Advertisement

Saturday, February 13, 2016

আমরা জানি, বাসযোগ্য (Habitable) হতে হলে একটি গ্রহকে সংশ্লিষ্ট নক্ষত্র (যেমন আমাদের ক্ষেত্রে সূর্য) থেকে একটি নির্দিষ্ট দূরত্বে অবস্থিত হতে হয়। নক্ষত্র থেকে দূরের এই অঞ্চলটিকে হতে হয় একদম পারফেক্ট- খুব উষ্ণও নয় আবার খুব শীতলও নয়।  প্রশ্ন হতে পারে খোদ গ্যালাক্সির ক্ষেত্রেও কি এমন কোন শর্ত আছে?

গ্রহ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে বাসযোগ্যতার যে শর্ত তা প্রযোজ্য হতে পারে গ্যালাক্সির ক্ষেত্রেও। অর্থ্যাৎ, গ্যালক্সিদের ক্ষেত্রেও এমন একটি অঞ্চল থাকবে যেখান গ্রহরা বেড়ে উঠতে পারবে। কেপলার স্পেইস টেলিস্কোপসহ কিছু মিশন সৌরজগতের বাইরে হাজার হাজার গ্রহের সন্ধান পাচ্ছে। এই বহির্গ্রহদের সংখ্যা এবং অবস্থান চোখে পড়ার মত।
তবে গ্যালাক্সিদের ক্ষেত্রে বাসযোগ্য গ্রহের অঞ্চল থাকার বিষয়টি এখনো বিতর্কের উর্ধ্বে উঠতে পারেনি। জ্যোতির্পদার্থবিদ গুইলিয়েরমো গনজালেজ এর মতে, একটি গ্রহকে ছায়াপথ কেন্দ্র (Galactic center) থেকে এত দূরে থাকতে হবে যাতে এটি ক্ষতিকারক বিকিরণ এড়াতে পারে। আবার এর অবস্থান এত বেশি দূরেও হওয়া চলবে না যাতে এতে যথেষ্ট পরিমাণ ভারী মৌল তৈরি হতে সমস্যা হয়। ফলে গ্যালাক্সির কেন্দ্র থেকে ২৫ হাজার আলোকবর্ষ দূরে ৬ হাজার আলোকবর্ষব্যাপী একটি অঞ্চল বাসযোগ্যতার আওতায় পড়ে। এর অবস্থান হয় কেন্দ্র ও প্রান্তের প্রায় মাঝামাঝিতে।
তবে, গ্যালাক্সিতে বাসযোগ্য গ্রহের অবস্থানের নিখুঁৎ সীমানা চিহ্নিত করার মত যথেষ্ট গ্রহ এখনো আবিষ্কৃত হয়নি। অবশ্য, দিন দিন এ সংশ্লিষ্ট জ্ঞান ও তথ্যের ভাণ্ডার সমৃদ্ধ হচ্ছে।

সূত্রঃ
[১] স্পেইস আনসার
[২] গুলিয়েরমো গনজালেজ
Category: articles

Wednesday, December 17, 2014

পৃথিবীর বাইরে প্রাণ তথা এলিয়েনের প্রসঙ্গ আসলেই ঘুরে ফিরে আসে মঙ্গল গ্রহের কথা। এর আগেও বহুবার খবরের শিরোনাম হয়েছে এই লাল গ্রহটি। এবার এতে পাওয়া গেল মিথেন গ্যাস। তাতে কী? প্রাণের অস্তিত্ত্বের সাথে তো সম্পর্ক পানির। মিথেনের তাতে কাজ কি? হ্যাঁ, সম্পর্ক আছে। আর সেজন্যই তো আবারো শিরোনাম হল পৃথিবীর ২য় নিকটতম প্রতিবেশী।
নাসার মঙ্গল যান কিওরিওসিটি রোভার

