Advertisement

Tuesday, April 12, 2016

হারকিউলিস তারামণ্ডলী, সাথে তারাভুজ কি-স্টোন

এপ্রিল মাসের রাতের আকাশ নিয়ে এলো হারকিউলিস তারামণ্ডলী। রাতের আকাশের যথাক্রমে ৫ম ও ৪র্থ উজ্জ্বল তারকা অভিজিৎ (Vega) ও স্বাতীর (Arcturus) মাঝে এটির অবস্থান। ছবিটি এপ্রিলের
পূর্ব আকাশ দেখাচ্ছে।
হারকিউলিস তারামণ্ডলীতেও একটি গুরুত্বপূর্ণ তারাভুজ রয়েছে। এর নাম কি-স্টোন। উপরের ছবিতে প্রায় বর্গাকার বা আয়তাকার যে অংশটি দেখা যাচ্ছে এটিই হচ্ছে কি-স্টোন তারাভুজ (Asterism)। এই তারাভুজ এই কারণে গুরুত্বপূর্ণ যে এর মাধ্যমেই হারকিউলিসকে খুঁজে পাওয়া সম্ভব।
তারাভুজটির মাধ্যমে দারুণ একটি তারকাগুচ্ছও খুঁজে পাওয়া যাবে। এর নাম হারকিলিসের গ্রেট ক্লাস্টার বা সংক্ষেপে এম ১৩ (M13)। গুচ্ছটিকে খালি চোখে ভালোভাবে না দেখা গেলেও দুরবিনের চোখে এটি দর্শনীয় হয়ে ওঠে। প্রায় ১০ লক্ষের মত পুরাতন তারকায় ঠাঁসা গুচ্ছটি।

Category: articles

Tuesday, December 1, 2015

৩০ নভেম্বর, ২০১৫! প্রচলিত রাশিচক্রের কফিনে আরেকটি পেরেক ঠুকে দিয়ে সূর্য প্রবেশ করল রাশিচক্রের ত্রয়োদশ সদস্য সর্পধারী নামক তারামণ্ডলীতে। দিনের বেলায় যদি তারা দেখা যেত, তবে আপনি এই তারিখে দেখতেন যে সূর্য বৃশ্চিক ও সর্পধারীর সীমানায় বসে আলো ছিটাচ্ছে। প্রায় প্রতি বছর এই তারিখে সূর্য বৃশ্চিক থেকে সর্পধারীতে পাড়ি জমায়। প্রচলিত রাশিচক্রে উল্লেখ না থাকলেও, এটিও রাশিচক্রেরই একটি তারামণ্ডলী। ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত সূর্য সর্পধারীর সীমানার ভেতরে অবস্থান করবে। 

