিয়ে তৈরি এই কাল্পনিক চিত্রগুলোকে নক্ষত্রমণ্ডল বলা হয়।

আরও পড়ুন 
☛ নক্ষত্রমণ্ডলের পরিচয়

৩ নং তারাটি রাতের আকাশের দ্বিতীয় উজ্জ্বল তারা Canopus বা অগস্ত্য (সুহাইল নক্ষত্র)! ৪র্থ তারাটি হল কন্যারাশির সবচেয়ে উজ্জ্বল তারা ও রাতের আকাশের ১৫ তম উজ্জ্বল তারা চিত্রা (Spica)। ৫ নং আয়তের মাঝে অবস্থিত তারা দুইটি হল  হ্রদসর্পমণ্ডলের (Hydra) উজ্জ্বলতম দুই তারা। বড় তারাটি হল বাসুকি (Alphard)।

৬ষ্ঠ বৃত্তের মাঝের তারা গুলো হল হারিয়ে যাওয়া তারামণ্ডল ক্রাক্স অস্ট্রালিস বা দক্ষিণা ত্রিশঙ্কু । ৭ম তারাটি হলো সিগমা অক্ট্যানটিস Sigma Octantis যা দক্ষিণ মেরু নির্নায়ক তারা । উত্তর মেরুর তারা বলতে আমরা যেমন ধ্রূবতারাকে বুঝি, দক্ষিণ মেরুর এমন ধ্রুবতারা হল Sigma Octantis! ৮ম বৃত্তের মাঝে অবস্থিত তারাগুলো হলো দক্ষিণা ত্রিকোণ মণ্ডলের (Triangulum Australe) প্রধান তিন তারা! ৯ম উপবৃত্তের মাঝের ৮টি তারা হলো বৃশ্চিকরাশির (Scorpius) প্রধান ৮ তারা।

ব্রাজিলের পতাকার সব গুলো তারা নিয়ে আমরা ধীরে ধীরে জানব । আজ জানব প্রভাস নিয়ে । প্রভাস হল বাইনারি তারা! বাইনারি তারা হল এমন দুইটি তারা যারা একে অপরের মিলিত ভারকেন্দ্রকে কেন্দ্র করে প্রদক্ষিণ করে। তবে পৃথিবী থেকে এদের দেখতে একটি একক তারাই মনে হয়। অন্য নামে আলফা ক্যানিস মাইনোরিস নামের এই তারাটি পৃথিবীর আকাশের অষ্টম ও নিজ নক্ষত্রমণ্ডলের উজ্জ্বলতম তারা। এর আপাত উজ্জ্বলতা +0.৩৪, অর্থাৎ রাতের আকাশের অন্যতম উজ্জ্বল তারা যা সহজেই দৃষ্টিগোচর হয়।

আরও পড়ুন
☛ আপাত উজ্জ্বলতা কাকে বলে? 

প্রভাসের ইংরেজি নাম Procyon এসেছে গ্রিক পুরাণের Προκύων (Prokyon) শব্দ থেকে । যার অর্থ কুকুরের পূর্বে। প্রাচীন গ্রিসে আকাশের উজ্জ্বলতম তারকা লুব্ধককে (Sirius) কুক্কুর তারা (Dog star) বলা হত। রাতের আকাশে লুব্ধকের পূর্বে প্রভাস উদিত হয় বিধায় এমন নামকরণ করা। প্রভাস ব্রাজিলের অ্যামাজন অঙ্গরাজ্যের প্রতীক হিসেবে ব্যাবহৃত হয় । আরবে একে الغميصاء বা ক্রন্দনরত মেয়ে বলা হয়।

