Advertisement

Saturday, April 14, 2018

সৌরজগতে সূর্য থেকে সবচেয়ে দূরের গ্রহ নেপচুন। ভরের দিক দিয়ে অবস্থান তিন-এ। আকার বড় হলেও দূরত্ব বেশি হবার কারণেই একে খুঁজে পেতে দেরি হয়েছিল। খালি চোখে দেখা যায় না বললেই চলে। সেজন্যেই এটিই সবার শেষে আবিষ্কৃত গ্রহ। ১৮৪৬ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর একে খুঁজে পাওয়া যায়। আবিষ্কার নিয়ে ইংরেজ ও ফরাসিদের মধ্যে ঘটে যায় কিছু বিতর্ক। সে আরেক কাহিনি।

আরও পড়ুনঃ 
☛ নেপচুন আবিষ্কারের গল্প 

যাই হোক, গ্রহ নক্ষত্ররা কত বড়- তার হিসাব হয় অন্তত দুইভাবে। এক, এরা আয়তনে কত বড়। ব্যাস বা ব্যাসার্ধ বলা আর আয়তন বলার মধ্যে আসলে কোনো পার্থক্য নেই। যার ব্যাস বা ব্যাসার্ধ বেশি হবে, আয়তন তো তারই বেশি হবে। আরেকটি তুলনীয় বিষয় হলো কার ভর কতটা বেশি।

ব্যাসের দিক দিয়ে নেপচুনের অবস্থান গ্রহদের মধ্যে চার নম্বরে। অর্থ্যাৎ, সৌর জগতের চারটি গ্যাস জায়ান্টের মধ্যে এটি সবচেয়ে ছোট। অপর তিনটি গ্যাস জায়ান্ট হলো বৃহস্পতি, শনি ও ইউরেনাস। তবে ইউরেনাস সামান্যই বড়। গ্যাস দানবদের মধ্যে সবচেয়ে ছোট হলেও অন্য চার গ্রহের তুলনায় একে দানব বলাই ভাল। আয়তন পৃথিবীর প্রায় ৫৮ গুণ। তার মানে, নেপচুনের ভেতরটা ফাঁপা করা হলে এর ভেতরে ৫৮টা পৃথিবী রেখে দেওয়া যাবে।

নেপচুন ও পৃথিবীর তুলনামূলক আকার 

গড় ব্যাসার্ধ হলো ১৫, ২৯৯ মাইল (২৪, ৬২২ কিমি.)। পৃথিবীর প্রায় চার গুণ। মানে চারটি পৃথিবীকে পাশাপাশি রাখলে নেপচুনের এক পাশ থেকে অপর পাশের প্রায় সমান হবে।

অন্যান্য বস্তুর মতোই আবর্তনের কারণে বিষুব অঞ্চলে এটি কিছুটা স্ফীত হয়ে আছে। এ আকৃতিকে বলা হয় অবলেট স্ফেরয়েড বা চাপা উপগোলক।

বিভিন্ন গ্রহের তুলনামূলক সাইজ
 বিষুব রেখা বরাবর পুরোটা ঘুরে আসতে হলে পাড়ি দিতে হবে ৯৬ হাজার ১২৯ মাইল পথ। তবে পায়ে হেঁটে কাজটি করা সম্ভব নয়। অন্য গ্যাস দানবদের মতোই এর কোনো কঠিন পৃষ্ঠদেশ নেই। ঢাকা বরফ দিয়ে।

আকারে পিছিয়ে থাকলে নেপচুন ইউরেনাসকে ভরের দিক দিয়ে পেছনে ফেলে দিয়েছে। ভরের দিক থেকে তাই নেপচুনের অবস্থান তিন নম্বরে। পৃথিবীর ১৭ গুণেরও বেশি ভর এর।  ওপরে আছে শুধু বৃহস্পতিশনি

পৃথিবীর তুলনায় বিভিন্ন গ্রহের ভর 

ঘনত্ব প্রতি ঘন সেন্টিমিটারে ১.৬৩৬ গ্রাম। ইউরেনাসের মতোই এতেও শনি ও বৃহস্পতির চেয়ে বেশি পরিমাণ বরফ আছে। এ কারণেই এ দুটো গ্রহকে আইসি জায়ান্ট বা বরফ দানবও বলা হয়।

আরও পড়ুন
☛ কোন গ্রহের ভর কত
☛ অদ্ভুদ এক গ্রহ

সূত্রঃ 
১। স্পেস ডট কমঃ হাউ বিগ ইজ নেপটুন
২। ইউনিভার্স টুডেঃ সাইজ অব নেপটুন
Category: articles

Friday, September 23, 2016

আজ ২৩ সেপ্টেম্বর। ১৮৪৬ সালের এই দিনে আবিষ্কৃত হয় সৌরজগতের অষ্টম ও সর্বশেষ গ্রহ নেপচুন। এই গ্রহটিকে আবিষ্কার করা হয় গাণিতিক হিসাবের ভিত্তিতে। অন্য গ্রহদের তুলনায় এর আবিষ্কার হয়েছে দেরিতে। এর কারণ কী জানেন?