১৯৩০ সালে আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান সমিতির আঁকা খ-মানচিত্র অনুযায়ী এই সময়টিতে সূর্যের অবস্থান এই তারামণ্ডলীর সীমানায় পড়েছে। 
Category: articles
রাশিচক্র! শব্দটা শুনলে প্রথমেই খবরের কাগজে দেখা রাশিফলের কথা মনে পড়ে হয়ত। রাশিফলের কোন বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই, কিন্তু জ্যোতির্বিজ্ঞানে রাশিচক্রের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। সূর্য বছরজুড়ে যে যে তারামণ্ডলীতে অবস্থান করে তাদেরকে রাশিচক্র বলে। বিস্তারিত জানা যাক।
মেঘমুক্ত রাতের আকাশে আমরা অসংখ্য তারা দেখি। তবে তারা কিন্তু দিনের আকাশেও থাকে, যদিও সূর্যের আলোর কারণে ওদেরকে আমরা  দেখি না। রাতে যেমন চাঁদের আশেপাশে আমরা তারা দেখি, তেমনি দিনেও সূর্যের আশেপাশেও তারা থাকে। কিন্তু একেক রাতে চাঁদের যেমন আকাশের একেক জায়গায় থাকার কারণে এর আশপাশের তারারা বদলে যায়, তেমনি ঘটনা ঘটে সূর্যের ক্ষেত্রেও।
পৃথিবী সূর্যের চারদিকে এক বার ঘুরে আসতে এক বছর সময় নেয়। বছরের বিভিন্ন সময়ে এটি কক্ষপথের বিভিন্ন অবস্থানে থাকে। কক্ষপথে পৃথিবীর এই অবস্থানভেদে আকাশে সূর্যের আপাত অবস্থানও পাল্টে যেতে থাকে। যেহতু পৃথিবী ৩৬৫ দিনে এক বার সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে, তাই প্রতি দিন সূর্যের এই আপাত অবস্থান একটু একটু করে সরে যেতে থাকে। এইভাবে ৩৬৫ দিনে ৩৬০ ডিগ্রি প্রদক্ষিণ সম্পূর্ণ হয়।
বছরের প্রত্যেকটি আলাদা দিনে আকাশে সূর্যের আপাত অবস্থানবিন্দুগুলো যোগ করে যে রেখা পাওয়া যায় তাকে বলা হয় সূর্যপথ। এই  সূর্যপথ ৮৮টি তারামণ্ডলীর ১৩টিকে ছেদ করে। এই ১৩টি তারামণ্ডলীই রাশিচক্র বলে পরিচিত।
বছরের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন তারামণ্ডলীতে সূর্যের আপাত অবস্থান 
তাহলে রাশিচক্র হচ্ছে এমন একটি চক্র যে স্থানে বছরজুড়ে ঘুরে ফিরে সূর্য অবস্থান করে। অন্যভাবে বলা যায়, পৃথিবীর কক্ষপথ থেকে সূর্যের দিকে একটি রেখা টানলে সেটি খ-গোলকের যে যে অঞ্চলকে ছেদ করবে, সেই অঞ্চলগুলোই হলোই রাশিচক্র।
পৃথিবীর প্রদক্ষিণের জন্যেই বছরের একেক সময় আকাশে একেক তারার দেখা মেলে। এ কারনে, প্রতি দিন প্রায় ৪ মিনিট আগে কোন তারাকে আগের অবস্থানে দেখা যায়।
অন্য দিকে প্রচলিত রাশিচক্রে আছে ১২টি তারামণ্ডলী। রাশিফলতো এমনিতেই ভিত্তিহীন, উপরন্তু পৃথিবীর আবর্তনজনিত প্রিসেশনের (Precesion) কারণে বর্তমানে সূর্য ১৮ দিন অবস্থান করে সর্পধারীমণ্ডলীতে (Ophiuchus) যার উল্লেখ প্রচলিত রাশিচক্রে নেই। শুধু তাই নয়, প্রচলিত রাশিচক্রে বিভিন্ন মণ্ডলীতে সূর্যের অবস্থানের যে তারিখ দেওয়া আছে সেটাও এখন সেকেলে হয়ে গেছে। বাস্তবতার সাথে পার্থক্য হয়ে গেছে মাসখানেকের।
ফলে, তথাকথিত রাশিচক্রের ভিত্তি আরো বেশি নড়বড়ে হয়ে গেছে।