শীতের শেষের দিকে (মার্চ) মাঝরাতে এটি মাথার উপরে অবস্থান করলেও বছরের এই সময়ে একে খুঁজে পাওয়া বেশ কঠিন । আকাশ পরিষ্কার থাকায় এর উজ্জ্বল নীলচে আভা সহজেই চোখে পড়ে। আমরা প্রায় সবাই অরায়ন বা কালপুরুষ নক্ষত্রমণ্ডল চিনি। রাতের আকাশে পাশাপাশি একই সরলরেখায় অবস্থিত তিনটি তারকা (অরায়ন বেল্ট) দেখেই যা সনাক্ত করা যায় । অরায়নকে সন্ধ্যাবেলায় পশ্চিম দিগন্তের নিকট দেখা যায় ! এর দক্ষিন দিকে উজ্জ্বলতম তারা লুব্ধক (sirius) অবস্থান করে। আর অরায়ন বেল্টের অপর পাশে লাল নক্ষত্র আর্দ্রার (Betelgeuse) অবস্থান। লুব্ধকের উত্তরে ও আর্দ্রার পূর্বে অবস্থিত উজ্জ্বল তারকাটিই হল প্রভাস। শীতকালে আর্দ্রা, লুব্ধক ও প্রভাসকে নিয়ে শীতকালীন ত্রিভুজ বা উইন্টার ট্রায়াঙ্গেল কল্পনা করা হয়।

চিনে নিন কয়েকটি তারা 

প্রভাসের দুইটি নক্ষত্রের প্রধানটি হল একটি এফ-টাইফ প্রধান ক্রমের তারা এবং অপরটি একটি শ্বেত বামন তারা। ১.৫ সৌরভরের প্রধান তারাটির ব্যাসার্ধ সূর্যের ২ গুণ এবং দীপ্তি সূর্যের ৭ গুন। এই তারকাটি বর্তমানে এর কোরের হাইড্রোজেন শেষ করে হিলিয়াম ফিউজের প্রস্তুতি নিচ্ছে। অর্থাৎ এটি আর কিছুদিনের মধ্যে লোহিত দানব বা রেড জায়ান্ট দশায় উপনীত হবে। এই সময়ে এর ব্যাস বর্তমান ব্যাসের ৮০-১৫০ গুণ হবে। আজ থেকে ১০-৮০ মিলিয়ন বছর পরে তারকাটির লোহিত দানব দশা শুরু হবে। এর পৃষ্ঠের তাপমাত্রা প্রায় ৬৫৫০ কেলভিন। দ্বিতীয় শ্বেত বামন তারাটির ভর মাত্র ০.৬৮ সৌরভর এবং ব্যাসার্ধ মাত্র ৬৮০০ কিলোমিটার! শেষে এসে বলতেই হয়!

ব্রাজিল ফুটবলে যেমন শৈল্পিক তেমন তাদের পতাকাও মহাজাগতিক !

সূত্র: ইংরেজি উইকিপিডিয়া (ফ্ল্যাগ অব ব্রাজিল)
Category: articles

মঙ্গলবার, ৫ জুন, ২০১৮

যে-কোনো গোলাকার জিনিসেই মেরু ও বিষুব অঞ্চল নামে দুটো অংশ থাকে। আরও সঠিক করে এ অঞ্চল দুটি থাকে ঘুর্ণনরত গোলাকার বস্তুতে। যেমন গ্রহ, নক্ষত্র ইত্যাদি। যেমন ধরুন, আমাদের পৃথিবী। এটি ঘুরছে পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে। এ কারণেই আমরা সকালবেলা পূর্ব দিকে সূর্য উঠতে দেখি। ডুবে যেতে দেখি পশ্চিমে।

আরও পড়ুনঃ
☛ গ্রহের পরিচয়
নক্ষত্রের পরিচয়

পৃথিবী ঘুরছে পশ্চিম থেকে পূবে। 
এই ঘুর্ণন থেকেই বিষুব ও মেরু অঞ্চল চিহ্নিত করা হয়। উপরের ছবির একেবারে মাঝখান দিয়ে উপরে-নীচে একটি রেখা কল্পনা করুন। এই রেখাটি পৃথিবীর পৃষ্ঠ বরাবর যাবে না। যাবে পৃথিবীর পেটের ভেতর দিয়ে। উপরের পৃথিবীটাকে ফুটবলের মতো চিন্তা করলেই ব্যাপারটা পরিষ্কার হয়ে যাবে।