রাতের আকাশের ৫টি গ্রহ সহজেই খালি চোখে ধরা দেয়। এগুলোর সাথে মানুষের প্রাচীন কাল থেকেই পরিচয় ছিল। সপ্তম গ্রহ ইউরেনাসও খালি চোখে দেখা সম্ভব যদি আপনি জানেন আকাশের কোন অংশে তাকাতে হবে, আর আকাশ যদি হয় পরিষ্কার এবং জায়গাটা (যেখানে দাঁড়িয়ে দেখবেন) হয় আলোক দূষণ থেকে মুক্ত এবং বেশ অন্ধকার। কিন্তু নেপচুনকে শুধু টেলিস্কোপ দিয়েই দেখা সম্ভব। আর টেলিস্কোপ যেহেতু মাত্র কয়েকশো বছর আগে জন্ম নিয়েছে তাই নেপচুনের আবিষ্কারও হয়েছে তুলনামূলক দেরিতে। 
নেপচুন গ্রহের ছবি
ফরাসী গণিতবিদ অ্যালেক্সি বুভার (Alexis Bouvard) ইউরেনাসের কক্ষপথ সম্পর্কে অনেকগুলো বিস্তারিত নথি প্রকাশ করেন। এক সময় সবাই বুঝতে পারল, আমাদের সৌরজগতের আরো গভীরে কোনো একটি গ্রহ থাকা উচিত যা ইউরেনাসের কক্ষপথে নাক গলাচ্ছে। শুরু হলো হিসাব নিকাশ। কোথায় থাকতে পারে গ্রহটি?

দুজন জ্যোতির্বিদ স্বতন্ত্রভাবে প্রস্তাবিত ৮ম গ্রহটির গাণিতিক অবস্থান নির্ণয় করলেন। একজন ব্রিটেনের জন কাউচ অ্যাডামস। অপরজন ফরাসী জ্যোতির্বিদ উরবেই লা ভেরিয়ে। দুজনকেই সহকর্মীরা হতাশ করলেন। তাদের বিশ্বাস করতে কষ্ট হল যে গাণিতিক হিসাব থেকে সত্যিই গ্রহ খুঁজে বের করা সম্ভব হবে।

নেপচুন আবিষ্কারে ভূমিকা রাখা বিজ্ঞানীরা 

জার্মান জ্যোতির্বিদ জোহান গ্যালের কাছে লা ভেরিয়ের হিসাব খুব মনঃপুত হল। তিনি খুঁজে বের করে ফেললেন সৌরজগতের অষ্টম গ্রহ। নেপচুনকে পাওয়া গেল লা ভেরিয়ের প্রস্তাবিত অবস্থানের ১ ডিগ্রির মধ্যে। জন অ্যাডামসের প্রস্তাবিত অবস্থান থেকে গ্রহটির বিচ্যুতি ছিল ১২ ডিগ্রি। এবার দুজনেই দাবী করলেন, তিনিই প্রথম একে আবিষ্কার করেছেন। এটা নিয়ে সমগ্র বিজ্ঞান বিশ্বে তুমুল বিতর্ক হয়ে গিয়েছিল। স্বাভাবিকভাবেই বিতর্কের প্রধান দুই পক্ষ ছিল ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স। কাকে দেওয়া উচিত নেপচুন আবিষ্কারকের খেতাব- অ্যাডামস নাকি ভেরিয়ে? আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান মহল দুজনকেই খেতাব দেয়ার পক্ষ দিলেন। ফলে, এখন তাই করা হয়। নেপচুনের আবিষ্কারক তাই দুজন- জন অ্যাডামস ও লা ভেরিয়ে। আবিষ্কারের সাল ১৮৪৬।

এখন পর্যন্ত নেপচুন গ্রহের কাছে পৌঁছতে পারা একমাত্র মহাকাশযান ভয়েজার ২, যা ১৯৮৯ সালে এর পাশ দিয়ে চলে যায়।  
বিভিন্ন গ্রহের তুলনামূলক সাইজ

সূত্রঃ
২। ইংরেজি উইকিপিডিয়াঃ ফরাসী উচ্চারণ
৩। http://earthsky.org/human-world/today-in-science-discovery-of-neptune
Category: articles