এবার নাসার মহাকাশযান কিউরিওসিটি রোভার মঙ্গলে মিথেন গ্যাসের উপস্থিতি শনাক্ত করতে পেরেছে। এ থেকে ধারণা করা যায় বর্তমানে বা অন্তত অতীতে হলেও মঙ্গলে প্রাণ ছিল। গ্রহটিতে মিথেনের উপস্থিতি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ একটি তথ্য। কারণ, পৃথিবীর মিথেনের ৯৫ শতাংশই আসে অণুজীবদের থেকে। এ থেকেই গবেষকরা আশা করছেন, মঙ্গলে প্রাণ থাকতেও পারে।
গবেষণায় নেতৃত্ব দেওয়া নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবের গবেষক ড. ক্রিস ওয়েবস্টার বলেন, "হিসেবে দেখা যাচ্ছে, মঙ্গলের বায়ুমণ্ডলে প্রায় ৫ হাজার টন মিথেন আছে। একে যদি আপনি পৃথিবীর সাথে তুলনা করেন, তবে পৃথিবীতে আছে ৫০ কোটি টন। পৃথিবীতে এই গ্যাসের ঘনত্ব হচ্ছে ১৮০০ পিপিবিভি (Parts per billion by volume) যেখানে মঙ্গলে ০.৭ পিপিবিভি।"  
কিউরিওসিটির দল গ্রহটিতে মিথেনের উৎসের সন্ধান না পেলেও মনে করা হচ্ছে ভূগর্ভস্থ স্টোরই এর উৎসস্থল। এই গ্যাসের উৎস কোন জীব নাকি নিছকই ভৌগলিক ব্যাপার তা জানতে সহায়তা করতে পারে গ্যসে উপস্থিত কার্বনের আইসোটোপের প্রকৃতি। পৃথিবীতে ১২ ভরের কার্বন (C-12) জীবনের ক্ষেত্রে কার্বন-১৩ এর চেয়ে বেশি সহায়ক।
C-13 এর তুলনায় C-12 এর অধিক উপস্থিতির প্রমাণ পেয়েই বিজ্ঞানীরা পৃথিবীতে প্রাণের বিকাশ অন্তত ৪ বিলিয়ন বছর আগেও ছিল বলে অনুমান করছেন। তবে, মঙ্গলের ক্ষেত্রে এই ব্যাপারটি ভালো মত পরীক্ষা করবার যথেষ্ট গ্যাস নেই বলেই আপাতত সমস্যা।
এখানে উল্লেখ্য, মিথেন হল একটি জৈব (Organic) যৌগ। আর জৈব যৌগের প্রধান উপাদান হল কার্বন।
নাসার পাঠানো কিউরিওসিটি যানটি ২০১২ সালের আগস্টে মঙ্গলে অবতরণ করে এর এর বায়ু ও উপাদান নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে। 
সূত্রঃ
বিবিসি নিউজ, উইকিপিডিয়া
Category: articles