এখন এই কল্পিত রেখাকে বলা হয় ঘুর্ণন অক্ষ। মানে যে রেখাকে কেন্দ্র করে পৃথিবী ঘুরছে। এবার কল্পনা করুন এই রেখাটি উপরে ও নীচে কোন বিন্দুতে গিয়ে পৌঁছেছে। এই দুটিই বিন্দুকেই বলা হয় মেরু (pole)। উপরের বিন্দুটি হলো উত্তর মেরু। অপর নাম সুমেরু। নীচের বিন্দুটির নাম কুমেরু বা দক্ষিণ মেরু। আর মেরু বিন্দু দুটির আশেপাশের অঞ্চলই মেরু অঞ্চল নামে পরিচিত।

এবার উত্তর মেরু ও দক্ষিণ মেরুর মাঝখানে একটি রেখা কল্পনা করুন। অবশ্যই রেখাটি হবে পূর্ব-পশ্চিমে। এই রেখাটিরই নাম বিষুব রেখা (equator)। অপর নাম নিরক্ষ রেখা। এই রেখার উত্তরে পৃথিবীর যে অংশ পড়েছে তার নাম উত্তর গোলার্ধ (Northern hemisphere)। আর দক্ষিণের অংশের নাম দক্ষিণ গোলার্ধ।

পৃথিবীর মেরু ও বিষুব অঞ্চল। 

বিষুব অঞ্চলে পৃথিবীর পরিধি সবচেয়ে বেশি হয়। বিষয়টা খুব সহজ। উপরের ছবিতে দেখুন, বিষুব রেখা থেকে আমরা যতই উত্তরে বা দক্ষিণে যাব, ততই পূর্ব ও পশ্চিমের ব্যাবধান কমে যাচ্ছে। তার মানে অক্ষ রেখা থেকে পৃষ্ঠের দূরত্ব কমে যাচ্ছে। বুঝতে অসুবিধা হলে ফুটবলের কথা আবার মনে করুন। এভাবে যেতে যেতে মেরুতে গিয়ে দেখুন, পূর্ব ও পশ্চিমের মাঝে কোন ব্যবধানই নেই। দুটো একে অপরের সাথে মিশে গেছে।

এবার আরেকভাবে চিন্তা করি। আমরা প্রায়ই শুনে থাকি, বিষুব অঞ্চলে পৃথিবীর ব্যাসার্ধ বেশি। মেরু অঞ্চলে কম। হ্যাঁ, এটা সত্যি। তবে একটু আগে আমরা যে ব্যাসার্ধের কথা বলেছি, সেটা ছিল অক্ষ রেখা থেকে পরিধির দূরত্ব। মানে উত্তরে-দক্ষিণে কল্পিত রেখার প্রতিটি বিন্দু থেকে পৃথিবীর পৃষ্ঠের দূরত্ব। তবে এবারে আমরা চিন্তা করছি পৃথিবীর একেবারে কেন্দ্র থেকে দূরত্ব। এই ব্যসার্ধ আপাত দৃষ্টিতে মেরু ও বিষুব অঞ্চলে সমান হওয়ার কথা। কিন্তু আসলে তা নয়।

উপরের ছবি দুটোতে আমরা পৃথিবীকে একদম খাঁটি গোলকের মতো চিন্তা করেছি। পৃথিবী সেরকমই হতো যদি এটি স্থির থাকত। কিন্তু পৃথিবী ঘণ্টায় দেড় হাজার কিলোমিটারেরও বেশি বেগে পশ্চিমে থেকে পূবে ঘুরছে। এই ঘূর্ণনের কারণেই বিষুব অঞ্চলটা একটি লম্বা হয়ে গেছে। অন্য দিকে মেরু অঞ্চলটা একটু চেপে গেছে। তার মানে পৃথিবীর সঠিক আকৃতি হবে এ রকম:
দেখুন মেরুর দিকে ব্যাসার্ধ b দিয়ে বোঝানো হয়েছে। আর বিষুব রেখায় ব্যাসার্ধ a। অবশ্যই a বড় b এর চেয়ে। ছবি থেকে বোঝাও যাচ্ছে কেন এমন হল। ছবির সূত্র

আরও পড়ুন: 
পৃথিবী কত জোরে ঘোরে?