সূত্রঃ
১। আর্থ স্কাইঃ সূর্য কখন কোথায় থাকে
২। আর্থ স্কাইঃ রাশিচক্র কী

Category: articles

Monday, November 30, 2015

সূর্যের চারদিকে পৃথিবীর প্রদক্ষিণের কারণে বছরের বিভিন্ন সময়ে সূর্য আকাশের ভিন্ন ভিন্ন অবস্থানে তথা তারামণ্ডলীতে থাকে। সূর্যের অবস্থানের এই নির্দিষ্ট তারামণ্ডলীগুলোকে রাশিচক্র বলে। এখানে আমরা দেখবো কোন সময়গুলোতে সূর্য কোন তারামণ্ডলীতে অবস্থান করে। এই তারিখগুলো প্রচলিত রাশিচক্র থেকে ভিন্ন, কারণ প্রচলিত রাশিফলের ভিত্তি যে রাশিচক্র সেটা এমনিতেই অবাস্তব হবার পাশপাশি বর্তমানে সেটার তারিখের সাথে সূর্যের সঠিক অবস্থানেরও মিল নেই। 
আরো পড়ুনঃ রাশিচক্রের পরিচয়
এখানে আমরা ২০১৫ সালের ভিত্তিতে অবস্থান দেখছি। 
১৮ ডিসেম্বর, ২০১৪ঃ ধনুমণ্ডলীতে সূর্যের প্রবেশ
২০ জানুয়ারি, ২০১৫ঃ মকরমণ্ডলীতে সূর্যের প্রবেশ
১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ঃ কুম্ভমণ্ডলীতে সূর্যের প্রবেশ
১২ মার্চ, ২০১৫ঃ মীনমণ্ডলীতে সূর্যের প্রবেশ
১৯ এপ্রিল, ২০১৫ঃ মেষমণ্ডলীতে সূর্যের প্রবেশ
১৪ মে, ২০১৫ঃ বৃষমণ্ডলীতে সূর্যের প্রবেশ
২২ জুন, ২০১৫ঃ মিথুনমণ্ডলীতে সূর্যের প্রবেশ
২১ জুলাই, ২০১৫ঃ কর্কটমণ্ডলীতে সূর্যের প্রবেশ
১১ আগস্ট, ২০১৫ঃ সিংহমণ্ডলীতে সূর্যের প্রবেশ
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৫ঃ কন্যামণ্ডলীতে সূর্যের প্রবেশ
৩১ অক্টোবর, ২০১৫ঃ তুলামণ্ডলীতে সূর্যের প্রবেশ
২৩ নভেম্বর, ২০১৫ঃ বৃশ্চিকমণ্ডলীতে সূর্যের প্রবেশ
৩০ নভেম্বর, ২০১৫ঃ সর্পধারীমণ্ডলীতে সূর্যের প্রবেশ
১৮ ডিসেম্বর, ২০১৫ঃ ধনুমণ্ডলীতে সূর্যের প্রবেশ