Sunday, September 21, 2014

এলিয়েনের হাতে অপহরণের কিসসাঃ ১ম পর্ব 

মনুষ্যসদৃশ (humanoid ) প্রাণিটির পরনে ছিল দামী ইউনিফর্ম ও কালো টুপি। যানটির নিচ থেকে বেরিয়ে এল বিশাল এক আকৃতি। যানটি আরো কাছে এগিয়ে এল, প্রায় ৫০-৮০ ফুট ওপরে ও ৩০০ ফুট সামনে। পরবর্তীতে ১৯৬১ সালের অক্টোবরের ২১ তারিখে (ঘটনার এক মাস পর) বার্নে নিকাপের (NICAP=National Investigations Committee On Aerial Phenomena*) গোয়েন্দা ওয়াল্টন ওয়েবকে বলেন, "যেভাবেই হোক, প্রাণিগুলো মানুষ ছিল না।"
চোখ থেকে বাইনোকুলার সরিয়ে বার্নে গাড়ির দিকে ছুটে গেলেন।  উত্তেজিত হয়ে বেটিকে বললেন, "ওরা আমাদের ধরতে আসছে!"
বস্তুটা আবারও অবস্থান পাল্টিয়ে সরাসরি  গাড়ির ওপরে চলে এল। বস্তুটার দিকে বেটিকে চোখ রাখতে বলে বার্নে দ্রুত গতিতে গাড়ি ছুটিয়ে দিলেন। উজ্জ্বল, তারকাখচিত রাত হলেও বেটি জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে ইন্ধকার ছাড়া কিছুই দেখলেন না।
একটু পরই হিল দম্পতি ছন্দোময় বিপ বিপ বা গুঞ্জনধ্বনি শুনলেন।মনে হচ্ছিল শব্দটা গাড়ির ট্রাঙ্কে বাড়ি খেয়ে ফিরে যাচ্ছিল। গাড়ি একটু কেঁপে উঠল আর তাদের গা বেয়ে শির শির অনুভূতি বয়ে গেল। তারা বলেন, ঐ সময় তাদের চেতনা পরিবর্তিত রূপ ধারণ করল আর তাদের চিন্তাশক্তি নিষ্প্রভ হয়ে গেল। একটু পর আবার কোডের মত বিপ বিপ বা গুঞ্জনধ্বনি তাদের চিন্তাশক্তি সম্পুর্ণরূপে ফিরিয়ে দিল। তারা দেখলেন, ততক্ষণে ৩৫ মাইল (৫৬কি.মি) দক্ষিণে চলে এসেছেন। কিন্তু এই পথটুকু পাড়ি দেবার স্পষ্ট বা পূর্ণাংগ কোন স্মৃতি তাদের মনে নেই।  তাদের হঠাৎ করে অপরিকল্পিতভাবে সামনে রাস্তা বন্ধ ও একটি আগুণের গোলক দেখে বাঁক নেবার কথা মনে আছে।
প্রতিক্রিয়াঃ
ভোরের দিকে বাড়িতে ফিরে তাদের অদ্ভূত চাঞ্চল্যকর অনুভূতি হল যা তাদের ভাষায় বোঝানো যাচ্ছিল না। বার্নে বাইনোকুলারের চামড়ার ফিতা ছেঁড়া দেখতে পেলেন, কিন্তু মনে করতে পারলেন না এটা কখন ও রকম হল। আরো দেখলেন, তার প্রিয় পোশাকের কিনার ব্যাখ্যাতীতভাবে চাঁছা।
গোসল সেরে সতেজ হয়ে দু'জনেই যা দেখলেন তা আঁকার চেষ্টা করলেন। দেখা গেল, দু' জনের আকাঁয় দারুণ মিল। অবাক হয়ে তারা ইউএফও দেখা ও গাড়িতে করে বাড়ি ফিরে আসার মধ্যবর্তী সব ঘটনা মনে করার চেষ্টা করলেন। কিন্তু গুঞ্জনধ্বনিটা শোনার পর থেকে তাদের স্মৃতি অসম্পূর্ণ ও খণ্ডিত হয়ে গেল। তাদের অস্পষ্ট স্মৃতিত চাঁদের মত উজ্জ্বল একটি বস্তুকে রাস্তার উপর বসে থাকতে দেখল। বেটির মতে ঐ মুহূর্তে তার স্বামী আচমকা মোড় নিয়েছিলেন।

কয়েক ঘণ্টা ঘুমিয়ে বেটি ঘটনার সময়ের জুতা ও জামা ক্লজিটে রাখলেন। দেখা গেল কাপড়ের আঁচল ও জিপার ছেঁড়া। ক্লজিট থেকে পরে বের করে দেখলেন যে কাপড়ের ওপর গোলাপি পাউডার লেগে আছে। দড়িতে ঝোলানো হলে গোলাপী পাউডার মিলিয়ে গেল। কিন্তু কাপড়টা চিরতরে নষ্ট হয়ে গেল। পরবর্তীতে পাঁচটি ল্যাবে ঐ কাপড়ের ফরেনসিক টেস্ট চালানো হয়।
গাড়ির পেছনের তোড়ং-এ চকচকে, এককেন্দ্রিক কিছু বৃত্ত দেখা গেল যা আগে ছিল না। বৃত্তগুলোর কাছে কম্পাস নিলে এর কাঁটা জোরে ঘুরতে লাগল, আবার কয়েক ইঞ্চি দূরে সরাতেই কাঁটা স্বাভাবিক হয়ে গেল।
সময়টা কোথায় গেলঃ
১৯৬১ সালের নভেম্বরে আবার নিকাপ তাদের ইন্টারভিউ নিল। একটা প্রশ্ন ছিল তাদের ভ্রমণের সময় নিয়ে। যদিও তাদের বাড়ি ফেরার কথা ৪ ঘণ্টায় সেখানে সময় লেগেছিল ৭ ঘণ্টা। অন্যান্য ইউএফও কেসেও এমন সময় হারানোর ঘটনা ঘটে। একে নাম দেওয়া হয়েছে মিসিং টাইম।
১৯৬২ সালের ফেব্রুয়ারিতে তারা কয়েকবার ঐ রাস্তায় ঘুরতে গেলেন। যেখানে রাস্তার উপর উজ্জ্বল গোলকটি দেখেছিলেন সেটা চিহ্নিত করা গেল না।
নিউ হ্যাম্পাশায়ারে সরকারী ফলক
মিসিং সময়ের ঘটনা জানার জন্যে তাদেরকে সম্মোহিত করার চেষ্টা করা হল। ১৯৬৪ সালে ডক্টর সাইমন আবারো এ রকম একটি চেষ্টা চালালেন। সম্মোহন থেকে কোন তথ্য পাওয়া না গেলেও এর পর বেটি ও বার্নে কিছুটা চিন্তামুক্ত হন।
নোটঃ
*নিকাপের কাজ হচ্ছে ইউএফও বিষয়ক ঘটনা নিয়ে অনুসন্ধান চালানো।
সূত্রঃ
১. উইকিপিডিয়া
২. অ্যাবাউট ডট কম 
Category: articles