এবারে আরও কিছু অঞ্চল চিনে নেওয়া যাক। উত্তর মেরু থেকে প্রায় ২৩.৫ ডিগ্রি দক্ষিণ পর্যন্ত এলাকা নিয়ে একটি বৃত্ত আঁকলে যে এলাকা পাওয়া যায়, তাকে বলে সুমেরু বৃত্ত (arctic circle)। একইভাবে দক্ষিণ মেরুর উত্তর দিকে বৃত্ত আঁকলে তার নাম হয় কুমেরু বৃত্ত (antarctic circle)।

সুমেরু বৃত্ত ও আশেপাশের অঞ্চল। 
আবার বিষুব রেখা থেকে ২৩.৫ ডিগ্রি উত্তরে পূর্ব-পশ্চিমে কল্পিত রেখাকে বলে কর্কটক্রান্তি রেখা (tropic of cancer)। অন্য দিকে, একই কৌণিক দূরত্বে দক্ষিণের রেখাকে বলে মকরক্রান্তি রেখা (tropic of capricorn)। মজার ব্যাপার হলো, আমাদের কর্কটক্রান্তি রেখা আমাদের বাংলাদেশের উপর দিয়ে চলে গেছে। আরও নিখুঁত করে বলা যায়, ঢাকার উপর দিয়ে চলে গেছে।

আরও পড়ুন: 
☛ পৃথিবীর উত্তর-দক্ষিণ মেরু থাকলেও পূর্ব পশ্চিম মেরু নেই কেন?
Category: articles

শনিবার, ২৬ মে, ২০১৮

টেলিস্কোপের কথা মনে আসলেই সবার প্রথমে ধুপ করে কার নামটা মাথায় আসছে বলুন তো? হ্যাঁ, ঠিকই ভাবছেন, গ্যালিলিও। পুরো নাম গ্যালিলিও গ্যালিলি। কিন্তু কথা হচ্ছে, কেন তার নামটাই সবার প্রথমে মাথায় টোকা দিবে? কেননা, এটা হচ্ছে সেই বিষয় যেটা সবাই জানে, তারপরেও ভুল করে। আমরা অনেকেই জানি (মনে করি) গ্যালিলিও টেলিস্কোপ বা আকাশবীক্ষণ যন্ত্রের আবিষ্কর্তা। কিন্তু ব্যাপারটা কি আসলেই তাই?

গ্যালিলিওর টেলিস্কোপে আকাশ দেখা 

টেলিস্কোপের সর্বপ্রথম আবিষ্কর্তাকে নিয়ে অনেক খোঁড়াখুঁড়ির (!) পরেও গবেষকরা আসল মানুষটিকে প্রমাণসহ বের করতে পারেননি। টেলিস্কোপে সাথে লেন্সের ব্যাপারটা ওতোপ্রোতভাবে জড়িত। আর এই লেন্সের ধারণাটা আপনার আমার সময়কার তো নয়ই, রীতিমতো খ্রিস্টের জন্মের আগে থেকে শুরু হয়েছিলো। খ্রিস্টপূর্ব ৭১০-৭৫০ এর সময়টাতে ব্যবহৃত হওয়া একটা ক্রিস্টাল লেন্স এখনও ব্রিটিশ জাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে। যার একদিক উত্তল লেন্সের বৈশিষ্ট্যের সাথে পুরোপুরি খাপ খেয়ে যায়। যদিও ওটা কী কাজে ব্যবহার করা হতো তা কখনোই জানা যায়নি, তবে এমনটা তো ভাবা যেতেই পারে ওটাও হয়তো কোনো বেসিক টেলিস্কোপেরই অংশ ছিল?

যাই হোক, টেলিস্কোপের ইতিহাসে ফিরে যাই। এর সর্বপ্রথম আবিষ্কারক হিসেবে যাকে ধরে নেয়া যায় তার নাম লিওনার্ড ডিগস (Leonard Diggs)। তবে দুঃখের ব্যাপার হলো, এই ভদ্রলোকের ব্যাপারে উল্লেখ করার মতো ইতিহাস  তেমন কিছুই মনে রাখেনি। আবিষ্কারের পর নিজ আবিষ্কারের পরিপূর্ণ ব্যাখা দিতে না পারার কারণেই হয়তো ইতিহাস তাকে দূরে সরিয়ে রেখেছিলো। কে জানে?