সূত্রঃ
২। উইকিপিডিয়াঃ জোডিয়াক
Category: articles

Thursday, November 12, 2015

ধরুন, বিদেশে গিয়ে আপনার সাথে এক বিদেশীর সাক্ষাৎ হলো। তিনি আপনাকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘আপনার বাড়ি কোথায়?’
আপনার উত্তর, 'বাংলাদেশে'। এবার যদি তিনি জিজ্ঞেস করেন, ‘বাংলাদেশ কোথায় অবস্থিত?’, আপনি নিশ্চয়ই বিরক্ত হবেন। ধৈর্য্য ধরে রাখতে পারলে, বলবেন, ম্যাপে খুঁজে দেখুন। যাদের ওয়ার্ল্ড ম্যাপ সম্বন্ধে ধারণা আছে, তারা নিশ্চয় কোন দেশ বা অঞ্চলের নাম শুনেই বুঝে ফেলেন, ও আচ্ছা! আপনি ঐদিকে থাকেন, ঠিক আছে।
রাতের আকাশের দিকে তাকালে আমাদের মনে হয় যেন একটি গম্বুজের মাঝে অনেকগুলো আলোর বিন্দু সেঁটে দেওয়া আছে। বাস্তবে গম্বুজ না হলেও এই আকাশকে বলা হয় খ-গোলক (Celestial spehere)। এই খ-গোলকে তারকা, গ্যালাক্সি, উল্কা, ধূমকেতু  ইত্যাদির অবস্থান সহজে বোঝার জন্যে পুরো আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান সমিতি (IAU) আকাশকে ৮৮টি অঞ্চলে ভাগ করেছে। এই ৮৮টি অঞ্চলের প্রত্যেকটিকে বলা হয় এক একটি হয় তারামণ্ডলী ( Constelation)। এই সবগুলোর মিলিত ক্ষেত্রফল পুরো আকাশের ৩৬০ ডিগ্রি অঞ্চল জুড়ে রয়েছে। তাই, আকাশের যে কোন বস্তু কোন না কোন মণ্ডলীতে অবস্থিত থাকবেই। সবচেয়ে সহজে চোখে পড়ে এমন কিছু তারামণ্ডলী হচ্ছে আদমসুরত বা কালপুরুষ, বৃশ্চিক (Scorpius), বকমণ্ডলী (Cygnus), সপ্তর্ষিমণ্ডলী (Ursa Major) ইত্যাদি।
অবশ্য তারামণ্ডলীর এই সীমানা নির্ধারণ দৈবভাবে করা হয়নি। প্রাচীন কাল থেকেই মানুষ রাতের আকাশের বিভিন্ন তারাদের তুলনামূলক অবস্থানের ভিত্তিতে আকাশে রূপকথারসহ নানারকম প্রাণী, বিভিন্ন ভঙ্গীমার মানুষসহ নানাবিধ আকৃতি কল্পনা করেছে। তবে এদের সবাই তারামণ্ডলী হিসেবে স্বীকৃতি পায়নি। কেননা, অনেক ক্ষেত্রেই একই তারা একাধিক নকশায় স্থান পেত। উপরন্তু, বিভিন্ন নকশার তারাগুলোকে আবার অন্যভাবে চিন্তা করলে আলাদা আকৃতি তৈরি হত। বর্তমানে তাই এমনভাবে সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে যাতে একই তারা একধিক মণ্ডলীতে না থাকে। ভিন্ন তারামণ্ডলীর কিছু তারা বা একই তারামণ্ডলীর কয়েকটি তারা মিলিত হয়ে যে আকৃতির সৃষ্টি হয় এখন তাকে নাম দেওয়া হয়েছে asterism। বাংলা এখনো জ্যোতির্বিজ্ঞানে এর কোন নাম নেই। তবে একে আমরা তারাচিত্র বলতে পারি। এমন কিছু উদাহরণ হলো সামার ট্রায়াঙ্গেল, উইন্টার হেক্সাগন, সাউদার্ন ক্রস, কাস্তে, গ্রেট স্কয়ার অব পেগাসাস ইত্যাদি।
উল্লেখ্য, আকাশে তারারা আমাদের চোখে বিভিন্ন আকৃতি হিসেবে ধরা পড়লেও বাস্তবে একই তারামণ্ডলীর তারারা কিন্তু কোন চ্যাপ্টা তল বা গম্বুজে সাঁটানো নয়, বরং এক একটি তারকা পৃথিবী থেকে আলাদা দূরত্বে অবস্থিত। দূরত্ব অনেক বেশি বলেই সবাইকে একই তলে অবস্থিত মনে হয়। যেমন বলা যায় আদম সুরতের কথা। এর উজ্জ্বল তারাগুলোর দূরত্ব ২৫ আলোকবর্ষ থেকে শুরু করে ২২৫ আলোকবর্ষ পর্যন্ত বিস্তৃত।

বছরের আলাদা সময়ে আকাশে আলাদা তারামণ্ডলী চোখে পড়ে। এর কারণ দুটো- পৃথিবীর আবর্তন ও সূর্যের চারদিকে প্রদক্ষিণ। সন্ধ্যার আকাশে যে তারাদের সমাবেশ ঘটে, রাতে গড়াতে গড়াতে তারা পৃথিবীর নিজ অক্ষের চারদিকে আবর্তনের জন্যে পশ্চিমে হেলতে থাকে। যদি পৃথিবীর শুধু আবর্তনই থাকত, প্রদক্ষিণ তথা সূর্যের চারদিকে বেগ না থাকত, তবে প্রতি রাতের একই সময়ে নির্দিষ্ট কোন স্থানে একই তারা দেখা যেত। কিন্তু পৃথিবীর প্রদক্ষিণের কারণে কোন তারকা প্রতি দিন প্রায় ৪ মিনিট আগে একই জায়গায় আসে। কারণ পুরো আকাশের মোট কৌণিক ক্ষেত্রফল ৩৬০ ডিগ্রি। এই পুরো অঞ্চল পৃথিবী ৩৬৫ দিনে ঘুরে, অর্থ্যাৎ প্রতি দিন প্রায় ১ ডিগ্রি করে ঘুরতে হয়। আবার পৃথিবীর আবর্তনের জন্যে প্রতি ডিগ্রির জন্যে সময় লাগে প্রায় ৪ মিনিট।
এ জন্যেই শীত, গ্রীষ্মসহ আলাদা ঋতুতে আলাদা তারামণ্ডলী চোখে পড়ে। যেমন (উত্তর গোলার্ধের) শীতকালে আদম সুরতের দেখা মেলে, কিন্তু এ সময় বৃশ্চিকমণ্ডলী (Scorpius) হারিয়ে যায় দিনের আলোতে। আসলে কোন তারামণ্ডলী রাতে চোখে না পড়ার কারণ, এর সূর্যের সাথে সাথে বা আগেই অস্ত যাওয়া।