Tuesday, September 2, 2014

আমেরিকার নিউ হ্যাম্পাশায়ার অঙ্গরাজ্যের একটি গ্রাম্য এলাকা। এখানেই বেটি ও বার্নে হিল দম্পতি ১৯৬১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মুখোমুখি হন ভিনগ্রহবাসী এলিয়েনের।  হিল দম্পতি বাস করতেন নিউ হ্যাম্পাশায়ারের পোস্টমাউথে। বার্নে ( ১৯২২-১৯৬৯) চাকুরী করতেন আমেরিকান ডাক বিভাগে আর বেটি ছিলেন সমাজকর্মী। বার্নে ছিলেন আফ্রিকান বংশোদ্ভূত কৃষ্ণাঙ্গ, অন্য দিকে বেটি ছিলেন ইউরোপিয়ান শ্বেতাঙ্গ।
ঘটনাটিকে নাম দেওয়া হয়েছে হিল অপহরণ ( Hill Abduction)। আসুন দেখি কী ঘটেছিল সে দিন আসলে।
মূল ঘটনাঃ


হিলদের বর্নণা মতে, ঘটনাটি ঘটে ১৯ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে দশটায়। কানাডায় ছুটি কাটিয়ে তারা পোর্টসমাউথে ফিরে যাচ্ছিলেন। নিউ হ্যাপমাশায়ারের সাগরতীর দিয়ে যাবার সময় রাস্তায় গাড়ির সংখ্যা অল্পই ছিল। ল্যাংকাস্টারের ঠিক দক্ষিণে থাকতে বেটি আকাশে একটি উজ্জ্বল বিন্দু দেখতে পেলেন। এটা চাঁদ এবং বৃহস্পতি গ্রহের নিচ থেকে চাঁদের পশ্চিম দিক দিয়ে উপরের দিকে উঠছিলো। বার্নে রুট-৩ এ গাড়ি চালানোর সময় বেটি বললেন যে তিনি একটা উল্কা দেখতে পেয়েছেন। তবে, এটি বিমান বা কৃত্রিম উপগ্রহের মত উপরের দিকে যাচ্ছিল।
এর ক্রমেই উজ্জ্বল থেকে উজ্জ্বলতর হয়ে ওঠা ও অস্বাভাবিক চলাচলের কারণে কৌতুহলী হয়ে ওটাকে আরো কাছ থেকে দেখার জন্য বেটি বার্নেকে থামতে বলেন। টুইন মাউন্টেইনের দক্ষিণে গাড়ি থামানো হল। ভালুক থাকতে পারে ভেবে বার্নে গাড়ির ভেতর থেকে তার পিস্তলটি নিয়ে বের হলেন।
বেটি তার বাইনোকুলার দিয়ে অস্বাভাবিক আকৃতির একটি যান দেখলেন। ওটা থেকে একাধিক রঙের আলোর ঝলক চাঁদের গায়ে ঝিলিক দিচ্ছিল। কয়েক বছর আগে বেটির বোন তাকে ফ্লাইং সসার দেখার কথা বিশ্বাস করিয়ে ছেড়েছিলে। বেটি ভাবলেন, এটাই তাহলে সেটা। কিন্তু  বাইনোকুলারে দেখে বার্নে বললেন এটা মন্ট্রিল থেকে ভার্মন্টগামী বাণিজ্যিক এয়ারলাইনার। মত পাল্টালেন একটু পরই। কারণ, মুহূর্তের মধ্যে ওটা তার দিকে ঘুরে গেল। তিনি বুঝলেন, তিনি যাকে প্লেন ভেবেছেন, তা প্লেন নয়। তাড়াতাড়ি গাড়িতে উঠে তিনি ফ্র্যাংকোনিয়া গিরিপথের সড়কে পড়লেন।
হিউম্যানয়েড