তবে ১৬০৮সালে একজন ডাচ চশমা নির্মাতা সর্বপ্রথম তাদের সরকারকে একটি নতুন ধরনের যন্ত্র প্রস্তাব করে। যন্ত্রটিতে একটি টিউবের দুই প্রান্তে দুটি লেন্স সংযুক্ত ছিলো যারা বস্তুর প্রতিবিম্ব বর্ধিতকরণে ভূমিকা রাখতো। লোকটার নাম ছিলো হ্যান্স লিপারশে (Hans Lippershey)। তবে লিপারশি যখন সরকারকে এই যন্ত্র ব্যবহারের প্রস্তাব করেন এবং একইসাথে আবিষ্কারের পেটেন্টের জন্যে আপিল করেন, তার পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়ায় আরও দুই ডাচ অপটিশিয়ান। ইয়ে,  মানে,  পথের কাঁটা না ঠিক, মানে আপদ হয়ে দাঁড়ায় আর কি। যদিও ঠিক একই সময়ে একই ধারণার ওপর ঐ দুই ডাচ অপটিশিয়ান কাজ করছিলো, তারপরেও সর্বপ্রথম আবিষ্কারের পর ধারণাটা সবাইকে ঠিক মতো বোঝাতে পারায় এবং মূলত আগে পেটেন্টের জন্যে আপিল করার কারণে টেলিস্কোপ আবিষ্কারের স্বীকৃতি পেয়ে যান লিপারশে। অল্পের জন্যে বাঁচা!
হ্যান্স লিপারশে 

তো প্রশ্ন জাগতেই পারে, তাহলে টেলিস্কোপের কথা উঠলেই গ্যালিলিওর নামই বা এত আড়ম্বরের সাথে উচ্চারিত হয় কেন?

উত্তরটা খুবই সহজ। লিপারশের এই আবিষ্কারের ব্যাপারটা গ্যালিলিওকে অনেক বেশি উৎসাহিত করে। তিনি টেলিস্কোপ নিয়ে কাজ করতে শুরু করে দেন।

লিপারশের তৈরি করা টেলিস্কোপের বর্ণনা তো আগেই দিলাম! মোটামুটি বলতে পারেন, পাইরেটস অব দ্য ক্যারিবিয়ানে জ্যাক স্প্যারোর হাতে থাকা সেই ছোট্ট দুরবিনের মতো যন্ত্র, যা বস্তুকে তিন গুণ বড় আকারে দেখাতে পারতো। কিন্তু গ্যালিলিও সেই টেলিস্কোপের উপর গবেষণা করে এর ক্ষমতাকে প্রথমে ৮ গুণ, তারপর দশগুণ এবং জীবনের শেষ পর্যন্ত পিছে লেগে থেকে প্রায় ৩০ গুণ বাড়িয়ে ফেলতে সক্ষম হন! যেই টেলিস্কোপে শুধুমাত্র কিনা দুটো সাধারণ লেন্সের ব্যবহার হতো একসময়, তার চেহারা পালটে ফেলে তিনি তৈরি করে ফেলেন উত্তল আর অবতল লেন্সের সমন্বয়ে বিশাল সব টেলিস্কোপ।

আরো কী করেছে জানেন? তিনিই সর্বপ্রথম টেলিস্কোপ দিয়ে চাঁদকে পর্যবেক্ষণ করেছে, জানতে পারেন চাঁদের গায়ে রয়েছে উঁচু নিচু অসংখ্য গর্ত আর পাহাড়ের কথা। তিনিই সবার আগে বুধের পৃষ্ঠদেশ, বৃহস্পতির চাঁদ, মিল্কিওয়ে বা আকাশগঙ্গা গ্যালাক্সি, শনির বলয় স্পষ্টভাবে পর্যবেক্ষণে সক্ষম হয়েছেন। তাঁর কারণেই সম্ভব হয়েছে হাজার বছরের ভুল ধারণা ভেঙে মানুষের বেরিয়ে আসা। এক সময় মানুষ মনে করতো পৃথিবী আসলে মহাবিশ্বের কেন্দ্র আর সকল গ্রহ-নক্ষত্র একে কেন্দ্র করে ঘোরে। বৃহস্পতির উপগ্রহগুলোকে দেখেই তিনি এই ভুলটা ধরতে পারেন। যা হোক, সেটা অন্য প্রসঙ্গ। তা নিয়ে আরেকদিন গল্প করা যাবে।