প্রাচীন জ্যোতির্বিদ টলেমি এইরকম ৪৮টি তারামণ্ডলী তালিকাভূক্ত করেন। তিনি অনেকগুলোই করতে পারেননি কারণ, তাঁর বাসস্থান থেকে পুরো আকাশ চোখে পড়ত না। পরবর্তীতে মুসলিম বিজ্ঞানীরা অধিকাংশ তারকা নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা ও এদের নামকরণ করেন। তাই দেখা যায়, অধিকাংশ তারাদের বর্তমান নাম আরবি ভাষা থেকে উদ্ভূত।
এই ৮৮টি তারামণ্ডলীর মধ্যে ১৩টি তারামণ্ডলীতে সূর্য সারা বছর পর্যায়ক্রমে অবস্থান করে। এরাই মূলত রাশিচক্র। রাশিচক্র বলার কারণ সূর্য ঘুরেফিরে এদের মাঝেই থাকে। তবে সূর্য কখন কোথায় অবস্থান করে সেটার ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ বের করার বিদ্যা তথা জ্যোতিষবিদ্যার কোন বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। প্রকৃতপক্ষে তাদের রাশিচক্রে এখনও ১২টি তারামণ্ডলী হিসেব করা হয় এখন যা সেকেলে হয়ে গেছে।

সূত্রঃ
১। http://starchild.gsfc.nasa.gov/docs/StarChild/questions/question9.html
Category: articles

Tuesday, April 7, 2015

রাতের আকাশে তারা দেখে পথ নির্ণয় করতে পারার মধ্যে এক ধরণের আনন্দ আছে। এই আনন্দের ভাগীদার হতে চাইলে আপনাকে চিনতে সপ্তর্ষীমণ্ডলী। আপনি হয়তো মনে করছেন, সন্ধ্যাতারা তথা শুক্রগ্রহকেতো চিনিই। ওটা যেহেতু পশ্চিম দিকে থাকে তাই আর কিছু জানার কী দরকার?
কিন্তু ভাই! সন্ধ্যাতারা সন্ধ্যার কয়েক ঘণ্টার পরই আপনাকে হতাশ করে দিয়ে দিগন্তের ওপারে হারিয়ে যাবে। তখন? এমন কাউকে দরকার যে তখনও আকাশে থাকবে। তাহলে, আপনার আশা পূরণ করতে পারে সপ্তর্ষীমণ্ডল। কারণ এর মাধ্যমে আপনি সহজেই খুঁজে পাবেন সব সময় উত্তর দিকে মুখ করে রাখা ধ্রুব তারা।  এটি হচ্ছে একটি তারামণ্ডলী (Constellation)। তারামণ্ডলী হচ্ছে আকাশের একেকটি এলাকা যেখানে অনেকগুলো তারকা মিলে বিভিন্ন প্রাণী ও বস্তুর আকৃতি তৈরি করেছে। অবশ্য প্রকৃতপক্ষে একেকটি তারামণ্ডলীর বিভিন্ন অবস্থান পৃথিবী থেকে ভিন্ন ভিন্ন দূরত্বে।
যাই হোক, আর্সা ম্যাজর বা সপ্তর্ষীমণ্ডলীর তারকাগুলোর মিলিত চিত্র দেখতে একটি ভালুকের মত। এতে মোট তারকা আছে অন্তত ৭২০টি। এদের মধ্যে গ্রহ আছে ২১টি তারকার। সবচেয়ে উজ্জ্বল তারকার নাম এলিওথ (Alioth) বা এপসাইলন আরসি ম্যাজোরিস। ভয় নেই, আমাদের এতগুলো তারকা কাজে লাগবে না।
কাজে লাগবে সাতটি তারকা। এগুলো বেশ উজ্জ্বল। আকৃতি হচ্ছে পেয়ালার মত। এজন্যেই এদেরকে আমেরিকায় বলা হয় বিগ ডিপার (Big Dipper) বা বড় পেয়ালা। দেখতে আবার অনেকটা লাঙলের মতোও হওয়ায় ইউরোপে একে বলা হয় লাঙল (Plough)। আর, সাতটি তারকা নিয়ে গঠিত হওয়ায় এবং এর মূল তারামণ্ডলীতে এগুলো অপেক্ষাকৃত সহজে দৃশ্যমান ও উজ্জ্বল হবার কারণে বাংলায় মণ্ডলীটির নামই হয়েছে এই সাতটি তারকার নামে-সপ্তর্ষীমণ্ডলী। শুনে মনে হয় এই তারামণ্ডলীতে যেন তারকাই আছে ৭টি। নিচে দেখুন সম্পূর্ণ তারামণ্ডলী।
ভালুকের লেজসহ পেছন দিকে ৭টি তারকার উপর ফোকাস করুন। এরাই হলো বিগ ডিপার।