হিল দম্পতি বলেন, তারা গিরিপথের সড়ক ধরে ধীরে ধীরে এগোচ্ছিলেন যাতে বস্তুটাকে ভালোমত দেখা যায় যা আরো কাছ ঘনিয়ে আসছিল। এক সময় বস্তুটা একটা রেস্টুরেন্ট ও ক্যানন মাউনটেইনের সিগনাল টাওয়ার পেরিয়ে গেল। পাহাড় পেরিয়ে এটি 'ওল্ড ম্যান অব দি মাউনটেইন' এর কাছে বের হয়ে এল। উল্লেখ্য 'ওল্ড ম্যান অব দি মাউনটেইন' হল পাহাড়ের কিনারে একটি নকশা যাকে দেখতে মানবমুখের মত লাগে।
বেটির মতে বস্তুটি পাহাড়ের মানবমুখের চেয়ে দেড়গুণ বড় ছিল। মানবমুখটির দৈর্ঘ্য ৪০ ফুট বা ১২ মিটার। বস্তুটা ঘুরপাক খাচ্ছিল। নিরব ও জ্বলজ্বলে যানটি রাতের আকাশে অস্বাভাবিকভাবে উপর-নিচ করছিল। গিরিপথের ৩ নং রুট দিয়ে যাবার সময় ওটা যেন তাদের সাথে ইঁদুর-বিড়াল খেলছিল।
গিরিপথের প্রায় ১ মাইল দক্ষিণে ওটা তাদের দিকে নেমে আসল। বার্নেকে রাস্তার মাঝখানে গাড়ি থামাতে হল।গাড়ির পুরো উইন্ডশিল্ড ঢেকে দিয়ে যানটা তাদের মাথার ৮০ থেকে ১০০ ফুট ওপরে ভেসে থাকল। ওটাকে দেখতে তখন প্যানকেকের মত লাগছিল।
পিস্তল পকেটে নিয়ে বার্নে গাড়ি থেকে বেরিয়ে ওটার আরো কাছে গেলেন। বাইনোকুলার দিয়ে বার্নে আট দশজন মনুষ্য-সদৃশ আকৃতিকে তার দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখলেন। একজন ছাড়া সবাই যানটির সামনের অংশকে বেষ্টনকারী হলওয়ের পেছনের দেয়ালের প্যানেলের দিকে সরে গেল। বাকি আকৃতিটি তাকে স্বস্থানে দাঁড়িয়ে থেকে তাকিয়ে থাকার জন্য একটি বার্তা চালান করল।
পরবর্তী অংশ পড়ুন এখানে......
সূত্রঃ
১. http://en.wikipedia.org/wiki/Betty_and_Barney_Hill_abduction
২. http://www.ufocasebook.com/Hill.html
৩. http://ufos.about.com/od/aliensalienabduction/p/hill.htm
Category: articles