তো যেটা বলছিলাম,  গ্যালিলিও টেলিস্কোপের  সর্বপ্রথম আবিষ্কর্তা ছিলেন না ঠিকই কিন্তু টেলিস্কোপে অসামান্য অবদান রেখে বাকিদের অবদানকে সামান্য হলেও ম্লান করে দিয়েছিলেন। আমরা কিন্তু এখনও জানি না, টেলিস্কোপের সর্বপ্রথম আবিষ্কর্তা কে। কে জানে, হয়তোবা কোনোদিনই সেটা জানবো না! গ্যালিলিওর পর টেলিস্কোপ নিয়ে আরো দুজন বিখ্যাত বিজ্ঞানী ও দার্শনিক কাজ করেছেন। বলুন দেখি কারা তারা? একটু সহজ করে দিচ্ছি। এদের মধ্যে একজনের একটা বিশেষ বই সম্প্রতি নিলামে উঠেছে এবং প্রায় ৩৭ লাখ ডলারে বইটির প্রথম সংস্করণ কিনে নিয়েছেন এক অজ্ঞাত ব্যক্তি!

আচ্ছা,  আপনারা ভাবতে থাকুন। আমি ততক্ষণে তাঁর টেলিস্কোপ নিয়ে কৃত কাজগুলোর ব্যাপারে বলছি। তিনি সর্বপ্রথম বুঝতে পারেন যে, লেন্স ব্যবহারের কারণে টেলিস্কোপে আলোর প্রতিসরণ ঘটে। আর এ কারণে অনেক আলোকশক্তি হয় লেন্স বা অন্যান্য মাধ্যম দ্বারা শোষিত হয়ে নষ্ট হয়ে যায়। ঠিক এই কারণে তার মাথায় টেলিস্কোপে আয়না ব্যবহারের ব্যাপারটি মাথায় আসে। বিশেষ ধরনের বক্র আয়না ব্যবহার করে টেলিস্কোপে আলোর প্রতিসরণকে কাজে না লাগিয়ে বরং প্রতিফলনকে কাজে লাগানোর মাধ্যমে যদি আলোকরশ্মিগুচ্ছকে একই ফোকাস বিন্দুতে আনা যায়, তাহলে তা পূর্বের তুলনায় আরো বেশি স্পষ্ট প্রতিবিম্ব আমাদের চোখের সামনে তুলে ধরবে। আর এ ধরনের টেলিস্কোপকেই এখন আমরা বলে থাকি প্রতিফলক টেলিস্কোপ (Refracting telescope) । আগেরগুলো যেহেতু প্রতিসরণকে কাজে লাগাতো তাই তাদের বলা হতো প্রতিসারক টেলিস্কোপ (Refracting telescope)।

ধরতে পেরেছেন লোকটা কে? আচ্ছা যদি এখনো ধরতে না পারেন, তাহলে আরেকটা সূত্র দিচ্ছি। এবার পারতেই হবে। ঐ বইটার নাম ছিল, ফিলোসফিয়া ন্যাচারালিস প্রিন্সিপিয়া ম্যাথামে... কী? ধরে ফেলেছেন?

সর্বাকালের অন্যতম সেরা বিজ্ঞানী নিউটন 

হ্যাঁ, তার নাম আইজ্যাক নিউটন। আরেকজন যিনি এর উপর কাজ করেছিলেন তার নাম ছিল কোপার্নিকাস।

যাওয়ার আগে গ্যালিলিওর আরেকটু প্রশংসা করে যাই। যদি কারো মাঝে টেলিস্কোপের প্রথম আবিষ্কর্তা নয় বলে যদি এখনো ক্ষোভ থেকে থাকে তাই আর কি। এটা নিশ্চয়ই জানা আছে যে, প্রত্যেক ভিন্ন ভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যের দৃশ্যমান অথবা অদৃশ্যমান আলোকরশ্মির জন্য ভিন্ন ভিন্ন টেলিস্কোপ ব্যবহৃত হয়। যেমন, রেডিও টেলিস্কোপ, ইনফ্রারেড টেলিস্কোপ, ইউভি টেলিস্কোপ অথবা নাসার কোনো খবরে হয়তো শুনে থাকবেন নতুন কোনো মহাজাগতিকরশ্মির কথা। যেটা ধরতে ব্যবহৃত হয়-কসমিক টেলিস্কোপ। কত ধরনের টেলিস্কোপই না রয়েছে আমাদের আশেপাশে!