এই সাতটি তারকা খুঁজে পেলেই আপনি পেয়ে যাবেন ধ্রুবতারাকে। বিগ ডিপার ও এর মাধ্যমে ধ্রুব তারাকে খুঁজে পাবার প্রাথমিক উপায় বলেছিলাম আগের পোস্টে।  কিন্তু সমস্যা দাঁড়ায় এক জায়গায়। ওখানে বিগ ডিপারের ছবি যেমন দেওয়া আছে, এটা সব সময় এরকম থাকে না। ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে তারকাগুলো অবস্থান পরিবর্তন করে।
চার ভিন্ন ঋতুতে এর অবস্থান ভিন্ন ভিন্ন জায়গায়। গ্রীষ্মকাল (Summer) তথা উন, জুলাই ও আগস্ট মাসে এটি থাকে উত্তর-পশ্চিম দিগন্তে। পরের ঋতু তথা শরৎকালের (Autumn বা Fall) তিনটি মাস তথা সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বরে এটি নেমে আসে উত্তর দিগন্তের নিম্নাংশে। শীতকালের পরের তিন মাসের জন্যে এটি অবস্থান করে উত্তর-পূর্ব দিগন্তে। বসন্তকালের তিন মাস তথা মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসে এর অবস্থান উত্তর দিগন্তের উচ্চাংশে। শরৎকালে যেখানে ছিল তার বিপরীতে উপরের দিকে। নিচে বিভিন্ন ঋতুতে এর অবস্থান দেখানো হল।
জুন, জুলাই, আগস্ট (গ্রীষ্মাকালে) সপ্তর্ষীমণ্ডলী 
সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বরে সপ্তর্ষীমণ্ডলী  
ডিসেম্বর, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে সপ্তর্ষীমণ্ডল
মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসে 

বলাই বাহুল্য, প্রত্যেক ঋতুর শেষ দিকে এর আকৃতি চিত্রের চেয়ে একটি ভিন্ন হবে। কিন্তু আকৃতি যেমনই থাকুক, এর চামচ বা পেয়ালার একেবারে সাম্নের দুটি তারকাকে যোগ করে বর্ধিত করে ৬গুণ সামনে গেলেই পাওয়া যাবে ধ্রুবতারা। তারামণ্ডলীটির অবস্থান সংক্ষেপে এভাবে দেখানো যায় -
আকাশের তারাদের বর্তমানে আমরা যে আকৃতি দেখি, সময়ের সাথে সাথে বদলে যাবে সেই চিত্র। যেমন দেখুন ১ লাখ বছর আগে বিগ ডিপারের চিত্র কেমন ছিল এবনহ ১ লাখ বছর পরে কেমন হবে।

সূত্রঃ
[১] আর্সা ম্যাজর- উইকিপিডিয়া
[২] আর্থ স্কাই 
Category: articles