Wednesday, February 26, 2014

১.প্রাক-কথা: 
বিশাল এ মহাবিশ্ব

অনেক বিশিষ্ট বিজ্ঞানিসহ পৃথিবীর মানুষের মধ্যে বৃহত্তর অংশই পৃথিবীর বাইরে প্রাণের অস্তিত্তে বিশ্বাস করে। জরিপে দেখা যায় চীনে এ বিশ্বাস সবচেয়ে বেশী-৪০%। সব মিলিয়ে বিশ্বাস পুরুষের ২২% আর নারীতে ১৭%। বৈজ্ঞানিক তত্তকথা, সাধারণ জ্ঞান ও ধর্মীয় গ্রন্থরাজি থেকে ধারণা নিয়ে এর পক্ষে- বিপক্ষে প্রচুর মত রয়েছে।
এলিয়েন বা পৃথীবির বাইরের জীব বিষয়ক গবেষণা ও স্টাডিকে বলা হয় exobiology অথবা astrobiology( এ শব্দটি পৃথিবীর ক্ষেত্রেও প্রচলিত)।

২.থাকার সম্ভাবনা যে কারণে: ১৫৪৩ সালে কোপার্নিকাস এরিষ্টটলের বিপক্ষে গিয়ে বলেন পৃথিবী মহাবিশ্বের কেন্দ্র নয় বরং সূর্যের চারদিকে ঘূর্ণায়মান সাধারণ একটি গ্রহ। হাবলের টেলিস্কোপ প্রথমবারের মত মহাবিশ্বের বিশাল পরিধি মানুষের সামনে নিয়ে আসে। জানা গেল মহাবিশ্বে রয়েছে বিলিয়ন বিলিয়ন গ্যালাক্সি বা তারকামণ্ডল।

আমাদের গ্যালাক্সিতেই রয়েছে প্রায় ২০ হাজার থেকে ৪০ হাজার কোটি নক্ষত্র যার মধ্যে আমাদের সূর্যও একটি।
এ বিশাল মহাবিশ্বে সূর্যের মত রয়েছে অসংখ্য নক্ষত্র। তাদের কোনটিতে আমাদের সৌরব্যবস্থার মত ব্যাবস্থা থাকতেই পারে।


আমাদের তারকামণ্ডল (মিল্কিওয়ে বা আকাশগঙ্গা)

মহবিশ্ব অনেক বড় হবার কারণেই স্টিফেন হকিং এবং কার্ল সেগান এর মতে প্রথিবীর বাইরে প্রাণ থাকার সম্ভাবনাটাও বেশী।
অণুজীবরা যদি পৃথিবীর অভ্যন্তরেই পাথরের ছোট ছোট ছিদ্রে থাকতে পারে তাহলে পৃথিবীর বাইরেও এরকম স্থানে থাকতেই পারে।
অনেকে প্রথিবীর বাইরে প্রাণের প্রমাণের জন্য বিভিন্ন সময়ে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে দেখা যাওয়া UFO(=Un-identified Flying Object=অচেনা উড়ন্ত বস্তু) ’র কথা বলেন। তবে বেশিরভাগ UFO কেই পৃথিবীসৃষ্ট আকাশযান অথবা কোন মহাজাগতিক বস্তু বা দেখার ভুল হিসেবে ব্যাখ্যা করা যায়।

৩.১আমাদের সৈৗরজগতে থাকার সম্ভাবনা:

আমাদের সৌরজগত

আমাদের সৌরজগতে এ সম্ভাবনার দৌড়ে এগিয়ে আছে শুক্র, মঙ্গল, বৃহস্পতির উপগ্রহ ইউরোপা, শনির উপগ্রহসমূহ যেমন টাইটান ও Enceladus ।

মঙ্গল গ্রহের সম্ভাবনা:


মঙ্গল গ্রহ

মঙ্গল গ্রহ আমাদের্ সৌরজগতে অবস্থানের কারণে এতে প্রণের অস্তিত্ত থাকতে পারে বলে অনেক বিজ্ঞানীর দৃঢ়বিশ্বাস। মনে করা হয় একসময় মঙ্গলের বুকে তরল পানি প্রবাহিত হত, ফলে এখনো এর অভ্যন্তরভাগে পানি থাকতে পারে। এছাড়া এর আবহাওয়ায় মিথেন গ্যাস পাওয়া গেছে।
২০০৮ সালের জুলাইয়ে ফিনিক্স মার্স ল্যান্ডার প্রমাণ করে মঙ্গলের মাটির নমুনায় পানির অস্তিত্ত বিদ্যমান। যন্ত্রটির রোবটিক হাতে সংগৃহীত মাটির নমুনায় তাপ দিয়ে প্রাপ্ত বাষ্পে পানিকণা পাওয়া যায়।
ম্যাক্স গ্লোবাল সার্ভেয়ার থেকে পাঠানো রিপোর্টে প্রমাণ পাওয়া যায় গত ১০ বছরের মধ্যে মঙ্গলে পানি প্রবাহিত হয়েছে। তবে প্রাণ আছে কিনা এ ব্যাপারে এখনও শতভাগ নিশ্চয়তা দেওয়া সম্ভব নয়।