এছাড়াও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ টেলিস্কোপ হাবল টেলিস্কোপ থেকে শুরু করে আধুনিকতম সরল বা ক্ষুদ্র টেলিস্কোপের সর্বশেষ সংস্করণটি পর্যন্ত যে বিজ্ঞানীর অবদানের কথা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা হয় তার নাম গ্যালিলিও।

চুপি চুপি একটা কথা বলি। গ্যালিলিওর মৃত্যুর আগে শেষ কথা কী ছিল জানেন?
"পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘোরে।" 
যে মানুষটা মৃত্যুর আগেও চরমতম বৈজ্ঞানিক সত্যটা ভুলে যাননি তাঁর ব্যাপারে সগর্বে আমরা সবাইকে বলতেই পারি, "সর্বপ্রথম না হোক, আমার জানা সর্বশ্রেষ্ঠ জ্যোতির্বিজ্ঞানী গ্যালিলিও-ই!"
বিজ্ঞানীদের চাচ্চু বললে তারা রাগ করবে কী? 
Category: articles

শুক্রবার, ১১ মে, ২০১৮

সপ্তর্ষিমণ্ডলীর ৭টি প্রধান তারাকে আমরা বলছি সপ্তর্ষি। এদের সবগুলো উজ্জ্বলতায় প্রায় সমান।
 সেটা জানার আগে নামগুলো জেনে নেওয়া যাক। সপ্তর্ষির সাতটি তারা দেখতে লাঙল বা চামচের মতো। মণ্ডলের এ অংশটা তাই একটি বিশেষ তারানকশা। 

সপ্তর্ষির তারাগুলো। ইংরেজি নামসহ জানতে এখানে ক্লিক করুন। 


মনে রাখতে হবে, সপ্তর্ষি কিন্তু সব সময় এ অবস্থায় থাকে না। এটি উত্তর আকাশের তারাভুজ। উত্তর পূর্ব আকাশে থাকলে ক্রতু ও পুলহ তারা থাকবে উপরের দিকে। আবার উত্তর পশ্চিম আকাশে এই দুটি তারা থাকবে নীচের দিকে।

ওপরের ছবিতে যেমন দেখানো আছে, এর আকার এমন দেখা যায় সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বরের সন্ধ্যার আকাশে। প্রায় বরাবর উত্তর আকাশে। তার আগের তিন মাস থাকে উত্তর-পশ্চিম আকাশে।

আরও পড়ুন
☛ সপ্তর্ষিমণ্ডলীর খোঁজে

তারাগুলো বিভিন্ন দূরত্বে অবস্থিত হলেও এদের আপাত উজ্জ্বলতা প্রায় সমান। কারণ, অপেক্ষাকৃত দূরের তারাগুলো এক্ষেত্রে আসলে বেশি দীপ্তিময়। মানে অভ্যন্তরীণ উজ্জ্বলতা বা দীপ্তি বেশি।


তারা ইংরেজি উচ্চারণ আপাত
উজ্জ্বলতা
ক্রতু Dubhe ডুবি 1.8
পুলহ Merak মিরাক 2.4
পুলস্ত্য Phecda ফেকডা 2.4
অত্রি Megrez মিগ্রেজ 3.3
অঙ্গিরা Alioth অ্যালিয়থ 1.8
বশিষ্ঠ Mizar মাইজার 2.1
মরীচি Alkaid অ্যালকেইড 1.9

দূরতগুলো দেখে নেই: 
দূরত্ব (আলোকবর্ষে
আরও পড়ুন
☛ দিক নির্ণয়ে ধ্রুব তারা 
Category: articles

জ্যোতির্বিজ্ঞান পরিভাষা: জেনে নিন কোন শব্দের কী মানে

এখানে সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যাসহ জ্যোতির্বিদ্যায় প্রয়োজনীয় পরিভাষাগুলোর তালিকা দেওয়া হলো। সাজানো হয়েছে অক্ষরের ক্রমানুসারে। এই তালিকা নিয়মিত আপডেট...