শনির উপগ্রহ টাইটান:


শনির উপগ্রহসমূহ

সৌরজগতের সবচেয়ে বড় উপগ্রহ টাইটান। নাসার বিজ্ঞানীরা ক্যাসিনীর পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতে বলেন একমাত্র টাইটান্ প্রাণধারণের উপযোগী এবং সেখানে জীবনের উৎপত্তিও হয়েছে।
ইকারাস সাময়িকীতে প্রকাশিত প্রবণ্ধে বলা হয় টাইটানের হাইড্রোজেন গ্যাস গ্রহপৃষ্ঠের কাছাকাছি এসে হারিয়ে যাচ্ছে, এ থেকে প্রমাণ হয় যে প্রণীরা শ্বাস নিচ্ছে এবং তারা সম্ভবত অক্সিজেনের পরিবর্তে হাইড্রোজেন গ্রহণ করছে।

তবে চলতি বছরের (২০১১) মে মাসে বিজ্ঞানীরা বলেন, ’আমাদের জানামতে পৃথিবীর বাইরে প্রাণের অস্তিত্ত থাকার ব্যাপারে শনির উপগ্রহ Enceladus সবচেয়ে সম্ভাবনাশীল।’

৩.২.সৌরজগতের বাইরের সম্ভাবনা:


মিল্কিওয়ে (আমদের ছায়াপথ) ছাড়াও মহাবিশ্বে আরো শতকোটি তারকামণ্ডল বা ছায়াপথ আবিষ্কৃত হয়েছে। সেসব তারকামণ্ডল বা নক্ষত্রমণ্ডলেও পৃথিবীসদৃশ গ্রহ আছে। আমাদের নিকটতম ছায়াপথ অ্যান্ড্রোমিডা ২০ লাখ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত।হাবল টেলিস্কোপের আল্ট্রা ডিপ ক্যামেরার সাহায্যে ৩০ কোটি আলোকবর্ষের চেয়েও বেশি দূরত্বের আলোকবর্ষও পর্যক্ষেণ করা গেছে। অ্যান্ড্রোমিডায় সূর্য্যের মত কোন নক্ষত্রের চারপাশে গ্রহ বা উপগ্রহ থাকতে পারে যা আমাদের পৃথিবীর মত বাসযোগ্য হতে পারে।
এছাড়া এ বিশাল মহাবিশ্বে সূর্য্যের মত অসংখ্য নক্ষত্র রয়েছে। বসবাসোপযোগী নক্ষত্র থাকতে হলে তাকে নিজস্ব ছায়াপথের বাইরের দিকে থাকতে হবে এবং তার নিজস্ব গতি তার ছায়াপথের আবর্তনের সাথে সর্ম্পকযুক্ত হতে হবে। তবে গামা ও মহাজাগতিক রশ্মির আধিক্য থাকলে তা প্রাণের অস্তিত্তের পথে বাধা হবে। আবার তার গতি নিজস্ব ছায়াপথের আবর্তনের সাথে অসংগতিপূর্ণ হলে তার গ্রহব্যবস্থা কয়েক মিলিয়ন বছরেই মিলিয়ে যাবে।

তবে পানি থাকার সম্ভাবনার কারণে সম্প্রতি আবিষ্কৃত প্রায় পৃথিবীর ভরের সমান গ্রহ গ্লিস ৫৮১ সি, জি এবং ডি এক্ষেত্রে সম্ভাবনাময়ী।

৪.পরোক্ষ প্রমাণ:
আর্জেন্টিনার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে সাগরপৃষ্ঠ থেকে ৪ হাজার ৭০০ মিটার (১৫হাজার ৪০০ ফুট) উপরে লেক ডায়মান্ট নামক হ্রদে ব্যাকটেরিয়া পাওয়া গেছে। এ আবিষ্কার থেকে ভিনগ্রহে প্রাণের ব্যাপারে সূত্র পাওয়া যেতে পারে।কেননা হ্রদটির কাছেই রয়েছে মাইপো আগ্নেয়গিরি। এখানে কোটি কোটি ব্যাকটেরিয়া অক্সিজেনের প্রকট অভাবেও বেঁচে আছে। এর আগে বিরুপ পারবেশে টিকে থাকা ‘এক্সট্রিমোফিলস’ নামক ব্যাকটেরিয়া আবিষ্কৃত হয়। কিন্তু ’পলিএক্সট্রিমোফিলস’ নামক ব্যাকটেরিয়া চরম বৈরি পরিবেশে টিকে থাকতে সক্ষম। ওই হ্রদে আর্সেনিকের নিরাপদ মাত্রার চেয়ে ২০ হাজার গুণ বেশি মাত্রা রয়েছে। তাপমাত্রা প্রায়ই শূণ্যের নিচে নামে। কিন্তু অতিরিক্ত লবণক্ততার কারণে বরফ জমাট বাঁধেনা।
এ আবিষ্কার নিঃসন্দেহে ভিনগ্রহের বৈরি পরিবেশেও প্রাণের অস্তিত্তের পক্ষে রায় দেয়।

৫.অভিযান-অনুসন্ধান:

ভিনগ্রহের প্রাণের খোঁজে অনুসন্ধান চলতে থাকলেও স্টিফেন হকিং বলছেন ভিনগ্রহে প্রাণীর খোঁজ পেলেও তাদের সাথে যোগাযোগ করা ঠিক হবেনা । যা হোক এ সতর্কবাণীতো আর মানুষের কৌতূহল দমাতে পারবেনা।
USSR এর কৃত্রিম উপগ্রহ স্ফুটনিকের মাধ্যমে মহাশূন্যে অভিযান শুরু।
গবেষকরা ভিনগ্রহের প্রাণের খোঁজ করছেন পৃথিবীতে বসেই পুরানো নথিপত্র ঘেঁটে। হয়তো অতীতে্ এলিয়েনরা পৃথিবীতে এসেছিল আর তখনকার মানুষ তা দেখে নথিভুক্ত করে রেখেছে। এরিক ভন দানিকেন পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ ঘুরে প্রাচীন পাণ্ডুলিপি, দেয়ালচিত্র ও দেয়াল-লিখনে খুঁজে দেখেছেন এলিয়েনদের বিভিন্ন প্রামাণ্য দলিল। তবে অনেকেই এ দলিলগুলোকে প্রমাণ হিসেবে মানতে নারাজ।

পৃথিবীর বাইরে খোঁজার জন্য ফ্রাংক ড্রেক ১৯৬০ সালে SETI(search for extra-terrestial intelligence) প্রতিষ্ঠা করেন। এটা পৃথিবীতে বসেই বেতার তরঙ্গের মাধ্যমে এলিয়েন অনুসন্ধান করে। ১০টিরও বেশি দেশে এর কার্যক্রম চলছে। এ ব্যাপারে বিজ্ঞানী ড্রেক একটি সমীকরণ দেন দেন যা অবশ্য বিজ্ঞানী ফার্মির মতে নিছক হেঁয়ালি।
চিলির আতাকামা মরুভূমিতে গড়ে তোলা হচ্ছে পৃথিবীর বৃহত্তম টেলিস্কোপ যার ব্যাস হবে প্রায় ৪২ মিটার।



সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম ভার্জিনিয়ায় একটি বিশাল টেলিস্কোপ বসানো হয়েছে যা পৃথিবীর মত সম্ভাব্য ৮৬টি গ্রহে প্রাণের অস্তিত্ত খুঁজবে। SETI প্রকল্প বাজেট ঘাটতির কারণে বন্ধ হবার উপক্রম হলে ২০০৭ সালে SETI এর প্রকল্পের অংশ ATA, ইউসি বার্কলে রেডিও অ্যস্ট্রোনমি ল্যাবের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ শুরু করে।
তদুপরি নাসার (NASA=National Aeronautics and Space Administration) বহুমুখি কার্যক্রমতো চলছেই।
Category: articles